ঢাকা ১২:০৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ২৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সদর থানা পুলিশের অভিযান : ২৪ ঘন্টায় গ্রেফতার ২৭ ২য় দিনে ৩ জাহাজে সেন্টমার্টিন গেলো ১৫৫৪ পর্যটক চৌফলদন্ডি ইউপি নির্বাচনে জামায়াতের প্রার্থী ফোরকান মাহমুদ উখিয়ায় পাহাড়ের পাদদেশ থেকে বু/লে/টপ্রুফ ভেস্ট ও অ/স্ত্র তৈরির সরঞ্জাম উদ্ধার সেনা সদস্য তিতাস শেখ হ/ত্যার বিচারের দাবিতে টেকনাফে বিএনপির মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ ‘অভিযানে যাব, দোয়া কইরো’— মায়ের সঙ্গে সেনা সদস্যের শেষ কথা টানা তিন দফা বৃদ্ধির পর কমল স্বর্ণের দাম, ভরিতে ২৭৪১ টাকা লোহাগাড়ায় সার ডিলার নিয়োগে অভিযোগ, জেলা প্রশাসকের তদন্তের নির্দেশ পেকুয়ায় অটোরিকশার ধাক্কায় প্রাণ গেল বৃদ্ধের লোহাগাড়ায় ইয়াবা সেবন করে মাকে মারধর, ছেলের এক মাসের কারাদণ্ড প্রধানমন্ত্রীর উদ্বোধনের পর আজিজনগরে নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসের বাছাই হাসিনার সম্পত্তি বিক্রির অর্ধেক অর্থ পাবেন অভ্যুত্থানে নিহতদের স্বজনেরা, মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাহাড়সম অদক্ষতা চাপা দেওয়ার জন্য বিরোধীদলের ওপর দায় চাপাচ্ছে সরকার: জামায়াত আমির রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে পোশাকশিল্পে অস্থিরতা সৃষ্টির চেষ্টা চলছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী টেকনাফে মাছ ধরার নৌকায় বজ্রপাত, জেলের মৃত্যু

উখিয়া ভূমি অফিসে সেবাপ্রার্থীদের হয়রানির অভিযোগ প্রদীপের বিরুদ্ধে

উখিয়া উপজেলা ভূমি অফিসে ভূমিসংক্রান্ত সেবা নিতে গিয়ে হয়রানি ও অতিরিক্ত অর্থ দাবির অভিযোগ তুলেছেন একাধিক সেবাপ্রার্থী। তাঁদের অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছেন উপজেলা ভূমি অফিসের মিউটেশন-কাম-সার্টিফিকেট সহকারী প্রদীপ কান্তি দে।

​ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, নামজারি, খতিয়ানসহ বিভিন্ন ভূমিসেবা নিতে গিয়ে তাঁদের নানা ধরনের ভোগান্তির মুখে পড়তে হচ্ছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে নির্ধারিত সরকারি ফি-র বাইরে অতিরিক্ত অর্থ দাবি করা হয়। দাবিকৃত অর্থ দিতে না চাইলে নানা অজুহাতে প্রদীপ মাসের পর মাস আটকে রাখা হয় ফাইল। এতে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে সেবাপ্রার্থী সাধারণ মানুষকে।

​স্থানীয় একাধিক সূত্র ও সেবাপ্রার্থীদের অভিযোগ, উখিয়া উপজেলা ভূমি অফিসকে কেন্দ্র করে কতিপয় কর্মকর্তা-কর্মচারীদের একটি অংশ এবং কয়েকজন দালালের মধ্যে রয়েছে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট। ভুক্তভোগীদের দাবি, এই সিন্ডিকেটের মাধ্যমে ভূমিসংক্রান্ত বিভিন্ন কাজ করাতে সাধারণ মানুষকে দালালের শরণাপন্ন হতে বাধ্য করা হয়।

​ভুক্তভোগীদের ভাষ্য, ভূমি অফিসের এমন পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়ছেন প্রান্তিক ও নিম্ন আয়ের মানুষ। নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় নিজের কাজ সম্পন্ন করতে গিয়ে বারবার অফিসে যাতায়াত করেও অনেকেই কাঙ্ক্ষিত সেবা পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ করেছেন।

​সম্প্রতি উখিয়া অনলাইন প্রেসক্লাবের সভাপতি অ্যাডভোকেট জসিম আজাদ তাঁর ফেসবুক পোস্টে লেখেন, “উখিয়া ভূমি অফিসে ঘুষের প্রদীপ জ্বালিয়ে রেখেছেন কে এই প্রদীপ?” পোস্টটি ঘিরে স্থানীয়ভাবে তীব্র আলোচনা শুরু হয়।

