ঢাকা ০৭:০৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ৩০ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
কক্সবাজার -০৪: উখিয়া-টেকনাফের ভোটার কতো,ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র কয়টি? কক্সবাজার -০৩: সদর-রামু-ঈদগাঁওর ভোটার কতো,ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র কয়টি? কক্সবাজার-০২: মহেশখালী-কুতুবদিয়ায় ভোটার কতো,ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র কয়টি কক্সবাজার ০১- : চকরিয়া-পেকুয়া উপজেলায় ভোটার কতো, ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র কয়টি? নির্বাচনকালীন সাংবাদিকদের সুরক্ষায় কক্সবাজারে ক্র্যাকের ‘জরুরি সহায়তা সেল’ গঠন প্রার্থীরা কে কোথায় ভোট দেবেন? কোনো অবস্থাতেই নির্বাচনের মাঠ ছাড়বে না জামায়াত গুলশানে ভোট দেবেন প্রধান উপদেষ্টা নির্বাচনে নারীদের নিরাপদ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক অংশগ্রহণ চায় জাতিসংঘ টেকনাফে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের নির্বাচনী কার্যালয়ে অগ্নিসংযোগ নির্বাচন সামনে রেখে কক্সবাজারে সম্মুখ সারির ৬জুলাই যোদ্ধার ছাত্রদলে যোগদান ​কক্সবাজার-৩ আসনে জগদীশ বড়ুয়ার সমর্থন প্রত্যাহার করলো লেবার পার্টি পর্যবেক্ষক ও গণমাধ্যমকর্মী কেন্দ্রে স্বাধীনভাবে তথ্য সংগ্রহ করতে পারবে নির্বাচন: কেন্দ্রে যাচ্ছে ব্যালট পেপার ৪ টি আসনে কেন্দ্র ৫৯৮,কক্ষ ৩,৬৮৯, পোলিং প্রিসাইডিং ১২,২৫১,আইনশৃঙ্খলা সদস্য ১৩,৪৯৯

সৈকতে বিশ্বের বৃহত্তম “প্লাস্টিক দানব”

  • রাহুল মহাজন:
  • আপডেট সময় : ০৯:১৪:৪৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩ ডিসেম্বর ২০২৫
  • 384

সৈকতে দাঁড়িয়ে আছে দৈত্য। ঘিরে আছে উৎসুক জনতা। কেউ আবার এ সুযোগে তুলছে সেলফি। ফেসবুক সয়লাব হয়ে গেছে এ দানবের ছবি তে। তবে এটা আলস দৈত্য নয়।

মানুষের ফেলে দেয়া প্লাস্টিক দিয়ে একদল স্বেচ্ছাসেবী এই দানব তৈরি করেছে। প্লাস্টিকের কারণে দূষণের ভয়াবহতা সম্পর্কে মানুষকে সচেতন করতে এই তৈরী করা হয়েছে এই দানব।

কক্সবাজার জেলা প্রশাসন ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে নির্মিত সৈকতের সীগাল পয়েন্টে তৈরী করা হয়েছে সাগরের প্লাস্টিক বর্জ্যে তৈরি এ দানব ভাস্কর্য। যা প্রদর্শন করা হবে তিন মাস।

বুধবার (৩ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় ভাস্কর্যয়ের উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক জনাব মো: আ: মান্নান।

তিনি বলেন ” দূষনের হাত থেকে সমুদ্রকে বাঁচাতে এ উদ্যোগ প্রশংসনীয়। সৈকতে আসা লাখো পযটকের মাঝে সচেতনতা তৈরিতে এটি রাখবে ভূমিকা।

বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশনের গভর্নিং বডির সদস্য জামাল উদ্দিন বলেন “বর্তমান সরকারের পরিবেশ মন্ত্রণালয় প্লাস্টিক দূষনের বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থান নিয়েছে। সরকারের পলিসির সাথে সমন্বয় করে আমরা সারাদেশ থেকে স্বেচ্ছাশ্রমে ৫০০ মেট্রিক টন পরিত্যক্ত প্লাস্টিক রিসাইকেল করেছি। এতে করে প্লাস্টিক বর্জ্য ম্যানেজমেন্টে সরকারি খরচ যেমন কমবে তেমনি মানুষও জানতে পারবে কীভাবে রিসাইকেলের মাধ্যমে বর্জ্য কে সম্পদে রুপান্তর করা যায়। দেশব্যাপী এই উদ্যোগের অংশ হিসেবে কক্সবাজারে আমরা জেলা প্রশাসনের সহযোগীতায় ৬ মাস ব্যাপী প্লাস্টিক দূষণ প্রতিরোধে কাজ করে যাব। প্লাস্টিক বর্জ্য রিসাইকেলের পাশাপাশি এখানে সচেতনতামূলক ভাস্কর্য প্রদর্শনীর আয়োজনও করছি।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা বিভাগের ভাস্কর ও শিল্পী আবীর কর্মকার জানান, বিদ্যানন্দের ভিন্নধর্মী উদ্যোগ প্লাস্টিক দানবটি তৈরি করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা বিভাগের একদল শিল্পী। এতে তারা প্লাস্টিক বর্জ্যের পাশাপাশি ব্যবহার করেছেন কাঠ, পেরেক ও আঁটা (গাম) সহ আরও কয়েকটি উপকরণ। ভাস্কর্য শিল্পীদের দাবি, এটি ওসান প্লাস্টিক দিয়ে তৈরি বিশ্বের সর্ব বৃহৎ “প্লাস্টিক দৈত্য”। এটি বানাতে প্রায় ৬ মেট্রিক টন প্লাস্টিক ব্যবহৃত হয়েছে।

বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশনের দায়িত্বরত স্বেচ্ছাসেবক মুহাম্মদ মুবারক জানান, গত প্রায় ৪ মাস ধরে কক্সবাজার, ইনানী ও টেকনাফের সমুদ্র সৈকত থেকে সংগ্রহ করেছে অন্তত ৮০ মেট্রক টন সামুদ্রিক প্লাস্টিক বর্জ্য। এসব বর্জ্যর একটা অংশ দিয়ে কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে নির্মাণ করেছেন এ ‘প্লাস্টিক দানব। বিশ্বের দীর্ঘতম সৈকতে ঘুরতে আসা পর্যটক ও স্থানীয়দের মাঝে প্লাস্টিক বর্জ্যের দূষণ সম্পর্কে সচেতনতা সৃষ্টিতে ভিন্নধর্মী এ উদ্যোগ। আর এটি পুরো পর্যটন মৌসুম সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত থাকবে। এটাকে কেন্দ্র করে এখানে প্লাস্টিক দূষণবিরোধী সচেতনতামূলক পথনাটক ও সংগীতানুষ্ঠানের আয়োজন করা হবে।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

কক্সবাজার -০৪: উখিয়া-টেকনাফের ভোটার কতো,ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র কয়টি?

This will close in 6 seconds

সৈকতে বিশ্বের বৃহত্তম “প্লাস্টিক দানব”

আপডেট সময় : ০৯:১৪:৪৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩ ডিসেম্বর ২০২৫

সৈকতে দাঁড়িয়ে আছে দৈত্য। ঘিরে আছে উৎসুক জনতা। কেউ আবার এ সুযোগে তুলছে সেলফি। ফেসবুক সয়লাব হয়ে গেছে এ দানবের ছবি তে। তবে এটা আলস দৈত্য নয়।

মানুষের ফেলে দেয়া প্লাস্টিক দিয়ে একদল স্বেচ্ছাসেবী এই দানব তৈরি করেছে। প্লাস্টিকের কারণে দূষণের ভয়াবহতা সম্পর্কে মানুষকে সচেতন করতে এই তৈরী করা হয়েছে এই দানব।

