ঢাকা ০১:০৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬, ৩০ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ভোরে ফুল তুলতে যাওয়া বৃদ্ধকে জবাই করে হত্যা, অভিযুক্তের আত্মসমর্পণ বাংলা বছরের শেষদিন— চৈত্র সংক্রান্তি আজ তীব্র গরমেও পর্যটকের ঢল, নোনাজলে খুঁজছে স্বস্তি দুই খুন ভাবিয়ে তুলেছে খোদ পুলিশকে চট্টগ্রামে কিশোর গ্যাংয়ের হাতে খুন হলো চকরিয়ার কিশোর সাজিদ সাংগঠনিক গতি বাড়াতে এমজেএ কক্সবাজারের সভা, নতুন সদস্য আহ্বান ও উপ-কমিটি গঠন কুতুবদিয়ায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পুকুরে বরযাত্রীর গাড়ি, শিশুসহ ৪জন আহত নতুন গণমাধ্যম নিয়ে আসছেন সাকিব রামুতে গৃহকর্মীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার টেকনাফে পূর্ব শত্রুতার জেরে বসতবাড়িতে অগ্নিসংযোগের অভিযোগ টেকনাফ ও ইনানী থেকে সাগর পথে মালয়েশিয়া যাত্রা: আন্দামান সাগরে ট্রলারডুবি,উদ্ধার ৯, নিখোঁজ ২ শতাধিক সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপির মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করলেন অ্যাডভোকেট শামীম আরা স্বপ্না রোগীর সেবায় ২৪ ঘন্টা জরুরি বিভাগ সচল রাখতে হবে-এমপি কাজল ২ দিনের সফরে সোমবার কক্সবাজার আসছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জেলা কালেক্টরেট সহকারী সমিতির নতুন কমিটি: জুবাইর আহবায়ক, মিজান সদস্য

রোজা রোগ প্রতিরোধে যে ভূমিকা রাখে

  • নোমান অরুপ
  • আপডেট সময় : ০৫:৩১:৫৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • 268

রমজান মাসে রোজা পালন কেবল একটি ধর্মীয় বিধানই নয়, বরং এটি শরীরকে নতুন করে সজীব করার একটি বিজ্ঞানসম্মত পদ্ধতি। সঠিক নিয়ম মেনে রোজা রাখলে তা শরীরের ওপর অত্যন্ত ইতিবাচক প্রভাব ফেলে।

​প্রতি বছর রমজান মাস আমাদের খাদ্যাভ্যাস এবং জীবনযাত্রায় একটি শৃঙ্খলা নিয়ে আসে। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় বলতে গেলে, এটি শরীরের জন্য একটি ‘অ্যানুয়াল সার্ভিসিং’। দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকার ফলে শরীরে যে জৈবিক পরিবর্তনগুলো ঘটে, তা আমাদের দীর্ঘমেয়াদী সুস্থতার চাবিকাঠি।

​১. ডিটক্সিফিকেশন বা বিষমুক্তকরণ

​সারাদিন রোজা রাখার ফলে শরীরের পরিপাকতন্ত্র দীর্ঘক্ষণ বিশ্রাম পায়। এই সময়ে লিভার বা যকৃৎ শরীরের জমে থাকা বিষাক্ত পদার্থ (Toxins) দূর করার সুযোগ পায়। যখন বাইরের খাবার আসা বন্ধ থাকে, শরীর তখন জমিয়ে রাখা চর্বি পুড়িয়ে শক্তি উৎপাদন করে, যা শরীরের দূষিত পদার্থগুলোকেও ধ্বংস করে দেয়।

​২. হৃদরোগের ঝুঁকি হ্রাস

​গবেষণায় দেখা গেছে, রোজা রাখলে রক্তে ক্ষতিকর কোলেস্টেরল (LDL) কমে এবং উপকারী কোলেস্টেরল (HDL) বৃদ্ধি পায়। এছাড়া রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে আসায় স্ট্রোক বা হৃদরোগের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্য হারে কমে যায়।

​৩. ইনসুলিন সংবেদনশীলতা বৃদ্ধি

​যারা টাইপ-২ ডায়াবেটিসের ঝুঁকিতে আছেন, তাদের জন্য রোজা আশীর্বাদস্বরূপ। রোজা রাখলে রক্তের শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে থাকে এবং ইনসুলিনের কার্যকারিতা বৃদ্ধি পায়। এটি অগ্ন্যাশয়কে (Pancreas) বিশ্রাম দেওয়ার মাধ্যমে গ্লুকোজ মেটাবলিজম উন্নত করে।

​৪. মস্তিষ্কের কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি

​রোজা রাখার ফলে শরীরে BDNF (Brain-Derived Neurotrophic Factor) নামক এক ধরণের প্রোটিনের উৎপাদন বেড়ে যায়। এটি মস্তিষ্কের স্টেম সেলকে নতুন নিউরন তৈরিতে উৎসাহিত করে এবং আলঝেইমার বা পারকিনসনসের মতো রোগ প্রতিরোধে সাহায্য করে।
​৫. ওজোন নিয়ন্ত্রণ ও ফ্যাট বার্নিং

