ঢাকা ০৬:৩৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬, ২ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
মাতারবাড়িতে ব্যবসায়ির মোবাইল চুরি, চুরি করা মোবাইল নিয়ে অনলাইন ব্ল্যাক মেইলিংয়ের অভিযোগ মাতারবাড়ী প্রকল্পে শত কোটি টাকার রাজস্ব ক্ষতির অভিযোগ, হাইকোর্টে রিট নিখোঁজের ১২ ঘণ্টা পর ঈদগাঁও নদীতে মিলল পল্লব দে’র মরদেহ মহেশখালীতে মাইকিং করে বনকর্মীদের উপর হামলা: আহত একাধিক আর্জেন্টিনাকে ‘কাঁদানো’ রেনার্ড আবার আসছেন বিশ্বকাপে চিত্রচিন্তার প্রথম জাতীয় আলোকচিত্র উৎসব সফলভাবে সমাপ্ত পরিবার বলছে বলাৎকার করে হ’ত্যা : চকরিয়ায় নিখোঁজের একদিন পর শিশুর মরদেহ উদ্ধার, আটক ৩ রামুতে গোয়ালঘরের ময়লার স্তূপ থেকে অস্ত্র উদ্ধার প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে একনেক সভা চলছে সৌদিতে দেখা গেছে মুহাররমের চাঁদ, শুরু হলো ১৪৪৮ হিজরি নেইমারকে নিয়ে বড় দুঃসংবাদ পেল ব্রাজিল প্রতিবাদের পর বিদ্যুৎ পাচ্ছে কুতুপালংয়ের ৩ শ পরিবার, সিআইসির প্রত্যাহার দাবী বিনানোটিশে স্থানীয়দের ৩শ বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করলেন রোহিঙ্গা ক্যাম্পের সিআইসি! নয়াবাজারে জমি বিরোধকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ, অপহরণ চেষ্টার অভিযোগকে ‘মিথ্যা’ দাবি প্রতিপক্ষের কুতুবদিয়ায় দুর্নীতি প্রতিরোধ ও দমন বিষয়ক বিতর্ক প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত

ভালোবেসে পালিয়ে বিয়ে, অতঃপর ভালোবাসার মানুষের হাতেই নির্যাতনের শিকার

১৩ মাস হয়েছে ভালোবেসে বিয়ে করেছেন। সেই ভালেবাসার মানুষটির হাতেই মধ্যযুগীয় বর্বরতার শিকার হলেন সালমা আকতার। যৌতুকের জন্য তার হাত পিটিয়ে ভেঙে দেয়া হয়েছে। আঘাত করেছে শরীরের বিভিন্ন অংশে।

শুক্রবার সকাল ১১টায় কক্সবাজারের কুতুবদিয়া উপজেলার বড়ঘোপ ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ড উত্তর বড়ঘোপ এলাকায় এ নির্যাতনের ঘটনা ঘটে। নির্যাতনের শিকার গৃহবধূকে উন্নত চিকিৎসার জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে।

২০২৪ সালের ৬ আগষ্ট
কুতুবদিয়া উপজেলার বড়ঘোপ ইউনিয়নের উত্তর বড়ঘোপ এলাকার আবুল বশরের পুত্র ওমর ফারুকের সাথে দীর্ঘদিনের ভালোবাসার পূর্ণতা দিতে পালিয়ে বিয়ে করেন একই এলাকার সালমা আকতার।

সালমা আকতার জানান, পরিবারের অমতে ভালোবেসে ওমর ফারুককে পালিয়ে বিয়ে করেছেন। বিয়ের ৬ মাসের পর থেকে ওমর ফারুকের মামা মোঃ আজিজ ওমর ফারুককে শ্বশুর বাড়ি থেকে যৌতুক নেওয়ার জন্য বলার পর থেকে শুরু জয় শারীরিক ও মানসিক ভাবে নির্যাতন। কয়েকমাস আগে যৌতুকের জন্য নির্যাতন করে বাড়ি থেকে বের করে দেয়। কয়েকদিন আগে স্বামী আর নির্যাতন করবে না বলার পর তার সরল কথা বিশ্বাস করে শ্বশুর বাড়িতে

ফিরল আসারএকদিন পর বৃহস্পতিবার রাতে যৌতুক ছাড়া কেন আসলাম বলে স্বামী ওমর ফারুক, তার মামা মোঃ আজিজ, দেবর মোঃ জাহেদ তাকে মারধর করে। সকালে হাসপাতালে চিকিৎসা নেয়ার পর বাড়ি ফিরলে আবারও মারধর করলে ডান হাত ভেঙে যায়। এসময় তাকে উদ্ধার করে কুতুবদিয়া হাসপাতালে নেয়া হয় এবং পরে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে রেফার করা হয় বলে তিনি জানান।

যৌতুক লোভী স্বামী ওমর ফারুক, মামা শ্বশুর মোঃ আজিজ, দেবর মোঃ জাহেদ ও শ্বাশুড়ির বিচার দাবী করেন সালমা আকতার।

নির্যাতনের বিষয়টি অস্বীকার করে সালমা আকতারের স্বামী ওমর ফারুক বলেন, তাকে মারধর করা হয়নি। যৌতুক চাওয়ার বিষয়টি মিথ্যা ও বানোয়াট বলে দাবী করেন তিনি।

সালমা আকতারের বড় ভাই জানান, যৌতুকের দাবীতে সালমা আকতারকে নির্যাতনকারী সবার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের প্রস্তুতি চলছে।

