ঢাকা ১১:০১ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬, ৩০ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
মানবপাচারের অভিযোগে প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ দেলোয়ার ও আক্তারের সীমিত জনবলেও তৎপর উখিয়া রেঞ্জ, বনউজাড় করতে গিয়ে ধরা পড়ল ২৬ রোহিঙ্গা বর্ষার আগেই শহরকে জলাবদ্ধতামুক্ত করতে মাঠ পর্যায়ে কঠোর অ্যাকশনে যাওয়ার নির্দেশ এমপি কাজলের টেকনাফ এখন ‘মৃত্যুপুরী’: সন্ত্রাস ও মাদক নির্মূলে যৌথ অভিযানের দাবিতে ছাত্র-জনতার মানববন্ধন টেকনাফে ৭.৬২ ক্যালিবার অস্ত্রসহ তিন ডাকাত আটক ৭ ইউনিয়ন নিয়ে নতুন ‘মাতামুহুরী’ উপজেলা গঠনের প্রস্তাব: প্রাক নিকার সভায় অন্তর্ভুক্ত প্রতারণার ফাঁদ ভাঙুন, মানব পাচার রুখুন সিএনজি তল্লাশিতে বিদেশি পিস্তল উদ্ধার, আটক ৩ লবণ মাঠে দূর্বৃত্তের তাণ্ডব,২ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি জামিনে মুক্ত হলেন বাউল শিল্পী আবুল সরকার বিয়ে করাটা ভুল সিদ্ধান্ত ছিল: অপু বিশ্বাস চৈত্র সংক্রান্তি: ইতিহাস, ঐতিহ্য ও বাঙালির সংস্কৃতির এক প্রাচীন ধারাবাহিকতা ইন্টারনেট সস্তা না হলে কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন সম্ভব নয় : বিটিআরসি চেয়ারম্যান ভোরে ফুল তুলতে যাওয়া বৃদ্ধকে জবাই করে হত্যা, অভিযুক্তের আত্মসমর্পণ বাংলা বছরের শেষদিন— চৈত্র সংক্রান্তি আজ

সীমিত জনবলেও তৎপর উখিয়া রেঞ্জ, বনউজাড় করতে গিয়ে ধরা পড়ল ২৬ রোহিঙ্গা

কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার সংরক্ষিত বনাঞ্চলে অভিযান চালিয়ে জ্বালানি কাঠ সংগ্রহের সময় ক্যাম্পে বসবাসরত ২৬ জন রোহিঙ্গাকে আটক করেছে বন বিভাগ।

সোমবার (১৩ এপ্রিল) দিনব্যাপী কক্সবাজার দক্ষিণ বনবিভাগের আওতাধীন উখিয়া রেঞ্জ পরিচালিত উপজেলার উখিয়া সদর, দোছড়ি ও থাইংখালী বিট এলাকায় পৃথক অভিযানে তাদের আটক করা হয়।

বন বিভাগ জানায়, আটক ব্যক্তিদের কাছ থেকে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ জ্বালানি কাঠ জব্দ করা হয়েছে। পরে তাঁদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক কোনো আইনি ব্যবস্থা না নিয়ে সংশ্লিষ্ট রোহিঙ্গা ক্যাম্পের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (সিআইসি) এর মাধ্যমে ফেরত পাঠানো হয়।

বন বিভাগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে উখিয়ার সংরক্ষিত বনাঞ্চল থেকে অবৈধভাবে গাছ কাটা ও জ্বালানি কাঠ সংগ্রহের অভিযোগ রয়েছে। বিশেষ করে রোহিঙ্গা ক্যাম্পসংলগ্ন বনাঞ্চলগুলোতে এ প্রবণতা বেশি। এতে পরিবেশের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ার পাশাপাশি বনভূমির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হচ্ছে।

অভিযান সংশ্লিষ্ট সূত্র আরও জানায়, একটি সংঘবদ্ধ চক্র রোহিঙ্গাদের ব্যবহার করে সংরক্ষিত বনাঞ্চল থেকে গাছ কেটে পাচার করছে। এসব কাঠ বিক্রি করে তারা বিপুল অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে। সীমিত জনবল থাকা স্বত্ত্বেও সাম্প্রতিক সময়ে নজরদারি বাড়ানোর ফলে বন বিভাগ কয়েকটি ঘটনায় জড়িতদের হাতেনাতে ধরতে সক্ষম হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, উখিয়া রেঞ্জের অধীনে গত কয়েক বছরে বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে ‘সুফল’ প্রকল্পের আওতায় ব্যাপক বনায়ন করা হয়। এসব বাগান মূলত স্থানীয় জনগণের উপকারে আসার কথা থাকলেও বর্তমানে তা হুমকির মুখে। তাঁদের অভিযোগ, পর্যাপ্ত তদারকির অভাবে অনেক বাগানই রোহিঙ্গাদের দখলে চলে যাচ্ছে।

অভিযানে বিট কর্মকর্তা ইমদাদুল হাসান রনি, আরাফাত মাহমুদসহ বন বিভাগের অন্যান্য সদস্যরা অংশ নেন।