​অতিরিক্ত ওজন কমানোর জন্য ‘ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিং’ এখন বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয়। রোজা হলো তার একটি আদর্শ রূপ। এটি শরীরের বিপাক প্রক্রিয়া (Metabolism) ত্বরান্বিত করে এবং পেটের জেদি চর্বি কমাতে সাহায্য করে।

​দীর্ঘস্থায়ী কোনো রোগে আক্রান্ত ব্যক্তি বা গর্ভবতী মায়েদের ক্ষেত্রে রোজা রাখার আগে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
​রোজার প্রকৃত স্বাস্থ্যগত সুবিধা পেতে হলে পরিমিত আহার এবং পর্যাপ্ত পানি পানের কোনো বিকল্প নেই। সংযম শুধু মনে নয়, খাবারের থালাতেও থাকা জরুরি।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

রোজা রোগ প্রতিরোধে যে ভূমিকা রাখে

আপডেট সময় : ০৫:৩১:৫৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

রমজান মাসে রোজা পালন কেবল একটি ধর্মীয় বিধানই নয়, বরং এটি শরীরকে নতুন করে সজীব করার একটি বিজ্ঞানসম্মত পদ্ধতি। সঠিক নিয়ম মেনে রোজা রাখলে তা শরীরের ওপর অত্যন্ত ইতিবাচক প্রভাব ফেলে।

​প্রতি বছর রমজান মাস আমাদের খাদ্যাভ্যাস এবং জীবনযাত্রায় একটি শৃঙ্খলা নিয়ে আসে। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় বলতে গেলে, এটি শরীরের জন্য একটি ‘অ্যানুয়াল সার্ভিসিং’। দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকার ফলে শরীরে যে জৈবিক পরিবর্তনগুলো ঘটে, তা আমাদের দীর্ঘমেয়াদী সুস্থতার চাবিকাঠি।

​১. ডিটক্সিফিকেশন বা বিষমুক্তকরণ

​সারাদিন রোজা রাখার ফলে শরীরের পরিপাকতন্ত্র দীর্ঘক্ষণ বিশ্রাম পায়। এই সময়ে লিভার বা যকৃৎ শরীরের জমে থাকা বিষাক্ত পদার্থ (Toxins) দূর করার সুযোগ পায়। যখন বাইরের খাবার আসা বন্ধ থাকে, শরীর তখন জমিয়ে রাখা চর্বি পুড়িয়ে শক্তি উৎপাদন করে, যা শরীরের দূষিত পদার্থগুলোকেও ধ্বংস করে দেয়।

​২. হৃদরোগের ঝুঁকি হ্রাস

​গবেষণায় দেখা গেছে, রোজা রাখলে রক্তে ক্ষতিকর কোলেস্টেরল (LDL) কমে এবং উপকারী কোলেস্টেরল (HDL) বৃদ্ধি পায়। এছাড়া রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে আসায় স্ট্রোক বা হৃদরোগের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্য হারে কমে যায়।

​৩. ইনসুলিন সংবেদনশীলতা বৃদ্ধি

​যারা টাইপ-২ ডায়াবেটিসের ঝুঁকিতে আছেন, তাদের জন্য রোজা আশীর্বাদস্বরূপ। রোজা রাখলে রক্তের শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে থাকে এবং ইনসুলিনের কার্যকারিতা বৃদ্ধি পায়। এটি অগ্ন্যাশয়কে (Pancreas) বিশ্রাম দেওয়ার মাধ্যমে গ্লুকোজ মেটাবলিজম উন্নত করে।

​৪. মস্তিষ্কের কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি

​রোজা রাখার ফলে শরীরে BDNF (Brain-Derived Neurotrophic Factor) নামক এক ধরণের প্রোটিনের উৎপাদন বেড়ে যায়। এটি মস্তিষ্কের স্টেম সেলকে নতুন নিউরন তৈরিতে উৎসাহিত করে এবং আলঝেইমার বা পারকিনসনসের মতো রোগ প্রতিরোধে সাহায্য করে।
​৫. ওজোন নিয়ন্ত্রণ ও ফ্যাট বার্নিং

​অতিরিক্ত ওজন কমানোর জন্য ‘ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিং’ এখন বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয়। রোজা হলো তার একটি আদর্শ রূপ। এটি শরীরের বিপাক প্রক্রিয়া (Metabolism) ত্বরান্বিত করে এবং পেটের জেদি চর্বি কমাতে সাহায্য করে।

​দীর্ঘস্থায়ী কোনো রোগে আক্রান্ত ব্যক্তি বা গর্ভবতী মায়েদের ক্ষেত্রে রোজা রাখার আগে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
​রোজার প্রকৃত স্বাস্থ্যগত সুবিধা পেতে হলে পরিমিত আহার এবং পর্যাপ্ত পানি পানের কোনো বিকল্প নেই। সংযম শুধু মনে নয়, খাবারের থালাতেও থাকা জরুরি।