ঢাকা ০১:০৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬, ৩০ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ভোরে ফুল তুলতে যাওয়া বৃদ্ধকে জবাই করে হত্যা, অভিযুক্তের আত্মসমর্পণ বাংলা বছরের শেষদিন— চৈত্র সংক্রান্তি আজ তীব্র গরমেও পর্যটকের ঢল, নোনাজলে খুঁজছে স্বস্তি দুই খুন ভাবিয়ে তুলেছে খোদ পুলিশকে চট্টগ্রামে কিশোর গ্যাংয়ের হাতে খুন হলো চকরিয়ার কিশোর সাজিদ সাংগঠনিক গতি বাড়াতে এমজেএ কক্সবাজারের সভা, নতুন সদস্য আহ্বান ও উপ-কমিটি গঠন কুতুবদিয়ায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পুকুরে বরযাত্রীর গাড়ি, শিশুসহ ৪জন আহত নতুন গণমাধ্যম নিয়ে আসছেন সাকিব রামুতে গৃহকর্মীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার টেকনাফে পূর্ব শত্রুতার জেরে বসতবাড়িতে অগ্নিসংযোগের অভিযোগ টেকনাফ ও ইনানী থেকে সাগর পথে মালয়েশিয়া যাত্রা: আন্দামান সাগরে ট্রলারডুবি,উদ্ধার ৯, নিখোঁজ ২ শতাধিক সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপির মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করলেন অ্যাডভোকেট শামীম আরা স্বপ্না রোগীর সেবায় ২৪ ঘন্টা জরুরি বিভাগ সচল রাখতে হবে-এমপি কাজল ২ দিনের সফরে সোমবার কক্সবাজার আসছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জেলা কালেক্টরেট সহকারী সমিতির নতুন কমিটি: জুবাইর আহবায়ক, মিজান সদস্য

সিগারেট বা যে কোনো ধোঁয়া গ্রহন করলে রোজা ভাঙ্গবে কি?

  • টিটিএন ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৪:১০:৩৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • 516

রমজান হলো আত্মশুদ্ধি, ইবাদত ও আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের সর্বোত্তম সময়। এ মাসে রোজা, নামাজ, কোরআন তিলাওয়াত, দোয়া ও গুনাহ থেকে বেঁচে থাকার মাধ্যমে আমরা তাকওয়া অর্জন করতে পারি।

যে ব্যক্তি রমজানকে যথাযথভাবে কাজে লাগায়, সে সত্যিকার অর্থেই সফল। তাই আমাদের উচিত এই মহিমান্বিত মাসকে অবহেলা না করে ইবাদত ও নেক আমলের মাধ্যমে জীবনকে আলোকিত করা।

ইচ্ছাকৃতভাবে কোনো কিছুর ধোঁয়া গলার ভেতরে প্রবেশ করালে রোজা ভেঙে যায়; তাই ওলামায়ে কেরাম বলেছেন, সিগারেট পান করলে রোজা ভেঙে যাবে। কারণ সিগারেট পানকারী ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে সিগারেটের নেশাযুক্ত ধোঁয়া গলা ও মস্তিষ্কে পৌঁছায়। (ফাতাওয়া দারুল উলুম দেওবন্দ ৬: ৪১৫–৪১৬, প্রশ্ন: ১১২)

আর যদি কেউ রমজানে রোজার কথা স্মরণ থাকা অবস্থায় সিগারেট পান করে, তাহলে তার উপর কাজা সহ কাফফারাও ওয়াজিব হবে। (আপ কে মাসায়েল আওর উন কা হাল’ ৪: ৫৭৬, মুদ্রিত: কুতুবখানা নাইমিয়া দেওবন্দ)।

যদি কোনো ব্যক্তি রোজাদারের পাশে সিগারেট পান করে এবং অনিচ্ছাকৃতভাবে রোজাদারের গলায় ধোঁয়া প্রবেশ করে, তাহলে তার রোজা নষ্ট হবে না; কারণ তার পক্ষে তা থেকে সম্পূর্ণভাবে বাঁচা সম্ভব নয়। কেননা সে যদি মুখ বন্ধও করে, তবুও নাকের মাধ্যমে ধোঁয়া ভেতরে চলে যাবে।

