জুলাই আন্দোলনের সময় ঢাকার ভাটারা থানার তিন পৃথক হত্যা মামলা থেকে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ ৪৯৪ জনকে অব্যাহতির সুপারিশ করে আদালতে প্রতিবেদন জমা দিয়েছেন তদন্ত কর্মকর্তারা।
প্রতিবেদনে তদন্ত কর্মকর্তারা বলেছেন, তিনটি হত্যা মামলাতেই ‘তথ্যগত ভুল ছিল’।
নিহত তিন ব্যক্তি হলেন-ট্রাক চালক মো. জাহাঙ্গীর, ওয়াসার পানির লাইনের মিস্ত্রী জাকির হোসেন এবং রমজান মিয়া জীবন, যিনি পেশায় জুতা তৈরির কারখানার একজন কর্মী।
মামলার তদন্তে উঠে এসেছে, চব্বিশের জুলাইয়ে জাহাঙ্গীর, জাকির ও জীবনের মৃত্যুর পর তাদের পরিবারের পক্ষ থেকে হত্যা মামলা দায়ের করা হলেও, অন্য তিন ব্যক্তি আরও তিনটি মামলা দায়ের করেন। পরিবারের বাইরে ওই তিন ব্যক্তির করা মামলায় দেখানো হয়েছে জাহাঙ্গীর, জাকির ও জীবনের মৃত্যুর স্থান ভাটারা; মামলাও হয়েছে ভাটারা থানায়। অথচ পরিবারের করা মামলা বলছে ভিন্ন কথা।
জাহাঙ্গীরের পরিবারের পক্ষ থেকে করা মামলায় এজাহারে বলা হয়েছে তিনি চব্বিশের ২১ জুলাই মারা গেছেন আগারগাঁওয়ের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউটব অব নিউরো সায়েন্সেস হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায়। জাহাঙ্গীরের মৃত্যুর ঘটনায় তার বাবা মো. বাছির শেখ সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় থানায় মামলা করেন।
জাকিরের মৃত্যুর পর তার মা রোকেয়া ওরফে মিছিলি বেগম মামলা করেন কদমতলী থানায়। মামলায় বলা হয়েছে, ২০২৪ সারের ২১ জুলাই শনিরআখড়া থেকে কদমতলী থানার দক্ষিণ দনিয়া গোয়াল বাড়ী মোড় শাহী মসজিদের সামনে দিয়ে বাসায় যাওয়ার পথে গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলে মারা যান জাকির।
আর সরকার পতনের দিন চব্বিশের ৫ অগাস্টে গুলিস্তানে বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের কার্যালয়ের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় জীবনের মাথায় গুলি লাগে। এরপর ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকার ২০২৫ সালের ৯ অক্টোবর বিকেল ৩টার দিকে মারা যান জীবন।
এ ঘটনায় তার বাবা জামাল উদ্দিন আদালতে অভিযোগ করেন। আদালত অভিযোগটি পল্টন মডেল থানা পুলিশকে এজাহার হিসেবে গ্রহণের নির্দেশ দেয়।
তিনটি হত্যা মামলায় সর্বশেষ গত ২৫ জানুয়ারি প্রতিবেদন জমার দিন ধার্য ছিল। কিন্তু ওইদিন মামলার তদন্ত কর্মকর্তারা প্রতিবেদন জমা দিতে পারেননি। এজন্য ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ এহসানুল ইসলাম প্রতিবেদন জমার জন্য পরবর্তী দিন ২ মার্চ ঠিক করেন।
প্রসিকিউশন পুলিশের এসআই কামাল হোসেন বলেন, “কিন্তু এরই মাঝে তিন মামলার চূড়ান্ত প্রতিবেদন আদালতে আসে। গত ২৪ ফেব্রুয়ারি আদালত প্রতিবেদনগুলো দেখেছেন। সোমবার পরবর্তী শুনানির দিন রয়েছে।”
জাহাঙ্গীর হত্যা মামলা
চব্বিশের জুলাই আন্দোলনের সময় ২০ জুলাই ভাটারা থানাধীন কুড়িল জোয়ার সাহারা কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের সামনে আওয়ামী লীগ ও দলের অঙ্গ সংগঠনের নেতারা আন্দোলনকারীদের উপর ‘হামলা চালায়’।
