ঢাকা ০১:১২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬, ৫ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সবাইকে সঙ্গে নিয়ে প্রত্যাশিত বাংলাদেশ গড়ে তোলা হবে : প্রধানমন্ত্রী ধর্ম যার যার রাষ্ট্র সবার: প্রধানমন্ত্রী মহানবমী আজ, শুরু দেবীর বিদায়ের ক্ষণগণনা আমাকে দেখলে তো লোকে সংবিধান বলে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বিশেষ অভিযানে কক্সবাজার সদর থানা পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার ৯ আইডিইবির সদস্যপদ পেলেন কক্সবাজারের ডিপ্লোমা প্রকৌশলী আব্দুল্লাহ আল নোমান পেকুয়ায় পুকুরে ডুবে শিশুর মৃত্যু কক্সবাজারে দায়ের করা ধর্ষণ মামলায় সেই রাজুর ৩ দিনের রিমান্ড এক দিনে দুই দফা ডাকাতি : ঈদগাঁও-ঈদগড় সড়কে ফের আতংক এআই দিয়ে কণ্ঠ নকল করে অপপ্রচারের প্রতিবাদ জানিয়েছে কচ্ছপিয়ার সোহেল সিকদার প্রধানমন্ত্রীর শুভেচ্ছা নিয়ে কক্সবাজারের পূজামণ্ডপে পার্বত্য মন্ত্রী সাচিং প্রু আইনের তোয়াক্কা না করে মেরিন ড্রাইভে ঝুঁকিপূর্ণ রিসোর্ট, ১০ প্রাণের বিনিময়েও জাগেনি প্রশাসন সৌদিতে নিহত প্রবাসীর পরিবার পেলো ক্ষতিপূরণ টেকনাফে একনলা বন্দুকসহ ‘ডাকাত’ করিম আটক পেকুয়ায় হিফজুল কোরআন প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত, পুরস্কৃত ৪০ শিক্ষার্থী

মহেশখালীর আলোচিত জিসমা মণি হত্যা: কোনো আসামি আটক করতে পারেনি পুলিশ

মহেশখালীর আলোচিত জিসমা মণি কাজল হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় পাঁচ মাস পেরিয়ে গেলেও কোনো আসামি আটক করতে পারেনি পুলিশ। উল্টো বাদীর পরিবার আসামিদের নানা হুমকিতে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে বলে দাবী মামলার বাদী নিহত জিসমা মণির মা হামিদা বেগমের।

গত ২ জানুয়ারি মহেশখালী উপজেলার ছোট মহেশখালী ইউনিয়নের লম্বাঘোনা গ্রামের তিন তুলা গাছ নামক এলাকার শ্বশুর বাড়ি থেকে অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূ জিসমা মণি কাজলের (১৬) লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

আসামি পক্ষ প্রভাবশালী হওয়ায় মহেশখালী থানা হত্যা মামলা নিতে গড়িমসি করায় দীর্ঘ হয়রানির পর ২৪ জানুয়ারি জিসমা মণির স্বামী রুবায়েত উদ্দিন প্রকাশ রুবেল কে প্রধান আসামি করে ৫ জনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেন নিহত জিসমা মণির মা হামিদা বেগম। মামলা পরবর্তী কোনো আসামিকে আটক করতে পারেনি পুলিশ, উল্টো বাদীর পরিবারকে হুমকি দিলে নিরাপত্তা চেয়ে তৎকালিন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মহেশখালী থানার সাব ইন্সপেক্টর ফরাজুলকে জানালে তিনি উল্টো বাদীকে লাঞ্ছিত করেন।

নিহত জিসমা মণি কাজলের মা হামিদা বেগম জানান, মেয়েকে মাদ্রাসায় যাওয়ার পথে উত্ত্যক্ত করতো অভিযুক্ত রুবেল। রুবেলের পরিবার প্রভাবশালী হওয়ায় তিনি কোথাও অভিযোগ করতে পারেননি। পরে জিসমাকে অপহরণ করে তুলে নিয়ে যায়। মেয়ের আত্মসম্মানের বিবেচনায় ধারদেনা করে প্রায় ৮ লাখ টাকা খচর করে সামাজিকভাবে মেয়েকে বিয়ে দেন এই বিধবা মহিলা মা হামিদা বেগম। বিয়ের তিন মাসের মাথায় কাজলের বিয়ের স্বর্ণ (৩ ভরি) বিক্রি করে দেয় স্বামীর পরিবার। এরপর নানাভাবে যৌতুকের জন্য কাজলকে মারধর করতে থাকে। কাজলের মৃত্যুর আগে ২০ হাজার টাকা চেয়েছিল কাজলের স্বামী রুবেল, বিধবা হামিদা বেগম টাকা দিতে না পারায় কাজলকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে বলে দাবী মামলার বাদী ও নিহত জিসমা মণির কাজলের মা হামিদা বেগমের।

হামিদা বেগম জানান, তার মেয়ের হত্যাকারীরা এলাকায় চোখের সামনে ঘুরছে। পুলিশ কাউকে আটক করেনি। তিনি ও তার পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। তার মেয়ে জিসমা মণি কাজলের হত্যাকারীদের দ্রুত আটক করে তাদের উপযুক্ত আইনানুগ শাস্তির দাবী জানান তিনি।

