ঢাকা ০৩:১৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ২৩ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
‘কাল বেঁচে থাকব কি না জানি না’, মৃত্যুর চার দিন আগে নানা পাটেকার ‘আমার মতো মানুষকে’ নোবেল শান্তি পুরস্কার দিতে চায় না কমিটি, ট্রাম্পের আক্ষেপ প্রত্যেক উপজেলায় জরুরি নির্দেশনা সরকারের ৫ শর্ত পূরণ না হলে মিয়ানমারে ফিরতে চায় না ৮৭% রোহিঙ্গা: গবেষণা মাদরাসা কমিটি নিয়ে বিরোধ, শিক্ষককে পিটিয়ে আহত কক্সবাজারে সদর থানা পুলিশের বিশেষ অভিযান: ১৭ গ্রেপ্তার ওভারটেকের সময় ধাক্কায় দুমড়ে-মুচড়ে গেলো সিএনজি, প্রাণ গেল দুই যাত্রীর পেকুয়ায় গরুর কা/টা মাথার সূত্র ধরেই মিলল চোরের সন্ধান, গ্রেপ্তার ৩ শাহপরীর দ্বীপে সাড়ে চার কোটি টাকার ইয়াবা উদ্ধার কক্সবাজারে প্রথমবারের মতো ৩ মাসব্যাপী পর্যটন কার্নিভাল সেন্টমার্টিনে খতনার পর অসুস্থ হওয়া শিশুদের চিকিৎসা দিলো সরকারি মেডিকেল টিম আবেগঘন স্ট্যাটাস :সহধর্মিণীর আরোগ্য কামনায় দোয়া চাইলেন এমপি কাজল কক্সবাজারে ৫ বছরের সাজাপ্রাপ্ত ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি গ্রেফতার কক্সবাজারে বিলাস ভ্রমণে গিয়ে ধরা ‘কেডিসি বস্তি’র ৫ বাসিন্দা আজ পৃথিবীর মন খারাপ: ‘বিদায়’ বললেন, ফুটবলের কবি

সীমান্ত পেরিয়ে একে-৪৭ ঢুকছে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে!

  • নোমান অরুপ
  • আপডেট সময় : ১২:০৫:১৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৫
  • 884

বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তের অরক্ষিত পাহাড়ি ও নদীপথ দিয়ে মাদকের পাশাপাশি ঢুকছে মারাত্মক অস্ত্র। নেই কাঁটাতারের বেড়া; ফলে সীমান্তজুড়ে বেড়েছে অস্ত্র চোরাচালান।

বিজিবি ও স্থানীয় সূত্র বলছে, একে–৪৭, জি–থ্রি রাইফেলসহ নানা বিদেশি অস্ত্র নাইক্ষ্যংছড়ি, উখিয়া ও টেকনাফের চোরাপথ দিয়ে আসছে। এসব অস্ত্র রোহিঙ্গা সন্ত্রাসী গ্রুপগুলো ক্যাম্পে নিয়ে যাচ্ছে স্থানীয় চক্রের সহায়তায়। আধিপত্য বিস্তারের লড়াইয়ে এ অস্ত্র এখন তাদের প্রধান চালিকাশক্তি।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত পাঁচ বছরে রোহিঙ্গা গ্রুপগুলোর অভ্যন্তরীণ সংঘর্ষ ও গোলাগুলিতে প্রাণ গেছে দুই শতাধিক মানুষের। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর অন্তত ৯টি হত্যাকাণ্ডের সঙ্গেও এসব অস্ত্র ব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে।

রামু সেক্টর কমান্ডার কর্নেল মহিউদ্দিন আহমেদ সোমবার সাংবাদিকদের বলেন,
“মিয়ানমার থেকে অস্ত্র ঢুকে সরাসরি ক্যাম্পে চলে যায়। সীমান্তের ঝুঁকিপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে বিজিবির নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।”

