ঢাকা ০১:৩৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬, ৩০ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
রাজাপালংয়ের চেয়ারম্যান দুর্নীতিগ্রস্ত : জেলা প্রশাসকের কাছে দেয়া এমপির চিঠি ভাইরাল! বুধবার পরীক্ষা হলে শিক্ষা মন্ত্রণালয় অভিমুখে লংমার্চের ঘোষণা মাতারবাড়িতে গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ: ‘আত্মহত্যা নয়, পরিকল্পিত হত্যা’ দাবি পরিবারের কুতুবদিয়ায় নিহত জেলে পরিবারের পাশে ইউএনও: আর্থিক সহায়তা প্রদান কক্সবাজার থেকে অস্ত্র কিনে নিয়ে যাচ্ছিল ঢাকায় : লোহাগাড়ায় পুলিশের হাতে দুটি অস্ত্রসহ আটক ৩ মাথাগোঁজার একমাত্র আশ্রয় হারিয়ে লোহাগাড়ার আবদুল বারীর আর্তনাদ, — পাশে দাঁড়ানোর আকুতি এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিত ও শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবিতে কক্সবাজারে পাঁচ ঘণ্টার সড়ক অবরোধ পাহাড় কর্তনকারী ও বন্যায় স্লুইসগেট বন্ধের সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে-প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম বিশ্বে ফার্মের মুরগি উৎপাদনে বাংলাদেশ কততম, শীর্ষে কারা? সড়ক দুর্ঘটনায় সিটি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ ক্যথিং এবং সাবেক এমপি এথিন রাখাইন আহত পদার্থবিজ্ঞানের ৬ ও ৭ দুটি প্রশ্নের পুরো নম্বর দেওয়া হবে: শিক্ষামন্ত্রী পদার্থবিজ্ঞানের ৬ ও ৭ দুটি প্রশ্নের পুরো নম্বর দেওয়া হবে: শিক্ষামন্ত্রী বন্যাকবলিত এলাকায় পরীক্ষা নেওয়ায় বিক্ষোভ, শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি নতুন দায়িত্বে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ সংবিধানে গণভোটের বিধান না থাকলে ২০২৬ সালে নির্বাচনও নেই: শফিকুর রহমান

রোহিঙ্গা ফেরত নিয়ে মিয়ানমার জান্তার বক্তব্যকে ‘ফাঁকা বুলি’ বলছে আরাকান আর্মি

এক লাখ ৮০ হাজার রোহিঙ্গাকে ফেরত নেয়ার মতো পরিচয় শনাক্তের বিষয়টি নিয়ে আরকান আর্মির বক্তব্য পাওয়া গেছে।

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের নিয়ন্ত্রণে থাকা সস্বস্ত্র গোষ্ঠীটির মুখপাত্র খাইং থু খা বলেছেন, মিয়ানমার মিলিটারি কন্সপিরেসি থিওরী ছড়াচ্ছে আন্তর্জাতিক মহলের কাছে। বাংলাদেশকে তারা সন্তুষ্ট করার চেষ্টা করছে যে রোহিঙ্গাদের ভেরিফাইড হওয়ার খবর দিয়ে।

বাংলাদেশের কাছে বলা জান্তার এমন কথাকে আরাকান আর্মি ফাঁকা বুলিই মনে করে জানিয়ে খাইং থু খা বলেন, “মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর অস্থিত্বই তো নাই রাখাইনে এবং সেনাবাহিনীর তো সত্যি সত্যি এখন ওই পাওয়ার নাই যে আরকান আর্মির সাথে ফ্রন্টে মুভ করবে।”

রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে কাজ করা ‘উন্মুক্ত সাংবাদিক’ তানভীরুল মিরাজের সাথে এমন কথা হয় খাইং থু খা’য়ের সাথে। সাংবাদিক মিরাজ টিটিএনের কাছে সেসব কথা তুলে ধরেন।

সাংবাদিক মিরাজ টিটিএনকে বলেন, ‘বাংলাদেশ চেষ্টা করছে রোহিঙ্গা বিষয়টি সমাধান করার জন্য। এই তৎপরতা খুবই পজিটিভ। মিয়ানমার যে কথা গুলো বলছে যখন তাদের ওপর বিশ্বের নানান চাপ। আর তাদের জনগনের দীর্ঘদিন সশস্ত্র আন্দোলন করছে গণতান্ত্রিক অবস্থা ফিরিয়ে আনার জন্য।’

