ঢাকা ০২:২৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৬ মার্চ ২০২৬, ২১ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
চট্টগ্রামে দরবেশকাটা সমিতির দোয়া ও ইফতার মাহফিল রাশিয়ার ফাঁদে ট্রাম্প! মধ্যপ্রাচ্যের নতুন ‘বাদশা’ ইরান? কলাতলীর সংঘর্ষের কারণ কি? সেন্ট মার্টিনের কাছে ধরা পড়ল পাঁচ মণ ওজনের বোল মাছ, বিক্রি ২ লাখ ৫৫ হাজার টাকায় রো‌হিঙ্গা‌দের ২৬ লাখ মার্কিন ডলারের সহায়তা দি‌চ্ছে জাপান নিজের পুরস্কার উৎসর্গ করলেন দর্শকদের উখিয়া–টেকনাফ জাতীয়তাবাদী ছাত্র ফোরামের ইফতার ও দোয়া মাহফিল সাবেক এমপি আবদুর রহমান বদির জামিন স্থগিত ঘুষের টাকা ফেরত চাওয়ায় মা-মেয়েকে মারধর, পরে ১ মাসের জেল রামুতে সংবাদ সংগ্রহকালে ডাকাত মালেকের হামলায় ৪ সাংবাদিক আহত উখিয়ার থাইংখালীতে পাহাড় কেটে সাবাড়, ড্রাম ট্রাক আটক মাদকের বিরুদ্ধে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নির্দেশনা- ইয়াবা ও দুই সঙ্গীসহ পুলিশের জালে যুবদল নেতা সাংবাদিক আনিস আলমগীরের হাইকোর্টে জামিন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হওয়ার পর প্রথমবার কক্সবাজারে আসছেন সালাহউদ্দিন আহমদ খালেদা জিয়াসহ যারা পাচ্ছেন ‘স্বাধীনতা পুরস্কার’

জেলা শহরের সাথে দুরত্ব কমবে ২৭ কিলোমিটার: ভারুয়াখালী সেতুর কাজ শেষ হবে কবে?

পেরিয়ে গেছে ৪ বছর। এখনও শেষ হয়নি কক্সবাজার সদর উপজেলার খুরুশকুল–ভারুয়াখালী সংযোগ সেতুর নির্মান কাজ।

ভূমি অধিগ্রহণের জটিলতা, নির্মাণকাজের ধীরগতির কারণে জনগুরুত্বপূর্ণ এ সেতুটির কাজ ঝুলে আছে। অথচ সেতুটির নির্মাণকাজ সম্পন্ন হলে জেলা শহরে যেতে মাত্র নয় কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে হবে যেখানে এখন যেতে হয় ৩৬ কিলোমিটার পথ। অর্থাৎ ২৭ কিলোমটার পথের দুরত্ব কমবে। সাশ্রয় হবে অর্থ ও সময়ের।

প্রকল্পের মেয়াদ কয়েক দফা বাড়লেও কাজের নেই গতি। এ নিয়ে দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় কাজে ছোট ডিঙ্গি নৌকায় জীবন ঝুঁকিতে নদী পার হতে হয় প্রায় ২ লক্ষ মানুষের।

তবে প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ভূমি অধিগ্রহণসহ নানা জটিলতার কারণে প্রকল্পের মেয়াদ দুই দফা বাড়াতে হয়েছে। এখনো এই সংকট কাটেনি। এতে নির্মাণকাজে ধীরগতি এসেছে। চেষ্টা চলছে দ্রুত নির্মাণকাজ শেষ করার।

২০১৭ সালের ১০ জানুয়ারি একনেকে অনুমোদন পায় ৩৯২ মিটার দৈর্ঘ্য এই সেতুটির নির্মান প্রকল্প। দুই দফা দরপত্র আহ্বানের পর ২০২১ সালের জানুয়ারিতে নির্মাণকাজ শুরু করে তমা কনস্ট্রাকশন ও এম এ জাহের (জেবি) লিমিটেড নামের প্রতিষ্ঠান। চুক্তি অনুযায়ী, ৩৬ কোটি ২৮ লাখ টাকায় ২০২৩ সালের জানুয়ারিতে কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু প্রকল্পের মেয়াদকাল দুই দফা বাড়ানোর পরও দীর্ঘ প্রায় ৪ বছরে নির্মাণকাজ সম্পন্ন হয়নি। তাছাড়া আশানুরূপ নয় কাজের অগ্রগতিও। এতে সংযোগ সেতুটির দুই পাড়ের ২ লক্ষাধিক মানুষের নিত্য দুর্ভোগ বেড়েই চলছে। আর জোয়ারি খালটি পারাপার করতে গিয়ে প্রতিনিয়ত ঘটছে ছোটখাট নানা দুর্ঘটনাও। এ নিয়ে স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত সময়ের মধ্যে সেতুটির নির্মাণকাজ শেষ করার। ইতিমধ্যে স্থানীয়ভাবে মানববন্ধন ও পদযাত্রা সহ কয়েকটি কর্মসূচীও পালন করেছে স্থানীয়রা। ভারুয়াখালীর ৯ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য ফজলুল হক বলেন, এ অঞ্চলের মানুষের প্রাণের দাবী ছিলো এ সেতু। এ সেতু নির্মিত হলে এই এলাকার মানুষের ভাগ্য বদলে যাবে। তাই সেতুর কাজ দ্রুত শেষ না হলে এলাকার মানুষ কঠোর আন্দোলনে যাবে।

