ঢাকা ০৩:০৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬, ১২ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
কক্সবাজার সৈকতের বালিয়াড়িতে নির্মাণ: ডিসিসহ চারজনকে আদালত অবমাননার নোটিশ দেশব্যাপী বিশেষ অভিযানে ৫৩ হাজার ৫১৮ জন গ্রেপ্তার দুর্নীতির ১৫ মামলায় খালাস পেলেন মির্জা আব্বাস সাগর-রুনি হত্যার তদন্ত প্রতিবেদন জমার তারিখ ১২৯ বার পেছাল নেপালে আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসে প্রাণহানির ঘটনায় রাষ্ট্রপতির শোক ভয়াবহ বন্যায় নেপাল-চীনের ১৫০০ মানুষ নিখোঁজ জাতীয় কবির ৫০তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ কক্সবাজার প্রেসক্লাবে মিলাদুন্নবী (সা.) মাহফিল অনুষ্ঠিত পবিত্র ১২ রবিউল আউয়াল উপলক্ষে ৭০০ পরিবারের মাঝে তবারুক বিতরণ ২৪ বছর ধরে উন্নয়ন বঞ্চিত পেকুয়ার নন্দীরপাড়া স্টেশন সড়ক ভেসে এলো নিখোঁজ আলবার্টের মরদেহ : জীবিত উদ্ধার নিউজিল্যান্ডের নাগরিকেরা কোস্টগার্ডের হেফাজতে উখিয়া সীমান্তে ২ লাখ পিস ইয়াবা উদ্ধার সমুদ্র সৈকতে গোসলে নেমে পর্যটকের মৃত্যু, নিখোঁজ ১ পুলিশ বাহিনীকে রাতারাতি পরিবর্তন করা সম্ভব নয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহানবীর আদর্শ অনুসরণ করে ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব

মহেশখালীর আলোচিত জিসমা মণি হত্যা: কোনো আসামি আটক করতে পারেনি পুলিশ

মহেশখালীর আলোচিত জিসমা মণি কাজল হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় পাঁচ মাস পেরিয়ে গেলেও কোনো আসামি আটক করতে পারেনি পুলিশ। উল্টো বাদীর পরিবার আসামিদের নানা হুমকিতে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে বলে দাবী মামলার বাদী নিহত জিসমা মণির মা হামিদা বেগমের।

গত ২ জানুয়ারি মহেশখালী উপজেলার ছোট মহেশখালী ইউনিয়নের লম্বাঘোনা গ্রামের তিন তুলা গাছ নামক এলাকার শ্বশুর বাড়ি থেকে অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূ জিসমা মণি কাজলের (১৬) লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

আসামি পক্ষ প্রভাবশালী হওয়ায় মহেশখালী থানা হত্যা মামলা নিতে গড়িমসি করায় দীর্ঘ হয়রানির পর ২৪ জানুয়ারি জিসমা মণির স্বামী রুবায়েত উদ্দিন প্রকাশ রুবেল কে প্রধান আসামি করে ৫ জনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেন নিহত জিসমা মণির মা হামিদা বেগম। মামলা পরবর্তী কোনো আসামিকে আটক করতে পারেনি পুলিশ, উল্টো বাদীর পরিবারকে হুমকি দিলে নিরাপত্তা চেয়ে তৎকালিন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মহেশখালী থানার সাব ইন্সপেক্টর ফরাজুলকে জানালে তিনি উল্টো বাদীকে লাঞ্ছিত করেন।

নিহত জিসমা মণি কাজলের মা হামিদা বেগম জানান, মেয়েকে মাদ্রাসায় যাওয়ার পথে উত্ত্যক্ত করতো অভিযুক্ত রুবেল। রুবেলের পরিবার প্রভাবশালী হওয়ায় তিনি কোথাও অভিযোগ করতে পারেননি। পরে জিসমাকে অপহরণ করে তুলে নিয়ে যায়। মেয়ের আত্মসম্মানের বিবেচনায় ধারদেনা করে প্রায় ৮ লাখ টাকা খচর করে সামাজিকভাবে মেয়েকে বিয়ে দেন এই বিধবা মহিলা মা হামিদা বেগম। বিয়ের তিন মাসের মাথায় কাজলের বিয়ের স্বর্ণ (৩ ভরি) বিক্রি করে দেয় স্বামীর পরিবার। এরপর নানাভাবে যৌতুকের জন্য কাজলকে মারধর করতে থাকে। কাজলের মৃত্যুর আগে ২০ হাজার টাকা চেয়েছিল কাজলের স্বামী রুবেল, বিধবা হামিদা বেগম টাকা দিতে না পারায় কাজলকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে বলে দাবী মামলার বাদী ও নিহত জিসমা মণির কাজলের মা হামিদা বেগমের।