কক্সবাজার জেলা প্রশাসন ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে নির্মিত সৈকতের সীগাল পয়েন্টে তৈরী করা হয়েছে সাগরের প্লাস্টিক বর্জ্যে তৈরি এ দানব ভাস্কর্য। যা প্রদর্শন করা হবে তিন মাস।

বুধবার (৩ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় ভাস্কর্যয়ের উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক জনাব মো: আ: মান্নান।

তিনি বলেন ” দূষনের হাত থেকে সমুদ্রকে বাঁচাতে এ উদ্যোগ প্রশংসনীয়। সৈকতে আসা লাখো পযটকের মাঝে সচেতনতা তৈরিতে এটি রাখবে ভূমিকা।

বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশনের গভর্নিং বডির সদস্য জামাল উদ্দিন বলেন “বর্তমান সরকারের পরিবেশ মন্ত্রণালয় প্লাস্টিক দূষনের বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থান নিয়েছে। সরকারের পলিসির সাথে সমন্বয় করে আমরা সারাদেশ থেকে স্বেচ্ছাশ্রমে ৫০০ মেট্রিক টন পরিত্যক্ত প্লাস্টিক রিসাইকেল করেছি। এতে করে প্লাস্টিক বর্জ্য ম্যানেজমেন্টে সরকারি খরচ যেমন কমবে তেমনি মানুষও জানতে পারবে কীভাবে রিসাইকেলের মাধ্যমে বর্জ্য কে সম্পদে রুপান্তর করা যায়। দেশব্যাপী এই উদ্যোগের অংশ হিসেবে কক্সবাজারে আমরা জেলা প্রশাসনের সহযোগীতায় ৬ মাস ব্যাপী প্লাস্টিক দূষণ প্রতিরোধে কাজ করে যাব। প্লাস্টিক বর্জ্য রিসাইকেলের পাশাপাশি এখানে সচেতনতামূলক ভাস্কর্য প্রদর্শনীর আয়োজনও করছি।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা বিভাগের ভাস্কর ও শিল্পী আবীর কর্মকার জানান, বিদ্যানন্দের ভিন্নধর্মী উদ্যোগ প্লাস্টিক দানবটি তৈরি করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা বিভাগের একদল শিল্পী। এতে তারা প্লাস্টিক বর্জ্যের পাশাপাশি ব্যবহার করেছেন কাঠ, পেরেক ও আঁটা (গাম) সহ আরও কয়েকটি উপকরণ। ভাস্কর্য শিল্পীদের দাবি, এটি ওসান প্লাস্টিক দিয়ে তৈরি বিশ্বের সর্ব বৃহৎ “প্লাস্টিক দৈত্য”। এটি বানাতে প্রায় ৬ মেট্রিক টন প্লাস্টিক ব্যবহৃত হয়েছে।

বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশনের দায়িত্বরত স্বেচ্ছাসেবক মুহাম্মদ মুবারক জানান, গত প্রায় ৪ মাস ধরে কক্সবাজার, ইনানী ও টেকনাফের সমুদ্র সৈকত থেকে সংগ্রহ করেছে অন্তত ৮০ মেট্রক টন সামুদ্রিক প্লাস্টিক বর্জ্য। এসব বর্জ্যর একটা অংশ দিয়ে কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে নির্মাণ করেছেন এ ‘প্লাস্টিক দানব। বিশ্বের দীর্ঘতম সৈকতে ঘুরতে আসা পর্যটক ও স্থানীয়দের মাঝে প্লাস্টিক বর্জ্যের দূষণ সম্পর্কে সচেতনতা সৃষ্টিতে ভিন্নধর্মী এ উদ্যোগ। আর এটি পুরো পর্যটন মৌসুম সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত থাকবে। এটাকে কেন্দ্র করে এখানে প্লাস্টিক দূষণবিরোধী সচেতনতামূলক পথনাটক ও সংগীতানুষ্ঠানের আয়োজন করা হবে।