ঢাকা ০৭:৪৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ৭ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
তারেক রহমানের সরকারে আইনের শাসন ফিরবে: জামায়াত আমির ধর্ষণ মামলায় গ্রেপ্তার হিরো আলম দুই মাস কারাগারে আনিস আলমগীর, জামিনের আশায় পরিবার ‘রোজায় ১০ লাখ পরিবারকে কম দামে দুধ-ডিম-মাংস দেবে সরকার’ ঈদের আগেই ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ শুরু: তথ্যমন্ত্রী পুলিশসহ অন্যান্য বাহিনীকে জনপ্রত্যাশা পূরণ করতে হবে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রমজান ঢুকতেই পুদিনার সেঞ্চুরি- শসা-লেবুর দামও চড়া! প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাথে তিন বাহিনী প্রধানদের সাক্ষাৎ পেকুয়ায় বাস–সিএনজি মুখোমুখি সংঘর্ষে শিশু নিহত, আহত ৫ মেসুত ওজিল ও বিলাল এরদোয়ান কক্সবাজারে : রোহিঙ্গাদের শিক্ষা ও সহায়তায় বিশ্ববাসীর দৃষ্টি আকর্ষণ এক মাসে সড়কে ঝরল ৪৮৭ প্রাণ, মোটরসাইকেলে ৪০.২৪ শতাংশ প্রাণহানি রোজায় জুমার নামাজে ১০ হাজার ফিলিস্তিনি মুসল্লিকে আল-আকসায় প্রবেশের অনুমতি দেবে ইসরায়েল ফ্যামিলি কার্ড বিতরণের কর্ম পরিকল্পনা নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক আজ রোজার ধর্মীয় গুরুত্ব রামুতে পুলিশের অভিযান: ৭০ হাজার ইয়াবাসহ আটক নারী
সম্পাদকীয়

সহিংস বিক্ষোভ, সরকার পতন ও ছায়া শক্তি: ইতিহাস আমাদের কী বলে?

বিশ্বের নানা প্রান্তে যখনই সহিংস বিক্ষোভের মুখে কোনো সরকারের পতন ঘটে, তখন খুব দ্রুত একটি অভিযোগ ছড়িয়ে পড়ে; এর পেছনে কি আমেরিকার হাত, কোনো ‘ডিপ স্টেট’ বা অদৃশ্য ছায়া রাষ্ট্র শক্তি কাজ করছে? প্রশ্নটি আবেগে ভরা হলেও, এর উত্তর খুঁজতে হলে আমাদের ইতিহাসের দিকে তাকাতে হয়।

ইতিহাস বলছে, অধিকাংশ সরকার পতনের বীজ রাষ্ট্রের ভেতরেই জন্ম নেয়। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক দমন-পীড়ন, অর্থনৈতিক বৈষম্য, দুর্নীতি এবং মানুষের সাথে রাষ্ট্রের দূরত্ব ধীরে ধীরে জনঅসন্তোষকে বিস্ফোরণের দিকে ঠেলে দেয়। ফরাসি বিপ্লব থেকে শুরু করে বহু ঐতিহাসিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের পেছনে এই অভ্যন্তরীণ ক্ষোভই ছিল মূল চালিকা শক্তি।

এর মানে এই নয় যে, বিদেশি শক্তির কোনো ভূমিকা নেই। বাস্তবতা হলো; বিদেশি শক্তি খুব কম ক্ষেত্রেই আন্দোলন সৃষ্টি করে, কিন্তু তারা বিদ্যমান সংকটকে কাজে লাগায়। কূটনৈতিক চাপ, নিষেধাজ্ঞা, আন্তর্জাতিক বক্তব্য বা মানবাধিকারের ভাষা তখনই কার্যকর হয়, যখন রাষ্ট্র নিজেই ভেতর থেকে দুর্বল হয়ে পড়ে।

‘ডিপ স্টেট’ বা ছায়া রাষ্ট্র শব্দটি আজকাল প্রায় সব রাজনৈতিক আলোচনায় ব্যবহৃত হয়। ইতিহাস ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা একে কোনো একক বৈশ্বিক ষড়যন্ত্র হিসেবে দেখেন না। বরং এটিকে রাষ্ট্রের ভেতরে থাকা প্রশাসনিক, নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্বার্থের একটি জটিল কাঠামো হিসেবে ব্যাখ্যা করেন; যা প্রায় সব রাষ্ট্রেই কোনো না কোনোভাবে বিদ্যমান।

সহিংসতা এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় তৈরি করে। শান্তিপূর্ণ আন্দোলন রাষ্ট্রকে চাপের মুখে ফেলে, কিন্তু সহিংসতা রাষ্ট্রকে অস্থিতিশীল করে তোলে। এই অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক শক্তি ও আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক খেলোয়াড়রা সক্রিয় হয়ে ওঠে। ফলে সহিংসতা সরকার পতনের একমাত্র কারণ নয়, বরং একটি টার্নিং পয়েন্টে পরিণত হয়।

ইতিহাস আমাদের আরও একটি শিক্ষা দেয়; যে রাষ্ট্র তার জনগণের কথা শোনে না, সেই রাষ্ট্রই বাইরের প্রভাবের জন্য দরজা খুলে দেয়। বাইরে কেউ এসে রাষ্ট্র ভেঙে দেয় না; রাষ্ট্র নিজেই দুর্বল হলে বাইরের শক্তি প্রভাব বিস্তারের সুযোগ পায়।

