ঢাকা ০৭:৪১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬, ৬ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
জননেতা নুরুল আবছারে চিকিৎসায় পাশে দাঁড়ানোর আহবান বাড়লো তেলের দাম: ডিজেল ১১৫, পেট্রোল ১৩৫ ও অকটেন ১৪০ টাকা টেকনাফে যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি গ্রেপ্তার ‘মালয়েশিয়া এয়ারপোর্ট’ কচ্ছপিয়া ও নোয়াখালী পাড়া: চলছে মানবপাচার ও অপহরণ উখিয়ায় গলায় ফাঁস লাগানো সেই কিশোরের মৃত্যু জরুরি স্বাস্থ্যসেবায় দেশের শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন পেকুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আগামীর সময়ের কক্সবাজার প্রতিনিধি হলেন সাংবাদিক ইমরান হোসাইন নিজের অস্ত্রের গু’লিতে পুলিশ সদস্য নি’হ’ত কচ্ছপিয়ায় কৃষি কর্মকর্তা জহিরের বিরুদ্ধে অপপ্রচারের প্রতিবাদে কৃষক সমাবেশ ফের হরমুজ প্রণালি বন্ধ করল ইরান পেশাগত উৎকর্ষতার পাশাপাশি মানবিক মানুষ হয়ে ওঠাও জরুরি : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ফেরত পাঠানোর অনুরোধ পর্যালোচনা করছে ভারত : জয়সওয়াল ভূমিকম্পে কাঁপল পাকিস্তান মানবতার দায়: বৈশ্বিক সহায়তা ও আইনগত পদক্ষেপ এখন জরুরি শুরু হলো হজযাত্রা, প্রথম ফ্লাইটে ৪১৯ বাংলাদেশি জেদ্দায়

সৌন্দর্য বর্ধনের পুকুর এখন ছাগল চারণভূমি চুরি হয়ে গেছে দামী আলোকসজ্জা

  • আহসানুল হক
  • আপডেট সময় : ১০:২০:২৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ মে ২০২৫
  • 661

কোটি টাকা ব্যয়ে সৌন্দর্য বর্ধনের জন্য তৈরিকৃত পুকুর যেন ছাগলের খামার। কক্সবাজারের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী নাপিতা পুকুরের অবস্থা এখন সেরকমই। পুকুরটি হয়ে পড়েছে ময়লার ভাগাড় ও ছাগল চারণভূমি। ঐতিহ্যবাহী এই পুকুরের চারপাশে চলাচলের রাস্তা গুলোতেও আবর্জনার স্তুপ জমছে।

নাপিতা পুকুরের মতো একই ভাগ্য লালদীঘি ও গোলদিঘীর। ঐতিহ্যবাহী এই পুকুরগুলো এখন পড়ে আছে চরম অবহেলা ও অব্যবস্থাপনায়। শুকিয়ে গেছে পানি। ছুটির দিনে গানের সাথে পানির কৃত্রিম ঝর্ণার প্রদর্শনীও বন্ধ গোলদিঘিতে। চুরি হয়ে গেছে মূল্যবান আলোকসজ্জা গুলোও।

এদিকে ৩ পুকুরের এমন বেহাল দশার জন্য স্থানীয়রা দুষছেন উন্নয়ন কর্তৃপক্ষকে। স্থানীয় বাসিন্দা সাইদ স্বাধীন মনে করেন কোনো প্রকার তদারকি এবং রক্ষণাবেক্ষণ না থাকায় পুকুর গুলোর এমন অবস্থা।

গোলদিঘির পাড় এলাকার বাসিন্দা আসিফ বলেন, পর্যটন নগরী কক্সবাজারের জন্য একটি অভিনব পর্যটন স্পট হতে পারতো এসব জলাধার। এগুলোকে তৈরি করাও হয়েছিল বিনোদন কেন্দ্র হিসেবে। তবে মাত্র কয়েক বছরেই পুকুর গুলোতে রাতে ভুতুড়ে পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে।

রাতে পুকুরের ভুতুড়ে চিত্রর কথা উল্লেখ করে অন্য এক বাসিন্দা জাহেদুল হক বলেন, পর্যাপ্ত পরিমাণ লাইট না থাকা এবং কিছু কিছু লাইট চুরি হয়ে যাওয়ার কারণে পর্যটক তো দূরের কথা স্থানীয়রাও এসব পুকুরপাড়ে বসতে ভয় পায়। আর পুকুরগুলোর আশেপাশে ময়লা আবর্জনা তো আছেই।

