ঢাকা ১০:১৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬, ২ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
বন্যা কবলিত এলাকায় এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা স্থগিত এমপি কাজলের ডিও লেটার: রামুর ফতেখাঁরকুলকে পৌরসভায় উন্নীত করার উদ্যোগ, স্থানীয় সরকার বিভাগের চিঠি চন্দ্রিমায় আবু বক্কর মার্কেট দখলচেষ্টার মামলায় নুরুল ইসলাম ও আরাফাতের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা সপ্তম শ্রেণির ছাত্র অপহরণ, নির্যাতনের পর রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার তারেক রহমানের নির্দেশনায় কক্সবাজারে কৃষক দলের ত্রাণ বিতরণ সম্পন্ন, উপকৃত ২২০ পরিবার কক্সবাজারে জগন্নাথদেবের রথযাত্রায় হাজারো ভক্তের অংশগ্রহণ ঝিলংজা ইউনিয়নে পাহাড় ধসে নিহত পরিবারে পাশে সরওয়ার সাইদ মিয়ানমারের উপকূলে দুই নৌকাডুবি, ৫ শতাধিক রোহিঙ্গার প্রাণহানির আশঙ্কা: জাতিসংঘ ২ দিনের সফরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ কক্সবাজার আসছেন শুক্রবার বিশ্ব সাপ দিবস আজ লোহাগাড়ায় আসছেন অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, পরিদর্শন করবেন বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা কক্সবাজারে জুলাই শহিদ দিবস পালিত জননেতা নুরুল আবছারের বাইপাস সার্জারি সফলভাবে সম্পন্ন : আইসিইউতে স্থানান্তর বিশ্বকাপ ফাইনালে গুরু-শিষ্যের ট্যাকটিক্যাল লড়াই আন্দোলনকারীদের অনেকেই প্রকৃত শিক্ষার্থী নন: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

কুপ্রস্তাবে সাড়া না দেওয়ায় উখিয়ায় ডাকাতির ছক, চিনে ফেলায় খুন

উখিয়ায় নুরুল আমিন নামের এক ব্যক্তিকে গুলি করে হত্যার ঘটনার মূল আসামী আহমদ শরীফ ওরফে শরীফ ডাকাত এবং রেজাউল করিম ওরফে বাবুল নামের দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাব-১৫।

বৃহস্পতিবার (২৭ জুন) বিকেলে কক্সবাজার র‍্যাব-১৫ ব্যাটালিয়ন কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল কামরুল হাসান।

গ্রেপ্তারকৃত শরীফ জালিয়াপালং ইউনিয়নের পূর্ব নূরারডেইল এলাকার এবং বাবুল রত্নাপালং ইউনিয়নের পশ্চিম রত্নার বাসিন্দা। শরীফ এই মামলার এজাহারভুক্ত ১ নম্বর আসামি।

র‍্যাব জানায়, গত ২৩ জুন রাতে পূর্ব নূরারডেইল এলাকায় নুরুল আমিন ও তাঁর ভাই হাসান আলীর বাড়িতে মুখোশধারী ৭-৮ জনের একটি ডাকাত দল হানা দেয়। তারা অস্ত্রের মুখে পরিবারের সবাইকে জিম্মি করে হাত-পা বেঁধে নগদ অর্থ ও স্বর্ণালংকার লুট করে নেয়।

এ সময় নুরুল আমিন ডাকাত দলের সদস্য আহমদ শরীফকে চিনে ফেলায় শরীফ তার বগলের নিচে বন্দুক ঠেকিয়ে গুলি করে। স্বজনরা গুলিবিদ্ধ নুরুল আমিনকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

নিহতের স্ত্রী র‍্যাবকে জানান, তার স্বামী প্রবাসে থাকাকালীন আহমদ শরীফ তাকে কুপ্রস্তাব দিত এবং নানাভাবে উত্ত্যক্ত করত। এতে রাজি না হওয়ায় ক্ষিপ্ত হয়ে শরীফ এই হত্যাকাণ্ড ঘটায়।

র‍্যাবের ভাষ্য অনুযায়ী, এই ঘটনার জের ধরেই ডাকাতির পরিকল্পনা করা হয় এবং হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়। ২৪ জুন নিহতের স্ত্রী বাদী হয়ে উখিয়া থানায় একটি মামলা দায়ের করে।

এরপর র‍্যাব আসামিদের ধরতে অভিযান চালায়। বুধবার রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আহমদ শরীফের বাড়িতে অভিযান চালালে দুজন পালানোর চেষ্টা করে। র‍্যাব ও পুলিশ যৌথভাবে ধাওয়া করে তাদের গ্রেপ্তার করে। পরে ওই বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে চারটি দেশীয় তৈরি লম্বা বন্দুক, এক রাউন্ড গুলি ও একটি গুলির খোসা উদ্ধার করা হয়।

