ঢাকা ০৯:৩৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ০১ এপ্রিল ২০২৬, ১৮ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
বঙ্গোপসাগরে লঘুচাপ, টানা ৩ দিন ঝড় ও বজ্রবৃষ্টির আভাস সংসদ থেকে বিরোধীদল সদস্যদের ওয়াকআউট কক্সবাজারে হামে আক্রান্ত হয়ে আরও এক শিশুর মৃত্যু, ভর্তি ৩৮ রোববার থেকে হামের টিকা দেওয়া হবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী কউকের সেমিনার-কক্সবাজারে সুপেয় পানির পরিমান কমছে নানার বাড়ি এসে পুকুরেডুবে দুই শিশুর মৃ’ত্যু আমেরিকা যুদ্ধ থেকে পালানোর পথ খুঁজছে : ইরা‌নি রাষ্ট্রদূত আমিরাতে ড্রোন হামলায় বাংলাদেশি নিহত টেকনাফে র‌্যাবের অভিযানে মানবপাচার চক্রের আস্তানা থেকে ১৩ জন উদ্ধার ঈদুল আজহার সম্ভাব্য তারিখ ঘোষণা করল আরব আমিরাত ৮ লাখ টাকা মুক্তিপণ দিয়ে ফিরেছে নাইক্ষ্যংছড়ি থেকে অপহৃত গর্জনিয়ার মিন্টু ইরান নিয়ে জাতির উদ্দেশে গুরুত্বপূর্ণ ভাষণ দেবেন ট্রাম্প আরাকান আর্মির কবল থেকে মুক্ত ১৪ জেলে দেশে ফিরেছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রীর কাছে কক্সবাজারের সাবেক পৌর মেয়র মাহবুবের খোলা চিঠি পাল্টাপাল্টি চাঁদা দাবির অভিযোগে মুখোমুখি যুবদল–ছাত্রদল নেতা

নতুন সরকারের কাছে কি চায় কক্সবাজারের মানুষ?

জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরংকুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে সরকার গঠন করতে যাচ্ছে বিএনপি।তারেক রহমানের নেতৃত্বে ১৭ ফেব্রুয়ারী সকালে সংসদ সদস্যরা এবং বিকেলে মন্ত্রীসভার সদস্যরা শপথ নেবেন। 

কক্সবাজারের মানুষ সবসময়ই দেশের অর্থনীতিতে বড় অবদান রেখে আসছে। তবে পর্যটন নগরী হওয়া সত্ত্বেও এখানকার স্থানীয়দের কিছু দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত সমস্যা রয়েছে। ২০২৬ সালের এই সময়ে দাঁড়িয়ে নতুন সরকারের কাছে কক্সবাজারবাসীর প্রত্যাশাগুলো বেশ জোরালো। কক্সবাজারের নানা শ্রেনী পেশার ১৬ জন মানুষের সাথে কথা বলে এই প্রতিবেদক ​প্রধান প্রত্যাশাগুলো চিহ্নিত করেছে।

​১. টেকসই পর্যটন ও অবকাঠামো উন্নয়ন

পরিকল্পিত শহর: যত্রতত্র দালানকোঠা না তুলে একটি পরিকল্পিত মাস্টারপ্ল্যান অনুযায়ী পর্যটন শহর গড়ে তোলা।

মেরিন ড্রাইভের সম্প্রসারণ: মেরিন ড্রাইভ সড়কটিকে টেকনাফ থেকে চট্টগ্রাম পর্যন্ত বিস্তৃত করা এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।

আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর: কক্সবাজার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের পূর্ণাঙ্গ কার্যক্রম চালু করা যাতে সরাসরি বিদেশি পর্যটকরা আসতে পারেন।

​২. রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন ও নিরাপত্তা

দ্রুত প্রত্যাবাসন: স্থানীয়দের বড় দাবি হলো সসম্মানে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর জন্য কার্যকর কূটনৈতিক পদক্ষেপ নেওয়া।

আইন-শৃঙ্খলা: মাদক ও অপরাধ দমনে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করা।

​৩. স্থানীয়দের কর্মসংস্থান ও জীবনযাত্রার মান

শিল্পায়ন: কক্সবাজারকে শুধু পর্যটন নয়, ব্লু-ইকোনমি (সমুদ্র অর্থনীতি) ও শুঁটকি রপ্তানির কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলে স্থানীয় তরুণদের চাকরি নিশ্চিত করা।

পাহাড় ও পরিবেশ রক্ষা: পাহাড় কাটা বন্ধ করা এবং বাঁকখালী নদী দখলমুক্ত করে পরিবেশগত ভারসাম্য বজায় রাখা। জলবায়ুর পরিবর্তনজনিত ঝুঁকি মোকাবেলায় যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহন করা।

​৪. স্বাস্থ্য ও শিক্ষা

মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল: কক্সবাজার মেডিকেল কলেজের পূর্ণাঙ্গ হাসপাতাল কার্যক্রম দ্রুত সম্পন্ন করা যাতে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম বা ঢাকা ছুটতে না হয়।

