ঢাকা ০১:২৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬, ৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
রোহিঙ্গা ক্যাম্পে যৌথ অভিযান: সন্ত্রাসী জিয়াউর রহমানসহ আটক ১৭, অস্ত্র ও ইয়াবা উদ্ধার গর্জনিয়া-কচ্ছপিয়ার মানুষ পুলিশ বান্ধব- রামুর ওসি মুনিরুল জেলা শিল্পকলা একাডেমির “বর্ষায় নজরুল” স্মরণ অনুষ্ঠান ‘প্রশ্নটা বিব্রতকর’, পদত্যাগের প্রসঙ্গে রাষ্ট্রপতি ​রাজু ভাস্কর্যে এমপি শাহজাহান চৌধুরীর আশ্বাসে অনশন ভাঙলেন সাইফুল ইসলাম জিহাদী খুনিয়া পালংয়ে কলেজ ছাত্রকে জড়িয়ে প্রকাশিত সংবাদের ব্যাখ্যা ও প্রতিবাদ উখিয়ায় বিএসটিআইয়ের লোগো লাগিয়ে চলছিলো বেকারি পণ্য, এসিল্যান্ডের অভিযানে জরিমানা পেকুয়ায় অবৈধ বাঁধ অপসারণ: স্বস্তিতে ১০ হাজার মানুষ হোয়াইক্যং ইউনিয়ন বিভক্তি নিয়ে বৈঠকে হামলা, পরিষদে ভাঙচুর : আহত কয়েকজন কক্সবাজারকে আন্তর্জাতিক পর্যটন হাব গড়তে সমন্বিত মাস্টারপ্ল্যান রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ প্রসঙ্গে যা বললেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কক্সবাজারকে সিটি কর্পোরেশনে উন্নীত করা হতে পারে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করছেন জাবির সিনেট সদস্য নির্বাচিত হওয়ায় অধ্যক্ষ আক্তার চৌধুরীকে সাহিত্যিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও সমাজ কমিটির সংবর্ধনা নতুন নৌপ্রধানকে ভাইস অ্যাডমিরাল র‍্যাংক ব্যাজ পরালেন প্রধানমন্ত্রী 

সেন্টমার্টিনের টিকেট জালিয়াতি রুখতে কঠোর প্রশাসন, অন্যের নামে ভ্রমণ করলে ব্যবস্থা

আগামী ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত প্রতিদিন সর্বোচ্চ দুই হাজার পর্যটক প্রবালদ্বীপ সেন্ট মার্টিন ভ্রমণের সুযোগ পাচ্ছেন। তবে নানা বিধিনিষেধের মধ্যেই জাহাজের টিকিট নিয়ে তৈরি হয়েছে বিড়ম্বনা, পাশাপাশি জালিয়াতি চক্র সক্রিয় থাকার অভিযোগ উঠেছে। এসব জালিয়াতি ঠেকাতে টিকিটে উল্লিখিত নামধারীর জাতীয় পরিচয়পত্রের হার্ডকপি অথবা নিবন্ধিত মোবাইল নম্বর যাচাই বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। যাচাই ছাড়া কোনো যাত্রীকে সেন্টমার্টিন ভ্রমণের অনুমতি দেওয়া হবে না।

বুধবার (১৭ ডিসেম্বর) সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের এক সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আজ বৃহস্পতিবার (১৮ ডিসেম্বর) থেকেই এ নির্দেশনা কঠোরভাবে কার্যকর করা হবে।

গত ১ ডিসেম্বর থেকে সরকার নির্ধারিত কক্সবাজার শহরের নুনিয়ারছড়া বিআইডব্লিউটিএ ঘাট থেকে কক্সবাজার-সেন্ট মার্টিন রুটে প্রতিদিন চলাচল করছে অনুমতিপ্রাপ্ত ৬টি জাহাজ। যাত্রার প্রথম ১৭ দিনে (১৭ ডিসেম্বর পর্যন্ত) প্রায় ৩০ হাজার পর্যটক সেন্টমার্টিন ভ্রমণ করেছেন।

ট্রাভেল পাস সংক্রান্ত সরকারি ওয়েবসাইট (travelpass.gov.bd) এর তথ্যানুযায়ী গত ১৬ ডিসেম্বর নির্ধারিত ২ হাজারটির সবকটি পাসই ইস্যু হয়েছে, যা একক দিন হিসেবে সর্বোচ্চ। ইতোমধ্যে ১৭ জানুয়ারি পর্যন্ত আগামী ৩০ দিনের নির্ধারিত প্রায় ৬০ হাজার টিকেটের মধ্যে অধিকাংশ টিকেটই অগ্রিম বিক্রি হয়ে গেছে বলে জাহাজ মালিক কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গেছে।

