ঢাকা ১০:২৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬, ৩০ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
কুতুবদিয়ায় নিহত জেলে পরিবারের পাশে ইউএনও: আর্থিক সহায়তা প্রদান কক্সবাজার থেকে অস্ত্র কিনে নিয়ে যাচ্ছিল ঢাকায় : লোহাগাড়ায় পুলিশের হাতে দুটি অস্ত্রসহ আটক ৩ মাথাগোঁজার একমাত্র আশ্রয় হারিয়ে লোহাগাড়ার আবদুল বারীর আর্তনাদ, — পাশে দাঁড়ানোর আকুতি এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিত ও শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবিতে কক্সবাজারে পাঁচ ঘণ্টার সড়ক অবরোধ পাহাড় কর্তনকারী ও বন্যায় স্লুইসগেট বন্ধের সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে-প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম বিশ্বে ফার্মের মুরগি উৎপাদনে বাংলাদেশ কততম, শীর্ষে কারা? সড়ক দুর্ঘটনায় সিটি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ ক্যথিং এবং সাবেক এমপি এথিন রাখাইন আহত পদার্থবিজ্ঞানের ৬ ও ৭ দুটি প্রশ্নের পুরো নম্বর দেওয়া হবে: শিক্ষামন্ত্রী পদার্থবিজ্ঞানের ৬ ও ৭ দুটি প্রশ্নের পুরো নম্বর দেওয়া হবে: শিক্ষামন্ত্রী বন্যাকবলিত এলাকায় পরীক্ষা নেওয়ায় বিক্ষোভ, শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি নতুন দায়িত্বে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ সংবিধানে গণভোটের বিধান না থাকলে ২০২৬ সালে নির্বাচনও নেই: শফিকুর রহমান কক্সবাজারে বন্যা ও পাহাড়ধসের ক্ষয়ক্ষতি পরিদর্শনে প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম, পুনর্বাসনের আশ্বাস জাতীয় কর্মকৌশল প্রণয়ন কমিটিকে স্বাগত, আশাবাদী রোহিঙ্গারা বৃহত্তর গর্জনিয়ায় বানভাসীদের মাঝে ওয়ার্ল্ড ভিশনের ত্রাণ বিতরণ করলেন ডিসি ও ইউএনও

বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত চার জেলায় ৩০০ ঘর হস্তান্তর

গত বছর বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত চার জেলায় ৩০০টি ঘর নির্মাণ করেছে সরকার। আশ্রয়ণ প্রকল্পের অধীনে জেলা প্রশাসনের সহায়তায় ঘর তৈরির কাজ বাস্তবায়ন করেছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। বুধবার (৩০ এপ্রিল) দেশের চার জেলায় এসব ঘর হস্তান্তর করেন জেলা প্রশাসকরা। জেলায় জেলায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস তার কার্যালয় থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক মো. মনিরুল ইসলাম পাটওয়ারী জানান, দেশের দক্ষিণ পূর্বাঞ্চলের ফেনী, নোয়াখালী, কুমিল্লা ও চট্টগ্রাম; এই চার জেলায় ২০২৪ সালের আগস্ট সেপ্টেম্বর মাসে বন্যায় বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। প্রধান উপদেষ্টার নির্দেশনায় এসব এলাকার যেসব বাড়ি সম্পূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং বসবাসের মতো ঘর অবশিষ্ট নেই, তাদের ঘর নির্মাণ করে দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ সশস্ত্রবাহিনীর মাধ্যমে চার জেলায় ৩০০টি ঘর নির্মাণের সিদ্ধান্ত হয়। এই ঘর নির্মাণে প্রধান উপদেষ্টার ত্রাণ তহবিল থেকে ৫০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। ৩০০টি ঘর নির্মাণে প্রায় ২৪ কোটি ৯৮ লাখ ৯৫ হাজার টাকা ব্যয় হয়েছে।

প্রধান উপদেষ্টার মুখ্য সচিব এম সিরাজউদ্দিন মিয়া জানান, বুয়েটের থেকে পরামর্শ নিয়ে বিশেষ ডিজাইনে এসব ঘর নির্মাণ করা হয়েছে। প্রধান উপদেষ্টা এসব ডিজাইন অনুমোদন দিয়েছেন। আশ্রয়ণ প্রকল্প থেকে আমরা চারটি জেলায় ৩০০টি ঘর নির্মাণের প্রকল্প হাতে নিই। জায়গার পরিমাণের উপর নির্ভর করে দুইটি ভিন্ন ভিন্ন ডিজাইনে এসব ঘর করা হয়েছে। এই জায়গাগুলো নির্ধারণে সেনাবাহিনী, জেলা প্রশাসন এবং ত্রাণ ও দুর্যোগ মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়ে চার জেলায় কমিটি ছিল। সেই নির্বাচিত জায়গাগুলোতে এই ঘরগুলো নির্মাণ করা হয়েছে। সেনাবাহিনীর ২৪ এবং ৩৩ পদাতিক ডিভিশন এই নির্মাণ কাজ করেছে। তারা খুব অল্প সময়ে এবং খুব ভালোভাবে এই প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করেছে।

অনুষ্ঠানে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘আমরা যেই টাকা দিয়েছিলাম, তার অর্ধেক টাকা খরচ হয়েছে। এটা বলতে গেলে উল্টো খবর। সাধারণত বরাদ্দের দ্বিগুণ কিংবা তিনগুণ আবার চাওয়া হয়। এই অর্ধেক টাকাতে ৩০০ ঘর তৈরি হয়েছে। এটাও একটা আনন্দের খবর। সেনাবাহিনীর যারা কাজে নিয়োজিত ছিলেন স্বাভাবিক পরিস্থিতিতে এই কাজ ছিল না, অস্বাভাবিক পরিস্থিতিতে এই গৃহ নির্মাণ কাজ ছিল। ঘর নির্মাণে অনেক জিনিসপত্র একত্রিত করতে হয়। এটা কঠিন ছিল, রাস্তা ঘাট বন্ধ ছিল। এর মধ্যেই কাজটি করতে হয়েছে। সুন্দর বাড়ি হয়েছে। আমরা সবার পক্ষ থেকে সেনাবাহিনীকে অশেষ ধন্যবাদ জানাচ্ছি।’ অনুষ্ঠানে উপকারভোগীরা সেনাবাহিনী এবং সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।

অনুষ্ঠানে সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার উজ জামান, ত্রাণ ও দুর্যোগ উপদেষ্টা ফারুক ই আজম উপস্থিত ছিলেন।

প্রসঙ্গত, জেলা প্রশাসকের নেতৃত্বে সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রতিনিধি, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি এবং জেলা প্রশাসক কর্তৃক মনোনীত অন্যান্য এক বা একাধিক প্রতিনিধির সমন্বয়ে গঠিত কমিটির যৌথ জরিপের মাধ্যমে উপকারভোগীদের অগ্রাধিকার তালিকা প্রণয়ন করা হয়। ৩০০টি ঘরের মধ্যে ফেনী জেলায় ১১০টি, নোয়াখালী জেলায় ৯০টি, কুমিল্লা জেলায় ৭০টি ও চট্টগ্রাম জেলায় ৩০টি ঘর বরাদ্দ প্রদান করা হয়। ঘরগুলো যেন দুর্যোগ সহনীয় ও টেকসই হয় সে লক্ষ্যে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতর ও সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের সহযোগিতায় দুটি ডিজাইন প্রস্তুত করা হয়।

প্রতিটি ডিজাইনে দুটি মূল কক্ষসহ কমন স্পেস, টয়লেট, রান্নাঘরসহ বারান্দা রয়েছে। প্রথম ডিজাইনের ঘরের আয়তন ৪৯২ বর্গফুট এবং প্রাক্কলিত টাকার পরিমাণ ৭ লাখ ২৫ হাজার ৬৯৪ টাকা এবং দ্বিতীয় ডিজাইনের ঘরের আয়তন ৫০০ বর্গফুট এবং প্রাক্কলিত টাকার পরিমাণ ৭ লাখ ২৬ হাজার ৬৭৮ টাকা। উপকারভোগীদের নিজ বসতভিটার স্থানের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে কোনও একজন উপকারভোগীর জন্য যেখানে যে ডিজাইন প্রযোজ্য হবে সেভাবেই গৃহগুলো নির্মাণ করা হয়েছে।
সূত্র : বাংলা ট্রিবিউন।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

কুতুবদিয়ায় নিহত জেলে পরিবারের পাশে ইউএনও: আর্থিক সহায়তা প্রদান

বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত চার জেলায় ৩০০ ঘর হস্তান্তর

আপডেট সময় : ০৩:৩১:২০ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৫

গত বছর বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত চার জেলায় ৩০০টি ঘর নির্মাণ করেছে সরকার। আশ্রয়ণ প্রকল্পের অধীনে জেলা প্রশাসনের সহায়তায় ঘর তৈরির কাজ বাস্তবায়ন করেছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। বুধবার (৩০ এপ্রিল) দেশের চার জেলায় এসব ঘর হস্তান্তর করেন জেলা প্রশাসকরা। জেলায় জেলায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস তার কার্যালয় থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক মো. মনিরুল ইসলাম পাটওয়ারী জানান, দেশের দক্ষিণ পূর্বাঞ্চলের ফেনী, নোয়াখালী, কুমিল্লা ও চট্টগ্রাম; এই চার জেলায় ২০২৪ সালের আগস্ট সেপ্টেম্বর মাসে বন্যায় বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। প্রধান উপদেষ্টার নির্দেশনায় এসব এলাকার যেসব বাড়ি সম্পূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং বসবাসের মতো ঘর অবশিষ্ট নেই, তাদের ঘর নির্মাণ করে দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ সশস্ত্রবাহিনীর মাধ্যমে চার জেলায় ৩০০টি ঘর নির্মাণের সিদ্ধান্ত হয়। এই ঘর নির্মাণে প্রধান উপদেষ্টার ত্রাণ তহবিল থেকে ৫০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। ৩০০টি ঘর নির্মাণে প্রায় ২৪ কোটি ৯৮ লাখ ৯৫ হাজার টাকা ব্যয় হয়েছে।

প্রধান উপদেষ্টার মুখ্য সচিব এম সিরাজউদ্দিন মিয়া জানান, বুয়েটের থেকে পরামর্শ নিয়ে বিশেষ ডিজাইনে এসব ঘর নির্মাণ করা হয়েছে। প্রধান উপদেষ্টা এসব ডিজাইন অনুমোদন দিয়েছেন। আশ্রয়ণ প্রকল্প থেকে আমরা চারটি জেলায় ৩০০টি ঘর নির্মাণের প্রকল্প হাতে নিই। জায়গার পরিমাণের উপর নির্ভর করে দুইটি ভিন্ন ভিন্ন ডিজাইনে এসব ঘর করা হয়েছে। এই জায়গাগুলো নির্ধারণে সেনাবাহিনী, জেলা প্রশাসন এবং ত্রাণ ও দুর্যোগ মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়ে চার জেলায় কমিটি ছিল। সেই নির্বাচিত জায়গাগুলোতে এই ঘরগুলো নির্মাণ করা হয়েছে। সেনাবাহিনীর ২৪ এবং ৩৩ পদাতিক ডিভিশন এই নির্মাণ কাজ করেছে। তারা খুব অল্প সময়ে এবং খুব ভালোভাবে এই প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করেছে।

অনুষ্ঠানে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘আমরা যেই টাকা দিয়েছিলাম, তার অর্ধেক টাকা খরচ হয়েছে। এটা বলতে গেলে উল্টো খবর। সাধারণত বরাদ্দের দ্বিগুণ কিংবা তিনগুণ আবার চাওয়া হয়। এই অর্ধেক টাকাতে ৩০০ ঘর তৈরি হয়েছে। এটাও একটা আনন্দের খবর। সেনাবাহিনীর যারা কাজে নিয়োজিত ছিলেন স্বাভাবিক পরিস্থিতিতে এই কাজ ছিল না, অস্বাভাবিক পরিস্থিতিতে এই গৃহ নির্মাণ কাজ ছিল। ঘর নির্মাণে অনেক জিনিসপত্র একত্রিত করতে হয়। এটা কঠিন ছিল, রাস্তা ঘাট বন্ধ ছিল। এর মধ্যেই কাজটি করতে হয়েছে। সুন্দর বাড়ি হয়েছে। আমরা সবার পক্ষ থেকে সেনাবাহিনীকে অশেষ ধন্যবাদ জানাচ্ছি।’ অনুষ্ঠানে উপকারভোগীরা সেনাবাহিনী এবং সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।

অনুষ্ঠানে সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার উজ জামান, ত্রাণ ও দুর্যোগ উপদেষ্টা ফারুক ই আজম উপস্থিত ছিলেন।

প্রসঙ্গত, জেলা প্রশাসকের নেতৃত্বে সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রতিনিধি, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি এবং জেলা প্রশাসক কর্তৃক মনোনীত অন্যান্য এক বা একাধিক প্রতিনিধির সমন্বয়ে গঠিত কমিটির যৌথ জরিপের মাধ্যমে উপকারভোগীদের অগ্রাধিকার তালিকা প্রণয়ন করা হয়। ৩০০টি ঘরের মধ্যে ফেনী জেলায় ১১০টি, নোয়াখালী জেলায় ৯০টি, কুমিল্লা জেলায় ৭০টি ও চট্টগ্রাম জেলায় ৩০টি ঘর বরাদ্দ প্রদান করা হয়। ঘরগুলো যেন দুর্যোগ সহনীয় ও টেকসই হয় সে লক্ষ্যে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতর ও সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের সহযোগিতায় দুটি ডিজাইন প্রস্তুত করা হয়।

প্রতিটি ডিজাইনে দুটি মূল কক্ষসহ কমন স্পেস, টয়লেট, রান্নাঘরসহ বারান্দা রয়েছে। প্রথম ডিজাইনের ঘরের আয়তন ৪৯২ বর্গফুট এবং প্রাক্কলিত টাকার পরিমাণ ৭ লাখ ২৫ হাজার ৬৯৪ টাকা এবং দ্বিতীয় ডিজাইনের ঘরের আয়তন ৫০০ বর্গফুট এবং প্রাক্কলিত টাকার পরিমাণ ৭ লাখ ২৬ হাজার ৬৭৮ টাকা। উপকারভোগীদের নিজ বসতভিটার স্থানের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে কোনও একজন উপকারভোগীর জন্য যেখানে যে ডিজাইন প্রযোজ্য হবে সেভাবেই গৃহগুলো নির্মাণ করা হয়েছে।
সূত্র : বাংলা ট্রিবিউন।