ঢাকা ১২:৫০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১৪ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
একুশে পদক তুলে দিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কলাতলীর ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড: ঘটনাস্থল পরিদর্শনে এমপি লুৎফুর রহমান কাজল নতুন দায়িত্ব পেলেন মির্জা আব্বাস নতুন গভর্নরকে স্বাগত জানালেন বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মীরা বইমেলা শুরু হচ্ছে আজ, উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের আরেক চমক: এবার পৌরসভা হচ্ছে পেকুয়া বঙ্গোপসাগরে জলদস্যুদের গুলিতে জেলে নিহত আগুন নিয়ন্ত্রণে, তবে আছে ঝুঁকি, দগ্ধ ১০: অনুমতি নেই গ্যাস পাম্পের কক্সবাজারে ৫.১ মাত্রার ভূমিকম্প কলাতলীতে ভয়াবহ অগ্নিকান্ড , নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে ফায়ার সার্ভিস ও সেনাবাহিনী সৌদি আরবে যাওয়া হলো না সেন্টমার্টিনের আব্দুল মালেকের ডিএমপির কমিশনার সাজ্জাত আলী পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন বিডিআর হত্যাকাণ্ড দেশের জন্য একটি কলঙ্কজনক অধ্যায়: স্থানীয় সরকারমন্ত্রী লামায় বন্য হাতির আক্রমনে একজনের মৃত্যু শহীদ সেনাসদস্যদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর

দেশে প্রায় দেড় কোটি মানুষ ডায়াবেটিস আক্রান্ত, শহুরে কর্মজীবীদের তিন-চতুর্থাংশই ভুক্তভোগী

সকালে ঘুম থেকে উঠেই অফিসে যাওয়া, এরপর ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসে কাজ করা। প্রতিদিনের কর্মব্যস্ততা আর মানসিক চাপ নিয়েই আবারও বাসায় ফেরা। রাতের খাবার শেষে ক্লান্ত শরীরে ঘুমিয়ে পড়া—শহরের কর্মজীবী মানুষের যাপিত জীবনের চিত্র অনেকটা একই; যেখানে নিত্যদিনের কাজের চাপে স্বাস্থ্য সচেতনতা উপেক্ষিত। বাড়ছে ডায়াবেটিসের ঝুঁকিও।

কয়েকজন কর্মজীবী নারী-পুরুষ জানিয়েছেন, কাজের চাপে তাদের স্বাস্থ্য ভেঙে পড়ছে। ডায়েবেটিস ও ওবিসিটিসহ অনেক ধরনের সমস্যায় ভুগছেন। এমনকি, ডায়াবেটিসের কারণে তারা দ্রুত ক্লান্ত হয়ে পড়ছেন ও হাপিয়ে যাচ্ছেন।

বাংলাদেশ অ্যান্ডোক্রাইন সোসাইটির তথ্য বলছে, শহুরে কর্মজীবীদের প্রতি চারজনের তিনজনই, অর্থাৎ ৭৫ শতাংশ মানুষ ভুগছেন ডায়াবেটিস বা প্রিডায়াবেটিসে। অথচ, কর্মস্থলে এ নিয়ে সচেতনতার উদ্যোগ নেই বললেই চলে। কেউ কেউ বলছেন, অফিসের স্ট্রেসের কারণেই আমাদের ডায়াবেটিস হয়েছে। এটা আগে ছিল না।

এমন বাস্তবতায় বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কর্মস্থলে নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা, মানসিক সহায়তা, স্বাস্থ্যকর খাবার এবং শারীরিক অনুশীলনের ব্যবস্থা থাকলে কেবল কর্মীরা নয়, প্রতিষ্ঠানেরও দীর্ঘমেয়াদে সুফল নিশ্চিত হবে।

বারডেম জেনারেল হাসপাতাল একাডেমিক পরিচালক ডা. ফারুক পাঠান বলেন, কর্মক্ষমতা না থাকলে তার কাছ থেকে আমরা কী কাজ প্রত্যাশা করব, তার কাছ থেকে আমরা ভালো একটা ফিডব্যাক পাব না। ফিডব্যাক ঠিকমতো না পেলে আমাদের প্রোডাকশর কমে যাবে। প্রোডাকশন কমে যাওয়া মানে আমরা অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি।

ইব্রাহিম কার্ডিয়াক হাসপাতালের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) অধ্যাপক ডা. শাহেলা নাসরীন বলেন, কর্মস্থলে ফ্রিহ্যান্ড এক্সারসাইজের কিছু ইন্সট্রুমেন্ট থাকুক এবং প্রত্যেক কর্মীকে এক ঘণ্টা পরপর ৫ থেকে ১০ মিনিট সময় দেওয়া হোক, যাতে ‍তিনি প্রতি ঘণ্টায় একবার করে একটু হেঁটে আসতে পারেন। তাতে ওই কর্মী অনেক বেশি ফিট থাকবেন।

একইসঙ্গে চিকিৎসরা বলছেন, ডায়াবেটিসে শুধুমাত্র ব্যক্তিই আক্রান্ত হন না, সামাজিক ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রেও চ্যালেঞ্জ কম নয়।

