ঢাকা ০১:০৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬, ৩০ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ভোরে ফুল তুলতে যাওয়া বৃদ্ধকে জবাই করে হত্যা, অভিযুক্তের আত্মসমর্পণ বাংলা বছরের শেষদিন— চৈত্র সংক্রান্তি আজ তীব্র গরমেও পর্যটকের ঢল, নোনাজলে খুঁজছে স্বস্তি দুই খুন ভাবিয়ে তুলেছে খোদ পুলিশকে চট্টগ্রামে কিশোর গ্যাংয়ের হাতে খুন হলো চকরিয়ার কিশোর সাজিদ সাংগঠনিক গতি বাড়াতে এমজেএ কক্সবাজারের সভা, নতুন সদস্য আহ্বান ও উপ-কমিটি গঠন কুতুবদিয়ায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পুকুরে বরযাত্রীর গাড়ি, শিশুসহ ৪জন আহত নতুন গণমাধ্যম নিয়ে আসছেন সাকিব রামুতে গৃহকর্মীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার টেকনাফে পূর্ব শত্রুতার জেরে বসতবাড়িতে অগ্নিসংযোগের অভিযোগ টেকনাফ ও ইনানী থেকে সাগর পথে মালয়েশিয়া যাত্রা: আন্দামান সাগরে ট্রলারডুবি,উদ্ধার ৯, নিখোঁজ ২ শতাধিক সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপির মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করলেন অ্যাডভোকেট শামীম আরা স্বপ্না রোগীর সেবায় ২৪ ঘন্টা জরুরি বিভাগ সচল রাখতে হবে-এমপি কাজল ২ দিনের সফরে সোমবার কক্সবাজার আসছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জেলা কালেক্টরেট সহকারী সমিতির নতুন কমিটি: জুবাইর আহবায়ক, মিজান সদস্য

আজান পর্যন্ত সেহরি খেলে রোজা হবে কি না, জেনে নিন

সেহরি খাওয়া সুন্নত। পেট ভরে খাওয়া জরুরি নয়, এক ঢোক পানি পান করলেও সেহরির সুন্নত আদায় হয়ে যাবে। রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা সেহরি খাও। কেননা, সেহরিতে বরকত রয়েছে।’ (মুসলিম : ১০৯৫)

অন্য হাসিছে এসেছে, ‘তোমরা সেহরি পরিত্যাগ করো না। এক ঢোক পানি দিয়ে হলেও সেহরি করো। কারণ যারা সেহরি খায় আল্লাহ তায়ালা তাদের ওপর রহমত বর্ষণ করেন এবং ফিরিশতারা তাদের জন্য রহমতের দোয়া করেন।’ (মুসনাদে আহমাদ : ৩/১২, মুসান্নাফে ইবনে আবি শায়বা : ৯০১০, সহিহ ইবনে হিব্বান : ৩৪৭৬)

কোন সময়ে সেহরি খাওয়া ভালো?

হাদিসে বলা হয়েছে, সুবহে সাদিকের কাছাকাছি সময় সেহরি খাওয়া মুস্তাহাব। তবে এত দেরি করা মাকরুহ যে, সুবহে সাদিক হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা হয়।

আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, মহানবী (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘সকল নবীকে সময় হওয়ার পরপরই ইফতার তাড়াতাড়ি করতে এবং সেহরি শেষ সময়ে খেতে আদেশ করা হয়েছে।’ (আলমুজামুল আওসাত-তবারানী : ১৮৮৪, মাজমাউয যাওয়ায়েদ : ৩/৩৬৮)

আমর ইবনে মায়মুন আলআওদি (রাহ.) বলেন, সাহাবায়ে কেরাম দ্রুত ইফতার করতেন আর শেষ সময়ে সেহরি খেতেন। (মুসান্নাফে আবদুর রাজযাক : ৭৫৯১, মুসান্নাফে ইবনে আবি শাইবা : ৯০২৫)

আজান পর্যন্ত সেহরি খাওয়া যাবে কি?