পৌর কর্তৃপক্ষের কাছে দাবী জানিয়ে সচেতন এই বাসিন্দারা জানান, সুষ্ঠু পরিকল্পনার মাধ্যমে সঠিক ব্যবস্থাপনায় প্রাণ ফিরে পাক এসব সরকারি স্থাপনা।

কক্সবাজার শহরকে পরিকল্পিত পর্যটন নগরী হিসেবে গড়ে তোলার অংশ হিসেবে ৩৬ কোটি টাকা ব্যয়ে লালদীঘি, গোলদীঘি ও নাপিতা পুকুরকে কেন্দ্র করে সৌন্দর্য বর্ধন প্রকল্প বাস্তবায়ন করে কক্সবাজারে উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ। যা ২০২০ সালের মাঝামাঝিতে উদ্বোধন করা হয়। এরপর দুই বছর ঠিকঠাক তদারকি চললেও ২০২২ সালের আগস্টে কউক চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ পান অবসরপ্রাপ্ত কমোডর নুরুল আবছার। এরপর থেকে অদৃশ্য কারণে বন্ধ হয়ে যায় গোলদিঘির ওয়াটার লাইট শোসহ তিন পুকুরের বিশের তদারকি।

এদিকে গত ৫ আগস্ট অভ্যুত্থানের পর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ এসব পুকুর কক্সবাজার পৌরসভাকে হস্তান্তর করে। তারপর পুকুর গুলোর তদারকি ব্যবস্থা আরো নাজেহাল হতে থাকে।

পৌর কর্তৃপক্ষের বলছে, ৫ আগস্টে বিভিন্ন স্থাপনার মতো পুকুরগুলোও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং অনেক কিছুই চুরি হয়ে গেছে।

তবে পুকুরগুলোর জন্য প্রকৌশলী নিয়োগের কথা জানিয়ে কক্সবাজার পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী পরাক্রম চাকমা বলেন, পৌর কর্তৃপক্ষ দায়িত্ব নেওয়ার পর পুকুরগুলো পর্যবেক্ষণ করে প্রকৌশলী নিয়োগ করা হয়েছে। দ্রুত পুকুরগুলোর সংস্কার কাজ শুরু হবে।

এছাড়া এসব পুকুরের রক্ষণাবেক্ষণ ও তদারকির জন্য কিছু আনসার কর্মীও নিয়োগ করা হয়েছে বলে জানান এই কর্মকর্তা। প্রতি পুকুরের জন্য ৪ জন করে আনসার বাহিনীর একটি দল গঠন করা হয়েছে। ফলে পুকুরগুলো ঘিরে সকল সমস্যা সমাধান ও পৌরবাসীর দুর্ভোগ লাঘবে পৌর কর্তৃপক্ষ বদ্ধপরিকর বলে জানান।

স্থানীয়দের দাবী এসব জলাধার বাঁচাতেই সর্বাগ্রে উদ্যোগী হওয়া জরুরি। কক্সবাজার শহরের অগ্নিনির্বাপণের ক্ষেত্রেও এই পুকুর গুলোর পানির উপর নির্ভর করতে হয় ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সকে।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

জননেতা নুরুল আবছারে চিকিৎসায় পাশে দাঁড়ানোর আহবান

সৌন্দর্য বর্ধনের পুকুর এখন ছাগল চারণভূমি চুরি হয়ে গেছে দামী আলোকসজ্জা

আপডেট সময় : ১০:২০:২৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ মে ২০২৫

কোটি টাকা ব্যয়ে সৌন্দর্য বর্ধনের জন্য তৈরিকৃত পুকুর যেন ছাগলের খামার। কক্সবাজারের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী নাপিতা পুকুরের অবস্থা এখন সেরকমই। পুকুরটি হয়ে পড়েছে ময়লার ভাগাড় ও ছাগল চারণভূমি। ঐতিহ্যবাহী এই পুকুরের চারপাশে চলাচলের রাস্তা গুলোতেও আবর্জনার স্তুপ জমছে।

নাপিতা পুকুরের মতো একই ভাগ্য লালদীঘি ও গোলদিঘীর। ঐতিহ্যবাহী এই পুকুরগুলো এখন পড়ে আছে চরম অবহেলা ও অব্যবস্থাপনায়। শুকিয়ে গেছে পানি। ছুটির দিনে গানের সাথে পানির কৃত্রিম ঝর্ণার প্রদর্শনীও বন্ধ গোলদিঘিতে। চুরি হয়ে গেছে মূল্যবান আলোকসজ্জা গুলোও।