প্রকল্প সংশ্লিষ্টদের তথ্য মতে , প্রকল্পের নকশা অনুযায়ী- সেতুটির মোট ১৩টি স্প্যান বসানোর কথা। ইতিমধ্যে ৮টি স্প্যান বসানো হয়েছে। তবে মূল খালের ওপর স্প্যান বসানোর কাজ এখনো শুরু হয়নি। সেতুটির সম্পূর্ণ নির্মাণকাজ কবে শেষ হবে সেটার সম্ভাব্য সময়ও বলতে পারছেন না প্রকল্প সংশ্লিষ্ট কেউ।

এদিকে কাজের অগ্রগতি পরিদর্শনে প্রকল্পস্থলে গেলে দেখা যায়-সেতুর একাংশে কাজ করছে অল্প কয়েকজন শ্রমিক। এসময় নির্মাণকাজের ধীরগতির বিষয়ে জানতে চাইলে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি আনিসুর রহমান প্রকল্পস্থলে উপস্থিত থাকলেও কথা বলতে রাজি হননি।

অন্যদিকে কাজের ধীরগতির জন্য ভূমি অধিগ্রহণের জটিলতা সহ নানা সংকটের কথা তুলে ধরলেও ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের অবহেলার বিষয়টি এড়িয়ে যান প্রকল্প সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মকর্তারা।

এ নিয়ে সাংবাদিকেরা যোগাযোগ করলে এলজিইডির সদর উপজেলা প্রকৌশলী আল মঈন শাহরিয়ার বলেন, সঠিক সময়ে প্রকল্পের বরাদ্দকৃত টাকা না আসা, ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের নির্মাণ সামগ্রী চুরি এবং বৈরী আবহাওয়া কাজের ধীরগতি জন্য দায়ী।

তিনি বলেন, গত ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মালিক ও কুমিল্লা–০৫ আসনের সাবেক এমপি এম এ জাহের আত্মগোপনে যাওয়ার পর থেকেই প্রকল্পে চরম স্থবিরতা নেমে এসেছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে জমি অধিগ্রহণের জটিলতাও।

প্রকল্পের বর্ধিত মেয়াদ ডিসেম্বরে শেষ হবে।এর মধ্যে কাজ শেষ হবে এমন নিশ্চয়তা দিতে পারছেনা প্রকল্প সংশ্লীষ্টরা। এদিকে নির্দিষ্ট মেয়াদে কাজ শেষ না হলে বৃহত্তর আন্দোলনের কর্মসূচী দেবে বলে হুঁশিয়ারী দিয়েছেন স্থানীয়রা।

ট্যাগ :

জেলা শহরের সাথে দুরত্ব কমবে ২৭ কিলোমিটার: ভারুয়াখালী সেতুর কাজ শেষ হবে কবে?

আপডেট সময় : ০৬:৪৫:২০ অপরাহ্ন, রবিবার, ৯ নভেম্বর ২০২৫

পেরিয়ে গেছে ৪ বছর। এখনও শেষ হয়নি কক্সবাজার সদর উপজেলার খুরুশকুল–ভারুয়াখালী সংযোগ সেতুর নির্মান কাজ।

ভূমি অধিগ্রহণের জটিলতা, নির্মাণকাজের ধীরগতির কারণে জনগুরুত্বপূর্ণ এ সেতুটির কাজ ঝুলে আছে। অথচ সেতুটির নির্মাণকাজ সম্পন্ন হলে জেলা শহরে যেতে মাত্র নয় কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে হবে যেখানে এখন যেতে হয় ৩৬ কিলোমিটার পথ। অর্থাৎ ২৭ কিলোমটার পথের দুরত্ব কমবে। সাশ্রয় হবে অর্থ ও সময়ের।

প্রকল্পের মেয়াদ কয়েক দফা বাড়লেও কাজের নেই গতি। এ নিয়ে দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় কাজে ছোট ডিঙ্গি নৌকায় জীবন ঝুঁকিতে নদী পার হতে হয় প্রায় ২ লক্ষ মানুষের।

