ঢাকা ০১:৪১ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ২৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
লামায় স্কুলে যাওয়ার পথে নিখোঁজ ৩ কিশোরী, তিন দিনেও মেলেনি সন্ধান ঢাকা-রিয়াদ রুটে ৮৬ ফ্লাইট বাতিল, ভোগান্তিতে সাড়ে ১৩ হাজার যাত্রী চাকরিতে অর্জিত পদোন্নতির অধিকার কেড়ে নেওয়া যাবে না: হাইকোর্ট বিশ্ববাজারে আবারও বেড়েছে জ্বালানি তেলের দাম হিমছড়ির বেস্ট ওয়েস্টার্ন প্লাস ও সাম্পান ক্যাফেতে অভিযান, ৮০ হাজার টাকা জরিমানা কুতুবদিয়ায় আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবস পালিত সুগন্ধা পয়েন্টে অভিযান: মোবাইল কোর্টে ১৩ মাদকসেবীর বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দুই দিনের সরকারি সফরে কক্সবাজারে পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকি ঈদগাঁও আলমাছিয়া মাদ্রাসায় ফাজিল পরীক্ষার্থীদের বিদায় সংবর্ধনা কক্সবাজারে অনুষ্ঠিত জাতীয় ক্রিকেট লীগে জয় পেয়েছে চট্টগ্রাম বিভাগ পেকুয়ায় সৌদি ভিসার প্রলোভনে ৪ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ, মা-ছেলের বিরুদ্ধে জিডি পুজা মণ্ডপ পরিদর্শনে জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার- দুর্গাপূজা উদযাপনে সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস এবার ডুবন্ত কনটেইনারে ইয়াবা পাচার, আটক ৩ : উদ্ধার ২ লাখ ২০ হাজার ইয়াবা লেখাপড়ার পাশাপাশি ক্রীড়া, সাহিত্য -সাংস্কৃতিক কার্যক্রমে অংশগ্রহণ বাড়াতে হবে- ড.মোহাম্মদ ছরওয়ার আলম কলিম উল্লাহ শিকদারের ইন্তেকালে এমপি লুৎফুর রহমান কাজলের শোক

চাকরিতে অর্জিত পদোন্নতির অধিকার কেড়ে নেওয়া যাবে না: হাইকোর্ট

চাকরিতে প্রবেশের সময় কোনও কর্মকর্তা বা কর্মচারী যে অধিকার ও পদোন্নতির যোগ্যতা থাকে, পরবর্তীতে প্রবিধানমালা বা বিধি সংশোধন করে তা কেড়ে নেওয়া যাবে না বলে রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট।

রায়ে হাইকোর্ট বলেছেন, যুগের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে চাকরির প্রবিধানমালা সংশোধন করার পূর্ণ ক্ষমতা কর্তৃপক্ষের থাকলেও, তা কোনোভাবেই ভূতাপেক্ষভাবে কার্যকর দেখিয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আগের অর্জিত আইনি সুবিধা-অধিকার কেড়ে নেওয়া যাবে না।

মোহাম্মদ কামরুজ্জামান তালুকদার ও অন্যান্য বনাম রাষ্ট্র মামলায় এমন রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট।

বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের উপসহকারী প্রকৌশলী (সিভিল) পদে কর্মরত সাত জনের কর্মচারীর পদোন্নতি-সংক্রান্ত বিরোধ সংক্রান্ত রিট আবেদন নিষ্পত্তি করে বিচারপতি খিজির আহমেদ চৌধুরী ও বিচারপতি এ. এফ. এম সাইফুল করিমের হাইকোর্ট বেঞ্চ গত ১৯ আগস্ট এই রায় দিয়েছেন। ১৭ পৃষ্ঠার ওই রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি সম্প্রতি সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে। আদালতের মূল রায়টি লিখেছেন বিচারপতি এ. এফ. এম সাইফুল করিম।

আদালতে রিটকারীদের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী এস.আর.এম. লুৎফর রহমান আখন্দ। অন্যদিকে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বারি) পক্ষে ছিলেন আইনজীবী কবির ইকবাল হোসেন। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মাহফুজ বিন ইউসুফ ও আক্তার হোসেন মো. আবদুল ওহাব।

প্রকাশিত রায় পর্যালোচনায় দেখা যায়, ২০০৪ থেকে ২০১৫ সালের মধ্যে মুহাম্মদ কামরুজ্জামান তালুকদারসহ মোট সাত জন উপ-সহকারী প্রকৌশলী (সিভিল) পদে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটে (বারি) যোগদান করেন এবং পরবর্তীতে তাদের চাকরি স্থায়ীকরণ করা হয়। তৎকালীন ‘বারি প্রবিধানমালা, ২০১১’ অনুযায়ী, ফিডার পদে পাঁচ বছর চাকরি সম্পন্ন করার পর উপ-সহকারী প্রকৌশলী (সিভিল) থেকে সহকারী প্রকৌশলী (সিভিল) পদে শতভাগ পদোন্নতির বিধান ছিল। রিট আবেদনকারী সাত জন প্রকৌশলীই ২০২১ সালের আগেই প্রবিধানমালা অনুযায়ী পদোন্নতির জন্য নির্ধারিত পাঁচ বছরের চাকরির অভিজ্ঞতা ও যোগ্যতা অর্জন করেন।

তবে ২০২১ সালের ৯ মার্চ সরকার ‘বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট প্রবিধানমালা, ২০২১’ গেজেটে আকারে প্রকাশ করে। নতুন এই প্রবিধানমালার ৩২ নম্বর ক্রমিকে সহকারী প্রকৌশলী (সিভিল) পদটি শতভাগ পদোন্নতির পরিবর্তে ৩৩ শতাংশ পদোন্নতি এবং ৬৭ শতাংশ সরাসরি নিয়োগের মাধ্যমে পূরণের বিধান করা হয়। বিপরীতে ইলেকট্রিক্যাল ও মেকানিক্যাল শাখার উপ-সহকারী প্রকৌশলীদের পদোন্নতির শতভাগ কোটা অপরিবর্তিত রাখা হয়।

নতুন এই প্রবিধানমালার ফলে পদোন্নতির অর্জিত অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়ে রিট আবেদনকারীরা ২০২১ সালে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন।

ওই রিটের প্রাথমিক শুনানি শেষে আদালত রুল জারি করেন।

শুনানিকালে রিট আবেদনকারীদের আইনজীবী এস.আর.এম. লুৎফর রহমান আখন্দ আদালতে তুলে ধরেন যে, ২০২১ সালের সংশোধিত প্রবিধানমালা কার্যকর হওয়ার আগেই তার মক্কেলগণ পদোন্নতির সকল শর্ত পূরণ করে অধিকার অর্জন করেছিলেন। তাই পরবর্তী সংশোধনের মাধ্যমে তাদের প্রতিকূলে পদোন্নতির সুযোগ সংকুচিত করা আইনত বেআইনি ও বৈষম্যমূলক।

অন্যদিকে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বারি) পক্ষের আইনজীবী কবির ইকবাল হোসেন যুক্তি দেন, ২০১১ সালের প্রবিধানমালা রহিত করে ২০২১ সালের প্রবিধানমালা প্রবর্তন করা হয়েছে। রহিত প্রবিধানের অধীনে কেউ পদোন্নতি দাবি করতে পারেন না এবং ভালো সেবা নিশ্চিত করতে সিভিল শাখায় বিএসসি প্রকৌশলীদের সরাসরি নিয়োগের বিধান করা হয়েছে।

