ঢাকা ১২:৫৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১২ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
মেয়াদ অনুযায়ী ধাপে ধাপে হবে সিটি নির্বাচন : মির্জা ফখরুল চট্টগ্রামে গ্যাস বিস্ফোরণ: মায়ের পর চলে গেল ছেলে স্থানীয় সরকার নির্বাচন পরিচালনায় সারজিস-হান্নানের নেতৃত্বে এনসিপির কমিটি রোয়াংছড়িতে সেনাবাহিনী – সন্ত্রাসীর গোলাগুলি, নিহত ১ রমজানে মহানবী (সা.)-এর দিনলিপি সিগারেট বা যে কোনো ধোঁয়া গ্রহন করলে রোজা ভাঙ্গবে কি? টেকনাফের সাগরতীরের পাহাড়ে আগুন: ৪ ঘন্টা পর নিয়ন্ত্রণে প্যারাবনে হাত দিলেই খবর আছে : এমপি আলমগীর ফরিদ রাজাপালংয়ের ‘রাজার চেয়ার’ দখলে যাবে কার? ঈদগাঁওয়ে সংরক্ষিত বনের গাছ কাটার সময় গ্রেপ্তার ২, কাঠ জব্দ রামুতে হাতকড়া পরে মায়ের জানাজায় আসা সেই দুই সহোদর হারালেন বাবাকেও ​চকরিয়ায় অবৈধ বালু উত্তোলনের ছবি তোলায় তিন সাংবাদিকের ওপর হামলা সারাদেশে ১১২ নির্বাচন কর্মকর্তাকে একযোগে বদলি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে ‘রামু পৌরসভা’ চাইলেন ব্যারিস্টার আবুল আলা সিদ্দিকী রাষ্ট্রপতির সাক্ষাৎকার নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর মন্তব্য

মহেশখালীতে কোস্টগার্ডের হাতে আটক ৩ ব্যক্তিকে নিরপরাধ বলছে পরিবার, তদন্তের দাবি

কক্সবাজারের মহেশখালীতে অভিযান চালিয়ে তিন স্থানীয় বাসিন্দাকে ঘটনাস্থল থেকে অস্ত্র সহ আটকের কথা জানিয়ে সংবাদ বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে কোস্টগার্ড। কিন্তু পরিবার ও স্থানীয়রা আটককৃতদের ‘নিরীহ লবণচাষী’ উল্লেখ করে অভিযোগ করছেন নিরপরাধদের অস্ত্রসহ ছবি তোলা হয়েছে এবং তারা বিষয়টির সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করেছেন।

সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) সকাল আনুমানিক ১১টার দিকে মাতারবাড়ি ও কালারমারছড়ার মধ্যবর্তী বুইরগাজুড়া এলাকায় কোহেলিয়া নদীর পাড়ের একটি লবণ মাঠ থেকে কয়েকজনকে আটক করে কোস্টগার্ড সদস্যরা। পরে তাদের মহেশখালী পৌরসভাস্থ কোস্টগার্ড কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়।

আটক ব্যক্তিদের পরিবারের অভিযোগ, আটককৃতদের কারো কাছেই কোনো অস্ত্র ছিল না এবং তারা কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত নন। তাদের জোরপূর্বক অস্ত্র ধরিয়ে ছবি তোলা হয়েছে, যা ভবিষ্যতে মিথ্যা মামলা বা অপরাধ প্রমাণের কাজে ব্যবহার করা হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন স্বজনরা।

আটক ব্যক্তিরা হলেন—দক্ষিণ ঝাপুয়া এলাকার ছাবের আহমদ (৪৭), পিতা ইউসুফ আলী; ছালেহ আহমদ (৪০), পিতা ইউসুফ আলী; গফুর, পিতা আলী হোসেন; হুমায়নু, পিতা জয়নাল; আব্বাস ও আবদুল হক (পিতার নাম অজ্ঞাত)। স্থানীয়দের দাবি, তারা সবাই লবণ মাঠে কাজ করা শ্রমিক বা জমির সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি।

ছাবের আহমদের স্ত্রী খদিজা বেগম অভিযোগ করে বলেন, লবণ জমি নিয়ে স্থানীয় এক ব্যক্তির সঙ্গে বিরোধ চলছিল। সেই বিরোধের জেরে কোস্টগার্ডকে ব্যবহার করে তার স্বামী, ভাসুর ও শ্রমিকদের আটক করা হয়েছে। তিনি দাবি করেন, আটক অবস্থায় তার স্বামী অসুস্থ হয়ে পড়লে কোস্টগার্ড সদস্যরা তার মোবাইল ফোন থেকে ওষুধ আনার জন্য পরিবারকে যোগাযোগ করতে বলেন। ছাবের আহমদ হৃদরোগে আক্রান্ত বলেও জানান তিনি।

