ঢাকা ০২:৪৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১৩ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
বিডিআর হত্যাকাণ্ড দেশের জন্য একটি কলঙ্কজনক অধ্যায়: স্থানীয় সরকারমন্ত্রী লামায় বন্য হাতির আক্রমনে একজনের মৃত্যু শহীদ সেনাসদস্যদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ করলেন নবনিযুক্ত আইজিপি যাকাত ও ফিতরার মধ্যে পার্থক্য কী? মশার যন্ত্রণা থেকে নগরবাসীকে দ্রুত স্বস্তি দিতে কাজ চলছে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী বিডিআর হত্যাকাণ্ডে নতুন কোনো তদন্ত কমিশন হবে না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পিলখানা ট্র্যাজেডির ১৭ বছর, জাতীয় শহীদ সেনা দিবস আজ মারামারির মামলায় সেন্টমার্টিনের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানকে দুই বছর কারাদন্ড জনপ্রশাসন, পুলিশ, শিক্ষায় আরও পরিবর্তন আসছে পিলখানা হত্যাকাণ্ড: বিস্ফোরক মামলার ফের তদন্ত চায় আসামিপক্ষ, রাষ্ট্রপক্ষ চায় দ্রুত বিচার বরকতময় খাবার সেহরি ​টেকনাফে ছাত্রদল নেতা আয়াছুল আলমের ইফতার বিতরণ টেকনাফে এক জালে ১১০০ লাল কোরাল, ৩১ লাখ টাকায় বিক্রি সামনের ইউপি নির্বাচনে সেন্টমার্টিনের সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী যারা!

যাকাত ও ফিতরার মধ্যে পার্থক্য কী?

ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ দুই আর্থিক ইবাদত যাকাত ও ফিতরা। এই দুই ইবাদত একই নাকি কিছুটা ভিন্নতা আছে এমন প্রশ্ন আছে অনেকেরই মনে? কার ওপর কখন কোনটি ফরজ এ নিয়ে স্পষ্ট ধারণা নেই অনেকের।

ফেকাহবিদদের মতে, যাকাত ও সদকাতুল ফিতর বা ফিতরা দুটিই আলাদা ও স্বতন্ত্র আর্থিক ইবাদত। একটির মাধ্যমে অন্যটি আদায় হয় না। দুটির জন্যই পৃথক বিধান ও শর্ত রয়েছে।

ফিতরা

সদকাতুল ফিতর প্রত্যেক এমন মুসলমানের ওপর ওয়াজিব, যিনি ঈদুল ফিতরের দিন অর্থাৎ ১ শাওয়াল ভোরে নিজের মৌলিক প্রয়োজন ও ব্যবহার্য জিনিসপত্রের বাইরে এমন পরিমাণ সম্পদের মালিক হন, যার মূল্য সাড়ে বায়ান্ন তোলা রুপার দামের সমান বা তার বেশি। এ ক্ষেত্রে সম্পদ নগদ অর্থ, সোনা, রুপা কিংবা অন্য যেকোনো ধরনের সম্পদ হতে পারে।

ফিতরা ওয়াজিব হওয়ার জন্য ওই সম্পদের ওপর এক বছর পূর্ণ হওয়া শর্ত নয়। একইভাবে ব্যক্তি নিজের পক্ষ থেকে এবং তার অধীনস্থ নাবালক সন্তানদের পক্ষ থেকেও ফিতরা আদায় করবেন।

যাকাত

অন্যদিকে যাকাত শুধু বর্ধনশীল সম্পদের ওপর ফরজ হয়। এর মধ্যে রয়েছে সোনা, রুপা, নগদ অর্থ, ব্যবসায়িক পণ্য এবং চারণভূমিতে পালিত গবাদিপশু। এসব সম্পদের যেকোনো একটি বা একাধিক মিলিয়ে যদি মৌলিক প্রয়োজনের অতিরিক্ত সম্পদের পরিমাণ সাড়ে বায়ান্ন তোলা রুপা বা সাড়ে সাত ভরি স্বর্ণের মূল্যের সমান হয়, তাহলে যাকাত ফরজ হয়। তবে যাকাত ফরজ হওয়ার জন্য শর্ত হলো এই সম্পদের ওপর পূর্ণ এক বছর অতিবাহিত হতে হবে।

