ঢাকা ০১:০৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬, ৩০ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ভোরে ফুল তুলতে যাওয়া বৃদ্ধকে জবাই করে হত্যা, অভিযুক্তের আত্মসমর্পণ বাংলা বছরের শেষদিন— চৈত্র সংক্রান্তি আজ তীব্র গরমেও পর্যটকের ঢল, নোনাজলে খুঁজছে স্বস্তি দুই খুন ভাবিয়ে তুলেছে খোদ পুলিশকে চট্টগ্রামে কিশোর গ্যাংয়ের হাতে খুন হলো চকরিয়ার কিশোর সাজিদ সাংগঠনিক গতি বাড়াতে এমজেএ কক্সবাজারের সভা, নতুন সদস্য আহ্বান ও উপ-কমিটি গঠন কুতুবদিয়ায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পুকুরে বরযাত্রীর গাড়ি, শিশুসহ ৪জন আহত নতুন গণমাধ্যম নিয়ে আসছেন সাকিব রামুতে গৃহকর্মীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার টেকনাফে পূর্ব শত্রুতার জেরে বসতবাড়িতে অগ্নিসংযোগের অভিযোগ টেকনাফ ও ইনানী থেকে সাগর পথে মালয়েশিয়া যাত্রা: আন্দামান সাগরে ট্রলারডুবি,উদ্ধার ৯, নিখোঁজ ২ শতাধিক সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপির মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করলেন অ্যাডভোকেট শামীম আরা স্বপ্না রোগীর সেবায় ২৪ ঘন্টা জরুরি বিভাগ সচল রাখতে হবে-এমপি কাজল ২ দিনের সফরে সোমবার কক্সবাজার আসছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জেলা কালেক্টরেট সহকারী সমিতির নতুন কমিটি: জুবাইর আহবায়ক, মিজান সদস্য

যাকাত ও ফিতরার মধ্যে পার্থক্য কী?

ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ দুই আর্থিক ইবাদত যাকাত ও ফিতরা। এই দুই ইবাদত একই নাকি কিছুটা ভিন্নতা আছে এমন প্রশ্ন আছে অনেকেরই মনে? কার ওপর কখন কোনটি ফরজ এ নিয়ে স্পষ্ট ধারণা নেই অনেকের।

ফেকাহবিদদের মতে, যাকাত ও সদকাতুল ফিতর বা ফিতরা দুটিই আলাদা ও স্বতন্ত্র আর্থিক ইবাদত। একটির মাধ্যমে অন্যটি আদায় হয় না। দুটির জন্যই পৃথক বিধান ও শর্ত রয়েছে।

ফিতরা

সদকাতুল ফিতর প্রত্যেক এমন মুসলমানের ওপর ওয়াজিব, যিনি ঈদুল ফিতরের দিন অর্থাৎ ১ শাওয়াল ভোরে নিজের মৌলিক প্রয়োজন ও ব্যবহার্য জিনিসপত্রের বাইরে এমন পরিমাণ সম্পদের মালিক হন, যার মূল্য সাড়ে বায়ান্ন তোলা রুপার দামের সমান বা তার বেশি। এ ক্ষেত্রে সম্পদ নগদ অর্থ, সোনা, রুপা কিংবা অন্য যেকোনো ধরনের সম্পদ হতে পারে।

ফিতরা ওয়াজিব হওয়ার জন্য ওই সম্পদের ওপর এক বছর পূর্ণ হওয়া শর্ত নয়। একইভাবে ব্যক্তি নিজের পক্ষ থেকে এবং তার অধীনস্থ নাবালক সন্তানদের পক্ষ থেকেও ফিতরা আদায় করবেন।

যাকাত

অন্যদিকে যাকাত শুধু বর্ধনশীল সম্পদের ওপর ফরজ হয়। এর মধ্যে রয়েছে সোনা, রুপা, নগদ অর্থ, ব্যবসায়িক পণ্য এবং চারণভূমিতে পালিত গবাদিপশু। এসব সম্পদের যেকোনো একটি বা একাধিক মিলিয়ে যদি মৌলিক প্রয়োজনের অতিরিক্ত সম্পদের পরিমাণ সাড়ে বায়ান্ন তোলা রুপা বা সাড়ে সাত ভরি স্বর্ণের মূল্যের সমান হয়, তাহলে যাকাত ফরজ হয়। তবে যাকাত ফরজ হওয়ার জন্য শর্ত হলো এই সম্পদের ওপর পূর্ণ এক বছর অতিবাহিত হতে হবে।

