ঢাকা ০৯:৩২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০১ অগাস্ট ২০২৬, ১৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Scars Still Fresh, Yet Flood Victims in Chakaria Strive to Rebuild Their Lives এখনো মুছেনি ক্ষত, তবুও ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টায় চকরিয়ার বন্যা দুর্গতরা রোহিঙ্গা সংকটে নতুন উদ্বেগ: মালয়েশিয়ার নীতির বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর যৌথ বিবৃতি কেরানীগঞ্জে ইয়াবা তৈরির ‘কারখানা’, ঢাকাসহ আশপাশে চলত সরবরাহ লোহাগাড়ায় মন্দির সংলগ্ন পুকুর থেকে তবলা বাদক অরুণ জলদাশের মরদেহ উদ্ধার টেকনাফে রাখাইন থেকে আসা রোহিঙ্গাবাহী নৌকাডুবি, উদ্ধার ১৮ নতুন দায়িত্বে ৩ মন্ত্রী ‘You have your home! We miss our home!’: মার্কিন বিশেষ দূতের সামনে রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনের আকুতি নতুন বাহারছড়ার মোস্তাক আহম্মদ আর নেই : জানাজা বাদ আছর ৩ লাখ রোহিঙ্গা ফেরত নেওয়ার বিষয়ে মিয়ানমারের সঙ্গে কোনো আলোচনা হয়নি: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ৫ আগস্ট রাজধানীতে মহাসমাবেশ করবে জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরের নতুন মহাপরিচালক ড. কামরুজ্জামান সিনহা হত্যা মামলা: ছয় বছর পরও আপিল বিভাগে চূড়ান্ত রায়ের অপেক্ষা বিদেশি পিস্তল ও গুলিসহ আটক যুবক কচ্ছপিয়া ইউপি চেয়ারম্যান নোমানের গাড়িচালক দাবি স্থানীয়দের হলদিয়াপালং যুবদলের কমিটি বিতর্ক: সাত সদস্যের কমিটিতে মাদক মামলার আসামি!

মহেশখালীর আলোচিত জিসমা মণি হত্যা: কোনো আসামি আটক করতে পারেনি পুলিশ

মহেশখালীর আলোচিত জিসমা মণি কাজল হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় পাঁচ মাস পেরিয়ে গেলেও কোনো আসামি আটক করতে পারেনি পুলিশ। উল্টো বাদীর পরিবার আসামিদের নানা হুমকিতে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে বলে দাবী মামলার বাদী নিহত জিসমা মণির মা হামিদা বেগমের।

গত ২ জানুয়ারি মহেশখালী উপজেলার ছোট মহেশখালী ইউনিয়নের লম্বাঘোনা গ্রামের তিন তুলা গাছ নামক এলাকার শ্বশুর বাড়ি থেকে অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূ জিসমা মণি কাজলের (১৬) লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

আসামি পক্ষ প্রভাবশালী হওয়ায় মহেশখালী থানা হত্যা মামলা নিতে গড়িমসি করায় দীর্ঘ হয়রানির পর ২৪ জানুয়ারি জিসমা মণির স্বামী রুবায়েত উদ্দিন প্রকাশ রুবেল কে প্রধান আসামি করে ৫ জনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেন নিহত জিসমা মণির মা হামিদা বেগম। মামলা পরবর্তী কোনো আসামিকে আটক করতে পারেনি পুলিশ, উল্টো বাদীর পরিবারকে হুমকি দিলে নিরাপত্তা চেয়ে তৎকালিন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মহেশখালী থানার সাব ইন্সপেক্টর ফরাজুলকে জানালে তিনি উল্টো বাদীকে লাঞ্ছিত করেন।

নিহত জিসমা মণি কাজলের মা হামিদা বেগম জানান, মেয়েকে মাদ্রাসায় যাওয়ার পথে উত্ত্যক্ত করতো অভিযুক্ত রুবেল। রুবেলের পরিবার প্রভাবশালী হওয়ায় তিনি কোথাও অভিযোগ করতে পারেননি। পরে জিসমাকে অপহরণ করে তুলে নিয়ে যায়। মেয়ের আত্মসম্মানের বিবেচনায় ধারদেনা করে প্রায় ৮ লাখ টাকা খচর করে সামাজিকভাবে মেয়েকে বিয়ে দেন এই বিধবা মহিলা মা হামিদা বেগম। বিয়ের তিন মাসের মাথায় কাজলের বিয়ের স্বর্ণ (৩ ভরি) বিক্রি করে দেয় স্বামীর পরিবার। এরপর নানাভাবে যৌতুকের জন্য কাজলকে মারধর করতে থাকে। কাজলের মৃত্যুর আগে ২০ হাজার টাকা চেয়েছিল কাজলের স্বামী রুবেল, বিধবা হামিদা বেগম টাকা দিতে না পারায় কাজলকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে বলে দাবী মামলার বাদী ও নিহত জিসমা মণির কাজলের মা হামিদা বেগমের।

