ঢাকা ০৬:১৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬, ২ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
মাতারবাড়ী প্রকল্পে শত কোটি টাকার রাজস্ব ক্ষতির অভিযোগ, হাইকোর্টে রিট নিখোঁজের ১২ ঘণ্টা পর ঈদগাঁও নদীতে মিলল পল্লব দে’র মরদেহ মহেশখালীতে মাইকিং করে বনকর্মীদের উপর হামলা: আহত একাধিক আর্জেন্টিনাকে ‘কাঁদানো’ রেনার্ড আবার আসছেন বিশ্বকাপে চিত্রচিন্তার প্রথম জাতীয় আলোকচিত্র উৎসব সফলভাবে সমাপ্ত পরিবার বলছে বলাৎকার করে হ’ত্যা : চকরিয়ায় নিখোঁজের একদিন পর শিশুর মরদেহ উদ্ধার, আটক ৩ রামুতে গোয়ালঘরের ময়লার স্তূপ থেকে অস্ত্র উদ্ধার প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে একনেক সভা চলছে সৌদিতে দেখা গেছে মুহাররমের চাঁদ, শুরু হলো ১৪৪৮ হিজরি নেইমারকে নিয়ে বড় দুঃসংবাদ পেল ব্রাজিল প্রতিবাদের পর বিদ্যুৎ পাচ্ছে কুতুপালংয়ের ৩ শ পরিবার, সিআইসির প্রত্যাহার দাবী বিনানোটিশে স্থানীয়দের ৩শ বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করলেন রোহিঙ্গা ক্যাম্পের সিআইসি! নয়াবাজারে জমি বিরোধকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ, অপহরণ চেষ্টার অভিযোগকে ‘মিথ্যা’ দাবি প্রতিপক্ষের কুতুবদিয়ায় দুর্নীতি প্রতিরোধ ও দমন বিষয়ক বিতর্ক প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত ‘মেসি এবার বিশ্বকাপ জিততে পারবে না’

চকরিয়ার ফাঁসিয়াখালীতে বসতঘরে ঢুকে বৃদ্ধকে হত্যা

কক্সবাজারের চকরিয়ায় পূর্বশক্রুতার জেরে বসতঘরে ঢুকে আবদুর রহিম(৬০)নামে এক বৃদ্ধকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে।

রোববার (২৭ জুলাই)সন্ধ্যা ৬টার দিকে উপজেলার ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের ছাইরাখালী আবদুল্লাহর দোকানের পাশ্ববর্তী এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহত আবদুর রহিম মহেশখালী উপজেলার মাতারবাড়ি ইউনিয়নের মাঝের ডেইল এলাকার মৃত লাল মিয়ার ছেলে। তিনি বিগত ১০ বছর ধরে ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের ছাইরাখালীতে বসবাস করে আসছেন।

স্থানীয় এলাকাবাসী ও নিহতের পরিবার সূত্রে জানা গেছে,  ঘটনার দিন বৃদ্ধ আবদুর রহিম ও তার মেয়ের নাতি আদিবুর রহমান তুহিন ছাড়া বসতবাড়িতে কেউ ছিল না। সকালের দিকে নাতি তুহিন ও তার নানা একই সাথে বসে  খাবার খায়। নাতি খাবার খেয়ে স্থানীয় নুরানি মাদ্রাসায় চলে যায়। বিকেলের দিকে মাদ্রাসা ছুটি শেষে নাতি তুহিন বাসায় ফিরে তার নানাকে না দেখে ডাকতে থাকে। পরে বাড়ির একটি রুমের সামনে মাটিতে তার নানাকে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে সে দৌড়ে গিয়ে পাশের বাড়ির লোকজন ও দোকানদার জানায়। তারা দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে বৃদ্ধ আবদুর রহিমের নিথর দেহ দেখতে পায়। পরে বাড়ির পাশের এক মেয়ে নিহতের স্ত্রী ছেনুয়ারা বেগম ও মেয়েকে মুঠোফোনে ঘটনার খবর দেয়। এসময় তারা নিহতের শরীরের বিভিন্ন জায়গায় আঘাতের চিহ্ন দেখতে পায় তারা।

খবর পেয়ে চকরিয়া সার্কেলের সহকারি পুলিশ সুপার (এএসপি) অভিজিৎ দাশ, চকরিয়া থানার ওসি মো: শফিকুল ইসলামের নেতৃত্বে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে। পরে থানার এসআই শফিকুল ইসলাম রাজা নিহতের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে রাত সাড়ে নয়টার দিকে লাশ থানায় নিয়ে আসে।