এই বিষয়ে বড়ঘোপ ১নং ওয়ার্ড়ের ইউপি সদস্য মাঈন উদ্দিন হাসেম (মিন্টু) জানান, এলাকার গণ্যমাণ্য ব্যক্তিদের নিয়ে বেশ কয়েকবার বৈঠক হয়েছে। স্বামী ওমর ফারুক নির্যাতন করবে না প্রতিশ্রুতি দিলেও স্ত্রীকে মারধর করে। শুক্রবার সকালে সালমা আকতারকে নির্যাতনের বিষয়টি তার পরিবার জানানোর পর হাসপাতালে গিয়ে দেখি তার ডান হাতে আঘাত। ডাক্তার উন্নত চিকিৎসার জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতালে রেফার করেছে।

এই বিষয়ে কুতুবদিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ আরমান হোসেনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি মিটিং এ ব্যস্ত থাকায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

মাতারবাড়িতে ব্যবসায়ির মোবাইল চুরি, চুরি করা মোবাইল নিয়ে অনলাইন ব্ল্যাক মেইলিংয়ের অভিযোগ

ভালোবেসে পালিয়ে বিয়ে, অতঃপর ভালোবাসার মানুষের হাতেই নির্যাতনের শিকার

আপডেট সময় : ০৫:২৫:০৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৫

১৩ মাস হয়েছে ভালোবেসে বিয়ে করেছেন। সেই ভালেবাসার মানুষটির হাতেই মধ্যযুগীয় বর্বরতার শিকার হলেন সালমা আকতার। যৌতুকের জন্য তার হাত পিটিয়ে ভেঙে দেয়া হয়েছে। আঘাত করেছে শরীরের বিভিন্ন অংশে।

শুক্রবার সকাল ১১টায় কক্সবাজারের কুতুবদিয়া উপজেলার বড়ঘোপ ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ড উত্তর বড়ঘোপ এলাকায় এ নির্যাতনের ঘটনা ঘটে। নির্যাতনের শিকার গৃহবধূকে উন্নত চিকিৎসার জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে।

২০২৪ সালের ৬ আগষ্ট
কুতুবদিয়া উপজেলার বড়ঘোপ ইউনিয়নের উত্তর বড়ঘোপ এলাকার আবুল বশরের পুত্র ওমর ফারুকের সাথে দীর্ঘদিনের ভালোবাসার পূর্ণতা দিতে পালিয়ে বিয়ে করেন একই এলাকার সালমা আকতার।

সালমা আকতার জানান, পরিবারের অমতে ভালোবেসে ওমর ফারুককে পালিয়ে বিয়ে করেছেন। বিয়ের ৬ মাসের পর থেকে ওমর ফারুকের মামা মোঃ আজিজ ওমর ফারুককে শ্বশুর বাড়ি থেকে যৌতুক নেওয়ার জন্য বলার পর থেকে শুরু জয় শারীরিক ও মানসিক ভাবে নির্যাতন। কয়েকমাস আগে যৌতুকের জন্য নির্যাতন করে বাড়ি থেকে বের করে দেয়। কয়েকদিন আগে স্বামী আর নির্যাতন করবে না বলার পর তার সরল কথা বিশ্বাস করে শ্বশুর বাড়িতে

ফিরল আসারএকদিন পর বৃহস্পতিবার রাতে যৌতুক ছাড়া কেন আসলাম বলে স্বামী ওমর ফারুক, তার মামা মোঃ আজিজ, দেবর মোঃ জাহেদ তাকে মারধর করে। সকালে হাসপাতালে চিকিৎসা নেয়ার পর বাড়ি ফিরলে আবারও মারধর করলে ডান হাত ভেঙে যায়। এসময় তাকে উদ্ধার করে কুতুবদিয়া হাসপাতালে নেয়া হয় এবং পরে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে রেফার করা হয় বলে তিনি জানান।

যৌতুক লোভী স্বামী ওমর ফারুক, মামা শ্বশুর মোঃ আজিজ, দেবর মোঃ জাহেদ ও শ্বাশুড়ির বিচার দাবী করেন সালমা আকতার।

নির্যাতনের বিষয়টি অস্বীকার করে সালমা আকতারের স্বামী ওমর ফারুক বলেন, তাকে মারধর করা হয়নি। যৌতুক চাওয়ার বিষয়টি মিথ্যা ও বানোয়াট বলে দাবী করেন তিনি।

সালমা আকতারের বড় ভাই জানান, যৌতুকের দাবীতে সালমা আকতারকে নির্যাতনকারী সবার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের প্রস্তুতি চলছে।

এই বিষয়ে বড়ঘোপ ১নং ওয়ার্ড়ের ইউপি সদস্য মাঈন উদ্দিন হাসেম (মিন্টু) জানান, এলাকার গণ্যমাণ্য ব্যক্তিদের নিয়ে বেশ কয়েকবার বৈঠক হয়েছে। স্বামী ওমর ফারুক নির্যাতন করবে না প্রতিশ্রুতি দিলেও স্ত্রীকে মারধর করে। শুক্রবার সকালে সালমা আকতারকে নির্যাতনের বিষয়টি তার পরিবার জানানোর পর হাসপাতালে গিয়ে দেখি তার ডান হাতে আঘাত। ডাক্তার উন্নত চিকিৎসার জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতালে রেফার করেছে।

এই বিষয়ে কুতুবদিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ আরমান হোসেনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি মিটিং এ ব্যস্ত থাকায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।