ঢাকা ১২:০৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৬ মার্চ ২০২৬, ২২ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর প্রথমবার ইরানকে তাক করে টর্পেডো ছুড়ল যুক্তরাষ্ট্র উখিয়ার রেজুখালে রাতভর প্রার্থনার পর সকালে মিলল কিশোরের মরদেহ আজান পর্যন্ত সেহরি খেলে রোজা হবে কি না, জেনে নিন চট্টগ্রামে দরবেশকাটা সমিতির দোয়া ও ইফতার মাহফিল রাশিয়ার ফাঁদে ট্রাম্প! মধ্যপ্রাচ্যের নতুন ‘বাদশা’ ইরান? কলাতলীর সংঘর্ষের কারণ কি? সেন্ট মার্টিনের কাছে ধরা পড়ল পাঁচ মণ ওজনের বোল মাছ, বিক্রি ২ লাখ ৫৫ হাজার টাকায় রো‌হিঙ্গা‌দের ২৬ লাখ মার্কিন ডলারের সহায়তা দি‌চ্ছে জাপান নিজের পুরস্কার উৎসর্গ করলেন দর্শকদের উখিয়া–টেকনাফ জাতীয়তাবাদী ছাত্র ফোরামের ইফতার ও দোয়া মাহফিল সাবেক এমপি আবদুর রহমান বদির জামিন স্থগিত ঘুষের টাকা ফেরত চাওয়ায় মা-মেয়েকে মারধর, পরে ১ মাসের জেল রামুতে সংবাদ সংগ্রহকালে ডাকাত মালেকের হামলায় ৪ সাংবাদিক আহত উখিয়ার থাইংখালীতে পাহাড় কেটে সাবাড়, ড্রাম ট্রাক আটক মাদকের বিরুদ্ধে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নির্দেশনা- ইয়াবা ও দুই সঙ্গীসহ পুলিশের জালে যুবদল নেতা
কক্সবাজার স্টেডিয়ামে হামলা ভাঙচুর

দু’টি তদন্ত কমিটি, মামলার প্রস্তুতি চলছে

কক্সবাজারে জেলা প্রশাসক গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্ণামেন্ট এর ফাইনাল খেলায় উত্তেজিত দর্শকদের স্টেডিয়াম ভবনসহ বিভিন্ন স্থাপনা ভাংচুরের পাশাপাশি তান্ডব চালানোর ঘটনায় দুইটি তদন্ত কমিটি গঠিত হয়েছে। এছাড়া আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের যাবতীয় প্রস্তুতি নিচ্ছে পুলিশ।

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সালাহ্উদ্দিন শনিবার দুপুরে কক্সবাজারের ‘বীরশ্রেষ্ঠ রুহুল আমিন স্টেডিয়াম’ পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের এই তথ্য দেন।

এর আগে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সালাহ্উদ্দিন ও পুলিশ সুপার মোহাম্মদ সাইফউদ্দীন শাহীন সহ প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা স্টেডিয়াম ক্ষয়ক্ষতি পরিদর্শন করেন।

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সালাহ্উদ্দিন জানান, দুটি তদন্ত কমিটি করা হয়েছে। অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) এর নেতৃত্বে তিন সদস্যের কমিটি কাজ করবে হামলা ভাঙচুরের বিষয়ে, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট এর নেতৃত্বে তিন সদস্যের অন্য কমিটি কাজ করবে অতিরিক্ত টিকিট বিক্রি ও কালোবাজারির বিষয়ে।

জেলা প্রশাসক বলেন, ফুটবল টুর্ণামেন্টের ফাইনাল খেলাকে কেন্দ্র করে শুক্রবার বিকালে স্টেডিয়ামে অনাকাঙ্খিত ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় আইনশৃংখলা বাহিনীর সদস্যদের পাশাপাশি বেশ কয়েকজন আহত হয়েছে। উত্তেজিত দর্শকরা ভাংচুরের পাশাপাশি যে তান্ডব চালিয়েছে তার কারণ দ্রুত তদন্ত করে বের করবে তদন্ত কমিটি। এছাড়া এঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নিতে পুলিশকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

পাশাপাশি ঘটনায় ক্ষতক্ষতি নিরূপনে গণপূর্ত বিভাগকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বলে জানান জেলা প্রশাসক সালাহ্উদ্দিন।

এসময় পুলিশ সুপার মোহাম্মদ সাইফউদ্দীন শাহীন বলেন, এই ঘটনায় জেলা ক্রীড়া সংস্থা বা স্টেডিয়াম ব্যবস্থাপনা কমিটির পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত থানায় কোন ধরণের লিখিত অভিযোগ দেয়া হয়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে মামলা নথিভূক্ত করা হবে।

ধারণ ক্ষমতার বেশী দর্শক স্টেডিয়ামে প্রবেশ করেছিল এবং অনেকে টিকেট সংগ্রহ করেও ভিতরে ঢুকতে না পারায় দর্শকরা উত্তেজিত হয়ে এই তান্ডব চালিয়েছে বলে মনে করেন পুলিশ সুপার। তিনি বলেন, ঘটনার সময় অন্তত ৫০ হাজারের মত দর্শক স্টেডিয়ামের ভিতরে ছিল। এসময় টিকেট কেটে অসংখ্য দর্শকও ঢুকার জন্য স্টেডিয়ামের বাইরে অপেক্ষা করছিল।