নিহতের পরিবারের দাবি, পূর্ব পরিকল্পিত ভাবে এ হত্যার ঘটনাটি ঘটিয়েছে। ওই সময় বাড়ির টাকাসহ বিভিন্ন কিছু লুট করে নিয়ে যায়।

নিহত আবদুর রহিমের কন্যা শামীমা আক্তার রিনা বলেন, দুই দিন ধরে তার মা ও তিনি তাদের পূর্বের বাড়ি মাতারবাড়িতে অসুস্থ ছোট ভাই ওয়াহেদকে দেখতে যান। তিনি জানান, স্থানীয় প্রতিবেশী আব্বাসের স্ত্রী লিনুর সাথে ময়লা ফেলা নিয়ে ঝগড়াঝাঁটি হয়ে আসছিল। ঘটনার দিন বাড়িতে বৃদ্ধ বাবা আবদুর রহিম ও বোনের ছোট্ট ছেলে নুরানী মাদ্রাসায় পডুয়া ভাগিনা আদিবুর রহমান তুহিন ছাড়া আর কেউ ছিল না।

তিনি বলেন, আমি আর মা মাতাবাড়িতে যাওয়ার সময় বাড়ির আলমারিতে গরু ক্রয়ের জন্য ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা রেখে যাই। বাবা’কে  কে বা কারা কুপিয়ে হত্যা করে চলে যায়। আলমারিতে দায়ের কোপ দেখা গেছে। আলমারিতে রাখা টাকাও নেই।

তিনি আরো বলেন, মূলত স্থানীয় প্রতিবেশী পূর্ব শত্রুতাবশত: এ ঘটনা করেছে। বাসায় কেউ না থাকায়  ওইসময় দুর্বৃত্তরা বাবা’কে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে হত্যা করে পালিয়ে যান। আমরা ৫ বোন, ১ভাই। এরই আগেও ২০২১ সালে আগস্ট মাসে আমার এক বোন রাকি আক্তার পপিকে হত্যা করা হয়েছিল। তার লাশের খবর পর্যন্ত পাচ্ছিলাম না। পরে ১২দিন পরে জানতে পেরেছি ওই বোনকে আঞ্জুমান মুফিদুলের মাধ্যমে কক্সবাজার দাফন করা হয়েছিল। প্রশাসনের কাছে একটাই দাবি, বাবা’র এ হত্যাকান্ডের সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে অপরাধীকে দ্রুত গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনা হোক।

চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম জানায়, ঘটনাস্থল থেকে নিহতের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে । লাশ ময়নাতদন্তের জন্য জেলা সদর হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে।এই ঘটনার সাথে জড়িতদের শনাক্ত পূর্বক গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। উক্ত হত্যাকান্ডের ঘটনা উদঘাটনের জন্য পুলিশের কয়েকটি টিম কাজ করছে।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

মাতারবাড়ী প্রকল্পে শত কোটি টাকার রাজস্ব ক্ষতির অভিযোগ, হাইকোর্টে রিট

চকরিয়ার ফাঁসিয়াখালীতে বসতঘরে ঢুকে বৃদ্ধকে হত্যা

আপডেট সময় : ১২:৪৯:৫৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৮ জুলাই ২০২৫

কক্সবাজারের চকরিয়ায় পূর্বশক্রুতার জেরে বসতঘরে ঢুকে আবদুর রহিম(৬০)নামে এক বৃদ্ধকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে।

রোববার (২৭ জুলাই)সন্ধ্যা ৬টার দিকে উপজেলার ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের ছাইরাখালী আবদুল্লাহর দোকানের পাশ্ববর্তী এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহত আবদুর রহিম মহেশখালী উপজেলার মাতারবাড়ি ইউনিয়নের মাঝের ডেইল এলাকার মৃত লাল মিয়ার ছেলে। তিনি বিগত ১০ বছর ধরে ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের ছাইরাখালীতে বসবাস করে আসছেন।