মামলার পাঁচ মাস পেরিয়ে গেলেও এখনো কোনো আসামি আটক করতে পারেনি মহেশখালী থানা পুলিশ। ইতিমধ্যে তৎকালিন মহেশখালী থানার অফিসার ইনচার্জ কাইছার হামিদ বদলী হয়েছেন। নবাগত অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মনঞ্জুরুল হক জানান, তিনি দায়িত্ব নিয়েছেন কয়েকদিন হচ্ছে। এ মামলার আসামিদের দ্রুত গ্রেফতার করার জন্য মহেশখালী থানা পুলিশের আন্তরিক চেষ্টা থাকবে।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

সবাইকে সঙ্গে নিয়ে প্রত্যাশিত বাংলাদেশ গড়ে তোলা হবে : প্রধানমন্ত্রী

মহেশখালীর আলোচিত জিসমা মণি হত্যা: কোনো আসামি আটক করতে পারেনি পুলিশ

আপডেট সময় : ০৩:১৮:১১ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৬ মে ২০২৫

মহেশখালীর আলোচিত জিসমা মণি কাজল হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় পাঁচ মাস পেরিয়ে গেলেও কোনো আসামি আটক করতে পারেনি পুলিশ। উল্টো বাদীর পরিবার আসামিদের নানা হুমকিতে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে বলে দাবী মামলার বাদী নিহত জিসমা মণির মা হামিদা বেগমের।

গত ২ জানুয়ারি মহেশখালী উপজেলার ছোট মহেশখালী ইউনিয়নের লম্বাঘোনা গ্রামের তিন তুলা গাছ নামক এলাকার শ্বশুর বাড়ি থেকে অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূ জিসমা মণি কাজলের (১৬) লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

আসামি পক্ষ প্রভাবশালী হওয়ায় মহেশখালী থানা হত্যা মামলা নিতে গড়িমসি করায় দীর্ঘ হয়রানির পর ২৪ জানুয়ারি জিসমা মণির স্বামী রুবায়েত উদ্দিন প্রকাশ রুবেল কে প্রধান আসামি করে ৫ জনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেন নিহত জিসমা মণির মা হামিদা বেগম। মামলা পরবর্তী কোনো আসামিকে আটক করতে পারেনি পুলিশ, উল্টো বাদীর পরিবারকে হুমকি দিলে নিরাপত্তা চেয়ে তৎকালিন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মহেশখালী থানার সাব ইন্সপেক্টর ফরাজুলকে জানালে তিনি উল্টো বাদীকে লাঞ্ছিত করেন।

নিহত জিসমা মণি কাজলের মা হামিদা বেগম জানান, মেয়েকে মাদ্রাসায় যাওয়ার পথে উত্ত্যক্ত করতো অভিযুক্ত রুবেল। রুবেলের পরিবার প্রভাবশালী হওয়ায় তিনি কোথাও অভিযোগ করতে পারেননি। পরে জিসমাকে অপহরণ করে তুলে নিয়ে যায়। মেয়ের আত্মসম্মানের বিবেচনায় ধারদেনা করে প্রায় ৮ লাখ টাকা খচর করে সামাজিকভাবে মেয়েকে বিয়ে দেন এই বিধবা মহিলা মা হামিদা বেগম। বিয়ের তিন মাসের মাথায় কাজলের বিয়ের স্বর্ণ (৩ ভরি) বিক্রি করে দেয় স্বামীর পরিবার। এরপর নানাভাবে যৌতুকের জন্য কাজলকে মারধর করতে থাকে। কাজলের মৃত্যুর আগে ২০ হাজার টাকা চেয়েছিল কাজলের স্বামী রুবেল, বিধবা হামিদা বেগম টাকা দিতে না পারায় কাজলকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে বলে দাবী মামলার বাদী ও নিহত জিসমা মণির কাজলের মা হামিদা বেগমের।

হামিদা বেগম জানান, তার মেয়ের হত্যাকারীরা এলাকায় চোখের সামনে ঘুরছে। পুলিশ কাউকে আটক করেনি। তিনি ও তার পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। তার মেয়ে জিসমা মণি কাজলের হত্যাকারীদের দ্রুত আটক করে তাদের উপযুক্ত আইনানুগ শাস্তির দাবী জানান তিনি।

মামলার পাঁচ মাস পেরিয়ে গেলেও এখনো কোনো আসামি আটক করতে পারেনি মহেশখালী থানা পুলিশ। ইতিমধ্যে তৎকালিন মহেশখালী থানার অফিসার ইনচার্জ কাইছার হামিদ বদলী হয়েছেন। নবাগত অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মনঞ্জুরুল হক জানান, তিনি দায়িত্ব নিয়েছেন কয়েকদিন হচ্ছে। এ মামলার আসামিদের দ্রুত গ্রেফতার করার জন্য মহেশখালী থানা পুলিশের আন্তরিক চেষ্টা থাকবে।