বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি হাজী এম এ কালাম সরকারি কলেজ কেন্দ্রে এইচএসসি বাংলা প্রথম পত্রের পরীক্ষায় ভুল প্রশ্নে পরীক্ষা নেওয়ার অভিযোগের সত্যতা মিলেছে। চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ড গঠিত দুই সদস্যের তদন্ত কমিটি বিষয়টি যাচাই করে অভিযোগ সত্য বলে নিশ্চিত করেছে।
গত শনিবার (৪ জুলাই) তদন্ত কমিটির প্রধান ও বান্দরবান জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা জসিম উদ্দিন বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
জানা গেছে,গত ২ জুলাই অনুষ্ঠিত বাংলা প্রথম পত্র পরীক্ষায় কেন্দ্রটির কয়েকটি হলে নিয়মিত পরীক্ষার্থীদের কাছে ২০২৫ সালের অনিয়মিত পরীক্ষার্থীদের এমসিকিউ প্রশ্নপত্র ও উত্তরপত্র বিতরণ করা হয়। পরীক্ষা শেষে বাড়ি ফিরে শিক্ষার্থীরা বিষয়টি বুঝতে পারেন। এ ঘটনায় অন্তত ২৫ জন শিক্ষার্থী সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার তথ্য তদন্তে উঠে এসেছে।
অভিযোগের পর শনিবার তদন্ত কমিটি কেন্দ্র পরিদর্শন করে শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও হল পরিদর্শকদের বক্তব্য গ্রহণ করে। তদন্ত শেষে ভুল প্রশ্নে পরীক্ষা নেওয়ার অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার পাশাপাশি কেন্দ্র পরিচালনায় আরও কিছু অনিয়মের তথ্যও উঠে আসে। তদন্ত প্রতিবেদন জেলা প্রশাসকের কাছে জমা দেওয়া হয়েছে বলে জানান তদন্ত কমিটির প্রধান।
ঘটনাটি প্রকাশের পর প্রায় চার শতাধিক শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয়দের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। শিক্ষার্থীরা উপজেলা সদরে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করে এবং দায়ীদের শাস্তি ও ঘটনার সুষ্ঠু সমাধানের দাবি জানায়।
নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এনামুল হাসান জানান,ঘটনার পরপরই তিনি চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ করেন। বোর্ড থেকে শিক্ষার্থীদের স্বার্থ সংরক্ষণ করে বিষয়টির সমাধানের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন,শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের উদ্বিগ্ন হওয়ার কোনো কারণ নেই। শিক্ষা বোর্ড বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে। শিক্ষার্থীরা যেন বাকি পরীক্ষাগুলো ভালোভাবে দিতে পারে,সেটিই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
এদিকে ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকরা বিষয়টির দ্রুত সমাধানে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার ভূমিকার প্রশংসা করেছেন। একই সঙ্গে এ ধরনের গুরুতর অবহেলার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তারা।
বিশেষ প্রতিবেদক,রামু: 