স্থানীয় এলাকাবাসী ও নিহতের পরিবার সূত্রে জানা গেছে,  ঘটনার দিন বৃদ্ধ আবদুর রহিম ও তার মেয়ের নাতি আদিবুর রহমান তুহিন ছাড়া বসতবাড়িতে কেউ ছিল না। সকালের দিকে নাতি তুহিন ও তার নানা একই সাথে বসে  খাবার খায়। নাতি খাবার খেয়ে স্থানীয় নুরানি মাদ্রাসায় চলে যায়। বিকেলের দিকে মাদ্রাসা ছুটি শেষে নাতি তুহিন বাসায় ফিরে তার নানাকে না দেখে ডাকতে থাকে। পরে বাড়ির একটি রুমের সামনে মাটিতে তার নানাকে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে সে দৌড়ে গিয়ে পাশের বাড়ির লোকজন ও দোকানদার জানায়। তারা দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে বৃদ্ধ আবদুর রহিমের নিথর দেহ দেখতে পায়। পরে বাড়ির পাশের এক মেয়ে নিহতের স্ত্রী ছেনুয়ারা বেগম ও মেয়েকে মুঠোফোনে ঘটনার খবর দেয়। এসময় তারা নিহতের শরীরের বিভিন্ন জায়গায় আঘাতের চিহ্ন দেখতে পায় তারা।

খবর পেয়ে চকরিয়া সার্কেলের সহকারি পুলিশ সুপার (এএসপি) অভিজিৎ দাশ, চকরিয়া থানার ওসি মো: শফিকুল ইসলামের নেতৃত্বে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে। পরে থানার এসআই শফিকুল ইসলাম রাজা নিহতের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে রাত সাড়ে নয়টার দিকে লাশ থানায় নিয়ে আসে।

নিহতের পরিবারের দাবি, পূর্ব পরিকল্পিত ভাবে এ হত্যার ঘটনাটি ঘটিয়েছে। ওই সময় বাড়ির টাকাসহ বিভিন্ন কিছু লুট করে নিয়ে যায়।

নিহত আবদুর রহিমের কন্যা শামীমা আক্তার রিনা বলেন, দুই দিন ধরে তার মা ও তিনি তাদের পূর্বের বাড়ি মাতারবাড়িতে অসুস্থ ছোট ভাই ওয়াহেদকে দেখতে যান। তিনি জানান, স্থানীয় প্রতিবেশী আব্বাসের স্ত্রী লিনুর সাথে ময়লা ফেলা নিয়ে ঝগড়াঝাঁটি হয়ে আসছিল। ঘটনার দিন বাড়িতে বৃদ্ধ বাবা আবদুর রহিম ও বোনের ছোট্ট ছেলে নুরানী মাদ্রাসায় পডুয়া ভাগিনা আদিবুর রহমান তুহিন ছাড়া আর কেউ ছিল না।

তিনি বলেন, আমি আর মা মাতাবাড়িতে যাওয়ার সময় বাড়ির আলমারিতে গরু ক্রয়ের জন্য ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা রেখে যাই। বাবা’কে  কে বা কারা কুপিয়ে হত্যা করে চলে যায়। আলমারিতে দায়ের কোপ দেখা গেছে। আলমারিতে রাখা টাকাও নেই।

তিনি আরো বলেন, মূলত স্থানীয় প্রতিবেশী পূর্ব শত্রুতাবশত: এ ঘটনা করেছে। বাসায় কেউ না থাকায়  ওইসময় দুর্বৃত্তরা বাবা’কে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে হত্যা করে পালিয়ে যান। আমরা ৫ বোন, ১ভাই। এরই আগেও ২০২১ সালে আগস্ট মাসে আমার এক বোন রাকি আক্তার পপিকে হত্যা করা হয়েছিল। তার লাশের খবর পর্যন্ত পাচ্ছিলাম না। পরে ১২দিন পরে জানতে পেরেছি ওই বোনকে আঞ্জুমান মুফিদুলের মাধ্যমে কক্সবাজার দাফন করা হয়েছিল। প্রশাসনের কাছে একটাই দাবি, বাবা’র এ হত্যাকান্ডের সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে অপরাধীকে দ্রুত গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনা হোক।

চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম জানায়, ঘটনাস্থল থেকে নিহতের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে । লাশ ময়নাতদন্তের জন্য জেলা সদর হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে।এই ঘটনার সাথে জড়িতদের শনাক্ত পূর্বক গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। উক্ত হত্যাকান্ডের ঘটনা উদঘাটনের জন্য পুলিশের কয়েকটি টিম কাজ করছে।