ঢাকা ০২:৩৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৪ মে ২০২৬, ১০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
বাংলাদেশ দ্রুতই সবুজ-টেকসই উন্নয়নের মডেল রাষ্ট্রে পরিণত হবে: প্রধানমন্ত্রী শিশুর আচরণ দেখে বুঝে নিন শরীরে পুষ্টির অভাব আছে কি না কক্সবাজার আদালত চত্বরে গুলি, স্বেচ্ছাসেবকদল নেতাসহ আহত ৫ বাস-অ্যাম্বুলেন্স সংঘর্ষ, নিহত ৫ রামিসা হত্যা : সোহেল ও তার স্ত্রীকে অভিযুক্ত করে চার্জশিট দিচ্ছে পুলিশ অ্যাডভোকেট ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন মারা গেছেন ৪১ জন পেলেন ৪ লক্ষ ৫০ হাজার টাকার অনুদানের চেক “সন্ত্রাস-চাঁদাবাজিতে উদ্বেগজনক সময় পার করছে দেশবাসী” রামুতে পৃথক অভিযানে ৩২ হাজার ইয়াবাসহ আটক ৩ রোহিঙ্গা সংকট জটিল ও স্পর্শকাতর ইস্যুতে পরিণত হয়েছে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কুতুবদিয়ায় পানিতে পড়ে নিখোঁজ শিশুকে ভাসমান অবস্থায় উদ্ধার টেকনাফের হোয়াইক্যংয়ে শিশুকে ধর্ষণচেষ্টা, অভিযুক্ত কারাগারে উখিয়ায় সতীনের সঙ্গে বিরোধের জেরে গৃহবধূর আত্মহত্যা এক মাসের মধ্যে রামিসার হত্যাকারীর সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা হবে সুপ্রীম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের কৃতিত্বপূর্ণ সাফল্য অর্জন করলেন আইনজীবী ইয়াছির আরাফাত

সেনাবাহিনীকে বিতর্কিত করলে দেশ বড় ঝুঁকিতে পড়বে: জামায়াতের আমির

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান বলেছেন, দেশে সেনাবাহিনীর মর্যাদাপূর্ণ অবদান রয়েছে। সেনাবাহিনীকে বিতর্কিত করলে স্বাধীন দেশ বড় ধরনের ঝুঁকিতে পড়বে।

আজ শনিবার রাজধানীর মগবাজারে আল ফালাহ মিলনায়তনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরার অধিবেশনে এ আহ্বান জানান শফিকুর রহমান।

জামায়াত নেতা আরও বলেন, ‘কোনোভাবে কারও কোনো কার্যক্রম বা পদক্ষেপের মাধ্যমে আমাদের এই গর্বের প্রতিষ্ঠান (সেনাবাহিনী) বিতর্কিত হোক, তা আমরা চাই না। সেনাবাহিনীকে নিয়ে যেকোনো মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকা উচিত।’

বাংলাদেশ একটি বিশেষ অবস্থায় অবস্থান করছে বলে মন্তব্য করেছেন শফিকুর রহমান। এ পরিস্থিতিতে তিনি অন্তর্বর্তী সরকারকে সর্বদলীয় বৈঠকের আহ্বান জানিয়েছেন। সংঘাত এবং কাদা–ছোড়াছুড়ির মধ্য দিয়ে জাতিকে অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দেওয়া কোনোভাবেই সমুচিত হবে না বলে মনে করেন শফিকুর রহমান। ঐক্যবদ্ধ হওয়ার মাধ্যমে এই পরিস্থিতির অবসান হওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, ‘সমস্যা যত বড়ই হোক, আলোচনার মধ্য দিয়ে সন্তোষজনক সমাধান পৌঁছানো সম্ভব। এ জন্য অন্তর্বর্তী সরকারকে সর্বদলীয় বৈঠকের জন্য আহ্বান জানিয়েছি।’

জামায়াতের আমির আরও বলেন, ‘সংস্কারের একটি রূপরেখা ও নির্বাচনের একটি রোডম্যাপের কথা আমরা শুরু থেকে বলে আসছি। কিন্তু তা এখনো জনগণের সামনে আসেনি। আমরা সরকারকে আহ্বান জানাব দ্রুত জনগণের সামনে এ দুটি বিষয়ে রোডম্যাপ তুলে ধরার জন্য। তাহলে সরকারের প্রতি জনগণের আস্থা ফিরবে।’

মানবিক করিডর ও চট্টগ্রাম বন্দরকে স্পর্শকাতর বিষয় বলে উল্লেখ করেন জামায়াত আমির। মানবিক করিডরের বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে বসে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া যেতে পারে বলেন তিনি। অথবা বিষয়টি পরবর্তী নির্বাচিত সরকারের ওপর ছেড়ে দেওয়া উত্তম হবে বলে জানান। চট্টগ্রাম বন্দরের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘এই বন্দরের ওপর নির্ভর করছে বাংলাদেশের অনেক কিছু। প্রধান বৈদেশিক বাণিজ্যের ৭০ ভাগ এ বন্দরের ওপর নির্ভরশীল। সুতরাং বন্দর ব্যবস্থাপনার কোনো বিষয়ে হঠাৎ করে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সমীচীন হবে না। বিষয়গুলো ভেবে চিন্তে অংশীজনের সঙ্গে আলাপ–আলোচনা করে, এ বিষয়ে কী করা যায়, সেই বিষয়গুলো সামনে নিয়ে আসা উচিত।’