এই প্রশ্নের উত্তরে রাজধানীর জামিয়া ইকরার ফাজিল মুফতি ইয়াহইয়া শহিদ কালবেলাকে বলেন, আমরা যখন সেহরি গ্রহণ করব, তখন আজান হচ্ছে কি হচ্ছে না— এটা সেহরির সময় নির্ধারক মানদণ্ড নয়। বরং এক্ষেত্রে আমাদের ক্যালেন্ডার বা সময়সূচি দেখতে হবে।

আপনি যে এলাকায় থাকেন, সেখানকার ইসলামিক সেন্টারগুলোতে সেহরি-ইফতারের যে ক্যালেন্ডার দেওয়া হয়, সেখানে দেখুন সেহরির শেষ সময় কখন। সেহরির শেষ সময় পর্যন্ত আপনি খেতে পারবেন। তারা যদি দশ মিনিট আগেও আজান দিয়ে দেয় তবুও আপনি খেতে পারবেন।

মোটকথা হলো, সেহরিতে আজান উদ্দেশ্য নয়; বরং সেহরির শেষ সময়টি কখন, সেটি আপনি খেয়াল করবেন। মনে করুন সেহরির সময় শেষ এবং এর দশ মিনিট পরে তারা আজান দিল, তাহলে তো আর আপনার রোজা হবে না। এজন্য আপনাকে টাইম-টেবিল লক্ষ্য করতে হবে, আজান নয়। (সূত্র: রদ্দুল মুহতার : ২/৩৭১; ফাতাওয়া হিন্দিয়া : ১/১৯৪)

অনেক সময় দেখা যায়, কেউ কেউ মাইকে সাইরেন বাজানো, সেহরি বন্ধ করার ঘোষণা চলা অবস্থায়ও চা পান করেন, অথবা পান চিবিয়ে থাকেন; এরপর তড়িঘড়ি করে কুলি করে নেয়। এখন প্রশ্ন হলো পারে, উল্লিখিত কাজ যদি কোনো রোজাদার করে থাকেন, তাহলে তার রোজা বৈধ হবে কি? শরিয়তের দৃষ্টিতে এই রোজার বিধান কী?

এর উত্তরে মুফতি ইয়াহইয়া শহিদ বলেন, যদি প্রবল ধারণা হয় যে, সুবহে সাদিক হওয়ার পর মসজিদে আজান দেওয়া হচ্ছে, তাহলে যারা আজান পর্যন্ত খেয়েছেন, তাদের রোজা হবে না। কারণ, আজান সাধারণত সুবহে সাদিক হওয়ার পরই দেওয়া হয়। তবে কোথাও ভুলে আগে আজান হয়ে গেলে, ভিন্ন কথা। কিন্তু স্বাভাবিকত আজান পর্যন্ত যারা খায়, সাধারণত তাদের রোজা হয় না।

উল্লেখ্য, সুবহে সাদিক হওয়া এবং সেহরির সময় বাকি থাকার ব্যাপারে সংশয়যুক্ত সময়ে পানাহার করা মাকরুহ। আমাদের দেশের ক্যালেন্ডারগুলোতে আজান ও সেহরির মাঝে কয়েক মিনিট বিরতি দেওয়া হয়। সংশয়যুক্ত সময় বলতে ওই সময়টাকে ধরা যায়। তবে এ সময়ে খাওয়ার মাধ্যমে রোজা শুদ্ধ হয়ে যাবে। (আহসানুল ফাতওয়া : খণ্ড ৪; পৃষ্ঠা ৪৩২, আল ফিকহুল হানাফি ফি ছাওবিহিল জাদিদ : খণ্ড ১; পৃষ্ঠা ৪৩৩)।

সেহরি খাওয়ার দোয়া

সেহরির শুরুতে পড়ার মতো কোনো দোয়া কোরআন-হাদিসে বর্ণিত হয়নি। সেজন্য সেহরি খেতে নির্দিষ্ট কোনো দোয়া পড়ার দরকার নেই। অবশ্য যেকোনো খাবারের শুরুতে পড়ার জন্য রাসুল (সা.) থেকে বর্ণিত একটি দোয়া রয়েছে, সেহরির শুরুতে তা পাঠ করা যেতে পারে।