সি ক্রুজ অপারেটর ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (স্কোয়াব) সাধারণ সম্পাদক হোসাইন ইসলাম বাহাদুর ঢাকা পোস্টকে বলেন, বছর কয়েক আগেও ৫ মাস যাবৎ দৈনিক ৫-১০ হাজার পর্যটক সেন্টমার্টিন ভ্রমণে যেতেন। এখন মাত্র ২ মাস প্রতিদিন ২ হাজার পর্যটক যেতে পারছেন। এমন পরিস্থিতিতে টিকেটের ওপর চাপ বেড়ে যাওয়ায় মধ্য জানুয়ারি পর্যন্ত প্রায় সব টিকেট শেষ। দৈনিক হারে ভ্রমণে আগ্রহী পর্যটকের সংখ্যা গড়ে ৩ থেকে সাড়ে ৩ হাজারের বেশি।

এদিকে অভিযোগ উঠেছে, প্রশাসনের কড়া নজরদারি সত্ত্বেও সূক্ষ্ম কারচুপির মাধ্যমে একটি জালিয়াতি চক্র সিন্ডিকেট করে অসাধু অনলাইন এজেন্টদের মাধ্যমে অগ্রিম টিকেট সংগ্রহ করছে এবং পরবর্তীতে চড়াদামে অবৈধভাবে কালোবাজারির মাধ্যমে পর্যটকদের কাছে বিক্রি করছে।

অনুসন্ধান বলছে, অন্যের নামে টিকেটে যাত্রা নিষিদ্ধ থাকলেও পর্যটকরা কালোবাজারিদের কাছ থেকে বাড়তি দামে তা সংগ্রহ করে ভ্রমণ করছেন। স্থানীয় ইউনুস, নিশাদ আপন নামে কয়েকজন যুবকের তথ্য পাওয়া গেছে যারা বাড়তি মূল্যে টিকেট বিক্রি করছেন।

ঢাকা থেকে ভ্রমণে আসা রুমেল হাসান নামে এক পর্যটক বলেন, অনলাইনে টিকেট পাইনি, অনেক দূর থেকে এসেছি। ফিরে তো যাব না। তাই এখানে এসে সাড়ে ৪ হাজার টাকায় টিকেট নিয়েছি যদিও অনলাইনে দাম আরও কম ছিল।

অভিযোগ প্রসঙ্গে ইউনুস বলেন, আমরা এজেন্টদের কাছে বাড়তি টাকা দিয়ে টিকেট সংগ্রহ করি। অনেকে গ্রুপ হয়ে আসে তারা আগেই টিকেট কিনে নেয়। আমরা শিক্ষার্থী কোন জালিয়াতি করছি না ব্যবসা করছি।

এদিকে গত ১৪ ডিসেম্বর ঢাকা পোস্টে ‘সক্রিয় জালিয়াতি চক্র/সেন্ট মার্টিনগামী জাহাজের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত সব টিকিট বিক্রি’ শিরোনামে টিকেট জালিয়াতি নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। এছাড়া বিভিন্ন গণমাধ্যমে এ বিষয়ে প্রতিবেদন প্রকাশের পর নড়ে চড়ে বসে কর্তৃপক্ষ।

এরপর থেকে কালোবাজারি প্রতিরোধে প্রশাসন ও জাহাজ কর্তৃপক্ষের পক্ষে বাড়তি তৎপরতা লক্ষ্য করা গেছে। একই সঙ্গে এনআইডি প্রদর্শন ব্যতীত কেউ যেন ভ্রমণ না করে সেই নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে।

ই-ট্যুরিজম এসোসিয়েশন অফ বাংলাদেশের পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক জুবায়ের হাসান বলেন, টিকেটের নাম অনুযায়ী প্রকৃত এনআইডি হার্ডকপি বা মোবাইলে প্রদর্শন ছাড়া ও উল্লেখিত মোবাইল নং ছাড়া কোনো যাত্রী সেন্ট মার্টিন ভ্রমণ করতে পারবেন না। বুধবার (১৭ ডিসেম্বর) মন্ত্রণালয়ের এক সভায় এই সিদ্ধান্ত হয়েছে, ১৮ ডিসেম্বর থেকে যা কঠোরভাবে কার্যকর করা হবে।