জাতীয় নির্বাচনের বিষয়ে জামায়াত আমির বলেন, ‘প্রধান উপদেষ্টা নির্বাচনের যে টাইমলাইন দিয়েছেন, আমরা শুরু থেকে মেনে নিয়েছি। আমরা জামায়াতে ইসলামী শুরু থেকে সহায়তা করে আসার চেষ্টা করছি।’ অন্তর্বর্তী সরকারকে সহযোগিতা করতে অন্যান্য রাজনৈতিক দল ও সংগঠনগুলোর প্রতি আহ্বান জানান জামায়াত আমির।

জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সিনিয়র নায়েবে আমির মুজিবুর রহমান, নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান প্রমুখ মজলিশে শুরার বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।
সূত্র: প্রথম আলো

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

বাংলাদেশ দ্রুতই সবুজ-টেকসই উন্নয়নের মডেল রাষ্ট্রে পরিণত হবে: প্রধানমন্ত্রী

সেনাবাহিনীকে বিতর্কিত করলে দেশ বড় ঝুঁকিতে পড়বে: জামায়াতের আমির

আপডেট সময় : ০১:৩৮:৩৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ মে ২০২৫

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান বলেছেন, দেশে সেনাবাহিনীর মর্যাদাপূর্ণ অবদান রয়েছে। সেনাবাহিনীকে বিতর্কিত করলে স্বাধীন দেশ বড় ধরনের ঝুঁকিতে পড়বে।

আজ শনিবার রাজধানীর মগবাজারে আল ফালাহ মিলনায়তনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরার অধিবেশনে এ আহ্বান জানান শফিকুর রহমান।

জামায়াত নেতা আরও বলেন, ‘কোনোভাবে কারও কোনো কার্যক্রম বা পদক্ষেপের মাধ্যমে আমাদের এই গর্বের প্রতিষ্ঠান (সেনাবাহিনী) বিতর্কিত হোক, তা আমরা চাই না। সেনাবাহিনীকে নিয়ে যেকোনো মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকা উচিত।’

বাংলাদেশ একটি বিশেষ অবস্থায় অবস্থান করছে বলে মন্তব্য করেছেন শফিকুর রহমান। এ পরিস্থিতিতে তিনি অন্তর্বর্তী সরকারকে সর্বদলীয় বৈঠকের আহ্বান জানিয়েছেন। সংঘাত এবং কাদা–ছোড়াছুড়ির মধ্য দিয়ে জাতিকে অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দেওয়া কোনোভাবেই সমুচিত হবে না বলে মনে করেন শফিকুর রহমান। ঐক্যবদ্ধ হওয়ার মাধ্যমে এই পরিস্থিতির অবসান হওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, ‘সমস্যা যত বড়ই হোক, আলোচনার মধ্য দিয়ে সন্তোষজনক সমাধান পৌঁছানো সম্ভব। এ জন্য অন্তর্বর্তী সরকারকে সর্বদলীয় বৈঠকের জন্য আহ্বান জানিয়েছি।’

জামায়াতের আমির আরও বলেন, ‘সংস্কারের একটি রূপরেখা ও নির্বাচনের একটি রোডম্যাপের কথা আমরা শুরু থেকে বলে আসছি। কিন্তু তা এখনো জনগণের সামনে আসেনি। আমরা সরকারকে আহ্বান জানাব দ্রুত জনগণের সামনে এ দুটি বিষয়ে রোডম্যাপ তুলে ধরার জন্য। তাহলে সরকারের প্রতি জনগণের আস্থা ফিরবে।’

মানবিক করিডর ও চট্টগ্রাম বন্দরকে স্পর্শকাতর বিষয় বলে উল্লেখ করেন জামায়াত আমির। মানবিক করিডরের বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে বসে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া যেতে পারে বলেন তিনি। অথবা বিষয়টি পরবর্তী নির্বাচিত সরকারের ওপর ছেড়ে দেওয়া উত্তম হবে বলে জানান। চট্টগ্রাম বন্দরের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘এই বন্দরের ওপর নির্ভর করছে বাংলাদেশের অনেক কিছু। প্রধান বৈদেশিক বাণিজ্যের ৭০ ভাগ এ বন্দরের ওপর নির্ভরশীল। সুতরাং বন্দর ব্যবস্থাপনার কোনো বিষয়ে হঠাৎ করে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সমীচীন হবে না। বিষয়গুলো ভেবে চিন্তে অংশীজনের সঙ্গে আলাপ–আলোচনা করে, এ বিষয়ে কী করা যায়, সেই বিষয়গুলো সামনে নিয়ে আসা উচিত।’

জাতীয় নির্বাচনের বিষয়ে জামায়াত আমির বলেন, ‘প্রধান উপদেষ্টা নির্বাচনের যে টাইমলাইন দিয়েছেন, আমরা শুরু থেকে মেনে নিয়েছি। আমরা জামায়াতে ইসলামী শুরু থেকে সহায়তা করে আসার চেষ্টা করছি।’ অন্তর্বর্তী সরকারকে সহযোগিতা করতে অন্যান্য রাজনৈতিক দল ও সংগঠনগুলোর প্রতি আহ্বান জানান জামায়াত আমির।

জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সিনিয়র নায়েবে আমির মুজিবুর রহমান, নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান প্রমুখ মজলিশে শুরার বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।
সূত্র: প্রথম আলো