আলেমদের মতে, ফিতরা মূলত রমজানের শেষে সমাজের দরিদ্র মানুষের প্রয়োজন পূরণ এবং ঈদের আনন্দে তাদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার জন্য নির্ধারিত। আর যাকাতের উদ্দেশ্য হলো সমাজে সম্পদের ন্যায়সঙ্গত বণ্টন, দারিদ্র্য বিমোচন এবং অর্থনৈতিক ভারসাম্য প্রতিষ্ঠা করা।

সুতরাং যাকাত ও ফিতরা দুটিই ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ বিধান হলেও উদ্দেশ্য, সময় ও শর্তের দিক থেকে একে অপরের থেকে ভিন্ন। মুসলমানদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হলো এই পার্থক্য বুঝে যথাসময়ে সঠিকভাবে উভয় ইবাদত পালন করা।

সূত্র: ঢাকা পোস্ট

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

বিডিআর হত্যাকাণ্ড দেশের জন্য একটি কলঙ্কজনক অধ্যায়: স্থানীয় সরকারমন্ত্রী

This will close in 6 seconds

যাকাত ও ফিতরার মধ্যে পার্থক্য কী?

আপডেট সময় : ১২:২০:২৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ দুই আর্থিক ইবাদত যাকাত ও ফিতরা। এই দুই ইবাদত একই নাকি কিছুটা ভিন্নতা আছে এমন প্রশ্ন আছে অনেকেরই মনে? কার ওপর কখন কোনটি ফরজ এ নিয়ে স্পষ্ট ধারণা নেই অনেকের।

ফেকাহবিদদের মতে, যাকাত ও সদকাতুল ফিতর বা ফিতরা দুটিই আলাদা ও স্বতন্ত্র আর্থিক ইবাদত। একটির মাধ্যমে অন্যটি আদায় হয় না। দুটির জন্যই পৃথক বিধান ও শর্ত রয়েছে।

ফিতরা

সদকাতুল ফিতর প্রত্যেক এমন মুসলমানের ওপর ওয়াজিব, যিনি ঈদুল ফিতরের দিন অর্থাৎ ১ শাওয়াল ভোরে নিজের মৌলিক প্রয়োজন ও ব্যবহার্য জিনিসপত্রের বাইরে এমন পরিমাণ সম্পদের মালিক হন, যার মূল্য সাড়ে বায়ান্ন তোলা রুপার দামের সমান বা তার বেশি। এ ক্ষেত্রে সম্পদ নগদ অর্থ, সোনা, রুপা কিংবা অন্য যেকোনো ধরনের সম্পদ হতে পারে।

ফিতরা ওয়াজিব হওয়ার জন্য ওই সম্পদের ওপর এক বছর পূর্ণ হওয়া শর্ত নয়। একইভাবে ব্যক্তি নিজের পক্ষ থেকে এবং তার অধীনস্থ নাবালক সন্তানদের পক্ষ থেকেও ফিতরা আদায় করবেন।

যাকাত

অন্যদিকে যাকাত শুধু বর্ধনশীল সম্পদের ওপর ফরজ হয়। এর মধ্যে রয়েছে সোনা, রুপা, নগদ অর্থ, ব্যবসায়িক পণ্য এবং চারণভূমিতে পালিত গবাদিপশু। এসব সম্পদের যেকোনো একটি বা একাধিক মিলিয়ে যদি মৌলিক প্রয়োজনের অতিরিক্ত সম্পদের পরিমাণ সাড়ে বায়ান্ন তোলা রুপা বা সাড়ে সাত ভরি স্বর্ণের মূল্যের সমান হয়, তাহলে যাকাত ফরজ হয়। তবে যাকাত ফরজ হওয়ার জন্য শর্ত হলো এই সম্পদের ওপর পূর্ণ এক বছর অতিবাহিত হতে হবে।

আলেমদের মতে, ফিতরা মূলত রমজানের শেষে সমাজের দরিদ্র মানুষের প্রয়োজন পূরণ এবং ঈদের আনন্দে তাদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার জন্য নির্ধারিত। আর যাকাতের উদ্দেশ্য হলো সমাজে সম্পদের ন্যায়সঙ্গত বণ্টন, দারিদ্র্য বিমোচন এবং অর্থনৈতিক ভারসাম্য প্রতিষ্ঠা করা।

সুতরাং যাকাত ও ফিতরা দুটিই ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ বিধান হলেও উদ্দেশ্য, সময় ও শর্তের দিক থেকে একে অপরের থেকে ভিন্ন। মুসলমানদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হলো এই পার্থক্য বুঝে যথাসময়ে সঠিকভাবে উভয় ইবাদত পালন করা।

সূত্র: ঢাকা পোস্ট