“এতে ট্রাক চালক মো. জাহাঙ্গীর ও সেখানে থাকা শফিকুল আহত হন। তাদের হাসপাতালে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়ে বাধা দেওয়া হয়। জাহাঙ্গীরকে পুড়িয়ে মারার চেষ্টা করে আসামিরা।
“ছাত্র-জনতার সহায়তায় গোপনে তাদের শফিকুলের বাসায় উত্তরায় নিয়ে গিয়ে চিকিৎসা করানো হয়। পরদিন শফিকুল সুস্থ হলেও জাহাঙ্গীরের অবস্থা ক্রমেই খারাপ হতে থাকে। পরে শফিকুল জাহাঙ্গীরকে আগারগাঁওয়ের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউটব অব নিউরো সায়েন্সেস হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে ভর্তি করেন। তবে আসামিরা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে চিকিৎসা না দিতে ভয়-ভীতিও দেখায়। এরপর ২১ জুলাই বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জাহাঙ্গীরকে মৃত ঘোষণা করে।”
জাহাঙ্গীর নিহতের ঘটনায় শফিকুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তি ২০২৫ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি শেখ হাসিনাসহ ৮৩ জনকে আসামি করে আদালতে মামলার আবেদন করেন। আদালত অভিযোগটি ভাটারা থানা পুলিশকে এজাহার হিসেবে গ্রহণের নির্দেশ দেয়।
তদন্ত কর্মকর্তা ভাটারা থানার এসআই মো. নেছার উদ্দিন তদন্তে নেমে জানতে পারেন, প্রকৃতপক্ষে মামলার ঘটনাস্থল ভাটারা থানা নয়। জাহাঙ্গীর নিহতের ঘটনায় তার বাবা মো. বাছির শেখ সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় থানায় মামলা দায়ের করেন। জাহাঙ্গীরের বাবা-মা, ভাই, স্ত্রীসহ ওই ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী স্বাক্ষীদের জিজ্ঞাসাবাদের উঠে আসে নিহত ব্যক্তি পেশায় একজন ট্রাক চালক ছিলেন। তিনি ১২ বছর ধরে আন্তঃজেলা ট্রাক চালাতেন। ২০২৪ সালের ২০ জুলাই সকাল ৮টার দিকে চিনি ভর্তি ট্রাক নিয়ে তিনি সিলেট থেকে ঠাকুরগাঁওয়ের উদ্দেশে রওনা জন। সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে নগরবাড়ি ঘাট হয়ে যাচ্ছিলেন। এ সময় তিনি সঙ্গে থাকা সহকারী সেলিম হোসেনকে ট্রাক চালাতে দিয়ে নিজে হেলপারের সিটে বসে।
“এ সময় নগরবাড়ি-পাবনা মহাসড়কে সিরাজগঞ্জ উল্লাপাড়া থানার ১১ নম্বর সদর ইউনিয়নয়ের চালা ব্রিজ সংলগ্ন ছাত্র আন্দোলনের বিপক্ষে অবস্থান নেওয়া অজ্ঞাতনামা লোকজন রাস্তায় চলাচল করা গাড়ির দিকে লক্ষ্য করে ইট, খোয়া, পাথর নিক্ষেপ করে। এতে জাহাঙ্গীর আহত হন। প্রথমে তাকে সিরাজগঞ্জের শহীদ এম মনসুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে সেখান থেকে তাকে পাবনা হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য জাহাঙ্গীরকে ২১ জুলাই বেলা পৌনে ১টার দিকে ঢাকার ন্যাশনাল ইন্সটিটিউট অব নিউরো সায়েন্সেস হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ভর্তির মাত্র সোয়া ঘন্টা পর বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে জাহাঙ্গীর চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায়। পরবর্তীতে তাকে তার বাড়ি পাবনা সদরের শ্রীপুরে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।”
