ঢাকা ০১:০৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ০১ জুন ২০২৬, ১৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রী দীপেন দেওয়ানের পদত্যাগ মিয়ানমারে বিদ্রোহী নিয়ন্ত্রিত এলাকায় বিস্ফোরণে নিহত ৫৫: বিবিসি মরণোত্তর জাতিসংঘ পদক পাচ্ছেন ৬ বাংলাদেশি শান্তিরক্ষী সমুদ্রে নিখোঁজের প্রায় ১৬ ঘণ্টা পর ভেসে এলো আবিরের মরদেহ জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাৎ বার্ষিকীতে কক্সবাজার জেলা ছাত্রদলের খতমে কুরআন ও দোয়া মাহফিল ডুলাহাজারায় ফুটবল তারকা জিকুর আয়োজনে গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের উদ্বোধন: প্রধান অতিথি এমপি স্বপ্না লামায় ইয়াবা ও গাঁজাসহ আটক ২ মাদক,গরু চোরাচালান ও আইন বিরোধী কাজ করলে দল তার দায়িত্ব নেবে না- রামুতে এমপি কাজল সৈকতে গোসলে নেমে পর্যটক নিখোঁজ জাতীয় পর্যায়ে চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতায় সেরা কক্সবাজারের মুশফিকা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নির্দেশ উপেক্ষা করে ফের দখলে কক্সবাজার সৈকত, বালিয়াড়িতে ৪ শতাধিক অবৈধ দোকান জিয়াউর রহমানের স্বাধীনতার ঘোষণার মধ্য দিয়েই মুক্তিযুদ্ধের সূচনা হয়: মির্জা ফখরুল টেকনাফে মাদক মামলায় ৫ বছরের সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি গ্রেফতার মোদির আমন্ত্রণে ভারত সফরে মিয়ানমারের প্রেসিডেন্ট কুতুবদিয়ায় ‘দ্বীপবর্তিকা’র উচ্চ শিক্ষা বিষয়ক সেমিনার ও আইকিউ অলিম্পিয়াড অনুষ্ঠিত

মিয়ানমারে বিদ্রোহী নিয়ন্ত্রিত এলাকায় বিস্ফোরণে নিহত ৫৫: বিবিসি

মিয়ানমারের বিদ্রোহী নিয়ন্ত্রিত একটি অঞ্চলের গ্রামে ভয়াবহ এক বিস্ফোরণে অন্তত ৫৫ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও বেশ কয়েকজন। স্থানীয় একটি সূত্র বিবিসিকে এমন তথ্য দিয়েছে।

চীন সীমান্তের কাছে শান রাজ্যের নামখাম শহরতলির কাউং তাত গ্রামে হামলার এ ঘটনা ঘটেছে। পরিস্থিতি সম্পর্কে অবগত একটি সূত্র বলেছে, নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে ২৫ জন নারী ও ৩০ জন পুরুষ। তবে অন্য কিছু প্রতিবেদনে নিহত মানুষের সংখ্যা সামান্য ভিন্নভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।

গতকাল রোববার বিস্ফোরণের কিছুক্ষণ পরই গ্রামটিতে বিশাল ধোঁয়ার কুণ্ডলী দেখা যায়।

এলাকাটির নিয়ন্ত্রণে থাকা এবং মিয়ানমারের সামরিক জান্তার বিরুদ্ধে লড়াইরত সশস্ত্র গোষ্ঠী তাআং ন্যাশনাল লিবারেশন আর্মি (টিএনএলএ) বলেছে, খনি ও পাথর উত্তোলনের কাজে ব্যবহৃত বিস্ফোরক থেকে এই বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে।

টিএনএলএর বিবৃতিতে উদ্ধৃত করে এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়, স্থানীয় সময় রোববার দুপুর ১২টা (গ্রিনিচ মান সময় ০৫:৩০) নাগাদ এই ‘বিস্ফোরণ’ ঘটে। একে দুর্ঘটনাজনিত বিস্ফোরণ বলে উল্লেখ করেছে টিএনএলএ। গোষ্ঠীটি আরও বলেছে, ‘এই বিস্ফোরণের কারণে বহু স্থানীয় গ্রামবাসী প্রাণ হারিয়েছেন এবং অনেকে আহত হয়েছেন; পাশাপাশি তাঁদের বাড়িঘরও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।’