আল্লাহর রাসুল (সা.) বলেন, তোমরা ‘বিসমিল্লাহি ওয়া বারাকাতিল্লাহ’ বলে খাবার গ্রহণ করো।’ {মুসতাদরাকে হাকেম : ৫/১৪৬, হাকেম ও হাফেজ জাহাবি (রাহ.) হাদিসটিকে সহিহ বলেছেন।}

অবশ্য ‘আলা’ শব্দ যুক্ত করে ‘বিসমিল্লাহি ওয়া আলা বারাকাতিল্লাহ’ এভাবেও পড়া যায়। দোয়াটি ইবনুল জাযারি (রাহ.) তার আলহিসনুল হাসিন গ্রন্থে (পৃ. ২৫৫) উল্লেখ করেছেন। তিনি আলমুসতাদরাক-এর উদ্ধৃতি দিয়েছেন।

সূত্র : কালবেলা

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

আজান পর্যন্ত সেহরি খেলে রোজা হবে কি না, জেনে নিন

আপডেট সময় : ০৪:৩০:৪৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৬ মার্চ ২০২৬

সেহরি খাওয়া সুন্নত। পেট ভরে খাওয়া জরুরি নয়, এক ঢোক পানি পান করলেও সেহরির সুন্নত আদায় হয়ে যাবে। রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা সেহরি খাও। কেননা, সেহরিতে বরকত রয়েছে।’ (মুসলিম : ১০৯৫)

অন্য হাসিছে এসেছে, ‘তোমরা সেহরি পরিত্যাগ করো না। এক ঢোক পানি দিয়ে হলেও সেহরি করো। কারণ যারা সেহরি খায় আল্লাহ তায়ালা তাদের ওপর রহমত বর্ষণ করেন এবং ফিরিশতারা তাদের জন্য রহমতের দোয়া করেন।’ (মুসনাদে আহমাদ : ৩/১২, মুসান্নাফে ইবনে আবি শায়বা : ৯০১০, সহিহ ইবনে হিব্বান : ৩৪৭৬)

কোন সময়ে সেহরি খাওয়া ভালো?

হাদিসে বলা হয়েছে, সুবহে সাদিকের কাছাকাছি সময় সেহরি খাওয়া মুস্তাহাব। তবে এত দেরি করা মাকরুহ যে, সুবহে সাদিক হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা হয়।

আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, মহানবী (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘সকল নবীকে সময় হওয়ার পরপরই ইফতার তাড়াতাড়ি করতে এবং সেহরি শেষ সময়ে খেতে আদেশ করা হয়েছে।’ (আলমুজামুল আওসাত-তবারানী : ১৮৮৪, মাজমাউয যাওয়ায়েদ : ৩/৩৬৮)

আমর ইবনে মায়মুন আলআওদি (রাহ.) বলেন, সাহাবায়ে কেরাম দ্রুত ইফতার করতেন আর শেষ সময়ে সেহরি খেতেন। (মুসান্নাফে আবদুর রাজযাক : ৭৫৯১, মুসান্নাফে ইবনে আবি শাইবা : ৯০২৫)

আজান পর্যন্ত সেহরি খাওয়া যাবে কি?

এই প্রশ্নের উত্তরে রাজধানীর জামিয়া ইকরার ফাজিল মুফতি ইয়াহইয়া শহিদ কালবেলাকে বলেন, আমরা যখন সেহরি গ্রহণ করব, তখন আজান হচ্ছে কি হচ্ছে না— এটা সেহরির সময় নির্ধারক মানদণ্ড নয়। বরং এক্ষেত্রে আমাদের ক্যালেন্ডার বা সময়সূচি দেখতে হবে।

আপনি যে এলাকায় থাকেন, সেখানকার ইসলামিক সেন্টারগুলোতে সেহরি-ইফতারের যে ক্যালেন্ডার দেওয়া হয়, সেখানে দেখুন সেহরির শেষ সময় কখন। সেহরির শেষ সময় পর্যন্ত আপনি খেতে পারবেন। তারা যদি দশ মিনিট আগেও আজান দিয়ে দেয় তবুও আপনি খেতে পারবেন।