“আমি বেশ কয়েকবছর যাবৎ ধরে এই অঞ্চলের আর্মড গ্রুপগুলো নিয়ে কাজ করছি। বাংলাদেশের এই মুহুর্তের প্রত্যেকটি স্টেপস ও ডিপ্লোমেটিক মুভ খুবই গুরুত্বপূর্ণ এবং সেনসেটিভ। রাখাইন জুড়ে ননস্ট্যাট স্টেকহোল্ডার্স। রাখাইনের সাথে আমাদের ল্যান্ড, নদী ও সমুদ্র সীমা আছে। বাংলাদেশ বে-অব-বেঙ্গলের তাদের উপস্থিতি বাড়াতে কাজ করছে। সেক্ষেত্রে বাংলাদেশের যেকোনো ধরনের ভুল মুভ বে-অব-বেঙ্গলে প্রভাব ফেলবে। বেশ কয়েকদিন যাবৎ ধরে আরকান আর্মি আমাদের জাহাজ, জেলে, নৌকা ওসব ধরে জিম্মি করে রেখে দিচ্ছে। এই ক্ষেত্রে আমাদের আরকান আর্মির সাথে এনগেজমেন্ট জরুরী।” বলেন সাংবাদিক মিরাজ।

শুক্রবার বিকেলে বাংলাদেশ সরকারের প্রধান উপদেষ্টার ফেইসবুক পেইজ থেকে জানানো হয়, এক লাখ ৮০ হাজার রোহিঙ্গার পরিচয় নিশ্চিত করেছে মিয়ানমার। যাদের ফিরিয়ে নেয়া যেতে পারে।

এমন খবরের পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে বিশেষজ্ঞরা মতামত দিতে থাকেন রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন বর্তমান পরিস্থিতিতে সম্ভব কিনা।

“রাখাইন অঞ্চলের কর্তৃত্ব কার্যতভাবেই মায়ানমারের জান্তার নেই। ওই ভূখণ্ডের ৯০% এখন আরাকান আর্মির নিয়ন্ত্রণে। এমন পরিস্থিতিতে জান্তা কীভাবে ১ লাখ ৮০ হাজার রোহিঙ্গাকে প্রত্যাবাসন করবে? কোথায় করবে? আরাকান আর্মি কী তা করতে দেবে?” এমন মতামত আসে।

শরণার্থী বিশেষজ্ঞ আলতাফ পারভেজ তার ফেইসবুক স্ট্যাটাসে লিখেন- “বাংলাদেশের অন্তত একটা মায়া-মরীচিকা থেকে মুক্ত হওয়া উচিত যে, রোহিঙাদের আরাকানে ফেরত যাওয়ার ব্যাপারে মিয়ানমারের কেন্দ্রীয় সরকার এখন প্রধান গুরুত্বপূর্ণ পক্ষ নয় আর; আলাপ করতে হবে আরাকান আর্মি ও রাখাইন নেতৃবৃন্দের সঙ্গে। কারণ, এটা ২০১৭ সাল নয়, ২০২৫ সাল। নাফ নদী দিয়ে অনেক পানি গড়িয়ে গেছে। মিয়ানমারের সঙ্গে বাংলাদেশের সীমান্তই নেই এখন আর। অঙ্ক পরীক্ষার দিন বাংলা উত্তর পড়ে আসলে মুশকিল।”

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

রাজাপালংয়ের চেয়ারম্যান দুর্নীতিগ্রস্ত : জেলা প্রশাসকের কাছে দেয়া এমপির চিঠি ভাইরাল!

রোহিঙ্গা ফেরত নিয়ে মিয়ানমার জান্তার বক্তব্যকে ‘ফাঁকা বুলি’ বলছে আরাকান আর্মি

আপডেট সময় : ০৬:৩৭:১২ অপরাহ্ন, শনিবার, ৫ এপ্রিল ২০২৫

এক লাখ ৮০ হাজার রোহিঙ্গাকে ফেরত নেয়ার মতো পরিচয় শনাক্তের বিষয়টি নিয়ে আরকান আর্মির বক্তব্য পাওয়া গেছে।

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের নিয়ন্ত্রণে থাকা সস্বস্ত্র গোষ্ঠীটির মুখপাত্র খাইং থু খা বলেছেন, মিয়ানমার মিলিটারি কন্সপিরেসি থিওরী ছড়াচ্ছে আন্তর্জাতিক মহলের কাছে। বাংলাদেশকে তারা সন্তুষ্ট করার চেষ্টা করছে যে রোহিঙ্গাদের ভেরিফাইড হওয়ার খবর দিয়ে।