তদন্ত কর্মকর্তা ভাটারা থানার এসআই মো. নেছার উদ্দিন বলেন, “যেহেতু মামলাটি একটি হত্যা মামলা এবং জাহাঙ্গীরের লাশের ময়না তদন্ত না করে কবর দেওয়া হয়। তাই একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে কবর থেকে লাশ উত্তোলন করে ময়নাতদন্তের অনুমতিসহ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগের আবেদন করা হয়। আবেদন মঞ্জুরের পর পাবনার নির্বাহী অফিসার জাহাঙ্গীরের বাড়িতে যান।
“ভাটার থানার মামলার বাদী পরিবারের কেউ না হওয়ায়, মামলা সম্পর্কে তারা অবগত না হওয়ায় এবং বাদীও অপরিচিত হওয়ায় লাশ কবর থেকে উত্তোলন না করতে আবেদন করেন পরিবারের সদস্যরা। এজন্য লাশ উত্তোলন করা সম্ভব হয়নি। ভাটারা থানার যমুনা ফিউচার পার্কের পাশে কুড়িল জোয়ার সাহার কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ গলি এলাকায় জাহাঙ্গীরকে মারার ঘটনা ও আগুনে পুড়িয়ে মেরে ফেলার চেষ্টা করা হয়েছিল মর্মে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।”
মামলা সংক্রান্তে ডকেট পর্যালোচনা, সিডিআর পর্যালোচনা, স্বাক্ষীদের জবানবন্দি, মামলা তদন্তকালে ও প্রাপ্ত সাক্ষ্য প্রমাণে জাহাঙ্গীরের আহত হওয়ার ঘটনাটি ভাটারা থানাধীন নয়, বরং সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া থানাধীন এবং এই ঘটনায় উল্লাপাড়া থানায় মামলা হওয়ায় ঘটনাটি তদন্ত কর্মকর্তার প্রাথমিক তদন্তে ‘তথ্যগত ভুল বলে প্রমাণিত হয়’।
এজন্য শেখ হাসিনাসহ ৮৩ জনকে মামলা থেকে অব্যাহতির সুপারিশ করেন তদন্ত কর্মকর্তা নেছার উদ্দিন।
অব্যাহতির আবেদন করা আসামিদের মধ্যে রয়েছেন-ওবায়দুল কাদের, আসাদুজ্জামান খান কামাল, সাবেক আইজিপি চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুন, সাবেক অতিরিক্ত ডিআইজি মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম, তিন সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার কাজী রকিব উদ্দিন, কে, এম নুরুল হুদা ও কাজী হাবিবুল আওয়াল।
জাকির হত্যা মামলা
২০২৪ সালের ২১ জুলাই সন্ধ্যা ৬টার দিকে ভাটারার নতুন বাজার এলাকায় ২৪ বছর বয়সী জাকির হোসেন (২৪) গুলিবিদ্ধ হন। সন্ধ্যা ৭টার দিকে তাকে সরকারি কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। জাকিরের মৃত্যুর ঘটনায় তার খালাতো ভাই পরিচয়ে আমান নামের এক ব্যক্তি শেখ হাসিনাসহ ১৬৫ জনের নামে আদালতে মামলা দায়ের করেন।
মামলাটি তদন্ত করেন ভাটারা থানার এসআই ফরহাদ কালাম সুজন। তদন্ত শুরুর পর সাক্ষ্য প্রমাণে উঠে আসে, জাকির তার মাসহ ভাটারার ফাসের টেক বালুর মাঠে বাবু নামের এক ব্যক্তির বাসায় ভাড়া থাকতেন। জাকির ওয়াসার পানির লাইনের কাজ করতেন। জুলাই আন্দোলনের সময়ে কদমতলী থানা এলাকায় কাজ করছিলেন তিনি।
আন্দোলনের সময় কারফিউ থাকায় গাড়ি চলাচল বন্ধ ছিল। ওই সময়ে তিনি কদমতলী থানা এলাকায় একটা রুম ভাড়া করে থাকতেন। ২১ জুলাই বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে ছাত্র-জনতার মিছিলে অংশ নিয়ে শনিরআখড়া থেকে কদমতলী থানার দক্ষিণ দনিয়া গোয়াল বাড়ী মোড় শাহী মসজিদের সামনে দিয়ে রুমে যাওয়ার পথে গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলে মারা যান জাকির।