মোটকথা হলো, সেহরিতে আজান উদ্দেশ্য নয়; বরং সেহরির শেষ সময়টি কখন, সেটি আপনি খেয়াল করবেন। মনে করুন সেহরির সময় শেষ এবং এর দশ মিনিট পরে তারা আজান দিল, তাহলে তো আর আপনার রোজা হবে না। এজন্য আপনাকে টাইম-টেবিল লক্ষ্য করতে হবে, আজান নয়। (সূত্র: রদ্দুল মুহতার : ২/৩৭১; ফাতাওয়া হিন্দিয়া : ১/১৯৪)

অনেক সময় দেখা যায়, কেউ কেউ মাইকে সাইরেন বাজানো, সেহরি বন্ধ করার ঘোষণা চলা অবস্থায়ও চা পান করেন, অথবা পান চিবিয়ে থাকেন; এরপর তড়িঘড়ি করে কুলি করে নেয়। এখন প্রশ্ন হলো পারে, উল্লিখিত কাজ যদি কোনো রোজাদার করে থাকেন, তাহলে তার রোজা বৈধ হবে কি? শরিয়তের দৃষ্টিতে এই রোজার বিধান কী?

এর উত্তরে মুফতি ইয়াহইয়া শহিদ বলেন, যদি প্রবল ধারণা হয় যে, সুবহে সাদিক হওয়ার পর মসজিদে আজান দেওয়া হচ্ছে, তাহলে যারা আজান পর্যন্ত খেয়েছেন, তাদের রোজা হবে না। কারণ, আজান সাধারণত সুবহে সাদিক হওয়ার পরই দেওয়া হয়। তবে কোথাও ভুলে আগে আজান হয়ে গেলে, ভিন্ন কথা। কিন্তু স্বাভাবিকত আজান পর্যন্ত যারা খায়, সাধারণত তাদের রোজা হয় না।

উল্লেখ্য, সুবহে সাদিক হওয়া এবং সেহরির সময় বাকি থাকার ব্যাপারে সংশয়যুক্ত সময়ে পানাহার করা মাকরুহ। আমাদের দেশের ক্যালেন্ডারগুলোতে আজান ও সেহরির মাঝে কয়েক মিনিট বিরতি দেওয়া হয়। সংশয়যুক্ত সময় বলতে ওই সময়টাকে ধরা যায়। তবে এ সময়ে খাওয়ার মাধ্যমে রোজা শুদ্ধ হয়ে যাবে। (আহসানুল ফাতওয়া : খণ্ড ৪; পৃষ্ঠা ৪৩২, আল ফিকহুল হানাফি ফি ছাওবিহিল জাদিদ : খণ্ড ১; পৃষ্ঠা ৪৩৩)।

সেহরি খাওয়ার দোয়া

সেহরির শুরুতে পড়ার মতো কোনো দোয়া কোরআন-হাদিসে বর্ণিত হয়নি। সেজন্য সেহরি খেতে নির্দিষ্ট কোনো দোয়া পড়ার দরকার নেই। অবশ্য যেকোনো খাবারের শুরুতে পড়ার জন্য রাসুল (সা.) থেকে বর্ণিত একটি দোয়া রয়েছে, সেহরির শুরুতে তা পাঠ করা যেতে পারে।

আল্লাহর রাসুল (সা.) বলেন, তোমরা ‘বিসমিল্লাহি ওয়া বারাকাতিল্লাহ’ বলে খাবার গ্রহণ করো।’ {মুসতাদরাকে হাকেম : ৫/১৪৬, হাকেম ও হাফেজ জাহাবি (রাহ.) হাদিসটিকে সহিহ বলেছেন।}

অবশ্য ‘আলা’ শব্দ যুক্ত করে ‘বিসমিল্লাহি ওয়া আলা বারাকাতিল্লাহ’ এভাবেও পড়া যায়। দোয়াটি ইবনুল জাযারি (রাহ.) তার আলহিসনুল হাসিন গ্রন্থে (পৃ. ২৫৫) উল্লেখ করেছেন। তিনি আলমুসতাদরাক-এর উদ্ধৃতি দিয়েছেন।

সূত্র : কালবেলা