ঢাকা ১১:৪৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬, ৩০ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
মানবপাচারের অভিযোগে প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ দেলোয়ার ও আক্তারের সীমিত জনবলেও তৎপর উখিয়া রেঞ্জ, বনউজাড় করতে গিয়ে ধরা পড়ল ২৬ রোহিঙ্গা বর্ষার আগেই শহরকে জলাবদ্ধতামুক্ত করতে মাঠ পর্যায়ে কঠোর অ্যাকশনে যাওয়ার নির্দেশ এমপি কাজলের টেকনাফ এখন ‘মৃত্যুপুরী’: সন্ত্রাস ও মাদক নির্মূলে যৌথ অভিযানের দাবিতে ছাত্র-জনতার মানববন্ধন টেকনাফে ৭.৬২ ক্যালিবার অস্ত্রসহ তিন ডাকাত আটক ৭ ইউনিয়ন নিয়ে নতুন ‘মাতামুহুরী’ উপজেলা গঠনের প্রস্তাব: প্রাক নিকার সভায় অন্তর্ভুক্ত প্রতারণার ফাঁদ ভাঙুন, মানব পাচার রুখুন সিএনজি তল্লাশিতে বিদেশি পিস্তল উদ্ধার, আটক ৩ লবণ মাঠে দূর্বৃত্তের তাণ্ডব,২ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি জামিনে মুক্ত হলেন বাউল শিল্পী আবুল সরকার বিয়ে করাটা ভুল সিদ্ধান্ত ছিল: অপু বিশ্বাস চৈত্র সংক্রান্তি: ইতিহাস, ঐতিহ্য ও বাঙালির সংস্কৃতির এক প্রাচীন ধারাবাহিকতা ইন্টারনেট সস্তা না হলে কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন সম্ভব নয় : বিটিআরসি চেয়ারম্যান ভোরে ফুল তুলতে যাওয়া বৃদ্ধকে জবাই করে হত্যা, অভিযুক্তের আত্মসমর্পণ বাংলা বছরের শেষদিন— চৈত্র সংক্রান্তি আজ

ডায়াবেটিক রোগীরা কি সব ফল খেতে পারবেন

  • টিটিএন ডেস্ক :
  • আপডেট সময় : ০৯:৪৭:৫২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২০ ডিসেম্বর ২০২৪
  • 296

আমাদের ধারণা, ডায়াবেটিস হলে সব পছন্দের খাবার বন্ধ, এমনকি ফলমূলও; বিষয়টা এমন নয়। ডায়াবেটিস হলে সাদা চিনি বা সরাসরি মিষ্টিজাতীয় খাবার ছাড়া সব খাবারই পরিমিত পরিমাণে খাওয়া যাবে। চিনি, গুড়, গ্লুকোজ, মধু, আখের রস, খেজুরের রস, তালের রস বা এসব দিয়ে তৈরি খাবার বাদে কিছু নিষেধ নয়।
একটা প্রশ্ন থাকে, ফল তো মিষ্টি, তাই তা খাওয়া ঠিক হবে কি না। অবশ্যই ফল বাছাই করা ও পরিমাণমতো খেতে শিখতে হবে। গ্লাইসেমিক ইনডেক্স কম ও ফাইবারসমৃদ্ধ ফল বরং উপকারী। সাধারণত যেসব ফলের গ্লাইসেমিক ইনডেক্স ৫৫–এর নিচে, সেগুলো ডায়াবেটিসবান্ধব বলা হয়। এ ফলগুলো পরিমিত পরিমাণে খেলে রক্তে শর্করা বৃদ্ধির সম্ভাবনা খুব কম। যেসব ফলের গ্লাইসেমিক ইনডেক্স ৫৬-৬৯ এর মধ্যে বা এর বেশি, সে ফলগুলোও হিসাব করে খাওয়া যাবে।