তবে সমবেত দর্শকদের তুলনায় আইন শৃংখলা বাহিনীর সদস্যদের সংখ্যা অপ্রতুল ছিল জানিয়ে সাইফউদ্দীন শাহীন জানান, পুলিশ সহ অন্য বাহিনীর সদস্যরা সর্বোচ্চ ধর্য্যের পরীক্ষা দিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করেছে। যাতে কোনো প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি এবং বড় ধরণের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়ানো যায়।

এদিকে এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত (সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা) কোনো মামলা হয়নি বলে জানিয়েছেন কক্সবাজার সদর থানার ওসি মো. ইলিয়াস খান।

ইলিয়াস খান বলেন, পুলিশের উপর হামলার বিষয়েও মামলা হবে, তবে আমরা সামগ্রিক বিষয় নিরূপণ করেই এটি করবো।

কক্সবাজার বীরশ্রেষ্ঠ মোহাম্মদ রুহুল আমিন স্টেডিয়ামে গত ১ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হওয়া এই টুর্ণামেন্টের ফাইনাল খেলার ছিল শুক্রবার। রামু ও টেকনাফ উপজেলা একাদশের মধ্যে বেলা ৩ টায় ফাইনাল ম্যাচটি শুরু হওয়ার কথা ছিলো।

তবে খেলা শুরুর দেড় ঘণ্টা আগেই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। জুমার দিন হলেও বেলা ১১ থেকেই গ্যালারিতে প্রবেশ করে দর্শকরা।

দুপুর ২টার মধ্যেই ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত দর্শক প্রবেশ করে গ্যালারিতে। একপর্যায়ে উত্তেজিত দর্শকরা প্রবেশ গেইট ভেঙে মূল মাঠে ঢুকে পড়েন। মুহূর্তের মধ্যে পুরো মাঠ লোকে লোকারণ্য হয়ে যায়। মাঠের ভেতরে বিশৃঙ্খল পরিবেশ সৃষ্টি হয়।

মাঠের ভেতর থেকে দর্শকদের বের করতে সেনাবাহিনীসহ বিপুল পরিমাণ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত হন। এরপর বের করে দেয়া দর্শকেরা বাইরে থেকে হামলা শুরু করেন।

পরে সময় বিবেচনায় বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে খেলা স্থগিত করে আয়োজক কমিটি। এই ঘোষণা আসার পর মুহুর্তের মধ্যেই ফের মাঠে প্রবেশ করে হাজারো দর্শক। শুরু করে ব্যপক ভাঙচুর।

এসময় পুরো স্টেডিয়াম এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। ভাঙচুর করা হয় ড্রেসিং রুম, প্রেসবক্সসহ পুরো স্টেডিয়াম ভবন, উপড়ে ফেলা হয় মাঠের গোলপোস্ট।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ লাঠিপেটাও করেছে। এসময় কক্সবাজার সদর উপজেলার ইউএনও নিলুফার ইয়াসমিন চৌধুরী, সদর থানার ওসি (তদন্ত) ফারুক হোসেন, একাধিক পুলিশ ও আনসার বাহিনীর সদস্যসহ অন্তত ৫০ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

ট্যাগ :

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর প্রথমবার ইরানকে তাক করে টর্পেডো ছুড়ল যুক্তরাষ্ট্র

কক্সবাজার স্টেডিয়ামে হামলা ভাঙচুর

দু’টি তদন্ত কমিটি, মামলার প্রস্তুতি চলছে

আপডেট সময় : ০৭:৪৭:২৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫

কক্সবাজারে জেলা প্রশাসক গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্ণামেন্ট এর ফাইনাল খেলায় উত্তেজিত দর্শকদের স্টেডিয়াম ভবনসহ বিভিন্ন স্থাপনা ভাংচুরের পাশাপাশি তান্ডব চালানোর ঘটনায় দুইটি তদন্ত কমিটি গঠিত হয়েছে। এছাড়া আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের যাবতীয় প্রস্তুতি নিচ্ছে পুলিশ।

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সালাহ্উদ্দিন শনিবার দুপুরে কক্সবাজারের ‘বীরশ্রেষ্ঠ রুহুল আমিন স্টেডিয়াম’ পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের এই তথ্য দেন।

এর আগে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সালাহ্উদ্দিন ও পুলিশ সুপার মোহাম্মদ সাইফউদ্দীন শাহীন সহ প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা স্টেডিয়াম ক্ষয়ক্ষতি পরিদর্শন করেন।

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সালাহ্উদ্দিন জানান, দুটি তদন্ত কমিটি করা হয়েছে। অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) এর নেতৃত্বে তিন সদস্যের কমিটি কাজ করবে হামলা ভাঙচুরের বিষয়ে, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট এর নেতৃত্বে তিন সদস্যের অন্য কমিটি কাজ করবে অতিরিক্ত টিকিট বিক্রি ও কালোবাজারির বিষয়ে।