বাংলাদেশের কাছে বলা জান্তার এমন কথাকে আরাকান আর্মি ফাঁকা বুলিই মনে করে জানিয়ে খাইং থু খা বলেন, “মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর অস্থিত্বই তো নাই রাখাইনে এবং সেনাবাহিনীর তো সত্যি সত্যি এখন ওই পাওয়ার নাই যে আরকান আর্মির সাথে ফ্রন্টে মুভ করবে।”

রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে কাজ করা ‘উন্মুক্ত সাংবাদিক’ তানভীরুল মিরাজের সাথে এমন কথা হয় খাইং থু খা’য়ের সাথে। সাংবাদিক মিরাজ টিটিএনের কাছে সেসব কথা তুলে ধরেন।

সাংবাদিক মিরাজ টিটিএনকে বলেন, ‘বাংলাদেশ চেষ্টা করছে রোহিঙ্গা বিষয়টি সমাধান করার জন্য। এই তৎপরতা খুবই পজিটিভ। মিয়ানমার যে কথা গুলো বলছে যখন তাদের ওপর বিশ্বের নানান চাপ। আর তাদের জনগনের দীর্ঘদিন সশস্ত্র আন্দোলন করছে গণতান্ত্রিক অবস্থা ফিরিয়ে আনার জন্য।’

“আমি বেশ কয়েকবছর যাবৎ ধরে এই অঞ্চলের আর্মড গ্রুপগুলো নিয়ে কাজ করছি। বাংলাদেশের এই মুহুর্তের প্রত্যেকটি স্টেপস ও ডিপ্লোমেটিক মুভ খুবই গুরুত্বপূর্ণ এবং সেনসেটিভ। রাখাইন জুড়ে ননস্ট্যাট স্টেকহোল্ডার্স। রাখাইনের সাথে আমাদের ল্যান্ড, নদী ও সমুদ্র সীমা আছে। বাংলাদেশ বে-অব-বেঙ্গলের তাদের উপস্থিতি বাড়াতে কাজ করছে। সেক্ষেত্রে বাংলাদেশের যেকোনো ধরনের ভুল মুভ বে-অব-বেঙ্গলে প্রভাব ফেলবে। বেশ কয়েকদিন যাবৎ ধরে আরকান আর্মি আমাদের জাহাজ, জেলে, নৌকা ওসব ধরে জিম্মি করে রেখে দিচ্ছে। এই ক্ষেত্রে আমাদের আরকান আর্মির সাথে এনগেজমেন্ট জরুরী।” বলেন সাংবাদিক মিরাজ।

শুক্রবার বিকেলে বাংলাদেশ সরকারের প্রধান উপদেষ্টার ফেইসবুক পেইজ থেকে জানানো হয়, এক লাখ ৮০ হাজার রোহিঙ্গার পরিচয় নিশ্চিত করেছে মিয়ানমার। যাদের ফিরিয়ে নেয়া যেতে পারে।

এমন খবরের পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে বিশেষজ্ঞরা মতামত দিতে থাকেন রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন বর্তমান পরিস্থিতিতে সম্ভব কিনা।

“রাখাইন অঞ্চলের কর্তৃত্ব কার্যতভাবেই মায়ানমারের জান্তার নেই। ওই ভূখণ্ডের ৯০% এখন আরাকান আর্মির নিয়ন্ত্রণে। এমন পরিস্থিতিতে জান্তা কীভাবে ১ লাখ ৮০ হাজার রোহিঙ্গাকে প্রত্যাবাসন করবে? কোথায় করবে? আরাকান আর্মি কী তা করতে দেবে?” এমন মতামত আসে।

শরণার্থী বিশেষজ্ঞ আলতাফ পারভেজ তার ফেইসবুক স্ট্যাটাসে লিখেন- “বাংলাদেশের অন্তত একটা মায়া-মরীচিকা থেকে মুক্ত হওয়া উচিত যে, রোহিঙাদের আরাকানে ফেরত যাওয়ার ব্যাপারে মিয়ানমারের কেন্দ্রীয় সরকার এখন প্রধান গুরুত্বপূর্ণ পক্ষ নয় আর; আলাপ করতে হবে আরাকান আর্মি ও রাখাইন নেতৃবৃন্দের সঙ্গে। কারণ, এটা ২০১৭ সাল নয়, ২০২৫ সাল। নাফ নদী দিয়ে অনেক পানি গড়িয়ে গেছে। মিয়ানমারের সঙ্গে বাংলাদেশের সীমান্তই নেই এখন আর। অঙ্ক পরীক্ষার দিন বাংলা উত্তর পড়ে আসলে মুশকিল।”