ঢাকা ০৪:১৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬, ২৪ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
কক্সবাজারে বিপাকে সেই টুকু দ্য আগলি, স্কুটিতেও গুণেছেন ১৮ হাজার জরিমানা! সৌদি আরবে মৃত্যুর তিন সপ্তাহ পর দেশে এলো মনছুর আলমের মরদেহ, সকাল ১১টায় জানাজা গোমাতলী ভূমিহীন কৃষি সমবায় সমিতির নির্বাচন ঘিরে ইউএনওর ৮ অক্টোবরের বিজ্ঞপ্তিতে ৯ অক্টোবরের সংবাদ! কক্সবাজারের সমালোচনা হোক, অপপ্রচার নয় রামুতে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রাপ্ত আসামি গ্রেফতার যৌতুকের বলি চকরিয়ার গৃহবধূ মরিয়ম অপপ্রচার দিয়ে সত্যকে আড়াল করা যাবে না-কচ্ছপিয়ার বিএনপি নেতা আবছার “কথা”আর কথা বলবে না রামুতে ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচ অনুষ্ঠিত : নদীর তুফান দল চ্যাম্পিয়ন উপজেলা সমবায় অফিসার দিদারের ইন্ধনে পশ্চিম গোমাতলী ভূমিহীন কৃষি সমবায় সমিতির নির্বাচন বন্ধের পাঁয়তারা কক্সবাজারে বিশেষ অভিযানে হত্যা মামলার আসামিসহ গ্রেফতার ২৬, হেফাজতে ১০ কিশোর কক্সবাজারে নির্মিত হবে আধুনিক তথ্য কমপ্লেক্স ভবন : স্থান পরিদর্শনে তথ্য সচিব মাতারবাড়িতে সরকারি জায়গা দখলে মেতেছে প্রভাবশালী সিন্ডিকেট উখিয়ায় গানবাজনার অভিযোগে বিয়ে বাড়িতে হামলা : আহত ১০, বিয়ে পন্ড প্যানোয়া নিউজের ব্যবস্থাপনা সম্পাদক সাংবাদিক ইমরান হোসাইন

সৌদি আরবে মৃত্যুর তিন সপ্তাহ পর দেশে এলো মনছুর আলমের মরদেহ, সকাল ১১টায় জানাজা

সৌদি আরবের রিয়াদে মৃত্যুর প্রায় তিন সপ্তাহ পর দেশে আনা হয়েছে চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার সদর ইউনিয়নের বাসিন্দা প্রবাসী মনছুর আলমের (৩০)মরদেহ।

শুক্রবার (৯ অক্টোবর ) রাতে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে মরদেহ গ্রহণ করে বাড়ির পথে রওনা হন স্বজনেরা।

পরিবারের তথ্য অনুযায়ী, সবকিছু ঠিক থাকলে শনিবার ভোররাত ৩টা থেকে ৪টার মধ্যে মরদেহ চট্টগ্রামের লোহাগাড়ার বাড়িতে পৌঁছানোর কথা। সকাল ১১টায় জানাজা শেষে তাঁকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করার কথা রয়েছে।

মনছুর আলম লোহাগাড়া সদর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণ সুখছড়ি আকিকার পাড়ার নুরুল কবিরের ছেলে। তিন ভাই ও চার বোনের মধ্যে তিনি ছিলেন সবার বড়। তাঁর মৃত্যুতে পরিবারে নেমে এসেছে শোকের ছায়া।

পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, সৌদি আরবের মদিনায় চারজন অংশীদারের সঙ্গে একটি দোকানের ব্যবসায় যুক্ত হয়েছিলেন মনছুর। প্রায় আট মাস আগে ব্যবসা শুরু করার পর থেকেই হিসাব-নিকাশ নিয়ে অংশীদারদের সঙ্গে তাঁর ভুল বোঝাবুঝি দেখা দেয়।

পরিবারের অভিযোগ, একপর্যায়ে অংশীদারেরা তাঁর বিরুদ্ধে টাকা চুরির অভিযোগ তোলেন। মৃত্যুর প্রায় দুই মাস আগে তাঁকে মারধর করে দোকান থেকে বের করে দেওয়া হয়। এরপর মদিনা ছেড়ে রিয়াদে চাচাতো ভাই রবিউল হোসেনের কাছে চলে যান তিনি।