আলেমদের মতে, ফিতরা মূলত রমজানের শেষে সমাজের দরিদ্র মানুষের প্রয়োজন পূরণ এবং ঈদের আনন্দে তাদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার জন্য নির্ধারিত। আর যাকাতের উদ্দেশ্য হলো সমাজে সম্পদের ন্যায়সঙ্গত বণ্টন, দারিদ্র্য বিমোচন এবং অর্থনৈতিক ভারসাম্য প্রতিষ্ঠা করা।

সুতরাং যাকাত ও ফিতরা দুটিই ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ বিধান হলেও উদ্দেশ্য, সময় ও শর্তের দিক থেকে একে অপরের থেকে ভিন্ন। মুসলমানদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হলো এই পার্থক্য বুঝে যথাসময়ে সঠিকভাবে উভয় ইবাদত পালন করা।

সূত্র: ঢাকা পোস্ট

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

যাকাত ও ফিতরার মধ্যে পার্থক্য কী?

আপডেট সময় : ১২:২০:২৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ দুই আর্থিক ইবাদত যাকাত ও ফিতরা। এই দুই ইবাদত একই নাকি কিছুটা ভিন্নতা আছে এমন প্রশ্ন আছে অনেকেরই মনে? কার ওপর কখন কোনটি ফরজ এ নিয়ে স্পষ্ট ধারণা নেই অনেকের।

ফেকাহবিদদের মতে, যাকাত ও সদকাতুল ফিতর বা ফিতরা দুটিই আলাদা ও স্বতন্ত্র আর্থিক ইবাদত। একটির মাধ্যমে অন্যটি আদায় হয় না। দুটির জন্যই পৃথক বিধান ও শর্ত রয়েছে।

ফিতরা

সদকাতুল ফিতর প্রত্যেক এমন মুসলমানের ওপর ওয়াজিব, যিনি ঈদুল ফিতরের দিন অর্থাৎ ১ শাওয়াল ভোরে নিজের মৌলিক প্রয়োজন ও ব্যবহার্য জিনিসপত্রের বাইরে এমন পরিমাণ সম্পদের মালিক হন, যার মূল্য সাড়ে বায়ান্ন তোলা রুপার দামের সমান বা তার বেশি। এ ক্ষেত্রে সম্পদ নগদ অর্থ, সোনা, রুপা কিংবা অন্য যেকোনো ধরনের সম্পদ হতে পারে।

ফিতরা ওয়াজিব হওয়ার জন্য ওই সম্পদের ওপর এক বছর পূর্ণ হওয়া শর্ত নয়। একইভাবে ব্যক্তি নিজের পক্ষ থেকে এবং তার অধীনস্থ নাবালক সন্তানদের পক্ষ থেকেও ফিতরা আদায় করবেন।

যাকাত

অন্যদিকে যাকাত শুধু বর্ধনশীল সম্পদের ওপর ফরজ হয়। এর মধ্যে রয়েছে সোনা, রুপা, নগদ অর্থ, ব্যবসায়িক পণ্য এবং চারণভূমিতে পালিত গবাদিপশু। এসব সম্পদের যেকোনো একটি বা একাধিক মিলিয়ে যদি মৌলিক প্রয়োজনের অতিরিক্ত সম্পদের পরিমাণ সাড়ে বায়ান্ন তোলা রুপা বা সাড়ে সাত ভরি স্বর্ণের মূল্যের সমান হয়, তাহলে যাকাত ফরজ হয়। তবে যাকাত ফরজ হওয়ার জন্য শর্ত হলো এই সম্পদের ওপর পূর্ণ এক বছর অতিবাহিত হতে হবে।

আলেমদের মতে, ফিতরা মূলত রমজানের শেষে সমাজের দরিদ্র মানুষের প্রয়োজন পূরণ এবং ঈদের আনন্দে তাদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার জন্য নির্ধারিত। আর যাকাতের উদ্দেশ্য হলো সমাজে সম্পদের ন্যায়সঙ্গত বণ্টন, দারিদ্র্য বিমোচন এবং অর্থনৈতিক ভারসাম্য প্রতিষ্ঠা করা।

সুতরাং যাকাত ও ফিতরা দুটিই ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ বিধান হলেও উদ্দেশ্য, সময় ও শর্তের দিক থেকে একে অপরের থেকে ভিন্ন। মুসলমানদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হলো এই পার্থক্য বুঝে যথাসময়ে সঠিকভাবে উভয় ইবাদত পালন করা।

সূত্র: ঢাকা পোস্ট