ঢাকা ০৩:১৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬, ৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
বিশ্বজুড়ে ফেসবুক ডাউন, ভোগান্তিতে ব্যবহারকারীরা টেকনাফের চাঞ্চল্যকর অপহরণ মামলার প্রধান ২ আসামি গ্রেফতার কলাতলীতে অজ্ঞাত মরদেহ, পরিচয় শনাক্তের চেষ্টায় পুলিশ জুলাইয়ের বীরদের ভিলেন বানানোর অপচেষ্টা চলছে : সাদিক কায়েম বিশ্বকাপ ফাইনালের টিকিটের দাম ছুঁল ৭৪ লাখ সন্ধ্যার মধ্যে যেসব জেলায় ৬০ কিমি বেগে ঝড়ের আভাস যে সমীকরণে গোল্ডেন বুট জিততে পারেন মেসি আমরা রাজনীতি করি মানুষের জন্য, দেশের জন্য- পেকুয়ায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মুক্তিপণের দাবিতে পাহাড়ে আটকে নির্যাতন, পরে উদ্ধার কক্সবাজারে হত্যা মামলার আসামি গ্রেপ্তার সিএনজি অটোরিকশা থেকে ৭০ হাজার ইয়াবা উদ্ধার পাচারের উদ্দেশ্যে মজুদ করা ৫৪ বস্তা সার জব্দ, আটক ১ টেকনাফে কিশোরকে অপহরণ, ফোন করে ২০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি পানি উন্নয়ন বোর্ড নয়, স্লুইসগেট দেখভাল করবে স্থানীয় প্রশাসন : পেকুয়ায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ঘুমের মাঝেই না ফেরার দেশে লোহাগাড়া থানার এসআই আজিজ

গণভোট বাতিল হলে কি সংসদ সদস্য পদ বাতিল হবে?

গণভোট বাতিল হলে সংসদ সদস্যদের পদ স্বয়ংক্রিয় ভাবে “অবৈধ” বা বাতিল হয়ে যায় না।

এটি বুঝতে হলে সংবিধানের মৌলিক কাঠামোটা পরিষ্কার করা জরুরি। সংসদ সদস্যদের বৈধতা কোথা থেকে আসে? সংসদ সদস্য (এমপি) তাদের বৈধতা পায়; জনগণের ভোট থেকে, নির্বাচন কমিশনের মাধ্যমে ঘোষিত ফলাফল থেকে, সংবিধানের বিধান অনুযায়ী শপথ গ্রহণের মাধ্যমে। অর্থাৎ তাদের ম্যান্ডেট সরাসরি নির্বাচন প্রক্রিয়া থেকে আসে, গণভোট থেকে নয়।

গণভোট সাধারণত; একটি নির্দিষ্ট ইস্যুতে জনগণের মতামত জানার পদ্ধতি, আইন বা সংবিধান পরিবর্তনের সহায়ক মাধ্যম কিন্তু, গণভোট সংসদ গঠন করে না, এমপি নির্বাচিত করে না।

যদি কোনো কারণে গণভোট বাতিল হয়, অথবা আদালত দ্বারা অবৈধ ঘোষণা হয় তাহলে এর প্রভাব হবে শুধুমাত্র সেই গণভোট-সংক্রান্ত সিদ্ধান্তের উপর। এর ফলে; সংসদ ভেঙে যাবে না, এমপিদের পদ বাতিল হবে না, সরকারের বৈধতা স্বয়ংক্রিয় ভাবে প্রশ্নবিদ্ধ হবে না।

সংবিধান অনুযায়ী সংসদ সদস্য পদ বাতিল হয় নির্দিষ্ট কারণে, যেমন, পদত্যাগ, দলত্যাগ (অনুচ্ছেদ ৭০ অনুযায়ী), অযোগ্যতা (দণ্ড, নাগরিকত্ব ইত্যাদি), নির্বাচন বাতিল (নির্বাচনী ট্রাইব্যুনাল বা আদালতের মাধ্যমে)। গণভোট বাতিল এই তালিকায় নেই।