এদিকে ৩ পুকুরের এমন বেহাল দশার জন্য স্থানীয়রা দুষছেন উন্নয়ন কর্তৃপক্ষকে। স্থানীয় বাসিন্দা সাইদ স্বাধীন মনে করেন কোনো প্রকার তদারকি এবং রক্ষণাবেক্ষণ না থাকায় পুকুর গুলোর এমন অবস্থা।

গোলদিঘির পাড় এলাকার বাসিন্দা আসিফ বলেন, পর্যটন নগরী কক্সবাজারের জন্য একটি অভিনব পর্যটন স্পট হতে পারতো এসব জলাধার। এগুলোকে তৈরি করাও হয়েছিল বিনোদন কেন্দ্র হিসেবে। তবে মাত্র কয়েক বছরেই পুকুর গুলোতে রাতে ভুতুড়ে পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে।

রাতে পুকুরের ভুতুড়ে চিত্রর কথা উল্লেখ করে অন্য এক বাসিন্দা জাহেদুল হক বলেন, পর্যাপ্ত পরিমাণ লাইট না থাকা এবং কিছু কিছু লাইট চুরি হয়ে যাওয়ার কারণে পর্যটক তো দূরের কথা স্থানীয়রাও এসব পুকুরপাড়ে বসতে ভয় পায়। আর পুকুরগুলোর আশেপাশে ময়লা আবর্জনা তো আছেই।

পৌর কর্তৃপক্ষের কাছে দাবী জানিয়ে সচেতন এই বাসিন্দারা জানান, সুষ্ঠু পরিকল্পনার মাধ্যমে সঠিক ব্যবস্থাপনায় প্রাণ ফিরে পাক এসব সরকারি স্থাপনা।

কক্সবাজার শহরকে পরিকল্পিত পর্যটন নগরী হিসেবে গড়ে তোলার অংশ হিসেবে ৩৬ কোটি টাকা ব্যয়ে লালদীঘি, গোলদীঘি ও নাপিতা পুকুরকে কেন্দ্র করে সৌন্দর্য বর্ধন প্রকল্প বাস্তবায়ন করে কক্সবাজারে উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ। যা ২০২০ সালের মাঝামাঝিতে উদ্বোধন করা হয়। এরপর দুই বছর ঠিকঠাক তদারকি চললেও ২০২২ সালের আগস্টে কউক চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ পান অবসরপ্রাপ্ত কমোডর নুরুল আবছার। এরপর থেকে অদৃশ্য কারণে বন্ধ হয়ে যায় গোলদিঘির ওয়াটার লাইট শোসহ তিন পুকুরের বিশের তদারকি।

এদিকে গত ৫ আগস্ট অভ্যুত্থানের পর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ এসব পুকুর কক্সবাজার পৌরসভাকে হস্তান্তর করে। তারপর পুকুর গুলোর তদারকি ব্যবস্থা আরো নাজেহাল হতে থাকে।

পৌর কর্তৃপক্ষের বলছে, ৫ আগস্টে বিভিন্ন স্থাপনার মতো পুকুরগুলোও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং অনেক কিছুই চুরি হয়ে গেছে।

তবে পুকুরগুলোর জন্য প্রকৌশলী নিয়োগের কথা জানিয়ে কক্সবাজার পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী পরাক্রম চাকমা বলেন, পৌর কর্তৃপক্ষ দায়িত্ব নেওয়ার পর পুকুরগুলো পর্যবেক্ষণ করে প্রকৌশলী নিয়োগ করা হয়েছে। দ্রুত পুকুরগুলোর সংস্কার কাজ শুরু হবে।

এছাড়া এসব পুকুরের রক্ষণাবেক্ষণ ও তদারকির জন্য কিছু আনসার কর্মীও নিয়োগ করা হয়েছে বলে জানান এই কর্মকর্তা। প্রতি পুকুরের জন্য ৪ জন করে আনসার বাহিনীর একটি দল গঠন করা হয়েছে। ফলে পুকুরগুলো ঘিরে সকল সমস্যা সমাধান ও পৌরবাসীর দুর্ভোগ লাঘবে পৌর কর্তৃপক্ষ বদ্ধপরিকর বলে জানান।

স্থানীয়দের দাবী এসব জলাধার বাঁচাতেই সর্বাগ্রে উদ্যোগী হওয়া জরুরি। কক্সবাজার শহরের অগ্নিনির্বাপণের ক্ষেত্রেও এই পুকুর গুলোর পানির উপর নির্ভর করতে হয় ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সকে।