ঢাকা ০৪:৫৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১২ এপ্রিল ২০২৬, ২৮ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
কক্সবাজার সদর হাসপাতালে হামের ঝুঁকি: অবশেষে চালু হচ্ছে আইসোলেশন ওয়ার্ড মানবপাচার চক্র নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশের জেরে সাংবাদিককে হত্যার হুমকি নাইক্ষ্যংছড়িতে দুটি পিস্তল ও গুলি উদ্ধার, রোহিঙ্গা যুবকসহ আটক ২ অবৈধ পন্থায় উত্তোলন হচ্ছিলো বালি, অভিযানে মালামালসহ জব্দ ঝিলংজায় মাথা ও হাতের কবজিবিহীন অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার প্রতিবাদ এক সাথে বিনা খরচে ঘর বাঁধলো চার দম্পতি ইউনিয়ন পরিষদ প্রশাসনিক কর্মকর্তা সমিতির জেলা কমিটি গঠন টেকনাফে প্রায় ২৬ কোটি টাকার ইয়াবা উদ্ধার বিজিবির ‘নব্য ফ্যাসিজম রুখতে ঐক্যবদ্ধ সংগ্রামের আহ্বান’ শেষ হলো ‘রামু গ্রন্থমেলা-২০২৬’ টেকনাফে র‍্যাবের অভিযান: ৪ ভিক্টিম উদ্ধার, ২ মানবপাচারকারী গ্রেপ্তার রামুতে বিজিবির অভিযান: ৬ কোটি টাকার ইয়াবা উদ্ধার টেকনাফে ৫ বছরের সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামী তছলিমা গ্রেপ্তার কেঁচো সারে চুনতির কাইছারের ভাগ্যবদল

কক্সবাজার সদর হাসপাতালে হামের ঝুঁকি: অবশেষে চালু হচ্ছে আইসোলেশন ওয়ার্ড

কক্সবাজারে হামের প্রাদুর্ভাব উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। সাধারণ রোগ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হতে এসে অনেক শিশুই আক্রান্ত হচ্ছে এই অত্যন্ত সংক্রামক রোগে। এমন পরিস্থিতিতে অবশেষে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে চালু করা হচ্ছে পৃথক আইসোলেশন ওয়ার্ড।

মহেশখালীর বাসিন্দা ময়না পাখির ৬ মাস বয়সী শিশু সন্তান আসলিহান নিউমোনিয়া নিয়ে কক্সবাজার সদর হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে ভর্তি ছিল। ১১ দিন চিকিৎসার পর তাকে বাড়িতে নেওয়া হলেও পুনরায় অসুস্থ হয়ে পড়ায় ৮ এপ্রিল আবার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। কিন্তু শনিবার চিকিৎসকরা জানান, শিশুটি হাম রোগে আক্রান্ত হয়েছে। পরে তাকে হাম ওয়ার্ডে স্থানান্তর করা হয়।

শুধু আসলিহান নয়, এমন আরও অনেক শিশু সাধারণ রোগের চিকিৎসা নিতে এসে হাসপাতালে হামে আক্রান্ত হয়েছে বলে জানা গেছে। হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডের ভেতরেই অবস্থিত হাম ওয়ার্ডে ৮টি সিটে তিনজন করে সর্বোচ্চ ২৪ জন শিশুকে ভর্তি রাখার ব্যবস্থা থাকলেও বর্তমানে সেখানে ৪০ জন শিশু ভর্তি রয়েছে। অতিরিক্ত রোগীর চাপ সামাল দিতে বাধ্য হয়ে অন্যান্য শিশুদের সাথেই চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে, ফলে সংক্রমণের ঝুঁকি আরও বাড়ছে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কর্তৃপক্ষ অবশেষে ২০ শয্যার একটি পৃথক আইসোলেশন ওয়ার্ড চালুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যা রোববার (১২ এপ্রিল) থেকে কার্যকর হবে। কক্সবাজারের ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন ডা. মহীউদ্দীন মোহাম্মদ আলমগীর জানিয়েছেন, সংক্রমণের ঝুঁকি বিবেচনায় এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

স্বাস্থ্য বিভাগ জানায়, এ পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে ৫ শিশুর মৃত্যু হয়েছে, যদিও এর মধ্যে এক শিশুর রিপোর্ট নেগেটিভ এসেছে।

এদিকে কক্সবাজারকে হামের উচ্চঝুঁকিপূর্ণ এলাকা হিসেবে চিহ্নিত করে ইতোমধ্যে দুই উপজেলায় হাম ও রুবেলার টিকাদান কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

কক্সবাজার সিভিল সার্জন অফিসের তথ্য অনুযায়ী, ২৯ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত ৩৬৫ জন আক্রান্ত হয়েছে। চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে মোট আক্রান্ত ৪১৮ জন, যার মধ্যে ৩৪ জনের ল্যাব পরীক্ষায় হাম পজিটিভ শনাক্ত হয়েছে।