তবে বিস্ফোরণের সুনির্দিষ্ট কারণ জানা যায়নি। কীভাবে ঘটনাটি ঘটেছে, সে বিষয়ে টিএনএলএ বিস্তারিত কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

ঘটনাস্থল থেকে পাওয়া ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, বিস্ফোরণে বিশাল একটি গর্ত তৈরি হয়েছে। আশপাশের বহু ভবন বিধ্বস্ত হয়েছে। পুড়ে যাওয়া ধ্বংসাবশেষ এবং দুমড়েমুচড়ে যাওয়া গাছপালা থেকে তখনো ধোঁয়া উড়তে দেখা গেছে।

বিস্ফোরণের পর স্থানীয় বাসিন্দারা ভয়াবহ ধ্বংসযজ্ঞ ও চরম বিভ্রান্তির কথা বর্ণনা করেছেন।

এক বাসিন্দা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, প্রথম দিকে অনেকেই ধারণা করেছিলেন যে এটি কোনো বিমান হামলা। তাঁর পোস্ট অনুযায়ী, নিহত মানুষের মধ্যে শিশুরাও আছে। এ ছাড়া শত শত বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর ফলে প্রায় পুরো একটি মহল্লাই বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। তিনি আরও লিখেছেন, ‘নিছক ভাগ্যের জোরেই আমার মুঠোফোন আমার জীবন বাঁচিয়েছে। আমি তখন নিজের শোবার ঘরে বসে নুডলস খাচ্ছিলাম এবং ফোন দেখছিলাম। যদি রান্নাঘরে বসে খেতাম, তাহলে সম্ভবত আজ আমি বেঁচে থাকতাম না।’

ওই বাসিন্দা বলেন, বিস্ফোরণে তাঁর পায়ে সামান্য আঘাত লেগেছে। তাঁর নিজের বাড়িটিও পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে।

ওই বাসিন্দা লিখেছেন, ‘মানুষ কান্নাকাটি করছিল, নিজেদের মা–বাবাকে খুঁজে ফিরছিল। মনে হচ্ছিল যেন পৃথিবীর শেষ দিন এসে গেছে।’

কীভাবে আবাসিক এলাকার এত কাছে বিস্ফোরক সংরক্ষণের এমন একটি স্থাপনা পরিচালনার অনুমতি দেওয়া হয়েছিল, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। তাঁর মতে, কর্তৃপক্ষ ঘটনার পূর্ণাঙ্গ ব্যাখ্যা না দেওয়া পর্যন্ত নিহত ব্যক্তিদের পরিবার শান্তি পাবে না।

মিয়ানমারে সামরিক জান্তার বিরুদ্ধে লড়াইরত সবচেয়ে শক্তিশালী জাতিগত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর একটি হলো টিএনএলএ।

বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মিয়ানমারের অনেক বিদ্রোহী গোষ্ঠী তাদের সামরিক কার্যক্রমের অর্থ জোগাতে মূল্যবান খনিজ উত্তোলনের ওপর নির্ভর করে। তবে এসব খনিতে নিরাপত্তাব্যবস্থা দুর্বল হওয়ায় সেখানে খনিধস অনেকটা নিয়মিত ঘটনার মতো হয়ে উঠেছে।

সূত্র: বিবিসি

ট্যাগ :

পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রী দীপেন দেওয়ানের পদত্যাগ

মিয়ানমারে বিদ্রোহী নিয়ন্ত্রিত এলাকায় বিস্ফোরণে নিহত ৫৫: বিবিসি

আপডেট সময় : ১২:০২:৫২ অপরাহ্ন, সোমবার, ১ জুন ২০২৬

মিয়ানমারের বিদ্রোহী নিয়ন্ত্রিত একটি অঞ্চলের গ্রামে ভয়াবহ এক বিস্ফোরণে অন্তত ৫৫ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও বেশ কয়েকজন। স্থানীয় একটি সূত্র বিবিসিকে এমন তথ্য দিয়েছে।

চীন সীমান্তের কাছে শান রাজ্যের নামখাম শহরতলির কাউং তাত গ্রামে হামলার এ ঘটনা ঘটেছে। পরিস্থিতি সম্পর্কে অবগত একটি সূত্র বলেছে, নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে ২৫ জন নারী ও ৩০ জন পুরুষ। তবে অন্য কিছু প্রতিবেদনে নিহত মানুষের সংখ্যা সামান্য ভিন্নভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।