এরপর জাকিরের বন্ধু বিপ্লব হোসেন তার মাকে মৃত্যুর খবর দেন। তার মা জাকিরের মরদেজ নেত্রকোনার দুর্গাপুরের বাকল গ্রামে নিয়ে গিয়ে দাফন করেন।
পরবর্তীতে জাকিরের খালাতো ভাই পরিচয়ে আমান ১৬৫ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা ২০০/২৫০ জনকে আসামি করে ভাটারা থানায় মামলা দায়ের করেন। আর তদন্তে উঠে এসেছে জাকিরের মা রোকেয়া ওরফে মিছিলি বেগম তার ছেলের মৃত্যুর ঘটনায় কদমতলী থানায় মামলা দায়ের করেন।
মামলার এজাহারে বলা হয়েছে জাকির হোসেন ছাত্র জনতার মিছিলে অংশ নিয়ে ২১ জুলাই সন্ধ্যা ৬টার দিকে ভাটারা থানাধীন নতুন বাজার ওভার ব্রিজের নিচে এজাহার নামীয় ও অজ্ঞাতনামা আসামিদের গুলিতে গুলিবিদ্ধ হন এবং সরকারি কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থা মারা যান।
তবে এ বিষয়ে তদন্ত কর্মকর্তা কোনো সাক্ষ্য প্রমাণ পাননি। জাকিরের সর্বশেষ অবস্থান পর্যালোচনা, প্রত্যক্ষদর্শী সাক্ষীর জবানবন্দি পর্যালোচনায় এবং এ মামলার বাদীর প্রাক-পরিচিতি পর্যালোচনায় মামলার প্রকৃত ঘটনাস্থল কদমতলীর দক্ষিণ দনিয়ার গোয়াল বাড়ি মোড় শাহী মসজিদ সংলগ্ন সালমান সাইফ বেকারীর সামনে বলে জানা গেছে।
এজন্য এই মামলা থেকে শেখ হাসিনাসহ ১৬৫ জনকে অব্যাহতির সুপারিশ করেন তদন্ত কর্মকর্তা ভাটারা থানার এসআই ফরহাদ কালাম সুজন।
অপর আসামিদের মধ্যে রয়েছেন-ওবায়দুল কাদের, আসাদুজ্জামান খান কামাল, ঢাকা-১১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য এ.কে.এম রহমত উল্লাহ, বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যান আহমেদ আকবর সোবহান, তার ছেলে ও প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক আনভীর সোবহান।
রমজান মিয়া জীবন হত্যা মামলা
সরকার পতনের দিন, অর্থাৎ ২০২৪ সালের ৫ অগাস্ট বিকাল ৩টার দিকে ভাটারা থানাধীর যমুনা ফিউচার পার্কে যমুনা টিভির ফটকের সামনে গুলিবিদ্ধ হন রমজান মিয়া জীবন। স্থানীয় লোকজন ঘটনাটি তার চাচা জামিল আহম্মেদকে জানান। তিনি সেখানে গিয়ে ভ্যানে করে জীবনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। হাসপাতালে নেওয়ার পথে কে বা কারা গুলি করেছে জানতে চাইলে জীবন আসামিদের নাম বলে দেয়। হাসপাতালে নেওয়ার পর সন্ধ্যা সোয়া ৬টার দিকে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এ ঘটনায় জামিল আহম্মেদ গত বছরের ১২ মার্চ ওবায়দুল কাদেরকে প্রধান আসামি করে ২৪৬ জনের নামে আদালতে মামলা দায়ের করেন।
তদন্ত শুরু পর সাক্ষ্য প্রমাণে তদন্ত কর্মকর্তা ভাটারা থানার এসআই রুবেল মিয়া জানতে পারেন, জীবন পুরান ঢাকার বংশালের আলু বাজার এলাকায় থেকে জুতার কারখানায় কাজ করতেন। তার বাবা জামাল উদ্দিন বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় নিরাপত্তা প্রহরীর চাকরি করতেন।