একজন কর্মজীবী মানুষ দিনের সক্রিয় সময়ের প্রায় ৬০ শতাংশ কর্মস্থলে কাটান। কাজের ধরন, লম্বা সময় বসে থাকা ও অনিয়ন্ত্রিত খাদ্যাভ্যাস ডায়াবেটিসের ঝুঁকি প্রতিনিয়ত বাড়িয়ে দিচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কর্মস্থলে যদি স্বাস্থ্যসম্মত করা যায়, তাহলে ডায়াবেটিস প্রতিরোধে বড় অগ্রগতি আনা সম্ভব।সূত্র: আজকের পত্রিকা
যুক্তরাজ্যের মন্ত্রী ব্যারোনেস জেনি চ্যাপম্যানের সঙ্গে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের বৈঠক। ছবি: সংগৃহীত

সূত্র: চ্যানেল 24

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

This will close in 6 seconds

দেশে প্রায় দেড় কোটি মানুষ ডায়াবেটিস আক্রান্ত, শহুরে কর্মজীবীদের তিন-চতুর্থাংশই ভুক্তভোগী

আপডেট সময় : ০২:৪৯:৩২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ নভেম্বর ২০২৫

সকালে ঘুম থেকে উঠেই অফিসে যাওয়া, এরপর ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসে কাজ করা। প্রতিদিনের কর্মব্যস্ততা আর মানসিক চাপ নিয়েই আবারও বাসায় ফেরা। রাতের খাবার শেষে ক্লান্ত শরীরে ঘুমিয়ে পড়া—শহরের কর্মজীবী মানুষের যাপিত জীবনের চিত্র অনেকটা একই; যেখানে নিত্যদিনের কাজের চাপে স্বাস্থ্য সচেতনতা উপেক্ষিত। বাড়ছে ডায়াবেটিসের ঝুঁকিও।

কয়েকজন কর্মজীবী নারী-পুরুষ জানিয়েছেন, কাজের চাপে তাদের স্বাস্থ্য ভেঙে পড়ছে। ডায়েবেটিস ও ওবিসিটিসহ অনেক ধরনের সমস্যায় ভুগছেন। এমনকি, ডায়াবেটিসের কারণে তারা দ্রুত ক্লান্ত হয়ে পড়ছেন ও হাপিয়ে যাচ্ছেন।

বাংলাদেশ অ্যান্ডোক্রাইন সোসাইটির তথ্য বলছে, শহুরে কর্মজীবীদের প্রতি চারজনের তিনজনই, অর্থাৎ ৭৫ শতাংশ মানুষ ভুগছেন ডায়াবেটিস বা প্রিডায়াবেটিসে। অথচ, কর্মস্থলে এ নিয়ে সচেতনতার উদ্যোগ নেই বললেই চলে। কেউ কেউ বলছেন, অফিসের স্ট্রেসের কারণেই আমাদের ডায়াবেটিস হয়েছে। এটা আগে ছিল না।

এমন বাস্তবতায় বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কর্মস্থলে নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা, মানসিক সহায়তা, স্বাস্থ্যকর খাবার এবং শারীরিক অনুশীলনের ব্যবস্থা থাকলে কেবল কর্মীরা নয়, প্রতিষ্ঠানেরও দীর্ঘমেয়াদে সুফল নিশ্চিত হবে।

বারডেম জেনারেল হাসপাতাল একাডেমিক পরিচালক ডা. ফারুক পাঠান বলেন, কর্মক্ষমতা না থাকলে তার কাছ থেকে আমরা কী কাজ প্রত্যাশা করব, তার কাছ থেকে আমরা ভালো একটা ফিডব্যাক পাব না। ফিডব্যাক ঠিকমতো না পেলে আমাদের প্রোডাকশর কমে যাবে। প্রোডাকশন কমে যাওয়া মানে আমরা অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি।

ইব্রাহিম কার্ডিয়াক হাসপাতালের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) অধ্যাপক ডা. শাহেলা নাসরীন বলেন, কর্মস্থলে ফ্রিহ্যান্ড এক্সারসাইজের কিছু ইন্সট্রুমেন্ট থাকুক এবং প্রত্যেক কর্মীকে এক ঘণ্টা পরপর ৫ থেকে ১০ মিনিট সময় দেওয়া হোক, যাতে ‍তিনি প্রতি ঘণ্টায় একবার করে একটু হেঁটে আসতে পারেন। তাতে ওই কর্মী অনেক বেশি ফিট থাকবেন।

একইসঙ্গে চিকিৎসরা বলছেন, ডায়াবেটিসে শুধুমাত্র ব্যক্তিই আক্রান্ত হন না, সামাজিক ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রেও চ্যালেঞ্জ কম নয়।

একজন কর্মজীবী মানুষ দিনের সক্রিয় সময়ের প্রায় ৬০ শতাংশ কর্মস্থলে কাটান। কাজের ধরন, লম্বা সময় বসে থাকা ও অনিয়ন্ত্রিত খাদ্যাভ্যাস ডায়াবেটিসের ঝুঁকি প্রতিনিয়ত বাড়িয়ে দিচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কর্মস্থলে যদি স্বাস্থ্যসম্মত করা যায়, তাহলে ডায়াবেটিস প্রতিরোধে বড় অগ্রগতি আনা সম্ভব।সূত্র: আজকের পত্রিকা
যুক্তরাজ্যের মন্ত্রী ব্যারোনেস জেনি চ্যাপম্যানের সঙ্গে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের বৈঠক। ছবি: সংগৃহীত

সূত্র: চ্যানেল 24