ঢাকা ১২:৫৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৩ মে ২০২৬, ২০ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সংরক্ষিত নারী আসনের ৪৯ এমপির শপথ আজ হত্যাচেষ্টা মামলায় হাসিনাসহ ৪০ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র কক্সবাজার জেলা ছাত্রদলের আংশিক কমিটি অনুমোদন: ৩০ দিনের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ কমিটির নির্দেশ ৭৪তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন করলো সৈকত খেলাঘর আসর নানাবাড়িতে বেড়াতে গিয়ে নিখোঁজ শিশুর লাশ মিললো গর্তে কক্সবাজারে ১১ দলীয় ঐক্যের গণমিছিল:গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না হলে বিএনপিকে জনগণ নোট অব ডিসেন্ট দেবে খেলাঘরের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে ঝিনুকমালার নানান আয়োজন  পেকুয়ায় গলায় ফাঁস দিয়ে এসএসসি পরীক্ষার্থীর আত্মহত্যা কক্সবাজারে গাঁজা ও ইয়াবাসহ ৩ মাদক কারবারি গ্রেফতার টেকনাফে বজ্রপাতে জেলের মৃত্যু হঠাৎ রমনা থানা পরিদর্শনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী স্কাউটসের শাপলা কাব অ্যাওয়ার্ড এর মৌখিক ও সাঁতার মূল্যায়ন অনুষ্ঠিত মানুষকে দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়নের কাজ শুরু করেছি : তারেক রহমান চকরিয়ায় ফুসলিয়ে নিয়ে গিয়ে আটবছরের শিশু মেয়েকে ধর্ষণ, অভিযুক্ত পলাতক টেকনাফে গণপিটুনিতে ‘বাইন্না ডাকাত’ নিহত

রোদ-বৃষ্টি মাখা প্রকৃতি: কক্সবাজারে ঘুরছে জ্বর ও শরীর ব্যথা

পুরো বর্ষা জুড়েই কক্সবাজারে থেমে থেমে বৃষ্টি ঝরেছে। এখন বর্ষার শেষ সপ্তাহ, মাঝে মাঝে মিলছে তীব্র রোদের দেখা, সঙ্গে বেড়েছে গরমও। আর এই রোদ-বৃষ্টি মাখা প্রকৃতিতে ভাসছে নানা রোগের প্রাদুর্ভাব। কক্সবাজারে এখন ঘরে ঘরে জ্বরের প্রকোপ বেড়েছে, আক্রান্ত হচ্ছে শিশু থেকে শুরু করে বয়স্ক পর্যন্ত।

প্রচন্ড জ্বর ও শরীর ব্যথা নিয়ে জেলা সদর হাসপাতালে এসেছেন শহরের বাহারছড়ার বাসিন্দা নওরিন সুলতানা।তার স্বামী শাহাদাত হোসেন বলেন, “প্রথমে আমার জ্বর হয়, তারপর আমার স্ত্রী ও সন্তানের হয়েছে। এখন আমি সুস্থ আছি। তবে আমার স্ত্রী তিনদিন ধরে জ্বর, মাথা ব্যথা ও শরীর ব্যথায় কষ্ট পাচ্ছে। ডাক্তার বলেছে এটা ভাইরাল জ্বর, বেশি পানি খেতে আর বিশ্রাম নিতে হবে”।

একই এলাকার বাসিন্দা শারমিন আক্তার বলেন, “আমাদের বাসায় প্রথমে আমি অসুস্থ হই, তারপর আমার ছোট বোন আর মা-ও আক্রান্ত হয়। তিন দিন পর একটু ভালো লাগছে, কিন্তু এখনও অনেক দুর্বল লাগছে।”

এ বিষয়ে কক্সবাজার সদর হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার ডাক্তার রিপন চৌধুরী বলেন, “সাম্প্রতিক সময়ে আমাদের এলাকায় ভাইরাল জ্বরের প্রকোপ বেড়েছে। অনেক রোগী জ্বরের পাশাপাশি সর্দি, কাশি, গলা ব্যথা ও শরীর ব্যথার সমস্যায় আসছেন”।

তিনি আরও বলেন, “এই সময় আবহাওয়া পরিবর্তনের কারণে ভাইরাস সহজে ছড়িয়ে পড়ছে। বিশেষ করে যারা বাইরে বেশি ঘোরাফেরা করছেন বা ভিড় এলাকায় যাচ্ছেন, তাদের মধ্যে সংক্রমণ বেশি দেখা যাচ্ছে”।

এই সংক্রমণের কারণ হিসেবে চিকিৎসক চৌধুরী ধারণা করছেন, ইনফ্লুয়েঞ্জা বা তার কোনো ভ্যারিয়েন্ট, করোনা ভাইরাস কিংবা ডেঙ্গু বা চিকুনগুনিয়া।

তবে এসব রোগের চিকিৎসা জটিল নয় জানিয়ে তিনি বলেন, বারে বারে তরল খাবার গ্রহণ, প্যারাসিটামল জাতীয় ওষুধ সেবন এবং পর্যাপ্ত বিশ্রামে সাধারণত ৩ থেকে ৫ দিনের মধ্যে আরোগ্য লাভ করা সম্ভব। তবে দুর্বলতা কাটতে ৭-১০ দিন সময় লাগতে পারে। তাই ভয় না পেয়ে মনোবল রেখে প্রতিকার করার পরামর্শ দেন তিনি।