তবে স্থান পরিবর্তন করেও বিরোধ থেকে মুক্তি পাননি বলে দাবি স্বজনদের। তাঁদের অভিযোগ, দোকান থেকে বের করে দেওয়ার পরও অংশীদারেরা ফোন ও ভয়েস মেসেজের মাধ্যমে তাঁকে বিভিন্ন বিষয়ে বিরক্ত করতেন। এসব ঘটনায় মনছুর মানসিক চাপে ছিলেন।

মনছুরের বড় বোন সোলতানা বলেন, দোকান থেকে বের করে দেওয়ার পরও অংশীদারেরা তাঁর ভাইকে ফোন ও ভয়েস মেসেজে নানা বিষয় নিয়ে বিরক্ত করতেন। ভাই দীর্ঘদিন ধরে মানসিক চাপে ছিলেন। বিভিন্ন সময়ে পরিবারের সদস্যদের কাছেও নিজের সমস্যার কথা জানিয়েছিলেন তিনি।

পরিবারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত ২০ সেপ্টেম্বর রোববার দুপুরে অসুস্থ হয়ে পড়লে মনছুরকে রিয়াদের একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়। চিকিৎসা শেষে তাঁকে বাসায় নিয়ে আসেন চাচাতো ভাই রবিউল হোসেন। ওই দিন রাতে ওষুধ আনতে বাইরে যান রবিউল। ফিরে এসে কক্ষের ভেতর মনছুরকে মৃত অবস্থায় দেখতে পান তিনি।

পরে খবর পেয়ে সৌদি পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে মরদেহ নিয়ে যায়। পরদিন সোমবার দুপুরে লোহাগাড়ার দক্ষিণ সুখছড়ির বাড়িতে তাঁর মৃত্যুর খবর পৌঁছায়। এরপর থেকেই প্রিয়জনের মরদেহ দেশে ফেরার অপেক্ষায় দিন গুনছিলেন পরিবারের সদস্যরা।

মনছুরের মৃত্যুর ঘটনায় ব্যবসায়িক বিরোধ ও মানসিক চাপের বিষয়টি সামনে এনেছেন স্বজনেরা। তাঁদের অভিযোগ, বিরোধ এবং লাগাতার চাপের কারণে তিনি চরম হতাশায় ভুগছিলেন। এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদ্‌ঘাটন এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

তবে মনছুরের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে সৌদি কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক কোনো তথ্য এখনো পরিবারের হাতে পৌঁছায়নি। পরিবারের অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত অংশীদারদের বক্তব্যও পাওয়া যায়নি। ফলে ব্যবসায়িক বিরোধের সঙ্গে তাঁর মৃত্যুর কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

দক্ষিণ সুখছড়ির বাড়িতে এখন স্বজনদের আহাজারি আর শেষবারের মতো প্রিয় মানুষটিকে দেখার অপেক্ষা। পরিবারের হাল ধরতে যাওয়া মনছুরের এই করুণ পরিণতিতে শোকাহত স্বজন ও এলাকাবাসী।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

কক্সবাজারে বিপাকে সেই টুকু দ্য আগলি, স্কুটিতেও গুণেছেন ১৮ হাজার জরিমানা!

সৌদি আরবে মৃত্যুর তিন সপ্তাহ পর দেশে এলো মনছুর আলমের মরদেহ, সকাল ১১টায় জানাজা

আপডেট সময় : ০৩:১২:২০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬

সৌদি আরবের রিয়াদে মৃত্যুর প্রায় তিন সপ্তাহ পর দেশে আনা হয়েছে চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার সদর ইউনিয়নের বাসিন্দা প্রবাসী মনছুর আলমের (৩০)মরদেহ।

শুক্রবার (৯ অক্টোবর ) রাতে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে মরদেহ গ্রহণ করে বাড়ির পথে রওনা হন স্বজনেরা।

পরিবারের তথ্য অনুযায়ী, সবকিছু ঠিক থাকলে শনিবার ভোররাত ৩টা থেকে ৪টার মধ্যে মরদেহ চট্টগ্রামের লোহাগাড়ার বাড়িতে পৌঁছানোর কথা। সকাল ১১টায় জানাজা শেষে তাঁকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করার কথা রয়েছে।