তবে যদি রোজাদার ইচ্ছাকৃতভাবে গলায় ধোঁয়া প্রবেশ করে, তাহলে তার রোজা নষ্ট হয়ে যাবে এবং ওই রোজা কাজা করা ওয়াজিব হবে; তবে কাফফারা নয়।

সুতরাং আগরবাতি বা সিগারেট ইত্যাদির ধোঁয়া ইচ্ছাকৃতভাবে শ্বাসের মাধ্যমে ভেতরে টেনে নিলে রোজা নষ্ট হয়ে যাবে এবং কাজা করতে হবে; কারণ রোজাদারের পক্ষে এ ধোঁয়া থেকে বেঁচে থাকা সম্ভব ছিল।

ধূমপান ও তামাক সেবন প্রয়োজনীয় নয় এবং উপকারীও নয়; বরং শরীর ও স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। তাই এটি সম্পূর্ণ অপচয়ের শামিল। ইসলামি বিধানে অপচয় করা হারাম; অপচয়কারী শয়তানের ভাই।

আল্লাহ তাআলা বলেন: এবং কিছুতেই অপব্যয় কোরো না; নিশ্চয়ই অপব্যয়কারী শয়তানের ভাই; আর শয়তান তার প্রতিপালকের প্রতি অতিশয় অকৃতজ্ঞ। (আল কোরআন, সুরা-১৭ ৫০)

নিজের ক্ষতি করার যেমন এখতিয়ার নেই, তেমনি অন্যের ক্ষতি করাও জায়েজ নয়। একজন ধূমপায়ী নিজের ক্ষতির পাশাপাশি আশপাশের অন্যদেরও ক্ষতি করে থাকে, যা সম্পূর্ণ হারাম ও কবিরা গুনাহ।

যারা ধূমপান করে বা তামাক সেবন করে, তাদের মুখে ও শরীরে একধরনের উৎকট বিশ্রী দুর্গন্ধ ছড়ায়; যা পাশের মানুষের কষ্টের কারণ হয় এবং তা হারাম ও নাজায়েজ।

তাই আসুন, যাদের ধূমপানের বা তামাক সেবনের বদভ্যাস আছে, তারা ইবাদতের সোনালি সময় পবিত্র রমজানের এই সুবর্ণ সুযোগকে কাজে লাগাই। এখনই দৃঢ় সংকল্প করি ‘ধূমপান করিনি, করব না; ধূমপান ছেড়েছি, আর ধরব না।’ ‘তামাক সেবন করব না; ছেড়েছি আর ধরব না।’

মহান আল্লাহ অবশ্যই আমাদের সাহায্য করবেন।

সুত্র: দৈনিক যুগান্তর

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

সিগারেট বা যে কোনো ধোঁয়া গ্রহন করলে রোজা ভাঙ্গবে কি?

আপডেট সময় : ০৪:১০:৩৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

রমজান হলো আত্মশুদ্ধি, ইবাদত ও আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের সর্বোত্তম সময়। এ মাসে রোজা, নামাজ, কোরআন তিলাওয়াত, দোয়া ও গুনাহ থেকে বেঁচে থাকার মাধ্যমে আমরা তাকওয়া অর্জন করতে পারি।

যে ব্যক্তি রমজানকে যথাযথভাবে কাজে লাগায়, সে সত্যিকার অর্থেই সফল। তাই আমাদের উচিত এই মহিমান্বিত মাসকে অবহেলা না করে ইবাদত ও নেক আমলের মাধ্যমে জীবনকে আলোকিত করা।