তিনি টিকেট বিক্রয়কারী এজেন্টদের উদ্দেশ্যে বলেন, টিকেট কাটার সময় অবশ্যই প্রকৃত যাত্রীর নাম, মোবাইল এবং এনআইডি নাম্বার সঠিকভাবে দিয়ে টিকেট কাটার জন্য অনুরোধ করছি। ঘাটে চেকিংয়ের সময় কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি হলে কর্তৃপক্ষ দায়ী থাকবে না।

কালোবাজারি প্রসঙ্গে স্কোয়াবের সাধারণ সম্পাদক বাহাদুর বলেন, এবার টিকেট বিক্রি এবং পর্যটক যাতায়াতে প্রশাসনের কঠোর নজরদারি রয়েছে। প্রতিদিনই ভ্রাম্যমাণ আদালত, পরিবেশ অধিদপ্তরের এনফোর্সমেন্ট টিম কাজ করছে। টিকেট বিক্রির সময় এনআইডি নম্বর ব্যবহার, ট্রাভেল পাস জরুরি হওয়ায় কালোবাজারে টিকেট বিক্রির সুযোগ নেই। তবে এক শ্রেণির জালিয়াতি চক্র বিভিন্নজনের এনআইডি ব্যবহার করে অগ্রীম টিকেট সংগ্রহ করে তা অতিরিক্ত দামে বিক্রি করছে বলে প্রমাণ মিলেছে।

পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি কালোবাজারি প্রতিরোধে ট্যুরিস্ট পুলিশ গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি করেছে বলে জানান সংস্থাটির কক্সবাজার রিজিয়নের প্রধান ও অতিরিক্ত ডিআইজি আপেল মাহমুদ।

তিনি বলেন, আমরা জাহাজ চলাচল শুরুর পর থেকে পর্যটকদের নিরাপত্তা ও সরকারি নির্দেশনা বাস্তবায়নে সব ধরনের সহযোগিতা করে আসছি। ইতোমধ্যে জালিয়াতির বেশ কিছু ঘটনা সামনে আসায় গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে, কালোবাজারির মাধ্যমে পর্যটক হয়রানি কঠোরভাবে দমন করা হবে।

সেন্টমার্টিন দ্বীপের অনন্য প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, পরিবেশ, প্রতিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় গত ২২ অক্টোবর ১২টি নির্দেশনাসহ একটি প্রজ্ঞাপন জারি করে।

ভ্রাম্যমাণ আদালতের দায়িত্বপ্রাপ্ত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও কক্সবাজার সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তানজিলা তাসনিম জানিয়েছেন, আমাদের টিম ভোর থেকেই প্রতিদিন দুই প্রান্তের ঘাটে (কক্সবাজার ও সেন্ট মার্টিন) নিয়োজিত রয়েছে। আগত পর্যটকদের পরিবেশ সংক্রান্ত নির্দেশনা মেনে চলতে উৎসাহিত করার পাশাপাশি অভিযোগ-অনিয়ম তদারকি করা হচ্ছে এবং কোন অনিয়মের প্রমাণ পেলে সাথে সাথে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে যৌথ অভিযান: সন্ত্রাসী জিয়াউর রহমানসহ আটক ১৭, অস্ত্র ও ইয়াবা উদ্ধার

সেন্টমার্টিনের টিকেট জালিয়াতি রুখতে কঠোর প্রশাসন, অন্যের নামে ভ্রমণ করলে ব্যবস্থা

আপডেট সময় : ০৩:১০:১০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৫

আগামী ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত প্রতিদিন সর্বোচ্চ দুই হাজার পর্যটক প্রবালদ্বীপ সেন্ট মার্টিন ভ্রমণের সুযোগ পাচ্ছেন। তবে নানা বিধিনিষেধের মধ্যেই জাহাজের টিকিট নিয়ে তৈরি হয়েছে বিড়ম্বনা, পাশাপাশি জালিয়াতি চক্র সক্রিয় থাকার অভিযোগ উঠেছে। এসব জালিয়াতি ঠেকাতে টিকিটে উল্লিখিত নামধারীর জাতীয় পরিচয়পত্রের হার্ডকপি অথবা নিবন্ধিত মোবাইল নম্বর যাচাই বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। যাচাই ছাড়া কোনো যাত্রীকে সেন্টমার্টিন ভ্রমণের অনুমতি দেওয়া হবে না।