হামিদা বেগম জানান, তার মেয়ের হত্যাকারীরা এলাকায় চোখের সামনে ঘুরছে। পুলিশ কাউকে আটক করেনি। তিনি ও তার পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। তার মেয়ে জিসমা মণি কাজলের হত্যাকারীদের দ্রুত আটক করে তাদের উপযুক্ত আইনানুগ শাস্তির দাবী জানান তিনি।

মামলার পাঁচ মাস পেরিয়ে গেলেও এখনো কোনো আসামি আটক করতে পারেনি মহেশখালী থানা পুলিশ। ইতিমধ্যে তৎকালিন মহেশখালী থানার অফিসার ইনচার্জ কাইছার হামিদ বদলী হয়েছেন। নবাগত অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মনঞ্জুরুল হক জানান, তিনি দায়িত্ব নিয়েছেন কয়েকদিন হচ্ছে। এ মামলার আসামিদের দ্রুত গ্রেফতার করার জন্য মহেশখালী থানা পুলিশের আন্তরিক চেষ্টা থাকবে।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

মহেশখালীর আলোচিত জিসমা মণি হত্যা: কোনো আসামি আটক করতে পারেনি পুলিশ

আপডেট সময় : ০৩:১৮:১১ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৬ মে ২০২৫

মহেশখালীর আলোচিত জিসমা মণি কাজল হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় পাঁচ মাস পেরিয়ে গেলেও কোনো আসামি আটক করতে পারেনি পুলিশ। উল্টো বাদীর পরিবার আসামিদের নানা হুমকিতে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে বলে দাবী মামলার বাদী নিহত জিসমা মণির মা হামিদা বেগমের।

গত ২ জানুয়ারি মহেশখালী উপজেলার ছোট মহেশখালী ইউনিয়নের লম্বাঘোনা গ্রামের তিন তুলা গাছ নামক এলাকার শ্বশুর বাড়ি থেকে অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূ জিসমা মণি কাজলের (১৬) লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

আসামি পক্ষ প্রভাবশালী হওয়ায় মহেশখালী থানা হত্যা মামলা নিতে গড়িমসি করায় দীর্ঘ হয়রানির পর ২৪ জানুয়ারি জিসমা মণির স্বামী রুবায়েত উদ্দিন প্রকাশ রুবেল কে প্রধান আসামি করে ৫ জনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেন নিহত জিসমা মণির মা হামিদা বেগম। মামলা পরবর্তী কোনো আসামিকে আটক করতে পারেনি পুলিশ, উল্টো বাদীর পরিবারকে হুমকি দিলে নিরাপত্তা চেয়ে তৎকালিন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মহেশখালী থানার সাব ইন্সপেক্টর ফরাজুলকে জানালে তিনি উল্টো বাদীকে লাঞ্ছিত করেন।

নিহত জিসমা মণি কাজলের মা হামিদা বেগম জানান, মেয়েকে মাদ্রাসায় যাওয়ার পথে উত্ত্যক্ত করতো অভিযুক্ত রুবেল। রুবেলের পরিবার প্রভাবশালী হওয়ায় তিনি কোথাও অভিযোগ করতে পারেননি। পরে জিসমাকে অপহরণ করে তুলে নিয়ে যায়। মেয়ের আত্মসম্মানের বিবেচনায় ধারদেনা করে প্রায় ৮ লাখ টাকা খচর করে সামাজিকভাবে মেয়েকে বিয়ে দেন এই বিধবা মহিলা মা হামিদা বেগম। বিয়ের তিন মাসের মাথায় কাজলের বিয়ের স্বর্ণ (৩ ভরি) বিক্রি করে দেয় স্বামীর পরিবার। এরপর নানাভাবে যৌতুকের জন্য কাজলকে মারধর করতে থাকে। কাজলের মৃত্যুর আগে ২০ হাজার টাকা চেয়েছিল কাজলের স্বামী রুবেল, বিধবা হামিদা বেগম টাকা দিতে না পারায় কাজলকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে বলে দাবী মামলার বাদী ও নিহত জিসমা মণির কাজলের মা হামিদা বেগমের।

হামিদা বেগম জানান, তার মেয়ের হত্যাকারীরা এলাকায় চোখের সামনে ঘুরছে। পুলিশ কাউকে আটক করেনি। তিনি ও তার পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। তার মেয়ে জিসমা মণি কাজলের হত্যাকারীদের দ্রুত আটক করে তাদের উপযুক্ত আইনানুগ শাস্তির দাবী জানান তিনি।

মামলার পাঁচ মাস পেরিয়ে গেলেও এখনো কোনো আসামি আটক করতে পারেনি মহেশখালী থানা পুলিশ। ইতিমধ্যে তৎকালিন মহেশখালী থানার অফিসার ইনচার্জ কাইছার হামিদ বদলী হয়েছেন। নবাগত অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মনঞ্জুরুল হক জানান, তিনি দায়িত্ব নিয়েছেন কয়েকদিন হচ্ছে। এ মামলার আসামিদের দ্রুত গ্রেফতার করার জন্য মহেশখালী থানা পুলিশের আন্তরিক চেষ্টা থাকবে।