গুরুত্বপূর্ণ ব্যতিক্রম (যদি থাকে), তবে একটি বিশেষ পরিস্থিতি হতে পারে, যদি প্রমাণিত হয়: গণভোটের সাথে সংসদ নির্বাচন সরাসরি যুক্ত ছিল বা কোনো সাংবিধানিক কাঠামো ভেঙে নির্বাচন হয়েছে তাহলে আদালত বৃহত্তর সাংবিধানিক প্রশ্ন তুলতে পারে। কিন্তু এটিও সরাসরি নয়, আদালতের সিদ্ধান্ত ছাড়া এমপি পদ বাতিল হবে না।

গণভোট একটি রাজনৈতিক ও নীতিগত প্রক্রিয়া, আর সংসদ সদস্যদের বৈধতা একটি সংবিধানিক ও নির্বাচনী প্রক্রিয়া। দুইটি আলাদা জিনিস। তাই, গণভোট বাতিল হলে সংসদ সদস্যদের পদ বাতিল হবে এইটা সত্য নয়। “মিথ বনাম বাস্তবতা” এক নয়।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

গণভোট বাতিল হলে কি সংসদ সদস্য পদ বাতিল হবে?

আপডেট সময় : ০৫:০৬:১৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২৬

গণভোট বাতিল হলে সংসদ সদস্যদের পদ স্বয়ংক্রিয় ভাবে “অবৈধ” বা বাতিল হয়ে যায় না।

এটি বুঝতে হলে সংবিধানের মৌলিক কাঠামোটা পরিষ্কার করা জরুরি। সংসদ সদস্যদের বৈধতা কোথা থেকে আসে? সংসদ সদস্য (এমপি) তাদের বৈধতা পায়; জনগণের ভোট থেকে, নির্বাচন কমিশনের মাধ্যমে ঘোষিত ফলাফল থেকে, সংবিধানের বিধান অনুযায়ী শপথ গ্রহণের মাধ্যমে। অর্থাৎ তাদের ম্যান্ডেট সরাসরি নির্বাচন প্রক্রিয়া থেকে আসে, গণভোট থেকে নয়।

গণভোট সাধারণত; একটি নির্দিষ্ট ইস্যুতে জনগণের মতামত জানার পদ্ধতি, আইন বা সংবিধান পরিবর্তনের সহায়ক মাধ্যম কিন্তু, গণভোট সংসদ গঠন করে না, এমপি নির্বাচিত করে না।

যদি কোনো কারণে গণভোট বাতিল হয়, অথবা আদালত দ্বারা অবৈধ ঘোষণা হয় তাহলে এর প্রভাব হবে শুধুমাত্র সেই গণভোট-সংক্রান্ত সিদ্ধান্তের উপর। এর ফলে; সংসদ ভেঙে যাবে না, এমপিদের পদ বাতিল হবে না, সরকারের বৈধতা স্বয়ংক্রিয় ভাবে প্রশ্নবিদ্ধ হবে না।

সংবিধান অনুযায়ী সংসদ সদস্য পদ বাতিল হয় নির্দিষ্ট কারণে, যেমন, পদত্যাগ, দলত্যাগ (অনুচ্ছেদ ৭০ অনুযায়ী), অযোগ্যতা (দণ্ড, নাগরিকত্ব ইত্যাদি), নির্বাচন বাতিল (নির্বাচনী ট্রাইব্যুনাল বা আদালতের মাধ্যমে)। গণভোট বাতিল এই তালিকায় নেই।

গুরুত্বপূর্ণ ব্যতিক্রম (যদি থাকে), তবে একটি বিশেষ পরিস্থিতি হতে পারে, যদি প্রমাণিত হয়: গণভোটের সাথে সংসদ নির্বাচন সরাসরি যুক্ত ছিল বা কোনো সাংবিধানিক কাঠামো ভেঙে নির্বাচন হয়েছে তাহলে আদালত বৃহত্তর সাংবিধানিক প্রশ্ন তুলতে পারে। কিন্তু এটিও সরাসরি নয়, আদালতের সিদ্ধান্ত ছাড়া এমপি পদ বাতিল হবে না।

গণভোট একটি রাজনৈতিক ও নীতিগত প্রক্রিয়া, আর সংসদ সদস্যদের বৈধতা একটি সংবিধানিক ও নির্বাচনী প্রক্রিয়া। দুইটি আলাদা জিনিস। তাই, গণভোট বাতিল হলে সংসদ সদস্যদের পদ বাতিল হবে এইটা সত্য নয়। “মিথ বনাম বাস্তবতা” এক নয়।