বিজিবির তথ্য অনুযায়ী, গত তিন মাসে অন্তত ২২টি দেশি-বিদেশি অস্ত্রের চালান আটক হয়েছে। এতে সীমান্ত এলাকায় আতঙ্ক আরও বেড়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, রোহিঙ্গা সন্ত্রাসী গ্রুপগুলোর দৌরাত্ম্যে তারা সবসময় ভয়ে থাকেন। তাদের ভাষায়, “বাংলাদেশিদের অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায় এখন প্রধান ব্যবসা হয়ে দাঁড়িয়েছে।”

৮ এপিবিএনের ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক পুলিশ সুপার রিয়াজ উদ্দিন আহম্মেদ বলেন, “কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা, অস্ত্রবাজি বা সহিংসতা মেনে নেওয়া হবে না। এপিবিএন কঠোর অবস্থানে আছে এবং অপরাধীদের ছাড় দেওয়া হবে না।”

বিশ্লেষকরা বলছেন, অস্ত্র ও মাদক চোরাচালান রোধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া না হলে কক্সবাজারের সীমান্ত উপজেলা গুলো দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

‘কাল বেঁচে থাকব কি না জানি না’, মৃত্যুর চার দিন আগে নানা পাটেকার

সীমান্ত পেরিয়ে একে-৪৭ ঢুকছে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে!

আপডেট সময় : ১২:০৫:১৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৫

বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তের অরক্ষিত পাহাড়ি ও নদীপথ দিয়ে মাদকের পাশাপাশি ঢুকছে মারাত্মক অস্ত্র। নেই কাঁটাতারের বেড়া; ফলে সীমান্তজুড়ে বেড়েছে অস্ত্র চোরাচালান।

বিজিবি ও স্থানীয় সূত্র বলছে, একে–৪৭, জি–থ্রি রাইফেলসহ নানা বিদেশি অস্ত্র নাইক্ষ্যংছড়ি, উখিয়া ও টেকনাফের চোরাপথ দিয়ে আসছে। এসব অস্ত্র রোহিঙ্গা সন্ত্রাসী গ্রুপগুলো ক্যাম্পে নিয়ে যাচ্ছে স্থানীয় চক্রের সহায়তায়। আধিপত্য বিস্তারের লড়াইয়ে এ অস্ত্র এখন তাদের প্রধান চালিকাশক্তি।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত পাঁচ বছরে রোহিঙ্গা গ্রুপগুলোর অভ্যন্তরীণ সংঘর্ষ ও গোলাগুলিতে প্রাণ গেছে দুই শতাধিক মানুষের। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর অন্তত ৯টি হত্যাকাণ্ডের সঙ্গেও এসব অস্ত্র ব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে।

রামু সেক্টর কমান্ডার কর্নেল মহিউদ্দিন আহমেদ সোমবার সাংবাদিকদের বলেন,
“মিয়ানমার থেকে অস্ত্র ঢুকে সরাসরি ক্যাম্পে চলে যায়। সীমান্তের ঝুঁকিপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে বিজিবির নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।”

বিজিবির তথ্য অনুযায়ী, গত তিন মাসে অন্তত ২২টি দেশি-বিদেশি অস্ত্রের চালান আটক হয়েছে। এতে সীমান্ত এলাকায় আতঙ্ক আরও বেড়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, রোহিঙ্গা সন্ত্রাসী গ্রুপগুলোর দৌরাত্ম্যে তারা সবসময় ভয়ে থাকেন। তাদের ভাষায়, “বাংলাদেশিদের অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায় এখন প্রধান ব্যবসা হয়ে দাঁড়িয়েছে।”

৮ এপিবিএনের ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক পুলিশ সুপার রিয়াজ উদ্দিন আহম্মেদ বলেন, “কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা, অস্ত্রবাজি বা সহিংসতা মেনে নেওয়া হবে না। এপিবিএন কঠোর অবস্থানে আছে এবং অপরাধীদের ছাড় দেওয়া হবে না।”

বিশ্লেষকরা বলছেন, অস্ত্র ও মাদক চোরাচালান রোধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া না হলে কক্সবাজারের সীমান্ত উপজেলা গুলো দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে।