ঢাকা ১০:১৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৫ মে ২০২৬, ১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
চট্টগ্রামে ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার হ্নীলার ইসমাইল ‘মানিলন্ডারিং-মানবপাচার চক্রের’ রোহিঙ্গা সদস্য আটক সোহেল সরওয়ার কাজল অসুস্থ: দোয়া কামনা পরিবারের টেকনাফে সরকারি কাজে বাধা ও কর্মকর্তা লাঞ্ছিত করার মামলার প্রধান আসামি গ্রেফতার শ্রী শ্রী লোকনাথ ব্রহ্মচারীর ২৯৬তম আবির্ভাব উৎসব উদযাপন কমিটি গঠিত র‌্যাবের জালে মাদক মামলায় সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি টেকনাফ ও উখিয়ায় পৃথক অভিযানে ৭২ হাজার ইয়াবাসহ আটক ২ ”খেলাঘরের “ ৭৪তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন রামুর দরিয়া খেলাঘর আসরের হজে গিয়ে আরও দুই বাংলাদেশির মৃত্যু, মোট মৃতের সংখ্যা ১৪ ফারাক্কা বাঁধ পরীক্ষামূলক চালুর অনুমতি দিয়েছিল আ. লীগ সরকার, যা এখন মরণফাঁদ : মির্জা ফখরুল জ্বালানি সহযোগিতার লক্ষ্যে বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সমঝোতা সই সভাপতি-সম্পাদকসহ ১৪ পদের ১৩টিতে বিএনপির জয় গুলিতে রোহিঙ্গা সন্ত্রাসী নিহত শেয়ালগুলো কাছে এসে চিৎকার করতো : সাফা কবির প্রকাশ্যে শপথ করে যুবদল নেতা বললেন ‘ আমি অপহরণ করিনি’

বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত চার জেলায় ৩০০ ঘর হস্তান্তর

গত বছর বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত চার জেলায় ৩০০টি ঘর নির্মাণ করেছে সরকার। আশ্রয়ণ প্রকল্পের অধীনে জেলা প্রশাসনের সহায়তায় ঘর তৈরির কাজ বাস্তবায়ন করেছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। বুধবার (৩০ এপ্রিল) দেশের চার জেলায় এসব ঘর হস্তান্তর করেন জেলা প্রশাসকরা। জেলায় জেলায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস তার কার্যালয় থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক মো. মনিরুল ইসলাম পাটওয়ারী জানান, দেশের দক্ষিণ পূর্বাঞ্চলের ফেনী, নোয়াখালী, কুমিল্লা ও চট্টগ্রাম; এই চার জেলায় ২০২৪ সালের আগস্ট সেপ্টেম্বর মাসে বন্যায় বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। প্রধান উপদেষ্টার নির্দেশনায় এসব এলাকার যেসব বাড়ি সম্পূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং বসবাসের মতো ঘর অবশিষ্ট নেই, তাদের ঘর নির্মাণ করে দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ সশস্ত্রবাহিনীর মাধ্যমে চার জেলায় ৩০০টি ঘর নির্মাণের সিদ্ধান্ত হয়। এই ঘর নির্মাণে প্রধান উপদেষ্টার ত্রাণ তহবিল থেকে ৫০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। ৩০০টি ঘর নির্মাণে প্রায় ২৪ কোটি ৯৮ লাখ ৯৫ হাজার টাকা ব্যয় হয়েছে।

প্রধান উপদেষ্টার মুখ্য সচিব এম সিরাজউদ্দিন মিয়া জানান, বুয়েটের থেকে পরামর্শ নিয়ে বিশেষ ডিজাইনে এসব ঘর নির্মাণ করা হয়েছে। প্রধান উপদেষ্টা এসব ডিজাইন অনুমোদন দিয়েছেন। আশ্রয়ণ প্রকল্প থেকে আমরা চারটি জেলায় ৩০০টি ঘর নির্মাণের প্রকল্প হাতে নিই। জায়গার পরিমাণের উপর নির্ভর করে দুইটি ভিন্ন ভিন্ন ডিজাইনে এসব ঘর করা হয়েছে। এই জায়গাগুলো নির্ধারণে সেনাবাহিনী, জেলা প্রশাসন এবং ত্রাণ ও দুর্যোগ মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়ে চার জেলায় কমিটি ছিল। সেই নির্বাচিত জায়গাগুলোতে এই ঘরগুলো নির্মাণ করা হয়েছে। সেনাবাহিনীর ২৪ এবং ৩৩ পদাতিক ডিভিশন এই নির্মাণ কাজ করেছে। তারা খুব অল্প সময়ে এবং খুব ভালোভাবে এই প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করেছে।

অনুষ্ঠানে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘আমরা যেই টাকা দিয়েছিলাম, তার অর্ধেক টাকা খরচ হয়েছে। এটা বলতে গেলে উল্টো খবর। সাধারণত বরাদ্দের দ্বিগুণ কিংবা তিনগুণ আবার চাওয়া হয়। এই অর্ধেক টাকাতে ৩০০ ঘর তৈরি হয়েছে। এটাও একটা আনন্দের খবর। সেনাবাহিনীর যারা কাজে নিয়োজিত ছিলেন স্বাভাবিক পরিস্থিতিতে এই কাজ ছিল না, অস্বাভাবিক পরিস্থিতিতে এই গৃহ নির্মাণ কাজ ছিল। ঘর নির্মাণে অনেক জিনিসপত্র একত্রিত করতে হয়। এটা কঠিন ছিল, রাস্তা ঘাট বন্ধ ছিল। এর মধ্যেই কাজটি করতে হয়েছে। সুন্দর বাড়ি হয়েছে। আমরা সবার পক্ষ থেকে সেনাবাহিনীকে অশেষ ধন্যবাদ জানাচ্ছি।’ অনুষ্ঠানে উপকারভোগীরা সেনাবাহিনী এবং সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।

অনুষ্ঠানে সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার উজ জামান, ত্রাণ ও দুর্যোগ উপদেষ্টা ফারুক ই আজম উপস্থিত ছিলেন।

প্রসঙ্গত, জেলা প্রশাসকের নেতৃত্বে সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রতিনিধি, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি এবং জেলা প্রশাসক কর্তৃক মনোনীত অন্যান্য এক বা একাধিক প্রতিনিধির সমন্বয়ে গঠিত কমিটির যৌথ জরিপের মাধ্যমে উপকারভোগীদের অগ্রাধিকার তালিকা প্রণয়ন করা হয়। ৩০০টি ঘরের মধ্যে ফেনী জেলায় ১১০টি, নোয়াখালী জেলায় ৯০টি, কুমিল্লা জেলায় ৭০টি ও চট্টগ্রাম জেলায় ৩০টি ঘর বরাদ্দ প্রদান করা হয়। ঘরগুলো যেন দুর্যোগ সহনীয় ও টেকসই হয় সে লক্ষ্যে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতর ও সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের সহযোগিতায় দুটি ডিজাইন প্রস্তুত করা হয়।

প্রতিটি ডিজাইনে দুটি মূল কক্ষসহ কমন স্পেস, টয়লেট, রান্নাঘরসহ বারান্দা রয়েছে। প্রথম ডিজাইনের ঘরের আয়তন ৪৯২ বর্গফুট এবং প্রাক্কলিত টাকার পরিমাণ ৭ লাখ ২৫ হাজার ৬৯৪ টাকা এবং দ্বিতীয় ডিজাইনের ঘরের আয়তন ৫০০ বর্গফুট এবং প্রাক্কলিত টাকার পরিমাণ ৭ লাখ ২৬ হাজার ৬৭৮ টাকা। উপকারভোগীদের নিজ বসতভিটার স্থানের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে কোনও একজন উপকারভোগীর জন্য যেখানে যে ডিজাইন প্রযোজ্য হবে সেভাবেই গৃহগুলো নির্মাণ করা হয়েছে।
সূত্র : বাংলা ট্রিবিউন।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

চট্টগ্রামে ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার হ্নীলার ইসমাইল

বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত চার জেলায় ৩০০ ঘর হস্তান্তর

আপডেট সময় : ০৩:৩১:২০ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৫

গত বছর বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত চার জেলায় ৩০০টি ঘর নির্মাণ করেছে সরকার। আশ্রয়ণ প্রকল্পের অধীনে জেলা প্রশাসনের সহায়তায় ঘর তৈরির কাজ বাস্তবায়ন করেছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। বুধবার (৩০ এপ্রিল) দেশের চার জেলায় এসব ঘর হস্তান্তর করেন জেলা প্রশাসকরা। জেলায় জেলায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস তার কার্যালয় থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক মো. মনিরুল ইসলাম পাটওয়ারী জানান, দেশের দক্ষিণ পূর্বাঞ্চলের ফেনী, নোয়াখালী, কুমিল্লা ও চট্টগ্রাম; এই চার জেলায় ২০২৪ সালের আগস্ট সেপ্টেম্বর মাসে বন্যায় বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। প্রধান উপদেষ্টার নির্দেশনায় এসব এলাকার যেসব বাড়ি সম্পূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং বসবাসের মতো ঘর অবশিষ্ট নেই, তাদের ঘর নির্মাণ করে দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ সশস্ত্রবাহিনীর মাধ্যমে চার জেলায় ৩০০টি ঘর নির্মাণের সিদ্ধান্ত হয়। এই ঘর নির্মাণে প্রধান উপদেষ্টার ত্রাণ তহবিল থেকে ৫০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। ৩০০টি ঘর নির্মাণে প্রায় ২৪ কোটি ৯৮ লাখ ৯৫ হাজার টাকা ব্যয় হয়েছে।

প্রধান উপদেষ্টার মুখ্য সচিব এম সিরাজউদ্দিন মিয়া জানান, বুয়েটের থেকে পরামর্শ নিয়ে বিশেষ ডিজাইনে এসব ঘর নির্মাণ করা হয়েছে। প্রধান উপদেষ্টা এসব ডিজাইন অনুমোদন দিয়েছেন। আশ্রয়ণ প্রকল্প থেকে আমরা চারটি জেলায় ৩০০টি ঘর নির্মাণের প্রকল্প হাতে নিই। জায়গার পরিমাণের উপর নির্ভর করে দুইটি ভিন্ন ভিন্ন ডিজাইনে এসব ঘর করা হয়েছে। এই জায়গাগুলো নির্ধারণে সেনাবাহিনী, জেলা প্রশাসন এবং ত্রাণ ও দুর্যোগ মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়ে চার জেলায় কমিটি ছিল। সেই নির্বাচিত জায়গাগুলোতে এই ঘরগুলো নির্মাণ করা হয়েছে। সেনাবাহিনীর ২৪ এবং ৩৩ পদাতিক ডিভিশন এই নির্মাণ কাজ করেছে। তারা খুব অল্প সময়ে এবং খুব ভালোভাবে এই প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করেছে।

অনুষ্ঠানে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘আমরা যেই টাকা দিয়েছিলাম, তার অর্ধেক টাকা খরচ হয়েছে। এটা বলতে গেলে উল্টো খবর। সাধারণত বরাদ্দের দ্বিগুণ কিংবা তিনগুণ আবার চাওয়া হয়। এই অর্ধেক টাকাতে ৩০০ ঘর তৈরি হয়েছে। এটাও একটা আনন্দের খবর। সেনাবাহিনীর যারা কাজে নিয়োজিত ছিলেন স্বাভাবিক পরিস্থিতিতে এই কাজ ছিল না, অস্বাভাবিক পরিস্থিতিতে এই গৃহ নির্মাণ কাজ ছিল। ঘর নির্মাণে অনেক জিনিসপত্র একত্রিত করতে হয়। এটা কঠিন ছিল, রাস্তা ঘাট বন্ধ ছিল। এর মধ্যেই কাজটি করতে হয়েছে। সুন্দর বাড়ি হয়েছে। আমরা সবার পক্ষ থেকে সেনাবাহিনীকে অশেষ ধন্যবাদ জানাচ্ছি।’ অনুষ্ঠানে উপকারভোগীরা সেনাবাহিনী এবং সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।

অনুষ্ঠানে সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার উজ জামান, ত্রাণ ও দুর্যোগ উপদেষ্টা ফারুক ই আজম উপস্থিত ছিলেন।

প্রসঙ্গত, জেলা প্রশাসকের নেতৃত্বে সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রতিনিধি, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি এবং জেলা প্রশাসক কর্তৃক মনোনীত অন্যান্য এক বা একাধিক প্রতিনিধির সমন্বয়ে গঠিত কমিটির যৌথ জরিপের মাধ্যমে উপকারভোগীদের অগ্রাধিকার তালিকা প্রণয়ন করা হয়। ৩০০টি ঘরের মধ্যে ফেনী জেলায় ১১০টি, নোয়াখালী জেলায় ৯০টি, কুমিল্লা জেলায় ৭০টি ও চট্টগ্রাম জেলায় ৩০টি ঘর বরাদ্দ প্রদান করা হয়। ঘরগুলো যেন দুর্যোগ সহনীয় ও টেকসই হয় সে লক্ষ্যে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতর ও সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের সহযোগিতায় দুটি ডিজাইন প্রস্তুত করা হয়।

প্রতিটি ডিজাইনে দুটি মূল কক্ষসহ কমন স্পেস, টয়লেট, রান্নাঘরসহ বারান্দা রয়েছে। প্রথম ডিজাইনের ঘরের আয়তন ৪৯২ বর্গফুট এবং প্রাক্কলিত টাকার পরিমাণ ৭ লাখ ২৫ হাজার ৬৯৪ টাকা এবং দ্বিতীয় ডিজাইনের ঘরের আয়তন ৫০০ বর্গফুট এবং প্রাক্কলিত টাকার পরিমাণ ৭ লাখ ২৬ হাজার ৬৭৮ টাকা। উপকারভোগীদের নিজ বসতভিটার স্থানের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে কোনও একজন উপকারভোগীর জন্য যেখানে যে ডিজাইন প্রযোজ্য হবে সেভাবেই গৃহগুলো নির্মাণ করা হয়েছে।
সূত্র : বাংলা ট্রিবিউন।