রায়ের পর্যবেক্ষণে হাইকোর্ট বলেন, দুই পক্ষের বক্তব্য ও নথি পর্যালোচনা করে আমরা এই মর্মে সিদ্ধান্ত প্রদান করছি যে, ইতোপূর্বে প্রবিধান সংশোধনীর আগেই যারা পদোন্নতির জন্য যোগ্য হয়েছিলেন, সেই রিট আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে নব প্রণীত পদোন্নতির প্রবিধান, ২০২১ ভূতাপেক্ষভাবে প্রয়োগ করা যাবে না। রিট আবেদনকারীরা পূর্ববর্তী প্রবিধান, ২০১১-এর অধীনে অর্জিত ও প্রতিষ্ঠিত অধিকারের অধিকারী। পরবর্তীকালে প্রবিধানে কোনো পরিবর্তন আনার মাধ্যমে তাদের অধিকার কেড়ে নেওয়া যাবে না।

সুতরাং সংশোধিত প্রবিধান, ২০২১ কার্যকর হওয়ার আগে যেসব আবেদনকারী পদোন্নতির জন্য নির্ধারিত চাকরিকাল, যোগ্যতা ও অন্যান্য শর্ত পূরণ করেছিলেন, তাদের পদোন্নতির বিষয়টি পুরোনো প্রবিধান, ২০১১-এর বিধান অনুযায়ী কঠোরভাবে বিবেচনা করতে হবে। পরবর্তীতে প্রবর্তিত কোনও নতুন শর্তের কারণে তাদের ইতোমধ্যে অর্জিত যোগ্যতা ক্ষুণ্ণ করা যাবে না।

উপর্যুক্ত কারণগুলোর জন্য আমরা রুলটিতে সারবত্তা খুঁজে পাচ্ছি। তাই রুলটি নির্দেশনাসহ নিষ্পত্তি করে বিবাদীগণকে নির্দেশ দেওয়া হয় যে, ২০২১ সালের প্রবিধানমালা চালুর আগেই পদোন্নতির জন্য নির্ধারিত যোগ্যতা অর্জনকারী রিট আবেদনকারীদের ‘বারি প্রবিধানমালা, ২০১১’-এর সংশ্লিষ্ট বিধান অনুযায়ী সহকারী প্রকৌশলী (সিভিল) পদে পদোন্নতির বিষয়টি বিবেচনা করতে হবে এবং পদের শূন্যতা, যোগ্যতা এবং পদোন্নতি সংক্রান্ত অন্যান্য আইনানুগ শর্ত পূরণ সাপেক্ষে আগামী এক মাসের মধ্যে সংশ্লিষ্ট বিধানের অধীনে এই পদোন্নতির প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার নির্দেশ দেওয়া হলো।

এই রায়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে অন্তর্বর্তীকালীন নির্দেশনার আদেশটি নিষ্পত্তি করা হলো। ফলস্বরূপ, উপরোক্ত নির্দেশনা সাপেক্ষে রুল নিষ্পত্তি করা হলো। রায় এবং আদেশ অবিলম্বে সংশ্লিষ্টদের অবহিত করা হোক।

সূত্র:  দৈনিক ইত্তেফাক

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

লামায় স্কুলে যাওয়ার পথে নিখোঁজ ৩ কিশোরী, তিন দিনেও মেলেনি সন্ধান

চাকরিতে অর্জিত পদোন্নতির অধিকার কেড়ে নেওয়া যাবে না: হাইকোর্ট

আপডেট সময় : ১২:১৬:০৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬
চাকরিতে প্রবেশের সময় কোনও কর্মকর্তা বা কর্মচারী যে অধিকার ও পদোন্নতির যোগ্যতা থাকে, পরবর্তীতে প্রবিধানমালা বা বিধি সংশোধন করে তা কেড়ে নেওয়া যাবে না বলে রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট।

রায়ে হাইকোর্ট বলেছেন, যুগের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে চাকরির প্রবিধানমালা সংশোধন করার পূর্ণ ক্ষমতা কর্তৃপক্ষের থাকলেও, তা কোনোভাবেই ভূতাপেক্ষভাবে কার্যকর দেখিয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আগের অর্জিত আইনি সুবিধা-অধিকার কেড়ে নেওয়া যাবে না।

