ঢাকা ০২:৫১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬, ৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
এই শোক শেষ হবার নয়: সাংবাদিক আতাহার ইকবালের বিদায় বিদ্যুৎস্পৃষ্টে ডাম্পার চালকের মৃত্যু লামায় বোনের পালিয়ে বিয়ে:ভাইয়ের গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা বন্যাদুর্গত কক্সবাজারসহ ৫ জেলায় তিন মাসের জন্য ক্ষুদ্রঋণের কিস্তি আদায় স্থগিত নৈতিক স্খলনের দায়ে গাজী নজরুল ইসলাম জামায়াত থেকে বহিষ্কার ইউপি চেয়ারম্যানের শিক্ষাগত যোগ্যতা নির্ধারণে হাইকোর্টে রুল লামায় ভাড়াবাসা থেকে যুবকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার সন্ধ্যার মধ্যে যেসব জেলায় ঝড়ের আভাস টেকনাফের ‘জাফর চেয়ারম্যান’ দুনীর্তির দায়ে ৭ বছরের সাজা নিয়ে কারাগারে ফাইনালের পর কাতারে আবারও মুখোমুখি হতে পারে স্পেন-আর্জেন্টিনা ফ্রান্সে ১৫ বছরের কম বয়সীদের সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার নিষিদ্ধে আইন পাস বাংলাদেশ আইনগত সহায়তা অধিদপ্তরের স্পেশাল মিডিয়েটর হিসাবে নিয়োগ পেলেন অ্যাডভোকেট মোঃ শাহা আলম রাজা পালংয়ের প্রয়াত জননেতা শেখ শাহাবুদ্দিনের সহধর্মিণীর মৃত্যু : জানাজা বুধবার পেকুয়ায় দুর্বৃত্তের দেয়া আগুনে পুড়লো আমজাদের ড্রাম ট্রাক জেলা পুলিশের বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি
ওয়ার্ল্ড ভিশনের জরিপ

চাকরি বেশি করেন উখিয়ার মেয়েরা

  • আফজারা রিয়া
  • আপডেট সময় : ০৭:৫২:০৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৭ অগাস্ট ২০২৫
  • 1219

কক্সবাজার জেলার উখিয়া উপজেলায় নারীদের কর্মসংস্থানে অংশগ্রহণের হার অন্যান্য উপজেলাগুলোর তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। এমন চিত্র উঠে এসেছে সাম্প্রতিক এক গবেষণা প্রতিবেদনে। স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থার বিভিন্ন কর্মসূচি, বিশেষ করে রোহিঙ্গা শরণার্থী ইস্যুকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা এনজিও কার্যক্রম, উখিয়ার নারীদের জন্য খুলে দিয়েছে চাকরির নতুন দরজা। ফলে একদিকে যেমন বেড়েছে নারীদের অর্থনৈতিক সক্ষমতা, অন্যদিকে বদলে যাচ্ছে পরিবার ও সমাজে নারীর ভূমিকার ধারণা।

আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা ওয়ার্ল্ড ভিশনের শিশু সুরক্ষা নেট প্রকল্পের আওতায় একটি গবেষণা সংস্থা ‘সেন্টার ফর কোয়ালিটেটিভ রিসার্চ’ সাম্প্রতিক একটি জরিপ চালিয়েছে কক্সবাজারের সদর, রামু, উখিয়া ও টেকনাফ উপজেলায়। জরিপের পরিসংখ্যানে জেলার বিভিন্ন এলাকার নারীদের অবস্থা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উঠে এসেছে।

প্রচলিত প্রথা ধীরে ধীরে পরিবর্তন হচ্ছে। জেলায় বর্তমানে ৭৫% নারী আত্মপরিচয় তৈরি করতে পেরেছে। তারা বিভিন্ন চাকরি ও কাজের মাধ্যমে আত্মনির্ভরশীল হয়ে উঠছে। কর্মক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি এগিয়ে উখিয়া উপজেলার নারীরা। এই উপজেলায় ৪২.৩% নারী স্বাবলম্বী হয়েছেন। অপরদিকে, সবচেয়ে পিছিয়ে রয়েছে কক্সবাজার সদর, যেখানে এই হার মাত্র ৯.৯%।

কিন্তু নারীর ক্ষমতায়নের ক্ষেত্রে ভিন্ন চিত্র দেখা গেছে প্রতিবেদনে। গৃহস্থালি ও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণে সবচেয়ে এগিয়ে কক্সবাজার সদরের নারীরা। এখানে নারীদের সিদ্ধান্ত গ্রহণে অংশগ্রহণের হার ৮১%। বিপরীতে, কর্মজীবনে এগিয়ে থাকলেও উখিয়ার নারীরা সিদ্ধান্ত গ্রহণে পিছিয়ে, যার হার মাত্র ৫০%।

অন্যদিকে লিঙ্গ সমতা বিষয়ে সচেতনতা এখনও অনেক কম। কেবল ৮% নারী ও পুরুষ লিঙ্গ সমতাকে সমর্থন করে। শিশু সুরক্ষার বিষয়ে জেলায় মোট সচেতনতা মাত্র ২৯.৭%, যেখানে পুরুষরা সবচেয়ে বেশি জানে, আর সবচেয়ে কম জানেন প্রাপ্তবয়স্ক নারীরা।

ওয়ার্ল্ড ভিশনের শিশু সুরক্ষা নেট প্রকল্পের এই পরিসংখ্যানগুলো কক্সবাজারের নারী উন্নয়ন ও সামাজিক বাস্তবতা উপলব্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