বন বিভাগ বলছে, সংরক্ষিত বনভূমি রক্ষায় নিয়মিত অভিযান চালানোর পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সমন্বয় জোরদার করা জরুরি। তা না হলে উখিয়ার বিস্তীর্ণ বনাঞ্চল দ্রুত উজাড় হয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

উখিয়া রেঞ্জ কর্মকর্তা (সহকারী বন সংরক্ষক) মো. শাহিনুল ইসলাম বলেন, রোহিঙ্গা ক্যাম্পে গ্যাস সংকট দেখা দিলে অনেক শরণার্থী জ্বালানির জন্য বনের দিকে ঝুঁকে পড়েন। তার ভাষ্য, “২৬ জনকে আটক করে ক্যাম্প ইনচার্জের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। বন রক্ষায় আমরা বদ্ধপরিকর। পাহাড় ও বনভূমি ধ্বংসকারীদের দমনে অভিযান অব্যাহত থাকবে।”

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

মানবপাচারের অভিযোগে প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ দেলোয়ার ও আক্তারের

সীমিত জনবলেও তৎপর উখিয়া রেঞ্জ, বনউজাড় করতে গিয়ে ধরা পড়ল ২৬ রোহিঙ্গা

আপডেট সময় : ০৯:৩০:৫৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬

কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার সংরক্ষিত বনাঞ্চলে অভিযান চালিয়ে জ্বালানি কাঠ সংগ্রহের সময় ক্যাম্পে বসবাসরত ২৬ জন রোহিঙ্গাকে আটক করেছে বন বিভাগ।

সোমবার (১৩ এপ্রিল) দিনব্যাপী কক্সবাজার দক্ষিণ বনবিভাগের আওতাধীন উখিয়া রেঞ্জ পরিচালিত উপজেলার উখিয়া সদর, দোছড়ি ও থাইংখালী বিট এলাকায় পৃথক অভিযানে তাদের আটক করা হয়।

বন বিভাগ জানায়, আটক ব্যক্তিদের কাছ থেকে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ জ্বালানি কাঠ জব্দ করা হয়েছে। পরে তাঁদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক কোনো আইনি ব্যবস্থা না নিয়ে সংশ্লিষ্ট রোহিঙ্গা ক্যাম্পের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (সিআইসি) এর মাধ্যমে ফেরত পাঠানো হয়।

বন বিভাগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে উখিয়ার সংরক্ষিত বনাঞ্চল থেকে অবৈধভাবে গাছ কাটা ও জ্বালানি কাঠ সংগ্রহের অভিযোগ রয়েছে। বিশেষ করে রোহিঙ্গা ক্যাম্পসংলগ্ন বনাঞ্চলগুলোতে এ প্রবণতা বেশি। এতে পরিবেশের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ার পাশাপাশি বনভূমির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হচ্ছে।

অভিযান সংশ্লিষ্ট সূত্র আরও জানায়, একটি সংঘবদ্ধ চক্র রোহিঙ্গাদের ব্যবহার করে সংরক্ষিত বনাঞ্চল থেকে গাছ কেটে পাচার করছে। এসব কাঠ বিক্রি করে তারা বিপুল অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে। সীমিত জনবল থাকা স্বত্ত্বেও সাম্প্রতিক সময়ে নজরদারি বাড়ানোর ফলে বন বিভাগ কয়েকটি ঘটনায় জড়িতদের হাতেনাতে ধরতে সক্ষম হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, উখিয়া রেঞ্জের অধীনে গত কয়েক বছরে বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে ‘সুফল’ প্রকল্পের আওতায় ব্যাপক বনায়ন করা হয়। এসব বাগান মূলত স্থানীয় জনগণের উপকারে আসার কথা থাকলেও বর্তমানে তা হুমকির মুখে। তাঁদের অভিযোগ, পর্যাপ্ত তদারকির অভাবে অনেক বাগানই রোহিঙ্গাদের দখলে চলে যাচ্ছে।

অভিযানে বিট কর্মকর্তা ইমদাদুল হাসান রনি, আরাফাত মাহমুদসহ বন বিভাগের অন্যান্য সদস্যরা অংশ নেন।

বন বিভাগ বলছে, সংরক্ষিত বনভূমি রক্ষায় নিয়মিত অভিযান চালানোর পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সমন্বয় জোরদার করা জরুরি। তা না হলে উখিয়ার বিস্তীর্ণ বনাঞ্চল দ্রুত উজাড় হয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

উখিয়া রেঞ্জ কর্মকর্তা (সহকারী বন সংরক্ষক) মো. শাহিনুল ইসলাম বলেন, রোহিঙ্গা ক্যাম্পে গ্যাস সংকট দেখা দিলে অনেক শরণার্থী জ্বালানির জন্য বনের দিকে ঝুঁকে পড়েন। তার ভাষ্য, “২৬ জনকে আটক করে ক্যাম্প ইনচার্জের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। বন রক্ষায় আমরা বদ্ধপরিকর। পাহাড় ও বনভূমি ধ্বংসকারীদের দমনে অভিযান অব্যাহত থাকবে।”