ঢাকা ১০:০৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
রামুতে মিছিলের প্রস্তুতিকালে মোনাফ সিকদার সহ নি’ষি’দ্ধ যুবলীগের দুই নেতা গ্রেপ্তার মহেশখালীতে চোর সন্দেহে পিটিয়ে ফয়সাল হত্যার ঘটনায় আটক-১ সদর থানা পুলিশের অভিযানে গ্রেফতার ২১ ইয়াবাসহ আহ্বায়ক মনির আলম আটকের জের, টেকনাফ পৌর কৃষকদলের কমিটি বিলুপ্ত সীমান্তে নজরদারি বাড়াতে বান্দরবানের দুটি নতুন টিওবি উদ্বোধন মক্কায় ড্রোন ছুড়ল হুথিরা, আটকে দিয়ে ধ্বংস করল সৌদি অতিরিক্ত ডিআইজি আপেল মাহমুদ সাময়িক বরখাস্ত এশিয়ান গেমস উপলক্ষে জাপান সফরে সেনাপ্রধান পাঠ্যবইয়ে অন্তর্ভুক্ত হচ্ছে জিয়াউর রহমানের লেখা ‘স্বাধীনতা যুদ্ধের স্মৃতি’ বৃষ্টি কমায় বাড়ছে গরম; আজ কমতে পারে তাপমাত্রা টেকনাফে সাগরপথে মালয়েশিয়া পাচারকালে উদ্ধার ২০ ১৪ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ: সাবেক মেয়র আ জ ম নাছিরের বিরুদ্ধে দুদকের মামলা টাকা ও অলংকার নিয়ে উধাও আয়েশা! সন্ধান চায় ভুক্তভোগী পরিবার লোহাগাড়ায় পানির মোটর চালু করতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে যুবকের মৃত্যু গোলকিপার সাঈদীর ওপর হামলা: হোয়ানকের চেয়ারম্যান ও তার পুত্রের নামে এজাহার দায়েরের প্রতিবাদে মানববন্ধন

পার্বত্য চট্টগ্রামের দুর্গম এলাকার মৌলিক অধিকার নিশ্চিতকরণে ‘সিএইচটি’ সম্প্রীতি জোটের ৬ দফা দাবি

পার্বত্য চট্টগ্রামের শান্তি, স্থিতিশীলতা এবং সকল জাতিগোষ্ঠীর মধ্যে ভ্রাতৃত্বের বন্ধন সুদৃঢ় করার লক্ষ্যে ‘সিএইচটি সম্প্রীতি জোট’ তাদের দাবি পেশ করেছে।

সংগঠনটি মনে করে, পাহাড়ের শান্তি রক্ষার পাশাপাশি দুর্গম এলাকার মানুষের মৌলিক অধিকারের অভাব দূর করা সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার হওয়া উচিত।

​২১ ডিসেম্বর বান্দরবানের আলিকদম বাজার ব্যবসায়ী সমিতির হল রুমে সংগঠনের পক্ষ থেকে পূর্বের ৬ দফা দাবির সাথে পার্বত্য বান্দরবানের দুর্গম এলাকার মানুষের জীবনমান উন্নয়নে সরকারের কাছে বিশেষ কিছু দাবি তুলে ধরেন সিএইচটি সম্প্রীতি জোটের আহবায়ক ইন্জিনিয়ারিং থোয়াই চিং মং শাক। তার মধ্যে অন্যতম দাবি হলো:

দুর্গম এলাকায় স্বাস্থ্যসেবা:

বান্দরবানের যেসব এলাকায় হাসপাতাল নেই, সেখানে পর্যাপ্ত ‘কমিউনিটি ক্লিনিক’ স্থাপন এবং মোবাইল মেডিকেল টিমের মাধ্যমে জরুরি স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে হবে। পাহাড়ি মা ও শিশুদের উন্নত চিকিৎসার জন্য বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়ন:

দুর্গম পাড়াগুলোতে প্রাথমিক বিদ্যালয় স্থাপন এবং স্থানীয় ভাষায় পাঠদানের ব্যবস্থা করতে হবে। এছাড়া মেধাবী শিক্ষার্থীদের জন্য উপজেলা সদরে আবাসিক হোস্টেলের সুবিধা বাড়ানো জরুরি।

সুপেয় পানি ও স্যানিটেশন:

পাহাড়ে তীব্র পানির সংকট নিরসনে রেইন ওয়াটার হার্ভেস্টিং এবং গভীর নলকূপ স্থাপনের মাধ্যমে সুপেয় পানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে।

যোগাযোগ ও অবকাঠামো:

উৎপাদিত কৃষিপণ্য বাজারজাত করার লক্ষ্যে দুর্গম এলাকার সাথে উপজেলা ও জেলা সদরের সড়ক যোগাযোগ উন্নত করতে হবে। বিচ্ছিন্ন এলাকাগুলোতে সৌরবিদ্যুৎ ও নিরবচ্ছিন্ন মোবাইল নেটওয়ার্কের ব্যবস্থা করতে হবে।

ভূমি ও কর্মসংস্থান:

জুম চাষিদের অধিকার রক্ষা এবং ভূমি সমস্যার ন্যায়সঙ্গত সমাধানের মাধ্যমে স্থানীয়দের স্থায়ী কর্মসংস্থান নিশ্চিত করতে হবে।

নিরাপত্তা:

পার্বত্য অঞ্চলের নিরাপত্তা রক্ষায় সেনাবাহিনীর সক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি বিচ্ছিন্নতাবাদী ও সন্ত্রাসী তৎপরতা দমনে জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণা করতে হবে।

​‘সিএইচটি সম্প্রীতি জোট’ বিশ্বাস করে, সংবিধানে সকল জাতির সঠিক স্বীকৃতি, রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব বৃদ্ধি (সংসদীয় আসন ৩ থেকে ৯-এ উন্নীত করা) এবং দুর্গম এলাকার মানুষের মৌলিক চাহিদা পূরণ করতে পারলেই পাহাড়ে দীর্ঘস্থায়ী শান্তি ফিরে আসবে।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

রামুতে মিছিলের প্রস্তুতিকালে মোনাফ সিকদার সহ নি’ষি’দ্ধ যুবলীগের দুই নেতা গ্রেপ্তার

পার্বত্য চট্টগ্রামের দুর্গম এলাকার মৌলিক অধিকার নিশ্চিতকরণে ‘সিএইচটি’ সম্প্রীতি জোটের ৬ দফা দাবি

আপডেট সময় : ০৯:০২:৩৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ২১ ডিসেম্বর ২০২৫

পার্বত্য চট্টগ্রামের শান্তি, স্থিতিশীলতা এবং সকল জাতিগোষ্ঠীর মধ্যে ভ্রাতৃত্বের বন্ধন সুদৃঢ় করার লক্ষ্যে ‘সিএইচটি সম্প্রীতি জোট’ তাদের দাবি পেশ করেছে।

সংগঠনটি মনে করে, পাহাড়ের শান্তি রক্ষার পাশাপাশি দুর্গম এলাকার মানুষের মৌলিক অধিকারের অভাব দূর করা সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার হওয়া উচিত।

​২১ ডিসেম্বর বান্দরবানের আলিকদম বাজার ব্যবসায়ী সমিতির হল রুমে সংগঠনের পক্ষ থেকে পূর্বের ৬ দফা দাবির সাথে পার্বত্য বান্দরবানের দুর্গম এলাকার মানুষের জীবনমান উন্নয়নে সরকারের কাছে বিশেষ কিছু দাবি তুলে ধরেন সিএইচটি সম্প্রীতি জোটের আহবায়ক ইন্জিনিয়ারিং থোয়াই চিং মং শাক। তার মধ্যে অন্যতম দাবি হলো:

দুর্গম এলাকায় স্বাস্থ্যসেবা:

বান্দরবানের যেসব এলাকায় হাসপাতাল নেই, সেখানে পর্যাপ্ত ‘কমিউনিটি ক্লিনিক’ স্থাপন এবং মোবাইল মেডিকেল টিমের মাধ্যমে জরুরি স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে হবে। পাহাড়ি মা ও শিশুদের উন্নত চিকিৎসার জন্য বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়ন:

দুর্গম পাড়াগুলোতে প্রাথমিক বিদ্যালয় স্থাপন এবং স্থানীয় ভাষায় পাঠদানের ব্যবস্থা করতে হবে। এছাড়া মেধাবী শিক্ষার্থীদের জন্য উপজেলা সদরে আবাসিক হোস্টেলের সুবিধা বাড়ানো জরুরি।

সুপেয় পানি ও স্যানিটেশন:

পাহাড়ে তীব্র পানির সংকট নিরসনে রেইন ওয়াটার হার্ভেস্টিং এবং গভীর নলকূপ স্থাপনের মাধ্যমে সুপেয় পানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে।

যোগাযোগ ও অবকাঠামো:

উৎপাদিত কৃষিপণ্য বাজারজাত করার লক্ষ্যে দুর্গম এলাকার সাথে উপজেলা ও জেলা সদরের সড়ক যোগাযোগ উন্নত করতে হবে। বিচ্ছিন্ন এলাকাগুলোতে সৌরবিদ্যুৎ ও নিরবচ্ছিন্ন মোবাইল নেটওয়ার্কের ব্যবস্থা করতে হবে।

ভূমি ও কর্মসংস্থান:

জুম চাষিদের অধিকার রক্ষা এবং ভূমি সমস্যার ন্যায়সঙ্গত সমাধানের মাধ্যমে স্থানীয়দের স্থায়ী কর্মসংস্থান নিশ্চিত করতে হবে।

নিরাপত্তা:

পার্বত্য অঞ্চলের নিরাপত্তা রক্ষায় সেনাবাহিনীর সক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি বিচ্ছিন্নতাবাদী ও সন্ত্রাসী তৎপরতা দমনে জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণা করতে হবে।

​‘সিএইচটি সম্প্রীতি জোট’ বিশ্বাস করে, সংবিধানে সকল জাতির সঠিক স্বীকৃতি, রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব বৃদ্ধি (সংসদীয় আসন ৩ থেকে ৯-এ উন্নীত করা) এবং দুর্গম এলাকার মানুষের মৌলিক চাহিদা পূরণ করতে পারলেই পাহাড়ে দীর্ঘস্থায়ী শান্তি ফিরে আসবে।