ঢাকা ১০:১১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৬ মার্চ ২০২৬, ২২ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
আজান পর্যন্ত সেহরি খেলে রোজা হবে কি না, জেনে নিন চট্টগ্রামে দরবেশকাটা সমিতির দোয়া ও ইফতার মাহফিল রাশিয়ার ফাঁদে ট্রাম্প! মধ্যপ্রাচ্যের নতুন ‘বাদশা’ ইরান? কলাতলীর সংঘর্ষের কারণ কি? সেন্ট মার্টিনের কাছে ধরা পড়ল পাঁচ মণ ওজনের বোল মাছ, বিক্রি ২ লাখ ৫৫ হাজার টাকায় রো‌হিঙ্গা‌দের ২৬ লাখ মার্কিন ডলারের সহায়তা দি‌চ্ছে জাপান নিজের পুরস্কার উৎসর্গ করলেন দর্শকদের উখিয়া–টেকনাফ জাতীয়তাবাদী ছাত্র ফোরামের ইফতার ও দোয়া মাহফিল সাবেক এমপি আবদুর রহমান বদির জামিন স্থগিত ঘুষের টাকা ফেরত চাওয়ায় মা-মেয়েকে মারধর, পরে ১ মাসের জেল রামুতে সংবাদ সংগ্রহকালে ডাকাত মালেকের হামলায় ৪ সাংবাদিক আহত উখিয়ার থাইংখালীতে পাহাড় কেটে সাবাড়, ড্রাম ট্রাক আটক মাদকের বিরুদ্ধে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নির্দেশনা- ইয়াবা ও দুই সঙ্গীসহ পুলিশের জালে যুবদল নেতা সাংবাদিক আনিস আলমগীরের হাইকোর্টে জামিন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হওয়ার পর প্রথমবার কক্সবাজারে আসছেন সালাহউদ্দিন আহমদ

কক্সবাজারে মুক্তিযুদ্ধের বিজয় মেলায় বধ্যভূমি প্রদর্শনী, নতুন প্রজন্মের মাঝে ইতিহাস তুলে ধরার উদ্যোগ

কক্সবাজারে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে বিজয় মেলায় প্রদর্শিত হচ্ছে বধ্যভূমির প্রতিকৃতি। মুক্তিযুদ্ধের বিজয় মেলা উদযাপন পরিষদের উদ্যোগে আয়োজিত এই প্রদর্শনীতে ছোট শিশু থেকে শুরু করে তরুণ-তরুণীসহ নানা বয়সী দর্শনার্থীদের ব্যাপক আগ্রহ লক্ষ্য করা গেছে।

বুধবার (১৭ ডিসেম্বর) বিকেল থেকে কক্সবাজার পাবলিক লাইব্রেরির শহীদ দৌলত ময়দানে শুরু হওয়া পাঁচ দিনব্যাপী মুক্তিযুদ্ধের বিজয় মেলায় বটতলায় বধ্যভূমির এই প্রতিকৃতি উপস্থাপন করা হয়েছে। প্রদর্শনীতে কক্সবাজার জেলার বিভিন্ন বধ্যভূমির স্থান ও পরিচয় তুলে ধরা হয়েছে।

মুক্তিযুদ্ধের বিজয় মেলা উদযাপন পরিষদের সংগঠক ও কক্সবাজার জেলা উদীচীর সাধারণ সম্পাদক সৌরভ দেব বলেন, বধ্যভূমির প্রতিকৃতি নতুন প্রজন্মকে ইতিহাসের সঙ্গে পরিচিত করানোর একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ। এর মাধ্যমে তারা জানতে পারছে মুক্তিযুদ্ধের সময় সংঘটিত গণহত্যা ও বধ্যভূমির বাস্তবতা সম্পর্কে।

একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, কক্সবাজারের বাহারছড়া এলাকায় বালিকা মাদ্রাসা সংলগ্ন একটি বধ্যভূমির যাতায়াত পথ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে, যা অত্যন্ত নিন্দনীয়। অবিলম্বে বধ্যভূমিটি সবার জন্য উন্মুক্ত করা এবং জেলার অন্যান্য বধ্যভূমি সংরক্ষণের দাবি জানান তিনি।

বধ্যভূমির প্রতিকৃতির ইনস্টলেশন আর্ট করেছেন শিল্পী জিয়ন্ত রাজু। তিনি বলেন, বধ্যভূমির ভয়াবহ স্মৃতি নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরাই ছিল তাঁর উদ্দেশ্য। ইতিহাসে যেভাবে বধ্যভূমিতে এদিক-সেদিক মানুষের লাশ পড়ে থাকার কথা উল্লেখ আছে, সেটিই শিল্পের মাধ্যমে ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করা হয়েছে।

দর্শনার্থী আফজারা রিয়া বলেন, বর্তমানে ইতিহাস জানার সুযোগ খুবই কম। এই মেলায় এসে বধ্যভূমি দেখে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস সম্পর্কে জানার সুযোগ পেয়েছি। এটি সত্যিই প্রশংসনীয় উদ্যোগ।

অন্য দর্শনার্থী অতসী শর্মা বলেন, তিনি আগে বধ্যভূমি সম্পর্কে জানতেন না। প্রদর্শনী দেখার পর জানতে পারেন, এটি মুক্তিযুদ্ধে নিহতদের গণকবর, যা তাঁর মধ্যে ইতিহাস জানার আগ্রহ তৈরি করেছে।