উখিয়ার নারীদের এগিয়ে যাওয়া নিয়ে নারী অধিকার কর্মী ও আইনজীবী প্রতিভা দাশ বলেন, কক্সবাজারের সীমান্তঘেঁষা উপজেলা উখিয়ায় ঘটে যাচ্ছে নীরব এক সামাজিক বিপ্লব। এই অঞ্চলের নারীরা আগের চেয়ে অনেক বেশি হারে চাকরিতে যুক্ত হচ্ছেন, যা দেশের অন্যান্য অনগ্রসর এলাকার তুলনায় এক ব্যতিক্রমী দৃষ্টান্ত।

প্রতিভা দাশ বলেন, “এক সময় যারা চার দেয়ালের বাইরে পা রাখতেন না, আজ তারাই সংসারের ভরসা হয়ে উঠছেন- আত্মবিশ্বাসী মুখগুলো যেন বলছে, “আমরাও পারি।”

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

এই শোক শেষ হবার নয়: সাংবাদিক আতাহার ইকবালের বিদায়

ওয়ার্ল্ড ভিশনের জরিপ

চাকরি বেশি করেন উখিয়ার মেয়েরা

আপডেট সময় : ০৭:৫২:০৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৭ অগাস্ট ২০২৫

কক্সবাজার জেলার উখিয়া উপজেলায় নারীদের কর্মসংস্থানে অংশগ্রহণের হার অন্যান্য উপজেলাগুলোর তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। এমন চিত্র উঠে এসেছে সাম্প্রতিক এক গবেষণা প্রতিবেদনে। স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থার বিভিন্ন কর্মসূচি, বিশেষ করে রোহিঙ্গা শরণার্থী ইস্যুকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা এনজিও কার্যক্রম, উখিয়ার নারীদের জন্য খুলে দিয়েছে চাকরির নতুন দরজা। ফলে একদিকে যেমন বেড়েছে নারীদের অর্থনৈতিক সক্ষমতা, অন্যদিকে বদলে যাচ্ছে পরিবার ও সমাজে নারীর ভূমিকার ধারণা।

আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা ওয়ার্ল্ড ভিশনের শিশু সুরক্ষা নেট প্রকল্পের আওতায় একটি গবেষণা সংস্থা ‘সেন্টার ফর কোয়ালিটেটিভ রিসার্চ’ সাম্প্রতিক একটি জরিপ চালিয়েছে কক্সবাজারের সদর, রামু, উখিয়া ও টেকনাফ উপজেলায়। জরিপের পরিসংখ্যানে জেলার বিভিন্ন এলাকার নারীদের অবস্থা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উঠে এসেছে।

প্রচলিত প্রথা ধীরে ধীরে পরিবর্তন হচ্ছে। জেলায় বর্তমানে ৭৫% নারী আত্মপরিচয় তৈরি করতে পেরেছে। তারা বিভিন্ন চাকরি ও কাজের মাধ্যমে আত্মনির্ভরশীল হয়ে উঠছে। কর্মক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি এগিয়ে উখিয়া উপজেলার নারীরা। এই উপজেলায় ৪২.৩% নারী স্বাবলম্বী হয়েছেন। অপরদিকে, সবচেয়ে পিছিয়ে রয়েছে কক্সবাজার সদর, যেখানে এই হার মাত্র ৯.৯%।

কিন্তু নারীর ক্ষমতায়নের ক্ষেত্রে ভিন্ন চিত্র দেখা গেছে প্রতিবেদনে। গৃহস্থালি ও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণে সবচেয়ে এগিয়ে কক্সবাজার সদরের নারীরা। এখানে নারীদের সিদ্ধান্ত গ্রহণে অংশগ্রহণের হার ৮১%। বিপরীতে, কর্মজীবনে এগিয়ে থাকলেও উখিয়ার নারীরা সিদ্ধান্ত গ্রহণে পিছিয়ে, যার হার মাত্র ৫০%।

অন্যদিকে লিঙ্গ সমতা বিষয়ে সচেতনতা এখনও অনেক কম। কেবল ৮% নারী ও পুরুষ লিঙ্গ সমতাকে সমর্থন করে। শিশু সুরক্ষার বিষয়ে জেলায় মোট সচেতনতা মাত্র ২৯.৭%, যেখানে পুরুষরা সবচেয়ে বেশি জানে, আর সবচেয়ে কম জানেন প্রাপ্তবয়স্ক নারীরা।

ওয়ার্ল্ড ভিশনের শিশু সুরক্ষা নেট প্রকল্পের এই পরিসংখ্যানগুলো কক্সবাজারের নারী উন্নয়ন ও সামাজিক বাস্তবতা উপলব্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

উখিয়ার নারীদের এগিয়ে যাওয়া নিয়ে নারী অধিকার কর্মী ও আইনজীবী প্রতিভা দাশ বলেন, কক্সবাজারের সীমান্তঘেঁষা উপজেলা উখিয়ায় ঘটে যাচ্ছে নীরব এক সামাজিক বিপ্লব। এই অঞ্চলের নারীরা আগের চেয়ে অনেক বেশি হারে চাকরিতে যুক্ত হচ্ছেন, যা দেশের অন্যান্য অনগ্রসর এলাকার তুলনায় এক ব্যতিক্রমী দৃষ্টান্ত।

প্রতিভা দাশ বলেন, “এক সময় যারা চার দেয়ালের বাইরে পা রাখতেন না, আজ তারাই সংসারের ভরসা হয়ে উঠছেন- আত্মবিশ্বাসী মুখগুলো যেন বলছে, “আমরাও পারি।”