​অ্যাডভোকেট জসিম আজাদ জানান, ভূমি অফিসে সেবা নিতে গিয়ে অতিরিক্ত অর্থ দাবির অভিযোগ নতুন নয়। তাঁর ভাষ্য, কাজ আটকে যাওয়ার আশঙ্কায় অনেক সেবাপ্রার্থী প্রকাশ্যে অভিযোগ করতে চান না। বরং বাধ্য হয়ে অতিরিক্ত অর্থ দিয়ে কাজ সম্পন্ন করেন।

​তিনি আরও দাবি করেন, গত ৬ অক্টোবর দুপুর ১টার পরে বেশকিছুক্ষণ ভূমি অফিসে অবস্থানকালে প্রদীপ কান্তি দে, তাঁর পাশের ডেস্কে বসা হাশেম এবং কয়েকজন দালালের মধ্যে বিভিন্ন কাজের কন্ট্রাক্ট ও অর্থ লেনদেনসংক্রান্ত কথাবার্তা তিনি নিজে দেখেছেন ও শুনেছেন।

​ভূমি অফিসে সেবা নিতে গিয়ে দীর্ঘ ভোগান্তির কথা জানিয়েছেন বয়োবৃদ্ধ সেবাপ্রার্থী কামাল। তাঁর অভিযোগ, দালালের সহায়তা ছাড়া খতিয়ানের জন্য আবেদন করায় তাঁকে ছয় মাস ধরে সপ্তাহে প্রায় দুইবার করে ভূমি অফিসে যেতে হয়েছে।
​কামালের ভাষ্য, দীর্ঘদিন ঘোরাঘুরি করেও কাজ সম্পন্ন করতে না পেরে একপর্যায়ে তিনি ক্লান্ত হয়ে, পরে বাধ্য হয়ে দালালের সহায়তা নিলে ছয় মাস পর তাঁর খতিয়ানের কাজ সম্পন্ন করেন।

​আরেক সেবাপ্রার্থী সৈয়দ আমিন অভিযোগ করেন, ভূমি অফিসে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও সাধারণ সেবাপ্রার্থীরা অনেক সময় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা পান না। তাঁর দাবি, দালালদের মাধ্যমে গেলে কাজ তুলনামূলক সহজ হয়।
​সৈয়দ আমিনের অভিযোগ, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের একাংশের আচরণ ও সেবা পাওয়ার জটিলতার কারণে সাধারণ মানুষ ক্রমেই দালালনির্ভর হয়ে পড়ছেন।
​উখিয়া উপজেলা ভূমি অফিসে হয়রানি, অতিরিক্ত অর্থ দাবি এবং দালালনির্ভর সেবাব্যবস্থা নিয়ে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে এসব অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত, সেবাপ্রার্থীদের অভিযোগ গ্রহণের কার্যকর ব্যবস্থা এবং সরকারি ফির তালিকা দৃশ্যমান স্থানে প্রদর্শনের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।

​অভিযোগের বিষয়ে মিউটেশন-কাম-সার্টিফিকেট সহকারী প্রদীপ কান্তি দে-এর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি সাংবাদিক পরিচয় পাওয়ার সাথে সাথেই ফোন কেটে দেন।

​পরবর্তীতে উখিয়া সহকারী কমিশনারের (ভূমি) সাথে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও ফোন রিসিভ না করায় তাঁর বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

সদর থানা পুলিশের অভিযান : ২৪ ঘন্টায় গ্রেফতার ২৭

উখিয়া ভূমি অফিসে সেবাপ্রার্থীদের হয়রানির অভিযোগ প্রদীপের বিরুদ্ধে

আপডেট সময় : ১০:৩৩:৪৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬

উখিয়া উপজেলা ভূমি অফিসে ভূমিসংক্রান্ত সেবা নিতে গিয়ে হয়রানি ও অতিরিক্ত অর্থ দাবির অভিযোগ তুলেছেন একাধিক সেবাপ্রার্থী। তাঁদের অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছেন উপজেলা ভূমি অফিসের মিউটেশন-কাম-সার্টিফিকেট সহকারী প্রদীপ কান্তি দে।

​ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, নামজারি, খতিয়ানসহ বিভিন্ন ভূমিসেবা নিতে গিয়ে তাঁদের নানা ধরনের ভোগান্তির মুখে পড়তে হচ্ছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে নির্ধারিত সরকারি ফি-র বাইরে অতিরিক্ত অর্থ দাবি করা হয়। দাবিকৃত অর্থ দিতে না চাইলে নানা অজুহাতে প্রদীপ মাসের পর মাস আটকে রাখা হয় ফাইল। এতে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে সেবাপ্রার্থী সাধারণ মানুষকে।