প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, অভিযানের সময় কোস্টগার্ড সদস্যদের সঙ্গে মুখ বাঁধা কয়েকজন ব্যক্তি ছিলেন, যাদের সোর্স হিসেবে পরিচয় দেওয়া হয়। অভিযোগ রয়েছে, তারাই বিরোধপূর্ণ পক্ষের লোক এবং তাদের দেখানো অনুযায়ী আটক করা হয়েছে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, প্রথমে লবণ মাঠ থেকে কয়েকজনকে আটক করা হয়। পরে জমির মালিক ছালেহ আহমদ ঘটনাস্থলে যাওয়ার পথে কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্রের ১০ নম্বর গেট এলাকায় আটক হন। তার ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটি এখনো ঘটনাস্থলে পড়ে আছে বলে দাবি পরিবারের।

অন্যদিকে কোস্টগার্ডের মিডিয়া সেল জানিয়েছে, আটককৃতদের ঘটনাস্থল থেকেই অস্ত্রসহ আটক করা হয়েছে।

এদিকে এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। পরিবারের পক্ষ থেকে বিষয়টির সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

This will close in 6 seconds

মহেশখালীতে কোস্টগার্ডের হাতে আটক ৩ ব্যক্তিকে নিরপরাধ বলছে পরিবার, তদন্তের দাবি

আপডেট সময় : ০১:২৪:৩৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

কক্সবাজারের মহেশখালীতে অভিযান চালিয়ে তিন স্থানীয় বাসিন্দাকে ঘটনাস্থল থেকে অস্ত্র সহ আটকের কথা জানিয়ে সংবাদ বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে কোস্টগার্ড। কিন্তু পরিবার ও স্থানীয়রা আটককৃতদের ‘নিরীহ লবণচাষী’ উল্লেখ করে অভিযোগ করছেন নিরপরাধদের অস্ত্রসহ ছবি তোলা হয়েছে এবং তারা বিষয়টির সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করেছেন।

সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) সকাল আনুমানিক ১১টার দিকে মাতারবাড়ি ও কালারমারছড়ার মধ্যবর্তী বুইরগাজুড়া এলাকায় কোহেলিয়া নদীর পাড়ের একটি লবণ মাঠ থেকে কয়েকজনকে আটক করে কোস্টগার্ড সদস্যরা। পরে তাদের মহেশখালী পৌরসভাস্থ কোস্টগার্ড কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়।

আটক ব্যক্তিদের পরিবারের অভিযোগ, আটককৃতদের কারো কাছেই কোনো অস্ত্র ছিল না এবং তারা কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত নন। তাদের জোরপূর্বক অস্ত্র ধরিয়ে ছবি তোলা হয়েছে, যা ভবিষ্যতে মিথ্যা মামলা বা অপরাধ প্রমাণের কাজে ব্যবহার করা হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন স্বজনরা।

আটক ব্যক্তিরা হলেন—দক্ষিণ ঝাপুয়া এলাকার ছাবের আহমদ (৪৭), পিতা ইউসুফ আলী; ছালেহ আহমদ (৪০), পিতা ইউসুফ আলী; গফুর, পিতা আলী হোসেন; হুমায়নু, পিতা জয়নাল; আব্বাস ও আবদুল হক (পিতার নাম অজ্ঞাত)। স্থানীয়দের দাবি, তারা সবাই লবণ মাঠে কাজ করা শ্রমিক বা জমির সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি।

ছাবের আহমদের স্ত্রী খদিজা বেগম অভিযোগ করে বলেন, লবণ জমি নিয়ে স্থানীয় এক ব্যক্তির সঙ্গে বিরোধ চলছিল। সেই বিরোধের জেরে কোস্টগার্ডকে ব্যবহার করে তার স্বামী, ভাসুর ও শ্রমিকদের আটক করা হয়েছে। তিনি দাবি করেন, আটক অবস্থায় তার স্বামী অসুস্থ হয়ে পড়লে কোস্টগার্ড সদস্যরা তার মোবাইল ফোন থেকে ওষুধ আনার জন্য পরিবারকে যোগাযোগ করতে বলেন। ছাবের আহমদ হৃদরোগে আক্রান্ত বলেও জানান তিনি।

প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, অভিযানের সময় কোস্টগার্ড সদস্যদের সঙ্গে মুখ বাঁধা কয়েকজন ব্যক্তি ছিলেন, যাদের সোর্স হিসেবে পরিচয় দেওয়া হয়। অভিযোগ রয়েছে, তারাই বিরোধপূর্ণ পক্ষের লোক এবং তাদের দেখানো অনুযায়ী আটক করা হয়েছে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, প্রথমে লবণ মাঠ থেকে কয়েকজনকে আটক করা হয়। পরে জমির মালিক ছালেহ আহমদ ঘটনাস্থলে যাওয়ার পথে কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্রের ১০ নম্বর গেট এলাকায় আটক হন। তার ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটি এখনো ঘটনাস্থলে পড়ে আছে বলে দাবি পরিবারের।

অন্যদিকে কোস্টগার্ডের মিডিয়া সেল জানিয়েছে, আটককৃতদের ঘটনাস্থল থেকেই অস্ত্রসহ আটক করা হয়েছে।

এদিকে এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। পরিবারের পক্ষ থেকে বিষয়টির সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে।