ঢাকা ০৮:২৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ২৩ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
মাদরাসা কমিটি নিয়ে বিরোধ, শিক্ষককে পিটিয়ে আহত কক্সবাজারে সদর থানা পুলিশের বিশেষ অভিযান: ১৭ গ্রেপ্তার ওভারটেকের সময় ধাক্কায় দুমড়ে-মুচড়ে গেলো সিএনজি, প্রাণ গেল দুই যাত্রীর পেকুয়ায় গরুর কা/টা মাথার সূত্র ধরেই মিলল চোরের সন্ধান, গ্রেপ্তার ৩ শাহপরীর দ্বীপে সাড়ে চার কোটি টাকার ইয়াবা উদ্ধার কক্সবাজারে প্রথমবারের মতো ৩ মাসব্যাপী পর্যটন কার্নিভাল সেন্টমার্টিনে খতনার পর অসুস্থ হওয়া শিশুদের চিকিৎসা দিলো সরকারি মেডিকেল টিম আবেগঘন স্ট্যাটাস :সহধর্মিণীর আরোগ্য কামনায় দোয়া চাইলেন এমপি কাজল কক্সবাজারে ৫ বছরের সাজাপ্রাপ্ত ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি গ্রেফতার কক্সবাজারে বিলাস ভ্রমণে গিয়ে ধরা ‘কেডিসি বস্তি’র ৫ বাসিন্দা আজ পৃথিবীর মন খারাপ: ‘বিদায়’ বললেন, ফুটবলের কবি হামের টিকার আওতায় ২ কোটি শিশু, এক মাসে দেওয়া হবে আরও ৩৫ লাখ প্রবাসীদের পরিবার নিয়ে সৌদি থাকার সুযোগ সাগরে লঘুচাপ, টানা বৃষ্টির আভাস দেশকে অস্থির করার জন্য পতিত দোসররা নানাভাবে কাজ করছে : রিজভী

পার্বত্য চট্টগ্রামের দুর্গম এলাকার মৌলিক অধিকার নিশ্চিতকরণে ‘সিএইচটি’ সম্প্রীতি জোটের ৬ দফা দাবি

পার্বত্য চট্টগ্রামের শান্তি, স্থিতিশীলতা এবং সকল জাতিগোষ্ঠীর মধ্যে ভ্রাতৃত্বের বন্ধন সুদৃঢ় করার লক্ষ্যে ‘সিএইচটি সম্প্রীতি জোট’ তাদের দাবি পেশ করেছে।

সংগঠনটি মনে করে, পাহাড়ের শান্তি রক্ষার পাশাপাশি দুর্গম এলাকার মানুষের মৌলিক অধিকারের অভাব দূর করা সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার হওয়া উচিত।

​২১ ডিসেম্বর বান্দরবানের আলিকদম বাজার ব্যবসায়ী সমিতির হল রুমে সংগঠনের পক্ষ থেকে পূর্বের ৬ দফা দাবির সাথে পার্বত্য বান্দরবানের দুর্গম এলাকার মানুষের জীবনমান উন্নয়নে সরকারের কাছে বিশেষ কিছু দাবি তুলে ধরেন সিএইচটি সম্প্রীতি জোটের আহবায়ক ইন্জিনিয়ারিং থোয়াই চিং মং শাক। তার মধ্যে অন্যতম দাবি হলো:

দুর্গম এলাকায় স্বাস্থ্যসেবা:

বান্দরবানের যেসব এলাকায় হাসপাতাল নেই, সেখানে পর্যাপ্ত ‘কমিউনিটি ক্লিনিক’ স্থাপন এবং মোবাইল মেডিকেল টিমের মাধ্যমে জরুরি স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে হবে। পাহাড়ি মা ও শিশুদের উন্নত চিকিৎসার জন্য বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়ন:

দুর্গম পাড়াগুলোতে প্রাথমিক বিদ্যালয় স্থাপন এবং স্থানীয় ভাষায় পাঠদানের ব্যবস্থা করতে হবে। এছাড়া মেধাবী শিক্ষার্থীদের জন্য উপজেলা সদরে আবাসিক হোস্টেলের সুবিধা বাড়ানো জরুরি।

সুপেয় পানি ও স্যানিটেশন:

পাহাড়ে তীব্র পানির সংকট নিরসনে রেইন ওয়াটার হার্ভেস্টিং এবং গভীর নলকূপ স্থাপনের মাধ্যমে সুপেয় পানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে।

যোগাযোগ ও অবকাঠামো:

উৎপাদিত কৃষিপণ্য বাজারজাত করার লক্ষ্যে দুর্গম এলাকার সাথে উপজেলা ও জেলা সদরের সড়ক যোগাযোগ উন্নত করতে হবে। বিচ্ছিন্ন এলাকাগুলোতে সৌরবিদ্যুৎ ও নিরবচ্ছিন্ন মোবাইল নেটওয়ার্কের ব্যবস্থা করতে হবে।

ভূমি ও কর্মসংস্থান:

জুম চাষিদের অধিকার রক্ষা এবং ভূমি সমস্যার ন্যায়সঙ্গত সমাধানের মাধ্যমে স্থানীয়দের স্থায়ী কর্মসংস্থান নিশ্চিত করতে হবে।

