ঢাকা ০৭:১৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
অন্যের দুর্দশার খবর লিখি, আমাদের দুর্দশা লিখবে কে? তাজমিনের মৃত্যু :রাজুর বিরুদ্ধে মামলা রেকর্ডের নির্দেশ আদালতের রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী সমাধান চায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটি ভূমধ্যসাগরীয় খাবার নিয়ে ওশ্যান প্যারাডাইসে ১০ দিনের ‘মেডিটেরেনিয়ান ফুড ফেস্টিভ্যাল’ ঈদগাঁওয়ে অগ্নিকাণ্ডে ৩ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ভস্মীভূত, ক্ষতি অর্ধকোটি টাকা লোহাগাড়ায় ব্যবসায়ীকে তুলে নেওয়ার অভিযোগ, স্বামীকে অক্ষত ফেরত চেয়ে স্ত্রীর সংবাদ সম্মেলন শারদীয় দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে কক্সবাজার বিশেষ নিরাপত্তা জোরদার করেছে এসআরবি-১৫ টেকনাফ ও উখিয়ার সীমান্তবর্তী পূজামণ্ডপ পরিদর্শনে রামুর সেক্টর কমান্ডার শারদীয় দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে কক্সবাজার বিশেষ নিরাপত্তা জোরদার করেছে এসআরবি-১৫ লামায় বিদায়ী ইউএনও মঈন উদ্দিনকে প্রেসক্লাবের বিদায় সংবর্ধনা প্রশাসন-গণমাধ্যমের সমন্বয়ে জনসেবা গতিশীল হবে- উখিয়া প্রেসক্লাব নেতৃবৃন্দের সঙ্গে ইউএনওর মতবিনিময় পেকুয়ায় করাতকলে অভিযান, মেশিন ও গাছ জব্দ কয়েক যুগেও লাগেনি উন্নয়নের ছোঁয়া , দুর্ভোগে দুই গ্রামের হাজার মানুষ পরিবেশ, বন ও জলবায়ু মন্ত্রণালয় পরিদর্শন করলেন প্রধানমন্ত্রী বিশ্ববাজারে কমলো জ্বালানি তেলের দাম

হুমকিতে লবণ শিল্প: চাষীদের মাথায় হাত,প্রতিমণে লোকসান ২৫০ টাকা

  • আফজারা রিয়া
  • আপডেট সময় : ০৭:৫৬:৩৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২০ নভেম্বর ২০২৫
  • 769

দেশের লবনের চাহিদার ৮৭ ভাগ পুরন করা হয় কক্সবাজারে উৎপাদিত লবন লবন দিয়ে। ২০১৮ সালের লবণ চাষী শুমারীর তথ্য এটি। সম্ভাবনাময় এ লবণ শিল্প আজ হুুমকির মুখে। কম দামে লবণ বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন কক্সবাজার উপকুলের চাষীরা। কারণ প্রতি মণ লবণ উৎপাদনে যে খরচ, তার চেয়ে অনেক কম দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে, অনেক চাষি উৎপাদন মৌসুম শুরু হলেও মাঠে নামতে সাহস পাচ্ছেন না, কারণ লোকসানের আশঙ্কা রয়েছে। যারা নেমে পড়েছেন তারাও চরম দু:শ্চিন্তায় দিন পার করছেন।

মহেশখালীর লবণচাষী আমীর হামজা জানিয়েছেন, মাঠপর্যায়ে প্রতি মণ লবণ বিক্রি হচ্ছে আনুমানিক ১৫০ থেকে ১৬০ টাকায়, অন্যদিকে প্রতি মণ লবণ উৎপাদনে খরচ হয় প্রায় ৪০০ টাকা।প্রতিমনেই ২৫০ টাকার মতো লোকসান গুনছেন চাষীরা।