কারিগরি শিক্ষা: পর্যটন,মৎস্য ও প্রযুক্তি খাতে দক্ষ জনবল তৈরির জন্য বিশেষায়িত বিশ্ববিদ্যালয় বা ইনস্টিটিউট স্থাপন।

এছাড়াও সামুদ্রিক প্রানীদের চিকিৎসায় সী হসপিটাল, কুতুবদিয়া, মহেশখালী ও সেন্টমার্টিন দ্বীপের মানুষের জন্যে সী-অ্যাম্বুলেন্সের ব্যবস্থা করা, মহেশখালীর মেগা প্রকল্পগুলোতে যোগ্যতার ভিত্তিতে স্থানীয়দের চাকুরী নিশ্চিত করার দাবীও রাখছে কক্সবাজারের মানুষ।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

নতুন সরকারের কাছে কি চায় কক্সবাজারের মানুষ?

আপডেট সময় : ১০:০৮:৫৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরংকুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে সরকার গঠন করতে যাচ্ছে বিএনপি।তারেক রহমানের নেতৃত্বে ১৭ ফেব্রুয়ারী সকালে সংসদ সদস্যরা এবং বিকেলে মন্ত্রীসভার সদস্যরা শপথ নেবেন। 

কক্সবাজারের মানুষ সবসময়ই দেশের অর্থনীতিতে বড় অবদান রেখে আসছে। তবে পর্যটন নগরী হওয়া সত্ত্বেও এখানকার স্থানীয়দের কিছু দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত সমস্যা রয়েছে। ২০২৬ সালের এই সময়ে দাঁড়িয়ে নতুন সরকারের কাছে কক্সবাজারবাসীর প্রত্যাশাগুলো বেশ জোরালো। কক্সবাজারের নানা শ্রেনী পেশার ১৬ জন মানুষের সাথে কথা বলে এই প্রতিবেদক ​প্রধান প্রত্যাশাগুলো চিহ্নিত করেছে।

​১. টেকসই পর্যটন ও অবকাঠামো উন্নয়ন

পরিকল্পিত শহর: যত্রতত্র দালানকোঠা না তুলে একটি পরিকল্পিত মাস্টারপ্ল্যান অনুযায়ী পর্যটন শহর গড়ে তোলা।

মেরিন ড্রাইভের সম্প্রসারণ: মেরিন ড্রাইভ সড়কটিকে টেকনাফ থেকে চট্টগ্রাম পর্যন্ত বিস্তৃত করা এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।

আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর: কক্সবাজার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের পূর্ণাঙ্গ কার্যক্রম চালু করা যাতে সরাসরি বিদেশি পর্যটকরা আসতে পারেন।

​২. রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন ও নিরাপত্তা

দ্রুত প্রত্যাবাসন: স্থানীয়দের বড় দাবি হলো সসম্মানে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর জন্য কার্যকর কূটনৈতিক পদক্ষেপ নেওয়া।

আইন-শৃঙ্খলা: মাদক ও অপরাধ দমনে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করা।

​৩. স্থানীয়দের কর্মসংস্থান ও জীবনযাত্রার মান

শিল্পায়ন: কক্সবাজারকে শুধু পর্যটন নয়, ব্লু-ইকোনমি (সমুদ্র অর্থনীতি) ও শুঁটকি রপ্তানির কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলে স্থানীয় তরুণদের চাকরি নিশ্চিত করা।

পাহাড় ও পরিবেশ রক্ষা: পাহাড় কাটা বন্ধ করা এবং বাঁকখালী নদী দখলমুক্ত করে পরিবেশগত ভারসাম্য বজায় রাখা। জলবায়ুর পরিবর্তনজনিত ঝুঁকি মোকাবেলায় যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহন করা।

​৪. স্বাস্থ্য ও শিক্ষা

মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল: কক্সবাজার মেডিকেল কলেজের পূর্ণাঙ্গ হাসপাতাল কার্যক্রম দ্রুত সম্পন্ন করা যাতে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম বা ঢাকা ছুটতে না হয়।

কারিগরি শিক্ষা: পর্যটন,মৎস্য ও প্রযুক্তি খাতে দক্ষ জনবল তৈরির জন্য বিশেষায়িত বিশ্ববিদ্যালয় বা ইনস্টিটিউট স্থাপন।

এছাড়াও সামুদ্রিক প্রানীদের চিকিৎসায় সী হসপিটাল, কুতুবদিয়া, মহেশখালী ও সেন্টমার্টিন দ্বীপের মানুষের জন্যে সী-অ্যাম্বুলেন্সের ব্যবস্থা করা, মহেশখালীর মেগা প্রকল্পগুলোতে যোগ্যতার ভিত্তিতে স্থানীয়দের চাকুরী নিশ্চিত করার দাবীও রাখছে কক্সবাজারের মানুষ।