বুধবার (১৭ ডিসেম্বর) সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের এক সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আজ বৃহস্পতিবার (১৮ ডিসেম্বর) থেকেই এ নির্দেশনা কঠোরভাবে কার্যকর করা হবে।

গত ১ ডিসেম্বর থেকে সরকার নির্ধারিত কক্সবাজার শহরের নুনিয়ারছড়া বিআইডব্লিউটিএ ঘাট থেকে কক্সবাজার-সেন্ট মার্টিন রুটে প্রতিদিন চলাচল করছে অনুমতিপ্রাপ্ত ৬টি জাহাজ। যাত্রার প্রথম ১৭ দিনে (১৭ ডিসেম্বর পর্যন্ত) প্রায় ৩০ হাজার পর্যটক সেন্টমার্টিন ভ্রমণ করেছেন।

ট্রাভেল পাস সংক্রান্ত সরকারি ওয়েবসাইট (travelpass.gov.bd) এর তথ্যানুযায়ী গত ১৬ ডিসেম্বর নির্ধারিত ২ হাজারটির সবকটি পাসই ইস্যু হয়েছে, যা একক দিন হিসেবে সর্বোচ্চ। ইতোমধ্যে ১৭ জানুয়ারি পর্যন্ত আগামী ৩০ দিনের নির্ধারিত প্রায় ৬০ হাজার টিকেটের মধ্যে অধিকাংশ টিকেটই অগ্রিম বিক্রি হয়ে গেছে বলে জাহাজ মালিক কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গেছে।

সি ক্রুজ অপারেটর ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (স্কোয়াব) সাধারণ সম্পাদক হোসাইন ইসলাম বাহাদুর ঢাকা পোস্টকে বলেন, বছর কয়েক আগেও ৫ মাস যাবৎ দৈনিক ৫-১০ হাজার পর্যটক সেন্টমার্টিন ভ্রমণে যেতেন। এখন মাত্র ২ মাস প্রতিদিন ২ হাজার পর্যটক যেতে পারছেন। এমন পরিস্থিতিতে টিকেটের ওপর চাপ বেড়ে যাওয়ায় মধ্য জানুয়ারি পর্যন্ত প্রায় সব টিকেট শেষ। দৈনিক হারে ভ্রমণে আগ্রহী পর্যটকের সংখ্যা গড়ে ৩ থেকে সাড়ে ৩ হাজারের বেশি।

এদিকে অভিযোগ উঠেছে, প্রশাসনের কড়া নজরদারি সত্ত্বেও সূক্ষ্ম কারচুপির মাধ্যমে একটি জালিয়াতি চক্র সিন্ডিকেট করে অসাধু অনলাইন এজেন্টদের মাধ্যমে অগ্রিম টিকেট সংগ্রহ করছে এবং পরবর্তীতে চড়াদামে অবৈধভাবে কালোবাজারির মাধ্যমে পর্যটকদের কাছে বিক্রি করছে।

অনুসন্ধান বলছে, অন্যের নামে টিকেটে যাত্রা নিষিদ্ধ থাকলেও পর্যটকরা কালোবাজারিদের কাছ থেকে বাড়তি দামে তা সংগ্রহ করে ভ্রমণ করছেন। স্থানীয় ইউনুস, নিশাদ আপন নামে কয়েকজন যুবকের তথ্য পাওয়া গেছে যারা বাড়তি মূল্যে টিকেট বিক্রি করছেন।

ঢাকা থেকে ভ্রমণে আসা রুমেল হাসান নামে এক পর্যটক বলেন, অনলাইনে টিকেট পাইনি, অনেক দূর থেকে এসেছি। ফিরে তো যাব না। তাই এখানে এসে সাড়ে ৪ হাজার টাকায় টিকেট নিয়েছি যদিও অনলাইনে দাম আরও কম ছিল।

অভিযোগ প্রসঙ্গে ইউনুস বলেন, আমরা এজেন্টদের কাছে বাড়তি টাকা দিয়ে টিকেট সংগ্রহ করি। অনেকে গ্রুপ হয়ে আসে তারা আগেই টিকেট কিনে নেয়। আমরা শিক্ষার্থী কোন জালিয়াতি করছি না ব্যবসা করছি।