মোহাম্মদ কামরুজ্জামান তালুকদার ও অন্যান্য বনাম রাষ্ট্র মামলায় এমন রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট।

বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের উপসহকারী প্রকৌশলী (সিভিল) পদে কর্মরত সাত জনের কর্মচারীর পদোন্নতি-সংক্রান্ত বিরোধ সংক্রান্ত রিট আবেদন নিষ্পত্তি করে বিচারপতি খিজির আহমেদ চৌধুরী ও বিচারপতি এ. এফ. এম সাইফুল করিমের হাইকোর্ট বেঞ্চ গত ১৯ আগস্ট এই রায় দিয়েছেন। ১৭ পৃষ্ঠার ওই রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি সম্প্রতি সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে। আদালতের মূল রায়টি লিখেছেন বিচারপতি এ. এফ. এম সাইফুল করিম।

আদালতে রিটকারীদের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী এস.আর.এম. লুৎফর রহমান আখন্দ। অন্যদিকে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বারি) পক্ষে ছিলেন আইনজীবী কবির ইকবাল হোসেন। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মাহফুজ বিন ইউসুফ ও আক্তার হোসেন মো. আবদুল ওহাব।

প্রকাশিত রায় পর্যালোচনায় দেখা যায়, ২০০৪ থেকে ২০১৫ সালের মধ্যে মুহাম্মদ কামরুজ্জামান তালুকদারসহ মোট সাত জন উপ-সহকারী প্রকৌশলী (সিভিল) পদে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটে (বারি) যোগদান করেন এবং পরবর্তীতে তাদের চাকরি স্থায়ীকরণ করা হয়। তৎকালীন ‘বারি প্রবিধানমালা, ২০১১’ অনুযায়ী, ফিডার পদে পাঁচ বছর চাকরি সম্পন্ন করার পর উপ-সহকারী প্রকৌশলী (সিভিল) থেকে সহকারী প্রকৌশলী (সিভিল) পদে শতভাগ পদোন্নতির বিধান ছিল। রিট আবেদনকারী সাত জন প্রকৌশলীই ২০২১ সালের আগেই প্রবিধানমালা অনুযায়ী পদোন্নতির জন্য নির্ধারিত পাঁচ বছরের চাকরির অভিজ্ঞতা ও যোগ্যতা অর্জন করেন।

তবে ২০২১ সালের ৯ মার্চ সরকার ‘বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট প্রবিধানমালা, ২০২১’ গেজেটে আকারে প্রকাশ করে। নতুন এই প্রবিধানমালার ৩২ নম্বর ক্রমিকে সহকারী প্রকৌশলী (সিভিল) পদটি শতভাগ পদোন্নতির পরিবর্তে ৩৩ শতাংশ পদোন্নতি এবং ৬৭ শতাংশ সরাসরি নিয়োগের মাধ্যমে পূরণের বিধান করা হয়। বিপরীতে ইলেকট্রিক্যাল ও মেকানিক্যাল শাখার উপ-সহকারী প্রকৌশলীদের পদোন্নতির শতভাগ কোটা অপরিবর্তিত রাখা হয়।

নতুন এই প্রবিধানমালার ফলে পদোন্নতির অর্জিত অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়ে রিট আবেদনকারীরা ২০২১ সালে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন।

ওই রিটের প্রাথমিক শুনানি শেষে আদালত রুল জারি করেন।

শুনানিকালে রিট আবেদনকারীদের আইনজীবী এস.আর.এম. লুৎফর রহমান আখন্দ আদালতে তুলে ধরেন যে, ২০২১ সালের সংশোধিত প্রবিধানমালা কার্যকর হওয়ার আগেই তার মক্কেলগণ পদোন্নতির সকল শর্ত পূরণ করে অধিকার অর্জন করেছিলেন। তাই পরবর্তী সংশোধনের মাধ্যমে তাদের প্রতিকূলে পদোন্নতির সুযোগ সংকুচিত করা আইনত বেআইনি ও বৈষম্যমূলক।