ডা. রিপন চৌধুরী সতর্ক করে বলেন, “আবহাওয়ার পরিবর্তনের এই সময়ে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ হলো ডেঙ্গু, যাকে নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করতে হয়। তাই জ্বর হলে অবশ্যই CBC টেস্ট করুন।যদিও ডেঙ্গুর নির্দিষ্ট কোনো প্রতিষেধক নেই। তবে অধিক বিশ্রাম ও সঠিক পুষ্টিসমৃদ্ধ খাবার গ্রহণে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই সুস্থ হওয়া যায়”।

স্থানীয় স্বাস্থ্যকর্মীরা জনগণকে সচেতন থাকার, নিয়মিত হাত ধোয়া, ভিড় এড়িয়ে চলা, হাঁচি-কাশির সময় মুখ ঢেকে রাখা এবং পুষ্টিকর খাবার খাওয়ার মাধ্যমে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানোর পরামর্শ দিয়েছেন।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

সংরক্ষিত নারী আসনের ৪৯ এমপির শপথ আজ

রোদ-বৃষ্টি মাখা প্রকৃতি: কক্সবাজারে ঘুরছে জ্বর ও শরীর ব্যথা

আপডেট সময় : ০৮:৩১:২৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৫

পুরো বর্ষা জুড়েই কক্সবাজারে থেমে থেমে বৃষ্টি ঝরেছে। এখন বর্ষার শেষ সপ্তাহ, মাঝে মাঝে মিলছে তীব্র রোদের দেখা, সঙ্গে বেড়েছে গরমও। আর এই রোদ-বৃষ্টি মাখা প্রকৃতিতে ভাসছে নানা রোগের প্রাদুর্ভাব। কক্সবাজারে এখন ঘরে ঘরে জ্বরের প্রকোপ বেড়েছে, আক্রান্ত হচ্ছে শিশু থেকে শুরু করে বয়স্ক পর্যন্ত।

প্রচন্ড জ্বর ও শরীর ব্যথা নিয়ে জেলা সদর হাসপাতালে এসেছেন শহরের বাহারছড়ার বাসিন্দা নওরিন সুলতানা।তার স্বামী শাহাদাত হোসেন বলেন, “প্রথমে আমার জ্বর হয়, তারপর আমার স্ত্রী ও সন্তানের হয়েছে। এখন আমি সুস্থ আছি। তবে আমার স্ত্রী তিনদিন ধরে জ্বর, মাথা ব্যথা ও শরীর ব্যথায় কষ্ট পাচ্ছে। ডাক্তার বলেছে এটা ভাইরাল জ্বর, বেশি পানি খেতে আর বিশ্রাম নিতে হবে”।

একই এলাকার বাসিন্দা শারমিন আক্তার বলেন, “আমাদের বাসায় প্রথমে আমি অসুস্থ হই, তারপর আমার ছোট বোন আর মা-ও আক্রান্ত হয়। তিন দিন পর একটু ভালো লাগছে, কিন্তু এখনও অনেক দুর্বল লাগছে।”

এ বিষয়ে কক্সবাজার সদর হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার ডাক্তার রিপন চৌধুরী বলেন, “সাম্প্রতিক সময়ে আমাদের এলাকায় ভাইরাল জ্বরের প্রকোপ বেড়েছে। অনেক রোগী জ্বরের পাশাপাশি সর্দি, কাশি, গলা ব্যথা ও শরীর ব্যথার সমস্যায় আসছেন”।

তিনি আরও বলেন, “এই সময় আবহাওয়া পরিবর্তনের কারণে ভাইরাস সহজে ছড়িয়ে পড়ছে। বিশেষ করে যারা বাইরে বেশি ঘোরাফেরা করছেন বা ভিড় এলাকায় যাচ্ছেন, তাদের মধ্যে সংক্রমণ বেশি দেখা যাচ্ছে”।

এই সংক্রমণের কারণ হিসেবে চিকিৎসক চৌধুরী ধারণা করছেন, ইনফ্লুয়েঞ্জা বা তার কোনো ভ্যারিয়েন্ট, করোনা ভাইরাস কিংবা ডেঙ্গু বা চিকুনগুনিয়া।

তবে এসব রোগের চিকিৎসা জটিল নয় জানিয়ে তিনি বলেন, বারে বারে তরল খাবার গ্রহণ, প্যারাসিটামল জাতীয় ওষুধ সেবন এবং পর্যাপ্ত বিশ্রামে সাধারণত ৩ থেকে ৫ দিনের মধ্যে আরোগ্য লাভ করা সম্ভব। তবে দুর্বলতা কাটতে ৭-১০ দিন সময় লাগতে পারে। তাই ভয় না পেয়ে মনোবল রেখে প্রতিকার করার পরামর্শ দেন তিনি।

ডা. রিপন চৌধুরী সতর্ক করে বলেন, “আবহাওয়ার পরিবর্তনের এই সময়ে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ হলো ডেঙ্গু, যাকে নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করতে হয়। তাই জ্বর হলে অবশ্যই CBC টেস্ট করুন।যদিও ডেঙ্গুর নির্দিষ্ট কোনো প্রতিষেধক নেই। তবে অধিক বিশ্রাম ও সঠিক পুষ্টিসমৃদ্ধ খাবার গ্রহণে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই সুস্থ হওয়া যায়”।

স্থানীয় স্বাস্থ্যকর্মীরা জনগণকে সচেতন থাকার, নিয়মিত হাত ধোয়া, ভিড় এড়িয়ে চলা, হাঁচি-কাশির সময় মুখ ঢেকে রাখা এবং পুষ্টিকর খাবার খাওয়ার মাধ্যমে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানোর পরামর্শ দিয়েছেন।