ইসলামপুর লবণ মিল মালিক সমিতির সভাপতি জনাব সামশুল আলম আজাদ বলেন “স্থানীয় লবণ শিল্প আজ বড় চ্যালেঞ্জের মুখে। বিদেশি সোডিয়াম সালফেটের চাপ ও বাজারে অস্থিরতার কারণে চাষি থেকে মিল মালিক, সবাই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। আমরা চাই চাষিরা ন্যায্য মূল্য পাক এবং স্থানীয় শিল্প সুরক্ষিত থাকুক। সরকারের উদ্যোগ ও বিসিকের সহযোগিতায় সমন্বিত ভাবে কাজ করলে এ সংকট দ্রুতই কাটিয়ে ওঠা সম্ভব।”

বিদেশ থেকে সোডিয়াম সালফেট নামে লবণ আমদানির কারণেই বড় লোকসানের মূখে দেশে বৃহৎ এই শিল্প। এটি বন্ধ করা সম্ভব হলে লবনের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত হবে বলে জানানা লবণ ব্যবসায়ীরা।

লবণ চাষ ও প্রক্রিয়াজাতকরণ বিশেষজ্ঞ শেখ জাহাঙ্গীর হাছান মানিক বলেছেন “বর্তমান বাজার পরিস্থিতিতে লবণ চাষ টেকসই রাখতে হলে উৎপাদন ব্যয় কমানো, সঠিক পদ্ধতি অনুসরণ এবং একর প্রতি অধিক ফলন নিশ্চিত করাই এখন সবচেয়ে জরুরি। সঠিক প্রযুক্তি, প্রক্রিয়াজাত করণ ও নীতিগত সুরক্ষা মিলেই চাষি ও মিল মালিক উভয়ের লাভজনকতা ফিরিয়ে আনা সম্ভব।”

বিসিক কক্সবাজারের পরিচালক জাফর ইকবাল বলছেন, পদ্ধতিগত ভুলের কারণে অনেক চাষী লবণের দাম পাচ্ছে না। তাদের দিক নির্দেশনা মেনে চাষে মনোযোগী হবার তাগিদ দেন এই কর্মকর্তা।

সম্প্রতি কক্সবাজার সফরে এসে শিল্প মন্ত্রনালয়ের সচিব মো: ওবায়দুর রহমান লবণ সংশ্লীষ্টদের সাথে বৈঠক করেন। এসময় তিনি লবণের মজুত, ন্যায্যমূল্য নির্ধারণ, মিল মালিক, প্রান্তিক চাষিদের সমস্যা ও লবণ শিল্পের সম্ভাবনার বিষয়ে আলোচনা করেন এবং খাবার লবন আমদানি বন্ধ করা হবে বলে জানান।পাশাপাশি আমদানি করা লবন বন্দর থেকে খালাসের আগে পরীক্ষা করার কথাও জানান।

তথ্য বলছে,কক্সবাজার উপকুলের অন্তত ৪১ হাজার চাষি রয়েছে। এ বছর লবণ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্র ধরা হয়েছে ২৭ লাখ ১৫ হাজার মেট্রিকটন।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

অন্যের দুর্দশার খবর লিখি, আমাদের দুর্দশা লিখবে কে?

হুমকিতে লবণ শিল্প: চাষীদের মাথায় হাত,প্রতিমণে লোকসান ২৫০ টাকা

আপডেট সময় : ০৭:৫৬:৩৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২০ নভেম্বর ২০২৫

দেশের লবনের চাহিদার ৮৭ ভাগ পুরন করা হয় কক্সবাজারে উৎপাদিত লবন লবন দিয়ে। ২০১৮ সালের লবণ চাষী শুমারীর তথ্য এটি। সম্ভাবনাময় এ লবণ শিল্প আজ হুুমকির মুখে। কম দামে লবণ বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন কক্সবাজার উপকুলের চাষীরা। কারণ প্রতি মণ লবণ উৎপাদনে যে খরচ, তার চেয়ে অনেক কম দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে, অনেক চাষি উৎপাদন মৌসুম শুরু হলেও মাঠে নামতে সাহস পাচ্ছেন না, কারণ লোকসানের আশঙ্কা রয়েছে। যারা নেমে পড়েছেন তারাও চরম দু:শ্চিন্তায় দিন পার করছেন।