অন্যদিকে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বারি) পক্ষের আইনজীবী কবির ইকবাল হোসেন যুক্তি দেন, ২০১১ সালের প্রবিধানমালা রহিত করে ২০২১ সালের প্রবিধানমালা প্রবর্তন করা হয়েছে। রহিত প্রবিধানের অধীনে কেউ পদোন্নতি দাবি করতে পারেন না এবং ভালো সেবা নিশ্চিত করতে সিভিল শাখায় বিএসসি প্রকৌশলীদের সরাসরি নিয়োগের বিধান করা হয়েছে।

রায়ের পর্যবেক্ষণে হাইকোর্ট বলেন, দুই পক্ষের বক্তব্য ও নথি পর্যালোচনা করে আমরা এই মর্মে সিদ্ধান্ত প্রদান করছি যে, ইতোপূর্বে প্রবিধান সংশোধনীর আগেই যারা পদোন্নতির জন্য যোগ্য হয়েছিলেন, সেই রিট আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে নব প্রণীত পদোন্নতির প্রবিধান, ২০২১ ভূতাপেক্ষভাবে প্রয়োগ করা যাবে না। রিট আবেদনকারীরা পূর্ববর্তী প্রবিধান, ২০১১-এর অধীনে অর্জিত ও প্রতিষ্ঠিত অধিকারের অধিকারী। পরবর্তীকালে প্রবিধানে কোনো পরিবর্তন আনার মাধ্যমে তাদের অধিকার কেড়ে নেওয়া যাবে না।

সুতরাং সংশোধিত প্রবিধান, ২০২১ কার্যকর হওয়ার আগে যেসব আবেদনকারী পদোন্নতির জন্য নির্ধারিত চাকরিকাল, যোগ্যতা ও অন্যান্য শর্ত পূরণ করেছিলেন, তাদের পদোন্নতির বিষয়টি পুরোনো প্রবিধান, ২০১১-এর বিধান অনুযায়ী কঠোরভাবে বিবেচনা করতে হবে। পরবর্তীতে প্রবর্তিত কোনও নতুন শর্তের কারণে তাদের ইতোমধ্যে অর্জিত যোগ্যতা ক্ষুণ্ণ করা যাবে না।

উপর্যুক্ত কারণগুলোর জন্য আমরা রুলটিতে সারবত্তা খুঁজে পাচ্ছি। তাই রুলটি নির্দেশনাসহ নিষ্পত্তি করে বিবাদীগণকে নির্দেশ দেওয়া হয় যে, ২০২১ সালের প্রবিধানমালা চালুর আগেই পদোন্নতির জন্য নির্ধারিত যোগ্যতা অর্জনকারী রিট আবেদনকারীদের ‘বারি প্রবিধানমালা, ২০১১’-এর সংশ্লিষ্ট বিধান অনুযায়ী সহকারী প্রকৌশলী (সিভিল) পদে পদোন্নতির বিষয়টি বিবেচনা করতে হবে এবং পদের শূন্যতা, যোগ্যতা এবং পদোন্নতি সংক্রান্ত অন্যান্য আইনানুগ শর্ত পূরণ সাপেক্ষে আগামী এক মাসের মধ্যে সংশ্লিষ্ট বিধানের অধীনে এই পদোন্নতির প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার নির্দেশ দেওয়া হলো।

এই রায়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে অন্তর্বর্তীকালীন নির্দেশনার আদেশটি নিষ্পত্তি করা হলো। ফলস্বরূপ, উপরোক্ত নির্দেশনা সাপেক্ষে রুল নিষ্পত্তি করা হলো। রায় এবং আদেশ অবিলম্বে সংশ্লিষ্টদের অবহিত করা হোক।

সূত্র:  দৈনিক ইত্তেফাক