কক্সবাজার সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) শান্তনু ঘোষ জানান, বর্তমানে শিশু ওয়ার্ডে হামে আক্রান্ত ৬০ জন শিশু ভর্তি রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ভর্তি হয়েছে ২৩ জন এবং সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে ২০ জন।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দ্রুত টিকাদান কার্যক্রম জোরদার ও সংক্রমিতদের আলাদা রাখার মাধ্যমে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব।

এদিকে কক্সবাজারকে হামের অতি ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা হিসেবে চিহ্নিত করে দুই উপজেলায় শুরু হয়েছে হাম ও রুবেলার টিকাদান কার্যক্রম।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

কক্সবাজার সদর হাসপাতালে হামের ঝুঁকি: অবশেষে চালু হচ্ছে আইসোলেশন ওয়ার্ড

আপডেট সময় : ০২:৫৩:৪৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১২ এপ্রিল ২০২৬

কক্সবাজারে হামের প্রাদুর্ভাব উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। সাধারণ রোগ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হতে এসে অনেক শিশুই আক্রান্ত হচ্ছে এই অত্যন্ত সংক্রামক রোগে। এমন পরিস্থিতিতে অবশেষে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে চালু করা হচ্ছে পৃথক আইসোলেশন ওয়ার্ড।

মহেশখালীর বাসিন্দা ময়না পাখির ৬ মাস বয়সী শিশু সন্তান আসলিহান নিউমোনিয়া নিয়ে কক্সবাজার সদর হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে ভর্তি ছিল। ১১ দিন চিকিৎসার পর তাকে বাড়িতে নেওয়া হলেও পুনরায় অসুস্থ হয়ে পড়ায় ৮ এপ্রিল আবার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। কিন্তু শনিবার চিকিৎসকরা জানান, শিশুটি হাম রোগে আক্রান্ত হয়েছে। পরে তাকে হাম ওয়ার্ডে স্থানান্তর করা হয়।

শুধু আসলিহান নয়, এমন আরও অনেক শিশু সাধারণ রোগের চিকিৎসা নিতে এসে হাসপাতালে হামে আক্রান্ত হয়েছে বলে জানা গেছে। হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডের ভেতরেই অবস্থিত হাম ওয়ার্ডে ৮টি সিটে তিনজন করে সর্বোচ্চ ২৪ জন শিশুকে ভর্তি রাখার ব্যবস্থা থাকলেও বর্তমানে সেখানে ৪০ জন শিশু ভর্তি রয়েছে। অতিরিক্ত রোগীর চাপ সামাল দিতে বাধ্য হয়ে অন্যান্য শিশুদের সাথেই চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে, ফলে সংক্রমণের ঝুঁকি আরও বাড়ছে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কর্তৃপক্ষ অবশেষে ২০ শয্যার একটি পৃথক আইসোলেশন ওয়ার্ড চালুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যা রোববার (১২ এপ্রিল) থেকে কার্যকর হবে। কক্সবাজারের ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন ডা. মহীউদ্দীন মোহাম্মদ আলমগীর জানিয়েছেন, সংক্রমণের ঝুঁকি বিবেচনায় এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

স্বাস্থ্য বিভাগ জানায়, এ পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে ৫ শিশুর মৃত্যু হয়েছে, যদিও এর মধ্যে এক শিশুর রিপোর্ট নেগেটিভ এসেছে।

এদিকে কক্সবাজারকে হামের উচ্চঝুঁকিপূর্ণ এলাকা হিসেবে চিহ্নিত করে ইতোমধ্যে দুই উপজেলায় হাম ও রুবেলার টিকাদান কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

কক্সবাজার সিভিল সার্জন অফিসের তথ্য অনুযায়ী, ২৯ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত ৩৬৫ জন আক্রান্ত হয়েছে। চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে মোট আক্রান্ত ৪১৮ জন, যার মধ্যে ৩৪ জনের ল্যাব পরীক্ষায় হাম পজিটিভ শনাক্ত হয়েছে।

কক্সবাজার সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) শান্তনু ঘোষ জানান, বর্তমানে শিশু ওয়ার্ডে হামে আক্রান্ত ৬০ জন শিশু ভর্তি রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ভর্তি হয়েছে ২৩ জন এবং সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে ২০ জন।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দ্রুত টিকাদান কার্যক্রম জোরদার ও সংক্রমিতদের আলাদা রাখার মাধ্যমে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব।

এদিকে কক্সবাজারকে হামের অতি ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা হিসেবে চিহ্নিত করে দুই উপজেলায় শুরু হয়েছে হাম ও রুবেলার টিকাদান কার্যক্রম।