নাট্যকার ও নির্দেশক ইমরান হোসেন ইমু বলেন, বর্তমান সময়ে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃত ও আড়াল করার চেষ্টা চলছে। এই বধ্যভূমি প্রদর্শনীর মাধ্যমে প্রকৃত ইতিহাস তুলে ধরা হচ্ছে। আমরা কেউ না থাকলেও বধ্যভূমি ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে কথা বলবে। তাই বধ্যভূমি সংরক্ষণ করা অত্যন্ত জরুরি।

মুক্তিযুদ্ধের বিজয় মেলায় বধ্যভূমি প্রদর্শনী দর্শনার্থীদের মধ্যে ইতিহাস সচেতনতা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে বলে মনে করছেন আয়োজক ও দর্শনার্থীরা।

ট্যাগ :

কক্সবাজারে মুক্তিযুদ্ধের বিজয় মেলায় বধ্যভূমি প্রদর্শনী, নতুন প্রজন্মের মাঝে ইতিহাস তুলে ধরার উদ্যোগ

আপডেট সময় : ০৭:৩২:৩৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৫

কক্সবাজারে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে বিজয় মেলায় প্রদর্শিত হচ্ছে বধ্যভূমির প্রতিকৃতি। মুক্তিযুদ্ধের বিজয় মেলা উদযাপন পরিষদের উদ্যোগে আয়োজিত এই প্রদর্শনীতে ছোট শিশু থেকে শুরু করে তরুণ-তরুণীসহ নানা বয়সী দর্শনার্থীদের ব্যাপক আগ্রহ লক্ষ্য করা গেছে।

বুধবার (১৭ ডিসেম্বর) বিকেল থেকে কক্সবাজার পাবলিক লাইব্রেরির শহীদ দৌলত ময়দানে শুরু হওয়া পাঁচ দিনব্যাপী মুক্তিযুদ্ধের বিজয় মেলায় বটতলায় বধ্যভূমির এই প্রতিকৃতি উপস্থাপন করা হয়েছে। প্রদর্শনীতে কক্সবাজার জেলার বিভিন্ন বধ্যভূমির স্থান ও পরিচয় তুলে ধরা হয়েছে।

মুক্তিযুদ্ধের বিজয় মেলা উদযাপন পরিষদের সংগঠক ও কক্সবাজার জেলা উদীচীর সাধারণ সম্পাদক সৌরভ দেব বলেন, বধ্যভূমির প্রতিকৃতি নতুন প্রজন্মকে ইতিহাসের সঙ্গে পরিচিত করানোর একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ। এর মাধ্যমে তারা জানতে পারছে মুক্তিযুদ্ধের সময় সংঘটিত গণহত্যা ও বধ্যভূমির বাস্তবতা সম্পর্কে।

একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, কক্সবাজারের বাহারছড়া এলাকায় বালিকা মাদ্রাসা সংলগ্ন একটি বধ্যভূমির যাতায়াত পথ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে, যা অত্যন্ত নিন্দনীয়। অবিলম্বে বধ্যভূমিটি সবার জন্য উন্মুক্ত করা এবং জেলার অন্যান্য বধ্যভূমি সংরক্ষণের দাবি জানান তিনি।

বধ্যভূমির প্রতিকৃতির ইনস্টলেশন আর্ট করেছেন শিল্পী জিয়ন্ত রাজু। তিনি বলেন, বধ্যভূমির ভয়াবহ স্মৃতি নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরাই ছিল তাঁর উদ্দেশ্য। ইতিহাসে যেভাবে বধ্যভূমিতে এদিক-সেদিক মানুষের লাশ পড়ে থাকার কথা উল্লেখ আছে, সেটিই শিল্পের মাধ্যমে ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করা হয়েছে।

দর্শনার্থী আফজারা রিয়া বলেন, বর্তমানে ইতিহাস জানার সুযোগ খুবই কম। এই মেলায় এসে বধ্যভূমি দেখে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস সম্পর্কে জানার সুযোগ পেয়েছি। এটি সত্যিই প্রশংসনীয় উদ্যোগ।

অন্য দর্শনার্থী অতসী শর্মা বলেন, তিনি আগে বধ্যভূমি সম্পর্কে জানতেন না। প্রদর্শনী দেখার পর জানতে পারেন, এটি মুক্তিযুদ্ধে নিহতদের গণকবর, যা তাঁর মধ্যে ইতিহাস জানার আগ্রহ তৈরি করেছে।

নাট্যকার ও নির্দেশক ইমরান হোসেন ইমু বলেন, বর্তমান সময়ে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃত ও আড়াল করার চেষ্টা চলছে। এই বধ্যভূমি প্রদর্শনীর মাধ্যমে প্রকৃত ইতিহাস তুলে ধরা হচ্ছে। আমরা কেউ না থাকলেও বধ্যভূমি ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে কথা বলবে। তাই বধ্যভূমি সংরক্ষণ করা অত্যন্ত জরুরি।

মুক্তিযুদ্ধের বিজয় মেলায় বধ্যভূমি প্রদর্শনী দর্শনার্থীদের মধ্যে ইতিহাস সচেতনতা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে বলে মনে করছেন আয়োজক ও দর্শনার্থীরা।