ঢাকা ০৩:৩২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
র‌্যাব নাম বদলে হচ্ছে এসআইএফ আজ পবিত্র শবে বরাত: পুণ্যময় রজনীর আহ্বান প্রার্থী ও দলের পক্ষে কাজ করলে কঠোর ব্যবস্থা— কোস্ট গার্ডের উদ্দেশ্যে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা ভোরে ভূমিকম্পে কাঁপল দেশ মহেশখালীতে কোস্টগার্ডের হাতে আটক ৩ ব্যক্তিকে নিরপরাধ বলছে পরিবার, তদন্তের দাবি মহেশখালীতে ধানের শীষের ভোট প্রার্থনায় উপজেলা শ্রমিক দলের ডোর টু ডোর ক্যাম্পেইন ১১ হাজার ভোল্টের বৈদ্যুতিক খুঁটির পাশে ভবন নির্মাণ:বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে দুই শ্রমিকের মৃত্যু জামায়াত আমিরের ঘোষণা: ক্ষমতায় গেলে মন্ত্রী হবেন হামিদুর রহমান আযাদ! “আমরা স্বাধীনতার পক্ষের শক্তি, আমাদের ভোট দিন” — শাহাজাহান চৌধুরী ​‘রাজার ছেলে রাজা হোক—এই মতবাদে আমরা বিশ্বাসী নই’: ডা. শফিকুর রহমান নারীদেরকে যারা অবমাননা করে তাদের পক্ষে এদেশের নারী সমাজ থাকতে পারেনা- সালাহউদ্দিন আহমদ সিঙ্গাপুর-হংকংয়ের চেয়েও কক্সবাজারকে উন্নত করা হবে: মহেশখালীতে জামায়াতের আমির কক্সবাজারে জামায়াতের জনসভায় দাঁড়িপাল্লায় ভোট চাইলেন রাজবিহারী দাশ শেখ হাসিনা ও তার পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে মামলার রায় আজ জামিন না মঞ্জুর: চকরিয়ার আ.লীগ নেতা সাঈদী কারাগারে

আজ পবিত্র শবে বরাত: পুণ্যময় রজনীর আহ্বান

  • টিটিএন ডেস্ক:
  • আপডেট সময় : ০১:২৩:১৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • 53

আজ দিবাগত রাত পবিত্র শবে বরাত। হিজরি বর্ষপঞ্জির শাবান মাসের ১৪ তারিখ দিবাগত রাতে বিশ্বের মুসলিম উম্মাহ পরম করুণাময় আল্লাহর বিশেষ অনুগ্রহ ও ক্ষমা লাভের আশায় ইবাদত-বন্দেগিতে নিমগ্ন থাকেন।

ফারসি ‘শবে বরাত’ শব্দের অর্থ ভাগ্য রজনী। তবে হাদিসের পরিভাষায় এই রাত ‘লাইলাতুন নিসফি মিন শাবান’ বা মধ্য-শাবানের রজনী হিসেবে পরিচিত।

হাদিসে শবে বরাত
এই রাতের ফজিলত সম্পর্কে মহানবীর একাধিক হাদিস বর্ণিত হয়েছে। আল্লাহর রহমত এই রাতে সৃষ্টির ওপর বর্ষিত হয়।

আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত একটি হাদিসে আছে,, নবীজি (সা.) বলেছেন, “আল্লাহ তাআলা মধ্য-শাবানের রাতে দুনিয়ার আকাশে অবতরণ করেন এবং বনু কালব গোত্রের ভেড়াগুলোর পশমের চেয়েও বেশি সংখ্যক মানুষকে ক্ষমা করেন।” (সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস: ১৩৮৯)

আবু মুসা আশআরি (রা.) থেকে বর্ণিত অন্য এক হাদিসে আছে, নবীজি (সা.) বলেন, “আল্লাহ তাআলা অর্ধ-শাবানের রাতে তাঁর সৃষ্টির দিকে দৃষ্টি দেন এবং মুশরিক ও বিদ্বেষ পোষণকারী ব্যতীত সবাইকে ক্ষমা করে দেন।” (সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস: ১৩৯০)

শবে বরাতের এই পবিত্রতাকে ক্ষুণ্ণ করে এমন অনেক প্রথা আমাদের সমাজে প্রচলিত আছে, যা ইসলামের মূল চেতনার পরিপন্থী। ইবাদতের এই রাতকে আনন্দ-উৎসবে রূপ দেওয়া অনুচিত:

আতশবাজি ও পটকা ফোটানো: শবে বরাতে আতশবাজি বা পটকা ফোটানো সম্পূর্ণ ইসলামবহির্ভূত এবং অপচয়। এটি ইবাদতকারীদের একাগ্রতায় বিঘ্ন ঘটায়।