৫ অগাস্ট বেলা সাড়ে ১১ টার দিকে জীবন ছাত্র-জনতার সঙ্গে মিছিলে করেন। গুলিস্তান ফুলবাড়িয়া থেকে প্রেস ক্লাব সমাবেশে অংশ নেওয়ার জন্য রওনা হন তিনি। বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের কার্যালয়ের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় তার মাথায় গুলি লাগে। এরপর জীবনকে চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে ৬৫ দিন চিকিৎসার পর ২০২৫ সালের ৯ অক্টোবর বিকেল ৩টার দিকে মারা যান জীবন।
এ ঘটনায় তার বাবা জামাল উদ্দিন ৫২ জনের নামে আদালতে অভিযোগ করেন। আদালত অভিযোগটি পল্টন মডেল থানা পুলিশকে এজাহার হিসেবে গ্রহণের নির্দেশ দেয়। জামিল আহম্মেদ নিহত জীবনকে তার ভাতিজা পরিচয়ে মামলা দায়ের করেন। যার ঘটনাস্থল দেখানো হয় ভাটারা থানাধীন যমুনা ফিউচার পার্কের যমুনা টিভির ফটকের সামনে।
তবে অনুসন্ধানে বের হয়েছে ৫ অগাস্টে বিকাল ৩টার দিকে জীবন ওই স্থানে গুলিবদ্ধি হয়েছেন-এই মর্মে সাক্ষ্য প্রমাণ পাননি তদন্ত কর্মকর্তা। ওবায়দুল কাদেরসহ ২৪৬ জনের মামলার ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কোনো সাক্ষ্য প্রমাণ পাননি তদন্ত কর্মকর্তা এসআই রুবেল মিয়া। প্রাথমিক তদন্তে মামলার ঘটনাটি তথ্যগত ভুল মর্মে প্রতীয়মান হওয়ায় তাদের অব্যাহতির সুপারিশ করেন তিনি।
মামলার আরও আসামিদের মধ্যে রয়েছেন-সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, সাবেক ডিএমপি কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া, ভোলা-৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য আব্দুল্লাহ আল ইসলাম জ্যাকব।
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের পক্ষ থেকে তিন মামলার বাদীর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা চালানো হয়। রমজান মিয়া জীবনের মামলার বাদী জামিল আহম্মেদের ব্যবহৃত ফোন নাম্বার বন্ধ পাওয়া যায়। জাকির হত্যা মামলা বাদী আমান মামলার এজাহারে মোবাইল নাম্বার না দেওয়ায় তার সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
তবে কথা হয় জাহাঙ্গীর হত্যা মামলার বাদী শফিকুলের সাথে। তিনি বলেন,”মামলাটা করে বিপদে পড়েছি। সিএমএম কোর্ট কি মিথ্যা মামলা গ্রহণ করে? যে মিথ্যা মামলা দিবে সেই তো গ্রেপ্তার হবে।”
এক প্রশ্নের জবাবে শফিকুল বলেন, “সে (জাহাঙ্গীর) সিরাজগঞ্জে মারা গেছে এটা কেউ দেখছে? তার পরিবারের কেউ কিছু জানে না। লাশ বাড়িতে নিয়ে গেলে জানতে পারে। আমরা একসাথে ছিলাম। অরিজিনাল জিনিস চাপা পড়ে যাচ্ছে, মিথ্যা সামনে চলে আসছে। এরকম হলে জানলে মামলা থেকে ১০০ গজ দূরে থাকতাম। এত ড্রামা হচ্ছে। সবাই আমাকে বিরক্ত করে ফেলছে।”
সব তথ্য হাতে নিয়ে তবেই আদালতে মামলা করেছেন বলে দাবি করেন বাদী শফিকুল।
তিনি বলেন, “ফ্যামিলির লোক ভয়ে, ঝামেলার কারণে মামলা করেনি। বিভিন্ন জায়গা থেকে ২০ লাখ টাকা পেয়ে তারা উল্টে গেছে। আর আমি টাকা না খেয়ে, আন্দোলনের মার খেয়ে বিপদ পড়লাম। আমি জেনুইন মামলা করেছি।”
এ বিষয়ে জানতে ভাটারা থানার ওসি ইমাউল হককে মোবাইলে ফোন করা হয়। কিন্তু সাংবাদিক পরিচয় দেওয়ার পর ওসি ইমাউল ফোন কেটে দেন।
সূত্র: বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
টিটিএন ডেস্ক: 



