জেলা প্রশাসক বলেন, ফুটবল টুর্ণামেন্টের ফাইনাল খেলাকে কেন্দ্র করে শুক্রবার বিকালে স্টেডিয়ামে অনাকাঙ্খিত ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় আইনশৃংখলা বাহিনীর সদস্যদের পাশাপাশি বেশ কয়েকজন আহত হয়েছে। উত্তেজিত দর্শকরা ভাংচুরের পাশাপাশি যে তান্ডব চালিয়েছে তার কারণ দ্রুত তদন্ত করে বের করবে তদন্ত কমিটি। এছাড়া এঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নিতে পুলিশকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

পাশাপাশি ঘটনায় ক্ষতক্ষতি নিরূপনে গণপূর্ত বিভাগকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বলে জানান জেলা প্রশাসক সালাহ্উদ্দিন।

এসময় পুলিশ সুপার মোহাম্মদ সাইফউদ্দীন শাহীন বলেন, এই ঘটনায় জেলা ক্রীড়া সংস্থা বা স্টেডিয়াম ব্যবস্থাপনা কমিটির পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত থানায় কোন ধরণের লিখিত অভিযোগ দেয়া হয়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে মামলা নথিভূক্ত করা হবে।

ধারণ ক্ষমতার বেশী দর্শক স্টেডিয়ামে প্রবেশ করেছিল এবং অনেকে টিকেট সংগ্রহ করেও ভিতরে ঢুকতে না পারায় দর্শকরা উত্তেজিত হয়ে এই তান্ডব চালিয়েছে বলে মনে করেন পুলিশ সুপার। তিনি বলেন, ঘটনার সময় অন্তত ৫০ হাজারের মত দর্শক স্টেডিয়ামের ভিতরে ছিল। এসময় টিকেট কেটে অসংখ্য দর্শকও ঢুকার জন্য স্টেডিয়ামের বাইরে অপেক্ষা করছিল।

তবে সমবেত দর্শকদের তুলনায় আইন শৃংখলা বাহিনীর সদস্যদের সংখ্যা অপ্রতুল ছিল জানিয়ে সাইফউদ্দীন শাহীন জানান, পুলিশ সহ অন্য বাহিনীর সদস্যরা সর্বোচ্চ ধর্য্যের পরীক্ষা দিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করেছে। যাতে কোনো প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি এবং বড় ধরণের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়ানো যায়।

এদিকে এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত (সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা) কোনো মামলা হয়নি বলে জানিয়েছেন কক্সবাজার সদর থানার ওসি মো. ইলিয়াস খান।

ইলিয়াস খান বলেন, পুলিশের উপর হামলার বিষয়েও মামলা হবে, তবে আমরা সামগ্রিক বিষয় নিরূপণ করেই এটি করবো।

কক্সবাজার বীরশ্রেষ্ঠ মোহাম্মদ রুহুল আমিন স্টেডিয়ামে গত ১ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হওয়া এই টুর্ণামেন্টের ফাইনাল খেলার ছিল শুক্রবার। রামু ও টেকনাফ উপজেলা একাদশের মধ্যে বেলা ৩ টায় ফাইনাল ম্যাচটি শুরু হওয়ার কথা ছিলো।

তবে খেলা শুরুর দেড় ঘণ্টা আগেই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। জুমার দিন হলেও বেলা ১১ থেকেই গ্যালারিতে প্রবেশ করে দর্শকরা।

দুপুর ২টার মধ্যেই ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত দর্শক প্রবেশ করে গ্যালারিতে। একপর্যায়ে উত্তেজিত দর্শকরা প্রবেশ গেইট ভেঙে মূল মাঠে ঢুকে পড়েন। মুহূর্তের মধ্যে পুরো মাঠ লোকে লোকারণ্য হয়ে যায়। মাঠের ভেতরে বিশৃঙ্খল পরিবেশ সৃষ্টি হয়।

মাঠের ভেতর থেকে দর্শকদের বের করতে সেনাবাহিনীসহ বিপুল পরিমাণ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত হন। এরপর বের করে দেয়া দর্শকেরা বাইরে থেকে হামলা শুরু করেন।

পরে সময় বিবেচনায় বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে খেলা স্থগিত করে আয়োজক কমিটি। এই ঘোষণা আসার পর মুহুর্তের মধ্যেই ফের মাঠে প্রবেশ করে হাজারো দর্শক। শুরু করে ব্যপক ভাঙচুর।

এসময় পুরো স্টেডিয়াম এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। ভাঙচুর করা হয় ড্রেসিং রুম, প্রেসবক্সসহ পুরো স্টেডিয়াম ভবন, উপড়ে ফেলা হয় মাঠের গোলপোস্ট।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ লাঠিপেটাও করেছে। এসময় কক্সবাজার সদর উপজেলার ইউএনও নিলুফার ইয়াসমিন চৌধুরী, সদর থানার ওসি (তদন্ত) ফারুক হোসেন, একাধিক পুলিশ ও আনসার বাহিনীর সদস্যসহ অন্তত ৫০ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।