র‍্যাব জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামিরা ডাকাতি ও হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে। তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, নিহতের স্ত্রীকে দেয়া কুপ্রস্তাবে সাড়া না পাওয়ায় তাকাতির পরিকল্পনা করে,আর ডাকাতদলকে চিনে ফেলায় শরীফ ক্ষুব্ধ হয়ে এ হত্যাকান্ড চালায়।

র‍্যাব-১৫ অধিনায়ক লে. কর্নেল কামরুল হাসান জানান, ঘটনার পেছনের কারণ, অস্ত্র উদ্ধার এবং আসামিদের স্বীকারোক্তির মাধ্যমে এটা স্পষ্ট যে এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। বাকি আসামিদের গ্রেপ্তার ও লুণ্ঠিত মালামাল উদ্ধারে র‍্যাবের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

বন্যা কবলিত এলাকায় এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা স্থগিত

কুপ্রস্তাবে সাড়া না দেওয়ায় উখিয়ায় ডাকাতির ছক, চিনে ফেলায় খুন

আপডেট সময় : ০১:৫৯:০৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৪ জুলাই ২০২৫

উখিয়ায় নুরুল আমিন নামের এক ব্যক্তিকে গুলি করে হত্যার ঘটনার মূল আসামী আহমদ শরীফ ওরফে শরীফ ডাকাত এবং রেজাউল করিম ওরফে বাবুল নামের দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাব-১৫।

বৃহস্পতিবার (২৭ জুন) বিকেলে কক্সবাজার র‍্যাব-১৫ ব্যাটালিয়ন কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল কামরুল হাসান।

গ্রেপ্তারকৃত শরীফ জালিয়াপালং ইউনিয়নের পূর্ব নূরারডেইল এলাকার এবং বাবুল রত্নাপালং ইউনিয়নের পশ্চিম রত্নার বাসিন্দা। শরীফ এই মামলার এজাহারভুক্ত ১ নম্বর আসামি।

র‍্যাব জানায়, গত ২৩ জুন রাতে পূর্ব নূরারডেইল এলাকায় নুরুল আমিন ও তাঁর ভাই হাসান আলীর বাড়িতে মুখোশধারী ৭-৮ জনের একটি ডাকাত দল হানা দেয়। তারা অস্ত্রের মুখে পরিবারের সবাইকে জিম্মি করে হাত-পা বেঁধে নগদ অর্থ ও স্বর্ণালংকার লুট করে নেয়।

এ সময় নুরুল আমিন ডাকাত দলের সদস্য আহমদ শরীফকে চিনে ফেলায় শরীফ তার বগলের নিচে বন্দুক ঠেকিয়ে গুলি করে। স্বজনরা গুলিবিদ্ধ নুরুল আমিনকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

নিহতের স্ত্রী র‍্যাবকে জানান, তার স্বামী প্রবাসে থাকাকালীন আহমদ শরীফ তাকে কুপ্রস্তাব দিত এবং নানাভাবে উত্ত্যক্ত করত। এতে রাজি না হওয়ায় ক্ষিপ্ত হয়ে শরীফ এই হত্যাকাণ্ড ঘটায়।

র‍্যাবের ভাষ্য অনুযায়ী, এই ঘটনার জের ধরেই ডাকাতির পরিকল্পনা করা হয় এবং হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়। ২৪ জুন নিহতের স্ত্রী বাদী হয়ে উখিয়া থানায় একটি মামলা দায়ের করে।

এরপর র‍্যাব আসামিদের ধরতে অভিযান চালায়। বুধবার রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আহমদ শরীফের বাড়িতে অভিযান চালালে দুজন পালানোর চেষ্টা করে। র‍্যাব ও পুলিশ যৌথভাবে ধাওয়া করে তাদের গ্রেপ্তার করে। পরে ওই বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে চারটি দেশীয় তৈরি লম্বা বন্দুক, এক রাউন্ড গুলি ও একটি গুলির খোসা উদ্ধার করা হয়।

র‍্যাব জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামিরা ডাকাতি ও হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে। তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, নিহতের স্ত্রীকে দেয়া কুপ্রস্তাবে সাড়া না পাওয়ায় তাকাতির পরিকল্পনা করে,আর ডাকাতদলকে চিনে ফেলায় শরীফ ক্ষুব্ধ হয়ে এ হত্যাকান্ড চালায়।

র‍্যাব-১৫ অধিনায়ক লে. কর্নেল কামরুল হাসান জানান, ঘটনার পেছনের কারণ, অস্ত্র উদ্ধার এবং আসামিদের স্বীকারোক্তির মাধ্যমে এটা স্পষ্ট যে এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। বাকি আসামিদের গ্রেপ্তার ও লুণ্ঠিত মালামাল উদ্ধারে র‍্যাবের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।