এদিকে গত ১৪ ডিসেম্বর ঢাকা পোস্টে ‘সক্রিয় জালিয়াতি চক্র/সেন্ট মার্টিনগামী জাহাজের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত সব টিকিট বিক্রি’ শিরোনামে টিকেট জালিয়াতি নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। এছাড়া বিভিন্ন গণমাধ্যমে এ বিষয়ে প্রতিবেদন প্রকাশের পর নড়ে চড়ে বসে কর্তৃপক্ষ।

এরপর থেকে কালোবাজারি প্রতিরোধে প্রশাসন ও জাহাজ কর্তৃপক্ষের পক্ষে বাড়তি তৎপরতা লক্ষ্য করা গেছে। একই সঙ্গে এনআইডি প্রদর্শন ব্যতীত কেউ যেন ভ্রমণ না করে সেই নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে।

ই-ট্যুরিজম এসোসিয়েশন অফ বাংলাদেশের পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক জুবায়ের হাসান বলেন, টিকেটের নাম অনুযায়ী প্রকৃত এনআইডি হার্ডকপি বা মোবাইলে প্রদর্শন ছাড়া ও উল্লেখিত মোবাইল নং ছাড়া কোনো যাত্রী সেন্ট মার্টিন ভ্রমণ করতে পারবেন না। বুধবার (১৭ ডিসেম্বর) মন্ত্রণালয়ের এক সভায় এই সিদ্ধান্ত হয়েছে, ১৮ ডিসেম্বর থেকে যা কঠোরভাবে কার্যকর করা হবে।

তিনি টিকেট বিক্রয়কারী এজেন্টদের উদ্দেশ্যে বলেন, টিকেট কাটার সময় অবশ্যই প্রকৃত যাত্রীর নাম, মোবাইল এবং এনআইডি নাম্বার সঠিকভাবে দিয়ে টিকেট কাটার জন্য অনুরোধ করছি। ঘাটে চেকিংয়ের সময় কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি হলে কর্তৃপক্ষ দায়ী থাকবে না।

কালোবাজারি প্রসঙ্গে স্কোয়াবের সাধারণ সম্পাদক বাহাদুর বলেন, এবার টিকেট বিক্রি এবং পর্যটক যাতায়াতে প্রশাসনের কঠোর নজরদারি রয়েছে। প্রতিদিনই ভ্রাম্যমাণ আদালত, পরিবেশ অধিদপ্তরের এনফোর্সমেন্ট টিম কাজ করছে। টিকেট বিক্রির সময় এনআইডি নম্বর ব্যবহার, ট্রাভেল পাস জরুরি হওয়ায় কালোবাজারে টিকেট বিক্রির সুযোগ নেই। তবে এক শ্রেণির জালিয়াতি চক্র বিভিন্নজনের এনআইডি ব্যবহার করে অগ্রীম টিকেট সংগ্রহ করে তা অতিরিক্ত দামে বিক্রি করছে বলে প্রমাণ মিলেছে।

পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি কালোবাজারি প্রতিরোধে ট্যুরিস্ট পুলিশ গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি করেছে বলে জানান সংস্থাটির কক্সবাজার রিজিয়নের প্রধান ও অতিরিক্ত ডিআইজি আপেল মাহমুদ।

তিনি বলেন, আমরা জাহাজ চলাচল শুরুর পর থেকে পর্যটকদের নিরাপত্তা ও সরকারি নির্দেশনা বাস্তবায়নে সব ধরনের সহযোগিতা করে আসছি। ইতোমধ্যে জালিয়াতির বেশ কিছু ঘটনা সামনে আসায় গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে, কালোবাজারির মাধ্যমে পর্যটক হয়রানি কঠোরভাবে দমন করা হবে।

সেন্টমার্টিন দ্বীপের অনন্য প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, পরিবেশ, প্রতিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় গত ২২ অক্টোবর ১২টি নির্দেশনাসহ একটি প্রজ্ঞাপন জারি করে।

ভ্রাম্যমাণ আদালতের দায়িত্বপ্রাপ্ত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও কক্সবাজার সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তানজিলা তাসনিম জানিয়েছেন, আমাদের টিম ভোর থেকেই প্রতিদিন দুই প্রান্তের ঘাটে (কক্সবাজার ও সেন্ট মার্টিন) নিয়োজিত রয়েছে। আগত পর্যটকদের পরিবেশ সংক্রান্ত নির্দেশনা মেনে চলতে উৎসাহিত করার পাশাপাশি অভিযোগ-অনিয়ম তদারকি করা হচ্ছে এবং কোন অনিয়মের প্রমাণ পেলে সাথে সাথে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।