ইচ্ছাকৃতভাবে কোনো কিছুর ধোঁয়া গলার ভেতরে প্রবেশ করালে রোজা ভেঙে যায়; তাই ওলামায়ে কেরাম বলেছেন, সিগারেট পান করলে রোজা ভেঙে যাবে। কারণ সিগারেট পানকারী ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে সিগারেটের নেশাযুক্ত ধোঁয়া গলা ও মস্তিষ্কে পৌঁছায়। (ফাতাওয়া দারুল উলুম দেওবন্দ ৬: ৪১৫–৪১৬, প্রশ্ন: ১১২)

আর যদি কেউ রমজানে রোজার কথা স্মরণ থাকা অবস্থায় সিগারেট পান করে, তাহলে তার উপর কাজা সহ কাফফারাও ওয়াজিব হবে। (আপ কে মাসায়েল আওর উন কা হাল’ ৪: ৫৭৬, মুদ্রিত: কুতুবখানা নাইমিয়া দেওবন্দ)।

যদি কোনো ব্যক্তি রোজাদারের পাশে সিগারেট পান করে এবং অনিচ্ছাকৃতভাবে রোজাদারের গলায় ধোঁয়া প্রবেশ করে, তাহলে তার রোজা নষ্ট হবে না; কারণ তার পক্ষে তা থেকে সম্পূর্ণভাবে বাঁচা সম্ভব নয়। কেননা সে যদি মুখ বন্ধও করে, তবুও নাকের মাধ্যমে ধোঁয়া ভেতরে চলে যাবে।

তবে যদি রোজাদার ইচ্ছাকৃতভাবে গলায় ধোঁয়া প্রবেশ করে, তাহলে তার রোজা নষ্ট হয়ে যাবে এবং ওই রোজা কাজা করা ওয়াজিব হবে; তবে কাফফারা নয়।

সুতরাং আগরবাতি বা সিগারেট ইত্যাদির ধোঁয়া ইচ্ছাকৃতভাবে শ্বাসের মাধ্যমে ভেতরে টেনে নিলে রোজা নষ্ট হয়ে যাবে এবং কাজা করতে হবে; কারণ রোজাদারের পক্ষে এ ধোঁয়া থেকে বেঁচে থাকা সম্ভব ছিল।

ধূমপান ও তামাক সেবন প্রয়োজনীয় নয় এবং উপকারীও নয়; বরং শরীর ও স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। তাই এটি সম্পূর্ণ অপচয়ের শামিল। ইসলামি বিধানে অপচয় করা হারাম; অপচয়কারী শয়তানের ভাই।

আল্লাহ তাআলা বলেন: এবং কিছুতেই অপব্যয় কোরো না; নিশ্চয়ই অপব্যয়কারী শয়তানের ভাই; আর শয়তান তার প্রতিপালকের প্রতি অতিশয় অকৃতজ্ঞ। (আল কোরআন, সুরা-১৭ ৫০)

নিজের ক্ষতি করার যেমন এখতিয়ার নেই, তেমনি অন্যের ক্ষতি করাও জায়েজ নয়। একজন ধূমপায়ী নিজের ক্ষতির পাশাপাশি আশপাশের অন্যদেরও ক্ষতি করে থাকে, যা সম্পূর্ণ হারাম ও কবিরা গুনাহ।

যারা ধূমপান করে বা তামাক সেবন করে, তাদের মুখে ও শরীরে একধরনের উৎকট বিশ্রী দুর্গন্ধ ছড়ায়; যা পাশের মানুষের কষ্টের কারণ হয় এবং তা হারাম ও নাজায়েজ।

তাই আসুন, যাদের ধূমপানের বা তামাক সেবনের বদভ্যাস আছে, তারা ইবাদতের সোনালি সময় পবিত্র রমজানের এই সুবর্ণ সুযোগকে কাজে লাগাই। এখনই দৃঢ় সংকল্প করি ‘ধূমপান করিনি, করব না; ধূমপান ছেড়েছি, আর ধরব না।’ ‘তামাক সেবন করব না; ছেড়েছি আর ধরব না।’

মহান আল্লাহ অবশ্যই আমাদের সাহায্য করবেন।

সুত্র: দৈনিক যুগান্তর