হামিদা বেগম জানান, তার মেয়ের হত্যাকারীরা এলাকায় চোখের সামনে ঘুরছে। পুলিশ কাউকে আটক করেনি। তিনি ও তার পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। তার মেয়ে জিসমা মণি কাজলের হত্যাকারীদের দ্রুত আটক করে তাদের উপযুক্ত আইনানুগ শাস্তির দাবী জানান তিনি।

মামলার পাঁচ মাস পেরিয়ে গেলেও এখনো কোনো আসামি আটক করতে পারেনি মহেশখালী থানা পুলিশ। ইতিমধ্যে তৎকালিন মহেশখালী থানার অফিসার ইনচার্জ কাইছার হামিদ বদলী হয়েছেন। নবাগত অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মনঞ্জুরুল হক জানান, তিনি দায়িত্ব নিয়েছেন কয়েকদিন হচ্ছে। এ মামলার আসামিদের দ্রুত গ্রেফতার করার জন্য মহেশখালী থানা পুলিশের আন্তরিক চেষ্টা থাকবে।

ট্যাগ :

Scars Still Fresh, Yet Flood Victims in Chakaria Strive to Rebuild Their Lives

মহেশখালীর আলোচিত জিসমা মণি হত্যা: কোনো আসামি আটক করতে পারেনি পুলিশ

আপডেট সময় : ০৩:১৮:১১ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৬ মে ২০২৫

মহেশখালীর আলোচিত জিসমা মণি কাজল হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় পাঁচ মাস পেরিয়ে গেলেও কোনো আসামি আটক করতে পারেনি পুলিশ। উল্টো বাদীর পরিবার আসামিদের নানা হুমকিতে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে বলে দাবী মামলার বাদী নিহত জিসমা মণির মা হামিদা বেগমের।

গত ২ জানুয়ারি মহেশখালী উপজেলার ছোট মহেশখালী ইউনিয়নের লম্বাঘোনা গ্রামের তিন তুলা গাছ নামক এলাকার শ্বশুর বাড়ি থেকে অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূ জিসমা মণি কাজলের (১৬) লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

আসামি পক্ষ প্রভাবশালী হওয়ায় মহেশখালী থানা হত্যা মামলা নিতে গড়িমসি করায় দীর্ঘ হয়রানির পর ২৪ জানুয়ারি জিসমা মণির স্বামী রুবায়েত উদ্দিন প্রকাশ রুবেল কে প্রধান আসামি করে ৫ জনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেন নিহত জিসমা মণির মা হামিদা বেগম। মামলা পরবর্তী কোনো আসামিকে আটক করতে পারেনি পুলিশ, উল্টো বাদীর পরিবারকে হুমকি দিলে নিরাপত্তা চেয়ে তৎকালিন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মহেশখালী থানার সাব ইন্সপেক্টর ফরাজুলকে জানালে তিনি উল্টো বাদীকে লাঞ্ছিত করেন।

নিহত জিসমা মণি কাজলের মা হামিদা বেগম জানান, মেয়েকে মাদ্রাসায় যাওয়ার পথে উত্ত্যক্ত করতো অভিযুক্ত রুবেল। রুবেলের পরিবার প্রভাবশালী হওয়ায় তিনি কোথাও অভিযোগ করতে পারেননি। পরে জিসমাকে অপহরণ করে তুলে নিয়ে যায়। মেয়ের আত্মসম্মানের বিবেচনায় ধারদেনা করে প্রায় ৮ লাখ টাকা খচর করে সামাজিকভাবে মেয়েকে বিয়ে দেন এই বিধবা মহিলা মা হামিদা বেগম। বিয়ের তিন মাসের মাথায় কাজলের বিয়ের স্বর্ণ (৩ ভরি) বিক্রি করে দেয় স্বামীর পরিবার। এরপর নানাভাবে যৌতুকের জন্য কাজলকে মারধর করতে থাকে। কাজলের মৃত্যুর আগে ২০ হাজার টাকা চেয়েছিল কাজলের স্বামী রুবেল, বিধবা হামিদা বেগম টাকা দিতে না পারায় কাজলকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে বলে দাবী মামলার বাদী ও নিহত জিসমা মণির কাজলের মা হামিদা বেগমের।

হামিদা বেগম জানান, তার মেয়ের হত্যাকারীরা এলাকায় চোখের সামনে ঘুরছে। পুলিশ কাউকে আটক করেনি। তিনি ও তার পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। তার মেয়ে জিসমা মণি কাজলের হত্যাকারীদের দ্রুত আটক করে তাদের উপযুক্ত আইনানুগ শাস্তির দাবী জানান তিনি।

মামলার পাঁচ মাস পেরিয়ে গেলেও এখনো কোনো আসামি আটক করতে পারেনি মহেশখালী থানা পুলিশ। ইতিমধ্যে তৎকালিন মহেশখালী থানার অফিসার ইনচার্জ কাইছার হামিদ বদলী হয়েছেন। নবাগত অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মনঞ্জুরুল হক জানান, তিনি দায়িত্ব নিয়েছেন কয়েকদিন হচ্ছে। এ মামলার আসামিদের দ্রুত গ্রেফতার করার জন্য মহেশখালী থানা পুলিশের আন্তরিক চেষ্টা থাকবে।