আপেলের গ্লাইসেমিক ইনডেক্স ৩৭, নাশপাতি ৩৮, লিচু ৫৫, পেয়ারা ২০, কমলা ৫৫, আমড়া ১৫, জাম্বুরা ২০, খুরমা ৪৫, কলা ৬০, আনারস ৬৭, তরমুজ ৭৮, খেজুর ৫৪, আঙুর ৬০। এসব গ্লাইসেমিক ইনডেক্সের মান ফলের মানভেদে কিছুটা কমবেশি হয়।
আবার গ্লাইসেমিক ইনডেক্সের পাশাপাশি গ্লাইসেমিক লোডও খেয়াল রাখতে হবে। যে ফলের গ্লাইসেমিক লোড কম, সে ফল ডায়াবেটিক রোগীদের জন্য বেশি উপযোগী। আমড়া, জাম্বুরা, আমলকী, জলপাই, কাঁচা পেয়ারা—এসব ফলের গ্লাইসেমিক ইনডেক্স ও গ্লাইসেমিক লোড অনেক কম। অপর দিকে আনারস, তরমুজ, আম, কাঠালের গ্লাইসেমিক ইনডেক্স ও গ্লাইসেমিক লোড উভয়ই বেশি। তাই এগুলো কম খেতে হবে। এ ছাড়া মাল্টা, কমলার গ্লাইসেমিক ইনডেক্স একটু বেশি হলেও লোড অনেক কম।

একজন ডায়াবেটিক রোগী প্রতিদিন ৭৫ কিলোক্যালরি পরিমাণ মিষ্টি ফল খেতে পারবেন। সেই হিসাবে এক দিনে ১১০ গ্রাম আপেল বা ২৫০ গ্রাম পাকা পেঁপে বা ১০০ গ্রাম লিচু বা ৭০ গ্রাম পাকা কলা বা ৭৫ গ্রাম আঙুর বা ১০০ গ্রাম পাকা কাঁঠাল বা ২৫০ গ্রাম তরমুজ বা ১৩০ গ্রাম আম বা ১৫০ গ্রাম নাশপাতি বা ১২০ গ্রাম মাল্টা বা ১০০ গ্রাম বেদানা খেতে পারবেন।

কিছু পরামর্শ

প্রধান খাবারের সঙ্গে কখনো মিষ্টি ফল খাওয়া যাবে না। মধ্য সকাল বা বিকেলে স্ন্যাক্স হিসেবে মিষ্টি ফল খেতে হবে। রাতের খাবারের পরও মিষ্টি ফল খাওয়া যাবে না।

ফল পটাশিয়ামের খুব ভালো উৎস। সে ক্ষেত্রে ডায়াবেটিসের পাশাপাশি কিডনির সমস্যা থাকলে কিছু বিধিনিষেধ মানতে হবে।

ফল জুস বানিয়ে খাওয়া যাবে না। ফলের জুস বানালে গ্লাইসেমিক ইনডেক্স অনেক বেড়ে যায়।

শরীরের ভিটামিন, মিনারেলসহ নানা পুষ্টি উপাদানের চাহিদা পূরণে তাজা ফলমূল খাওয়া ভালো। তবে একবারে বেশি খেলে হিতে বিপরীত হতে পারে। এ ব্যাপারে সঠিক পরামর্শ পেতে একজন বিশেষজ্ঞ পুষ্টিবিদের পরামর্শ নিতে পারেন।

মো. ইকবাল হোসেন, জ্যেষ্ঠ পুষ্টি কর্মকর্তা, চট্টগ্রাম ডায়াবেটিক জেনারেল হাসপাতাল

 

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

মানবপাচারের অভিযোগে প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ দেলোয়ার ও আক্তারের

ডায়াবেটিক রোগীরা কি সব ফল খেতে পারবেন

আপডেট সময় : ০৯:৪৭:৫২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২০ ডিসেম্বর ২০২৪

আমাদের ধারণা, ডায়াবেটিস হলে সব পছন্দের খাবার বন্ধ, এমনকি ফলমূলও; বিষয়টা এমন নয়। ডায়াবেটিস হলে সাদা চিনি বা সরাসরি মিষ্টিজাতীয় খাবার ছাড়া সব খাবারই পরিমিত পরিমাণে খাওয়া যাবে। চিনি, গুড়, গ্লুকোজ, মধু, আখের রস, খেজুরের রস, তালের রস বা এসব দিয়ে তৈরি খাবার বাদে কিছু নিষেধ নয়।
একটা প্রশ্ন থাকে, ফল তো মিষ্টি, তাই তা খাওয়া ঠিক হবে কি না। অবশ্যই ফল বাছাই করা ও পরিমাণমতো খেতে শিখতে হবে। গ্লাইসেমিক ইনডেক্স কম ও ফাইবারসমৃদ্ধ ফল বরং উপকারী। সাধারণত যেসব ফলের গ্লাইসেমিক ইনডেক্স ৫৫–এর নিচে, সেগুলো ডায়াবেটিসবান্ধব বলা হয়। এ ফলগুলো পরিমিত পরিমাণে খেলে রক্তে শর্করা বৃদ্ধির সম্ভাবনা খুব কম। যেসব ফলের গ্লাইসেমিক ইনডেক্স ৫৬-৬৯ এর মধ্যে বা এর বেশি, সে ফলগুলোও হিসাব করে খাওয়া যাবে।