অতিরিক্ত আলোকসজ্জা: উৎসবের আমেজ দিতে গিয়ে মসজিদ বা ঘরবাড়িতে যে জাঁকজমকপূর্ণ আলোকসজ্জা করা হয়, অনেক আলেম একে অতিরঞ্জন ও অপব্যয় হিসেবে গণ্য করেন।

অহেতুক ঘুরাঘুরি: ইবাদত বাদ দিয়ে দলবেঁধে রাস্তায় ঘোরাঘুরি বা উচ্চস্বরে শব্দ করা এই রাতের গাম্ভীর্য নষ্ট করে।

খাদ্য নিয়ে বাড়াবাড়ি: শবে বরাত মানেই হালুয়া-রুটির উৎসব নয়। এই প্রথাটি ঐতিহ্যের অংশ হলেও একে ধর্মীয় আবশ্যকতা মনে করা ভুল। মনে রাখতে হবে, এটি মূলত স্রষ্টার কাছে চাওয়ার রাত, খাওয়ার রাত নয়।

শবে বরাতকে কেন্দ্র করে আমাদের যাপিত জীবনে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের পাশাপাশি এক ধরনের সামাজিক মেলবন্ধন তৈরি হয়। এই রাতের আমলগুলোর মধ্যে রয়েছে:

নফল নামাজ ও কোরআন তেলাওয়াত: রাতভর আল্লাহর জিকির ও দীর্ঘ সেজদায় আত্মিক শান্তি অন্বেষণ।

দান-সদকা: অভাবী ও দুস্থদের পাশে দাঁড়িয়ে ত্যাগের মহিমা প্রচার।

কবর জিয়ারত: প্রয়াত স্বজনদের আত্মার মাগফিরাত কামনায় কবরস্থানে যাওয়া, যা আমাদের মৃত্যুর কথা স্মরণ করিয়ে দেয়।

তবে বাহ্যিক আনুষ্ঠানিকতার চেয়েও হৃদয়ের পবিত্রতা ও একাগ্রতাই এই রাতের মূল লক্ষ্য।

আত্মশুদ্ধির অঙ্গীকার
পবিত্র এই রজনীর মূল লক্ষ্য হলো তওবা ও আত্মশুদ্ধি। বিদ্বেষ পোষণকারীকে যেহেতু এই রাতে ক্ষমা করা হয় না, তাই আমাদের উচিত অন্যের প্রতি হিংসা ত্যাগ করে হৃদয়কে পরিচ্ছন্ন করা। বর্তমান অস্থির পৃথিবীতে শান্তি ও সহমর্মিতার বড় বেশি অভাব।

শবে বরাতের এই প্রদীপ্ত রাত আমাদের শিক্ষা দেয় সংকীর্ণতা পরিহার করার।

পবিত্র এই রজনীর আলোকচ্ছটা আমাদের হৃদয়ের কালিমা ধুয়ে মুছে দিক। প্রার্থনা হোক এমন এক পৃথিবীর জন্য, যেখানে থাকবে না কোনো বিভেদ, থাকবে কেবল মানবিকতা ও শান্তি। মহান আল্লাহ আমাদের ইবাদত কবুল করুন।

সূত্র:প্রথম আলো

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

র‌্যাব নাম বদলে হচ্ছে এসআইএফ

This will close in 6 seconds

আজ পবিত্র শবে বরাত: পুণ্যময় রজনীর আহ্বান

আপডেট সময় : ০১:২৩:১৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

আজ দিবাগত রাত পবিত্র শবে বরাত। হিজরি বর্ষপঞ্জির শাবান মাসের ১৪ তারিখ দিবাগত রাতে বিশ্বের মুসলিম উম্মাহ পরম করুণাময় আল্লাহর বিশেষ অনুগ্রহ ও ক্ষমা লাভের আশায় ইবাদত-বন্দেগিতে নিমগ্ন থাকেন।

ফারসি ‘শবে বরাত’ শব্দের অর্থ ভাগ্য রজনী। তবে হাদিসের পরিভাষায় এই রাত ‘লাইলাতুন নিসফি মিন শাবান’ বা মধ্য-শাবানের রজনী হিসেবে পরিচিত।

হাদিসে শবে বরাত
এই রাতের ফজিলত সম্পর্কে মহানবীর একাধিক হাদিস বর্ণিত হয়েছে। আল্লাহর রহমত এই রাতে সৃষ্টির ওপর বর্ষিত হয়।

আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত একটি হাদিসে আছে,, নবীজি (সা.) বলেছেন, “আল্লাহ তাআলা মধ্য-শাবানের রাতে দুনিয়ার আকাশে অবতরণ করেন এবং বনু কালব গোত্রের ভেড়াগুলোর পশমের চেয়েও বেশি সংখ্যক মানুষকে ক্ষমা করেন।” (সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস: ১৩৮৯)

আবু মুসা আশআরি (রা.) থেকে বর্ণিত অন্য এক হাদিসে আছে, নবীজি (সা.) বলেন, “আল্লাহ তাআলা অর্ধ-শাবানের রাতে তাঁর সৃষ্টির দিকে দৃষ্টি দেন এবং মুশরিক ও বিদ্বেষ পোষণকারী ব্যতীত সবাইকে ক্ষমা করে দেন।” (সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস: ১৩৯০)

শবে বরাতের এই পবিত্রতাকে ক্ষুণ্ণ করে এমন অনেক প্রথা আমাদের সমাজে প্রচলিত আছে, যা ইসলামের মূল চেতনার পরিপন্থী। ইবাদতের এই রাতকে আনন্দ-উৎসবে রূপ দেওয়া অনুচিত:

আতশবাজি ও পটকা ফোটানো: শবে বরাতে আতশবাজি বা পটকা ফোটানো সম্পূর্ণ ইসলামবহির্ভূত এবং অপচয়। এটি ইবাদতকারীদের একাগ্রতায় বিঘ্ন ঘটায়।

অতিরিক্ত আলোকসজ্জা: উৎসবের আমেজ দিতে গিয়ে মসজিদ বা ঘরবাড়িতে যে জাঁকজমকপূর্ণ আলোকসজ্জা করা হয়, অনেক আলেম একে অতিরঞ্জন ও অপব্যয় হিসেবে গণ্য করেন।

অহেতুক ঘুরাঘুরি: ইবাদত বাদ দিয়ে দলবেঁধে রাস্তায় ঘোরাঘুরি বা উচ্চস্বরে শব্দ করা এই রাতের গাম্ভীর্য নষ্ট করে।

খাদ্য নিয়ে বাড়াবাড়ি: শবে বরাত মানেই হালুয়া-রুটির উৎসব নয়। এই প্রথাটি ঐতিহ্যের অংশ হলেও একে ধর্মীয় আবশ্যকতা মনে করা ভুল। মনে রাখতে হবে, এটি মূলত স্রষ্টার কাছে চাওয়ার রাত, খাওয়ার রাত নয়।

শবে বরাতকে কেন্দ্র করে আমাদের যাপিত জীবনে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের পাশাপাশি এক ধরনের সামাজিক মেলবন্ধন তৈরি হয়। এই রাতের আমলগুলোর মধ্যে রয়েছে:

নফল নামাজ ও কোরআন তেলাওয়াত: রাতভর আল্লাহর জিকির ও দীর্ঘ সেজদায় আত্মিক শান্তি অন্বেষণ।

দান-সদকা: অভাবী ও দুস্থদের পাশে দাঁড়িয়ে ত্যাগের মহিমা প্রচার।

কবর জিয়ারত: প্রয়াত স্বজনদের আত্মার মাগফিরাত কামনায় কবরস্থানে যাওয়া, যা আমাদের মৃত্যুর কথা স্মরণ করিয়ে দেয়।

তবে বাহ্যিক আনুষ্ঠানিকতার চেয়েও হৃদয়ের পবিত্রতা ও একাগ্রতাই এই রাতের মূল লক্ষ্য।

আত্মশুদ্ধির অঙ্গীকার
পবিত্র এই রজনীর মূল লক্ষ্য হলো তওবা ও আত্মশুদ্ধি। বিদ্বেষ পোষণকারীকে যেহেতু এই রাতে ক্ষমা করা হয় না, তাই আমাদের উচিত অন্যের প্রতি হিংসা ত্যাগ করে হৃদয়কে পরিচ্ছন্ন করা। বর্তমান অস্থির পৃথিবীতে শান্তি ও সহমর্মিতার বড় বেশি অভাব।

শবে বরাতের এই প্রদীপ্ত রাত আমাদের শিক্ষা দেয় সংকীর্ণতা পরিহার করার।

পবিত্র এই রজনীর আলোকচ্ছটা আমাদের হৃদয়ের কালিমা ধুয়ে মুছে দিক। প্রার্থনা হোক এমন এক পৃথিবীর জন্য, যেখানে থাকবে না কোনো বিভেদ, থাকবে কেবল মানবিকতা ও শান্তি। মহান আল্লাহ আমাদের ইবাদত কবুল করুন।

সূত্র:প্রথম আলো