তবে প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ভূমি অধিগ্রহণসহ নানা জটিলতার কারণে প্রকল্পের মেয়াদ দুই দফা বাড়াতে হয়েছে। এখনো এই সংকট কাটেনি। এতে নির্মাণকাজে ধীরগতি এসেছে। চেষ্টা চলছে দ্রুত নির্মাণকাজ শেষ করার।

২০১৭ সালের ১০ জানুয়ারি একনেকে অনুমোদন পায় ৩৯২ মিটার দৈর্ঘ্য এই সেতুটির নির্মান প্রকল্প। দুই দফা দরপত্র আহ্বানের পর ২০২১ সালের জানুয়ারিতে নির্মাণকাজ শুরু করে তমা কনস্ট্রাকশন ও এম এ জাহের (জেবি) লিমিটেড নামের প্রতিষ্ঠান। চুক্তি অনুযায়ী, ৩৬ কোটি ২৮ লাখ টাকায় ২০২৩ সালের জানুয়ারিতে কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু প্রকল্পের মেয়াদকাল দুই দফা বাড়ানোর পরও দীর্ঘ প্রায় ৪ বছরে নির্মাণকাজ সম্পন্ন হয়নি। তাছাড়া আশানুরূপ নয় কাজের অগ্রগতিও। এতে সংযোগ সেতুটির দুই পাড়ের ২ লক্ষাধিক মানুষের নিত্য দুর্ভোগ বেড়েই চলছে। আর জোয়ারি খালটি পারাপার করতে গিয়ে প্রতিনিয়ত ঘটছে ছোটখাট নানা দুর্ঘটনাও। এ নিয়ে স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত সময়ের মধ্যে সেতুটির নির্মাণকাজ শেষ করার। ইতিমধ্যে স্থানীয়ভাবে মানববন্ধন ও পদযাত্রা সহ কয়েকটি কর্মসূচীও পালন করেছে স্থানীয়রা। ভারুয়াখালীর ৯ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য ফজলুল হক বলেন, এ অঞ্চলের মানুষের প্রাণের দাবী ছিলো এ সেতু। এ সেতু নির্মিত হলে এই এলাকার মানুষের ভাগ্য বদলে যাবে। তাই সেতুর কাজ দ্রুত শেষ না হলে এলাকার মানুষ কঠোর আন্দোলনে যাবে।

প্রকল্প সংশ্লিষ্টদের তথ্য মতে , প্রকল্পের নকশা অনুযায়ী- সেতুটির মোট ১৩টি স্প্যান বসানোর কথা। ইতিমধ্যে ৮টি স্প্যান বসানো হয়েছে। তবে মূল খালের ওপর স্প্যান বসানোর কাজ এখনো শুরু হয়নি। সেতুটির সম্পূর্ণ নির্মাণকাজ কবে শেষ হবে সেটার সম্ভাব্য সময়ও বলতে পারছেন না প্রকল্প সংশ্লিষ্ট কেউ।

এদিকে কাজের অগ্রগতি পরিদর্শনে প্রকল্পস্থলে গেলে দেখা যায়-সেতুর একাংশে কাজ করছে অল্প কয়েকজন শ্রমিক। এসময় নির্মাণকাজের ধীরগতির বিষয়ে জানতে চাইলে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি আনিসুর রহমান প্রকল্পস্থলে উপস্থিত থাকলেও কথা বলতে রাজি হননি।

অন্যদিকে কাজের ধীরগতির জন্য ভূমি অধিগ্রহণের জটিলতা সহ নানা সংকটের কথা তুলে ধরলেও ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের অবহেলার বিষয়টি এড়িয়ে যান প্রকল্প সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মকর্তারা।

এ নিয়ে সাংবাদিকেরা যোগাযোগ করলে এলজিইডির সদর উপজেলা প্রকৌশলী আল মঈন শাহরিয়ার বলেন, সঠিক সময়ে প্রকল্পের বরাদ্দকৃত টাকা না আসা, ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের নির্মাণ সামগ্রী চুরি এবং বৈরী আবহাওয়া কাজের ধীরগতি জন্য দায়ী।

তিনি বলেন, গত ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মালিক ও কুমিল্লা–০৫ আসনের সাবেক এমপি এম এ জাহের আত্মগোপনে যাওয়ার পর থেকেই প্রকল্পে চরম স্থবিরতা নেমে এসেছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে জমি অধিগ্রহণের জটিলতাও।

প্রকল্পের বর্ধিত মেয়াদ ডিসেম্বরে শেষ হবে।এর মধ্যে কাজ শেষ হবে এমন নিশ্চয়তা দিতে পারছেনা প্রকল্প সংশ্লীষ্টরা। এদিকে নির্দিষ্ট মেয়াদে কাজ শেষ না হলে বৃহত্তর আন্দোলনের কর্মসূচী দেবে বলে হুঁশিয়ারী দিয়েছেন স্থানীয়রা।