প্রতিটি সহিংস বিক্ষোভের পেছনে একক কোনো বিদেশি ষড়যন্ত্র খোঁজা যতটা সহজ, বাস্তবতা ততটাই জটিল। সত্য হলো, সরকার পতন ঘটে অভ্যন্তরীণ ব্যর্থতা আর বাইরের সুযোগের মিলিত ফল হিসেবে।

ইতিহাস তাই আমাদের সতর্ক করে; সংবাদ নয়, সংকেত বুঝতে শিখতে হবে।

টিটিএন ভূরাজনীতি কলামে আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক ঘটনা প্রবাহকে ইতিহাস, ক্ষমতা ও বাস্তবতার আলোকে বিশ্লেষণ করা হয়; সংবাদ নয়, প্রেক্ষাপট বোঝার প্রয়াস।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

তারেক রহমানের সরকারে আইনের শাসন ফিরবে: জামায়াত আমির

This will close in 6 seconds

সম্পাদকীয়

সহিংস বিক্ষোভ, সরকার পতন ও ছায়া শক্তি: ইতিহাস আমাদের কী বলে?

আপডেট সময় : ০৩:২৫:২৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারী ২০২৬

বিশ্বের নানা প্রান্তে যখনই সহিংস বিক্ষোভের মুখে কোনো সরকারের পতন ঘটে, তখন খুব দ্রুত একটি অভিযোগ ছড়িয়ে পড়ে; এর পেছনে কি আমেরিকার হাত, কোনো ‘ডিপ স্টেট’ বা অদৃশ্য ছায়া রাষ্ট্র শক্তি কাজ করছে? প্রশ্নটি আবেগে ভরা হলেও, এর উত্তর খুঁজতে হলে আমাদের ইতিহাসের দিকে তাকাতে হয়।

ইতিহাস বলছে, অধিকাংশ সরকার পতনের বীজ রাষ্ট্রের ভেতরেই জন্ম নেয়। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক দমন-পীড়ন, অর্থনৈতিক বৈষম্য, দুর্নীতি এবং মানুষের সাথে রাষ্ট্রের দূরত্ব ধীরে ধীরে জনঅসন্তোষকে বিস্ফোরণের দিকে ঠেলে দেয়। ফরাসি বিপ্লব থেকে শুরু করে বহু ঐতিহাসিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের পেছনে এই অভ্যন্তরীণ ক্ষোভই ছিল মূল চালিকা শক্তি।

এর মানে এই নয় যে, বিদেশি শক্তির কোনো ভূমিকা নেই। বাস্তবতা হলো; বিদেশি শক্তি খুব কম ক্ষেত্রেই আন্দোলন সৃষ্টি করে, কিন্তু তারা বিদ্যমান সংকটকে কাজে লাগায়। কূটনৈতিক চাপ, নিষেধাজ্ঞা, আন্তর্জাতিক বক্তব্য বা মানবাধিকারের ভাষা তখনই কার্যকর হয়, যখন রাষ্ট্র নিজেই ভেতর থেকে দুর্বল হয়ে পড়ে।

‘ডিপ স্টেট’ বা ছায়া রাষ্ট্র শব্দটি আজকাল প্রায় সব রাজনৈতিক আলোচনায় ব্যবহৃত হয়। ইতিহাস ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা একে কোনো একক বৈশ্বিক ষড়যন্ত্র হিসেবে দেখেন না। বরং এটিকে রাষ্ট্রের ভেতরে থাকা প্রশাসনিক, নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্বার্থের একটি জটিল কাঠামো হিসেবে ব্যাখ্যা করেন; যা প্রায় সব রাষ্ট্রেই কোনো না কোনোভাবে বিদ্যমান।

সহিংসতা এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় তৈরি করে। শান্তিপূর্ণ আন্দোলন রাষ্ট্রকে চাপের মুখে ফেলে, কিন্তু সহিংসতা রাষ্ট্রকে অস্থিতিশীল করে তোলে। এই অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক শক্তি ও আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক খেলোয়াড়রা সক্রিয় হয়ে ওঠে। ফলে সহিংসতা সরকার পতনের একমাত্র কারণ নয়, বরং একটি টার্নিং পয়েন্টে পরিণত হয়।

ইতিহাস আমাদের আরও একটি শিক্ষা দেয়; যে রাষ্ট্র তার জনগণের কথা শোনে না, সেই রাষ্ট্রই বাইরের প্রভাবের জন্য দরজা খুলে দেয়। বাইরে কেউ এসে রাষ্ট্র ভেঙে দেয় না; রাষ্ট্র নিজেই দুর্বল হলে বাইরের শক্তি প্রভাব বিস্তারের সুযোগ পায়।

প্রতিটি সহিংস বিক্ষোভের পেছনে একক কোনো বিদেশি ষড়যন্ত্র খোঁজা যতটা সহজ, বাস্তবতা ততটাই জটিল। সত্য হলো, সরকার পতন ঘটে অভ্যন্তরীণ ব্যর্থতা আর বাইরের সুযোগের মিলিত ফল হিসেবে।

ইতিহাস তাই আমাদের সতর্ক করে; সংবাদ নয়, সংকেত বুঝতে শিখতে হবে।

টিটিএন ভূরাজনীতি কলামে আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক ঘটনা প্রবাহকে ইতিহাস, ক্ষমতা ও বাস্তবতার আলোকে বিশ্লেষণ করা হয়; সংবাদ নয়, প্রেক্ষাপট বোঝার প্রয়াস।