মনছুর আলম লোহাগাড়া সদর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণ সুখছড়ি আকিকার পাড়ার নুরুল কবিরের ছেলে। তিন ভাই ও চার বোনের মধ্যে তিনি ছিলেন সবার বড়। তাঁর মৃত্যুতে পরিবারে নেমে এসেছে শোকের ছায়া।

পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, সৌদি আরবের মদিনায় চারজন অংশীদারের সঙ্গে একটি দোকানের ব্যবসায় যুক্ত হয়েছিলেন মনছুর। প্রায় আট মাস আগে ব্যবসা শুরু করার পর থেকেই হিসাব-নিকাশ নিয়ে অংশীদারদের সঙ্গে তাঁর ভুল বোঝাবুঝি দেখা দেয়।

পরিবারের অভিযোগ, একপর্যায়ে অংশীদারেরা তাঁর বিরুদ্ধে টাকা চুরির অভিযোগ তোলেন। মৃত্যুর প্রায় দুই মাস আগে তাঁকে মারধর করে দোকান থেকে বের করে দেওয়া হয়। এরপর মদিনা ছেড়ে রিয়াদে চাচাতো ভাই রবিউল হোসেনের কাছে চলে যান তিনি।

তবে স্থান পরিবর্তন করেও বিরোধ থেকে মুক্তি পাননি বলে দাবি স্বজনদের। তাঁদের অভিযোগ, দোকান থেকে বের করে দেওয়ার পরও অংশীদারেরা ফোন ও ভয়েস মেসেজের মাধ্যমে তাঁকে বিভিন্ন বিষয়ে বিরক্ত করতেন। এসব ঘটনায় মনছুর মানসিক চাপে ছিলেন।

মনছুরের বড় বোন সোলতানা বলেন, দোকান থেকে বের করে দেওয়ার পরও অংশীদারেরা তাঁর ভাইকে ফোন ও ভয়েস মেসেজে নানা বিষয় নিয়ে বিরক্ত করতেন। ভাই দীর্ঘদিন ধরে মানসিক চাপে ছিলেন। বিভিন্ন সময়ে পরিবারের সদস্যদের কাছেও নিজের সমস্যার কথা জানিয়েছিলেন তিনি।

পরিবারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত ২০ সেপ্টেম্বর রোববার দুপুরে অসুস্থ হয়ে পড়লে মনছুরকে রিয়াদের একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়। চিকিৎসা শেষে তাঁকে বাসায় নিয়ে আসেন চাচাতো ভাই রবিউল হোসেন। ওই দিন রাতে ওষুধ আনতে বাইরে যান রবিউল। ফিরে এসে কক্ষের ভেতর মনছুরকে মৃত অবস্থায় দেখতে পান তিনি।

পরে খবর পেয়ে সৌদি পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে মরদেহ নিয়ে যায়। পরদিন সোমবার দুপুরে লোহাগাড়ার দক্ষিণ সুখছড়ির বাড়িতে তাঁর মৃত্যুর খবর পৌঁছায়। এরপর থেকেই প্রিয়জনের মরদেহ দেশে ফেরার অপেক্ষায় দিন গুনছিলেন পরিবারের সদস্যরা।

মনছুরের মৃত্যুর ঘটনায় ব্যবসায়িক বিরোধ ও মানসিক চাপের বিষয়টি সামনে এনেছেন স্বজনেরা। তাঁদের অভিযোগ, বিরোধ এবং লাগাতার চাপের কারণে তিনি চরম হতাশায় ভুগছিলেন। এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদ্‌ঘাটন এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

তবে মনছুরের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে সৌদি কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক কোনো তথ্য এখনো পরিবারের হাতে পৌঁছায়নি। পরিবারের অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত অংশীদারদের বক্তব্যও পাওয়া যায়নি। ফলে ব্যবসায়িক বিরোধের সঙ্গে তাঁর মৃত্যুর কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

দক্ষিণ সুখছড়ির বাড়িতে এখন স্বজনদের আহাজারি আর শেষবারের মতো প্রিয় মানুষটিকে দেখার অপেক্ষা। পরিবারের হাল ধরতে যাওয়া মনছুরের এই করুণ পরিণতিতে শোকাহত স্বজন ও এলাকাবাসী।