​স্থানীয় একাধিক সূত্র ও সেবাপ্রার্থীদের অভিযোগ, উখিয়া উপজেলা ভূমি অফিসকে কেন্দ্র করে কতিপয় কর্মকর্তা-কর্মচারীদের একটি অংশ এবং কয়েকজন দালালের মধ্যে রয়েছে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট। ভুক্তভোগীদের দাবি, এই সিন্ডিকেটের মাধ্যমে ভূমিসংক্রান্ত বিভিন্ন কাজ করাতে সাধারণ মানুষকে দালালের শরণাপন্ন হতে বাধ্য করা হয়।

​ভুক্তভোগীদের ভাষ্য, ভূমি অফিসের এমন পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়ছেন প্রান্তিক ও নিম্ন আয়ের মানুষ। নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় নিজের কাজ সম্পন্ন করতে গিয়ে বারবার অফিসে যাতায়াত করেও অনেকেই কাঙ্ক্ষিত সেবা পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ করেছেন।

​সম্প্রতি উখিয়া অনলাইন প্রেসক্লাবের সভাপতি অ্যাডভোকেট জসিম আজাদ তাঁর ফেসবুক পোস্টে লেখেন, “উখিয়া ভূমি অফিসে ঘুষের প্রদীপ জ্বালিয়ে রেখেছেন কে এই প্রদীপ?” পোস্টটি ঘিরে স্থানীয়ভাবে তীব্র আলোচনা শুরু হয়।

​অ্যাডভোকেট জসিম আজাদ জানান, ভূমি অফিসে সেবা নিতে গিয়ে অতিরিক্ত অর্থ দাবির অভিযোগ নতুন নয়। তাঁর ভাষ্য, কাজ আটকে যাওয়ার আশঙ্কায় অনেক সেবাপ্রার্থী প্রকাশ্যে অভিযোগ করতে চান না। বরং বাধ্য হয়ে অতিরিক্ত অর্থ দিয়ে কাজ সম্পন্ন করেন।

​তিনি আরও দাবি করেন, গত ৬ অক্টোবর দুপুর ১টার পরে বেশকিছুক্ষণ ভূমি অফিসে অবস্থানকালে প্রদীপ কান্তি দে, তাঁর পাশের ডেস্কে বসা হাশেম এবং কয়েকজন দালালের মধ্যে বিভিন্ন কাজের কন্ট্রাক্ট ও অর্থ লেনদেনসংক্রান্ত কথাবার্তা তিনি নিজে দেখেছেন ও শুনেছেন।

​ভূমি অফিসে সেবা নিতে গিয়ে দীর্ঘ ভোগান্তির কথা জানিয়েছেন বয়োবৃদ্ধ সেবাপ্রার্থী কামাল। তাঁর অভিযোগ, দালালের সহায়তা ছাড়া খতিয়ানের জন্য আবেদন করায় তাঁকে ছয় মাস ধরে সপ্তাহে প্রায় দুইবার করে ভূমি অফিসে যেতে হয়েছে।
​কামালের ভাষ্য, দীর্ঘদিন ঘোরাঘুরি করেও কাজ সম্পন্ন করতে না পেরে একপর্যায়ে তিনি ক্লান্ত হয়ে, পরে বাধ্য হয়ে দালালের সহায়তা নিলে ছয় মাস পর তাঁর খতিয়ানের কাজ সম্পন্ন করেন।

​আরেক সেবাপ্রার্থী সৈয়দ আমিন অভিযোগ করেন, ভূমি অফিসে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও সাধারণ সেবাপ্রার্থীরা অনেক সময় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা পান না। তাঁর দাবি, দালালদের মাধ্যমে গেলে কাজ তুলনামূলক সহজ হয়।
​সৈয়দ আমিনের অভিযোগ, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের একাংশের আচরণ ও সেবা পাওয়ার জটিলতার কারণে সাধারণ মানুষ ক্রমেই দালালনির্ভর হয়ে পড়ছেন।
​উখিয়া উপজেলা ভূমি অফিসে হয়রানি, অতিরিক্ত অর্থ দাবি এবং দালালনির্ভর সেবাব্যবস্থা নিয়ে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে এসব অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত, সেবাপ্রার্থীদের অভিযোগ গ্রহণের কার্যকর ব্যবস্থা এবং সরকারি ফির তালিকা দৃশ্যমান স্থানে প্রদর্শনের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।

​অভিযোগের বিষয়ে মিউটেশন-কাম-সার্টিফিকেট সহকারী প্রদীপ কান্তি দে-এর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি সাংবাদিক পরিচয় পাওয়ার সাথে সাথেই ফোন কেটে দেন।

​পরবর্তীতে উখিয়া সহকারী কমিশনারের (ভূমি) সাথে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও ফোন রিসিভ না করায় তাঁর বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।