মহেশখালীর লবণচাষী আমীর হামজা জানিয়েছেন, মাঠপর্যায়ে প্রতি মণ লবণ বিক্রি হচ্ছে আনুমানিক ১৫০ থেকে ১৬০ টাকায়, অন্যদিকে প্রতি মণ লবণ উৎপাদনে খরচ হয় প্রায় ৪০০ টাকা।প্রতিমনেই ২৫০ টাকার মতো লোকসান গুনছেন চাষীরা।

ইসলামপুর লবণ মিল মালিক সমিতির সভাপতি জনাব সামশুল আলম আজাদ বলেন “স্থানীয় লবণ শিল্প আজ বড় চ্যালেঞ্জের মুখে। বিদেশি সোডিয়াম সালফেটের চাপ ও বাজারে অস্থিরতার কারণে চাষি থেকে মিল মালিক, সবাই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। আমরা চাই চাষিরা ন্যায্য মূল্য পাক এবং স্থানীয় শিল্প সুরক্ষিত থাকুক। সরকারের উদ্যোগ ও বিসিকের সহযোগিতায় সমন্বিত ভাবে কাজ করলে এ সংকট দ্রুতই কাটিয়ে ওঠা সম্ভব।”

বিদেশ থেকে সোডিয়াম সালফেট নামে লবণ আমদানির কারণেই বড় লোকসানের মূখে দেশে বৃহৎ এই শিল্প। এটি বন্ধ করা সম্ভব হলে লবনের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত হবে বলে জানানা লবণ ব্যবসায়ীরা।

লবণ চাষ ও প্রক্রিয়াজাতকরণ বিশেষজ্ঞ শেখ জাহাঙ্গীর হাছান মানিক বলেছেন “বর্তমান বাজার পরিস্থিতিতে লবণ চাষ টেকসই রাখতে হলে উৎপাদন ব্যয় কমানো, সঠিক পদ্ধতি অনুসরণ এবং একর প্রতি অধিক ফলন নিশ্চিত করাই এখন সবচেয়ে জরুরি। সঠিক প্রযুক্তি, প্রক্রিয়াজাত করণ ও নীতিগত সুরক্ষা মিলেই চাষি ও মিল মালিক উভয়ের লাভজনকতা ফিরিয়ে আনা সম্ভব।”

বিসিক কক্সবাজারের পরিচালক জাফর ইকবাল বলছেন, পদ্ধতিগত ভুলের কারণে অনেক চাষী লবণের দাম পাচ্ছে না। তাদের দিক নির্দেশনা মেনে চাষে মনোযোগী হবার তাগিদ দেন এই কর্মকর্তা।

সম্প্রতি কক্সবাজার সফরে এসে শিল্প মন্ত্রনালয়ের সচিব মো: ওবায়দুর রহমান লবণ সংশ্লীষ্টদের সাথে বৈঠক করেন। এসময় তিনি লবণের মজুত, ন্যায্যমূল্য নির্ধারণ, মিল মালিক, প্রান্তিক চাষিদের সমস্যা ও লবণ শিল্পের সম্ভাবনার বিষয়ে আলোচনা করেন এবং খাবার লবন আমদানি বন্ধ করা হবে বলে জানান।পাশাপাশি আমদানি করা লবন বন্দর থেকে খালাসের আগে পরীক্ষা করার কথাও জানান।

তথ্য বলছে,কক্সবাজার উপকুলের অন্তত ৪১ হাজার চাষি রয়েছে। এ বছর লবণ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্র ধরা হয়েছে ২৭ লাখ ১৫ হাজার মেট্রিকটন।