গতকাল রোববার বিস্ফোরণের কিছুক্ষণ পরই গ্রামটিতে বিশাল ধোঁয়ার কুণ্ডলী দেখা যায়।

এলাকাটির নিয়ন্ত্রণে থাকা এবং মিয়ানমারের সামরিক জান্তার বিরুদ্ধে লড়াইরত সশস্ত্র গোষ্ঠী তাআং ন্যাশনাল লিবারেশন আর্মি (টিএনএলএ) বলেছে, খনি ও পাথর উত্তোলনের কাজে ব্যবহৃত বিস্ফোরক থেকে এই বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে।

টিএনএলএর বিবৃতিতে উদ্ধৃত করে এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়, স্থানীয় সময় রোববার দুপুর ১২টা (গ্রিনিচ মান সময় ০৫:৩০) নাগাদ এই ‘বিস্ফোরণ’ ঘটে। একে দুর্ঘটনাজনিত বিস্ফোরণ বলে উল্লেখ করেছে টিএনএলএ। গোষ্ঠীটি আরও বলেছে, ‘এই বিস্ফোরণের কারণে বহু স্থানীয় গ্রামবাসী প্রাণ হারিয়েছেন এবং অনেকে আহত হয়েছেন; পাশাপাশি তাঁদের বাড়িঘরও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।’

তবে বিস্ফোরণের সুনির্দিষ্ট কারণ জানা যায়নি। কীভাবে ঘটনাটি ঘটেছে, সে বিষয়ে টিএনএলএ বিস্তারিত কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

ঘটনাস্থল থেকে পাওয়া ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, বিস্ফোরণে বিশাল একটি গর্ত তৈরি হয়েছে। আশপাশের বহু ভবন বিধ্বস্ত হয়েছে। পুড়ে যাওয়া ধ্বংসাবশেষ এবং দুমড়েমুচড়ে যাওয়া গাছপালা থেকে তখনো ধোঁয়া উড়তে দেখা গেছে।

বিস্ফোরণের পর স্থানীয় বাসিন্দারা ভয়াবহ ধ্বংসযজ্ঞ ও চরম বিভ্রান্তির কথা বর্ণনা করেছেন।

এক বাসিন্দা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, প্রথম দিকে অনেকেই ধারণা করেছিলেন যে এটি কোনো বিমান হামলা। তাঁর পোস্ট অনুযায়ী, নিহত মানুষের মধ্যে শিশুরাও আছে। এ ছাড়া শত শত বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর ফলে প্রায় পুরো একটি মহল্লাই বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। তিনি আরও লিখেছেন, ‘নিছক ভাগ্যের জোরেই আমার মুঠোফোন আমার জীবন বাঁচিয়েছে। আমি তখন নিজের শোবার ঘরে বসে নুডলস খাচ্ছিলাম এবং ফোন দেখছিলাম। যদি রান্নাঘরে বসে খেতাম, তাহলে সম্ভবত আজ আমি বেঁচে থাকতাম না।’

ওই বাসিন্দা বলেন, বিস্ফোরণে তাঁর পায়ে সামান্য আঘাত লেগেছে। তাঁর নিজের বাড়িটিও পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে।

ওই বাসিন্দা লিখেছেন, ‘মানুষ কান্নাকাটি করছিল, নিজেদের মা–বাবাকে খুঁজে ফিরছিল। মনে হচ্ছিল যেন পৃথিবীর শেষ দিন এসে গেছে।’

কীভাবে আবাসিক এলাকার এত কাছে বিস্ফোরক সংরক্ষণের এমন একটি স্থাপনা পরিচালনার অনুমতি দেওয়া হয়েছিল, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। তাঁর মতে, কর্তৃপক্ষ ঘটনার পূর্ণাঙ্গ ব্যাখ্যা না দেওয়া পর্যন্ত নিহত ব্যক্তিদের পরিবার শান্তি পাবে না।

মিয়ানমারে সামরিক জান্তার বিরুদ্ধে লড়াইরত সবচেয়ে শক্তিশালী জাতিগত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর একটি হলো টিএনএলএ।

বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মিয়ানমারের অনেক বিদ্রোহী গোষ্ঠী তাদের সামরিক কার্যক্রমের অর্থ জোগাতে মূল্যবান খনিজ উত্তোলনের ওপর নির্ভর করে। তবে এসব খনিতে নিরাপত্তাব্যবস্থা দুর্বল হওয়ায় সেখানে খনিধস অনেকটা নিয়মিত ঘটনার মতো হয়ে উঠেছে।

সূত্র: বিবিসি