আপেলের গ্লাইসেমিক ইনডেক্স ৩৭, নাশপাতি ৩৮, লিচু ৫৫, পেয়ারা ২০, কমলা ৫৫, আমড়া ১৫, জাম্বুরা ২০, খুরমা ৪৫, কলা ৬০, আনারস ৬৭, তরমুজ ৭৮, খেজুর ৫৪, আঙুর ৬০। এসব গ্লাইসেমিক ইনডেক্সের মান ফলের মানভেদে কিছুটা কমবেশি হয়।
আবার গ্লাইসেমিক ইনডেক্সের পাশাপাশি গ্লাইসেমিক লোডও খেয়াল রাখতে হবে। যে ফলের গ্লাইসেমিক লোড কম, সে ফল ডায়াবেটিক রোগীদের জন্য বেশি উপযোগী। আমড়া, জাম্বুরা, আমলকী, জলপাই, কাঁচা পেয়ারা—এসব ফলের গ্লাইসেমিক ইনডেক্স ও গ্লাইসেমিক লোড অনেক কম। অপর দিকে আনারস, তরমুজ, আম, কাঠালের গ্লাইসেমিক ইনডেক্স ও গ্লাইসেমিক লোড উভয়ই বেশি। তাই এগুলো কম খেতে হবে। এ ছাড়া মাল্টা, কমলার গ্লাইসেমিক ইনডেক্স একটু বেশি হলেও লোড অনেক কম।

একজন ডায়াবেটিক রোগী প্রতিদিন ৭৫ কিলোক্যালরি পরিমাণ মিষ্টি ফল খেতে পারবেন। সেই হিসাবে এক দিনে ১১০ গ্রাম আপেল বা ২৫০ গ্রাম পাকা পেঁপে বা ১০০ গ্রাম লিচু বা ৭০ গ্রাম পাকা কলা বা ৭৫ গ্রাম আঙুর বা ১০০ গ্রাম পাকা কাঁঠাল বা ২৫০ গ্রাম তরমুজ বা ১৩০ গ্রাম আম বা ১৫০ গ্রাম নাশপাতি বা ১২০ গ্রাম মাল্টা বা ১০০ গ্রাম বেদানা খেতে পারবেন।

কিছু পরামর্শ

প্রধান খাবারের সঙ্গে কখনো মিষ্টি ফল খাওয়া যাবে না। মধ্য সকাল বা বিকেলে স্ন্যাক্স হিসেবে মিষ্টি ফল খেতে হবে। রাতের খাবারের পরও মিষ্টি ফল খাওয়া যাবে না।

ফল পটাশিয়ামের খুব ভালো উৎস। সে ক্ষেত্রে ডায়াবেটিসের পাশাপাশি কিডনির সমস্যা থাকলে কিছু বিধিনিষেধ মানতে হবে।

ফল জুস বানিয়ে খাওয়া যাবে না। ফলের জুস বানালে গ্লাইসেমিক ইনডেক্স অনেক বেড়ে যায়।

শরীরের ভিটামিন, মিনারেলসহ নানা পুষ্টি উপাদানের চাহিদা পূরণে তাজা ফলমূল খাওয়া ভালো। তবে একবারে বেশি খেলে হিতে বিপরীত হতে পারে। এ ব্যাপারে সঠিক পরামর্শ পেতে একজন বিশেষজ্ঞ পুষ্টিবিদের পরামর্শ নিতে পারেন।

মো. ইকবাল হোসেন, জ্যেষ্ঠ পুষ্টি কর্মকর্তা, চট্টগ্রাম ডায়াবেটিক জেনারেল হাসপাতাল