নিরাপত্তা:

পার্বত্য অঞ্চলের নিরাপত্তা রক্ষায় সেনাবাহিনীর সক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি বিচ্ছিন্নতাবাদী ও সন্ত্রাসী তৎপরতা দমনে জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণা করতে হবে।

​‘সিএইচটি সম্প্রীতি জোট’ বিশ্বাস করে, সংবিধানে সকল জাতির সঠিক স্বীকৃতি, রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব বৃদ্ধি (সংসদীয় আসন ৩ থেকে ৯-এ উন্নীত করা) এবং দুর্গম এলাকার মানুষের মৌলিক চাহিদা পূরণ করতে পারলেই পাহাড়ে দীর্ঘস্থায়ী শান্তি ফিরে আসবে।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

মাদরাসা কমিটি নিয়ে বিরোধ, শিক্ষককে পিটিয়ে আহত

পার্বত্য চট্টগ্রামের দুর্গম এলাকার মৌলিক অধিকার নিশ্চিতকরণে ‘সিএইচটি’ সম্প্রীতি জোটের ৬ দফা দাবি

আপডেট সময় : ০৯:০২:৩৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ২১ ডিসেম্বর ২০২৫

পার্বত্য চট্টগ্রামের শান্তি, স্থিতিশীলতা এবং সকল জাতিগোষ্ঠীর মধ্যে ভ্রাতৃত্বের বন্ধন সুদৃঢ় করার লক্ষ্যে ‘সিএইচটি সম্প্রীতি জোট’ তাদের দাবি পেশ করেছে।

সংগঠনটি মনে করে, পাহাড়ের শান্তি রক্ষার পাশাপাশি দুর্গম এলাকার মানুষের মৌলিক অধিকারের অভাব দূর করা সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার হওয়া উচিত।

​২১ ডিসেম্বর বান্দরবানের আলিকদম বাজার ব্যবসায়ী সমিতির হল রুমে সংগঠনের পক্ষ থেকে পূর্বের ৬ দফা দাবির সাথে পার্বত্য বান্দরবানের দুর্গম এলাকার মানুষের জীবনমান উন্নয়নে সরকারের কাছে বিশেষ কিছু দাবি তুলে ধরেন সিএইচটি সম্প্রীতি জোটের আহবায়ক ইন্জিনিয়ারিং থোয়াই চিং মং শাক। তার মধ্যে অন্যতম দাবি হলো:

দুর্গম এলাকায় স্বাস্থ্যসেবা:

বান্দরবানের যেসব এলাকায় হাসপাতাল নেই, সেখানে পর্যাপ্ত ‘কমিউনিটি ক্লিনিক’ স্থাপন এবং মোবাইল মেডিকেল টিমের মাধ্যমে জরুরি স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে হবে। পাহাড়ি মা ও শিশুদের উন্নত চিকিৎসার জন্য বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়ন:

দুর্গম পাড়াগুলোতে প্রাথমিক বিদ্যালয় স্থাপন এবং স্থানীয় ভাষায় পাঠদানের ব্যবস্থা করতে হবে। এছাড়া মেধাবী শিক্ষার্থীদের জন্য উপজেলা সদরে আবাসিক হোস্টেলের সুবিধা বাড়ানো জরুরি।

সুপেয় পানি ও স্যানিটেশন:

পাহাড়ে তীব্র পানির সংকট নিরসনে রেইন ওয়াটার হার্ভেস্টিং এবং গভীর নলকূপ স্থাপনের মাধ্যমে সুপেয় পানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে।

যোগাযোগ ও অবকাঠামো:

উৎপাদিত কৃষিপণ্য বাজারজাত করার লক্ষ্যে দুর্গম এলাকার সাথে উপজেলা ও জেলা সদরের সড়ক যোগাযোগ উন্নত করতে হবে। বিচ্ছিন্ন এলাকাগুলোতে সৌরবিদ্যুৎ ও নিরবচ্ছিন্ন মোবাইল নেটওয়ার্কের ব্যবস্থা করতে হবে।

ভূমি ও কর্মসংস্থান:

জুম চাষিদের অধিকার রক্ষা এবং ভূমি সমস্যার ন্যায়সঙ্গত সমাধানের মাধ্যমে স্থানীয়দের স্থায়ী কর্মসংস্থান নিশ্চিত করতে হবে।

নিরাপত্তা:

পার্বত্য অঞ্চলের নিরাপত্তা রক্ষায় সেনাবাহিনীর সক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি বিচ্ছিন্নতাবাদী ও সন্ত্রাসী তৎপরতা দমনে জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণা করতে হবে।

​‘সিএইচটি সম্প্রীতি জোট’ বিশ্বাস করে, সংবিধানে সকল জাতির সঠিক স্বীকৃতি, রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব বৃদ্ধি (সংসদীয় আসন ৩ থেকে ৯-এ উন্নীত করা) এবং দুর্গম এলাকার মানুষের মৌলিক চাহিদা পূরণ করতে পারলেই পাহাড়ে দীর্ঘস্থায়ী শান্তি ফিরে আসবে।