ঢাকা ০৩:১৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ এপ্রিল ২০২৬, ২৯ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সশস্ত্র বাহিনীকে বহিঃশক্তি সমীহ করবে, জনগণ আস্থায় রাখবে: প্রধানমন্ত্রী আশা ভোসলে মারা গেছেন হাম মোকাবিলায় সরকার বদ্ধপরিকর : স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী নদীতে ফুল দিয়ে শুরু হলো পাহাড়ের প্রাণের উৎসব ‘বৈসু, সাংগ্রাই, বিজু’ কক্সবাজার সদর হাসপাতালে হামের ঝুঁকি: অবশেষে চালু হচ্ছে আইসোলেশন ওয়ার্ড মানবপাচার চক্র নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশের জেরে সাংবাদিককে হত্যার হুমকি নাইক্ষ্যংছড়িতে দুটি পিস্তল ও গুলি উদ্ধার, রোহিঙ্গা যুবকসহ আটক ২ অবৈধ পন্থায় উত্তোলন হচ্ছিলো বালি, অভিযানে মালামালসহ জব্দ ঝিলংজায় মাথা ও হাতের কবজিবিহীন অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার প্রতিবাদ এক সাথে বিনা খরচে ঘর বাঁধলো চার দম্পতি ইউনিয়ন পরিষদ প্রশাসনিক কর্মকর্তা সমিতির জেলা কমিটি গঠন টেকনাফে প্রায় ২৬ কোটি টাকার ইয়াবা উদ্ধার বিজিবির ‘নব্য ফ্যাসিজম রুখতে ঐক্যবদ্ধ সংগ্রামের আহ্বান’ শেষ হলো ‘রামু গ্রন্থমেলা-২০২৬’

রাজনীতির ভাষা: মর্যাদা নাকি মুখোমুখি অবস্থান?

জাতীয় সংসদ একটি দেশের সর্বোচ্চ গণতান্ত্রিক মঞ্চ, এখানে ভাষা, আচরণ এবং উপস্থাপন সবই একটি জাতির রাজনৈতিক সংস্কৃতির প্রতিফলন। সেই মঞ্চে প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে “আমরা রক্ত ঝরিয়েছি বলে আজ আপনারা প্রধানমন্ত্রী-স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী” এমন বক্তব্য নিঃসন্দেহে প্রশ্নের জন্ম দেয়।

মুক্তিযুদ্ধ বা রাজনৈতিক সংগ্রামের অবদান অবশ্যই সম্মানের। কিন্তু সেই অবদানকে যদি বর্তমান নেতৃত্বকে ‘ঋণী’ বা ‘দায়বদ্ধ’ হিসেবে উপস্থাপন করার ভাষায় ব্যবহার করা হয়, তবে তা সম্মানজনক সংলাপের পরিবর্তে একটি প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক অবস্থান তৈরি করে। এতে করে বক্তব্যের শক্তি কমে যায়, বরং একটি অন্তর্নিহিত হতাশা বা পরাজয়ের ইঙ্গিত প্রকাশ পায়।

রাজনীতিতে মতবিরোধ থাকবে, এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু সেই মতবিরোধের ভাষা যদি শালীনতা ও পারস্পরিক সম্মানের সীমা অতিক্রম করে, তাহলে তা শুধু ব্যক্তিগত নয়, প্রাতিষ্ঠানিক মর্যাদাকেও প্রশ্নবিদ্ধ করে।

আজকের প্রয়োজন দায়িত্বশীল ভাষা, যেখানে ইতিহাসের অবদানকে সম্মান জানিয়ে বর্তমানের বাস্তবতাকে গঠনমূলক ভাবে মোকাবিলা করা হবে। কারণ গণতন্ত্রের শক্তি প্রতিপক্ষকে ছোট করার মধ্যে নয়, বরং নিজেদের অবস্থানকে যুক্তি ও মর্যাদার মাধ্যমে প্রতিষ্ঠা করার মধ্যেই নিহিত।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

রাজনীতির ভাষা: মর্যাদা নাকি মুখোমুখি অবস্থান?

আপডেট সময় : ১১:০৯:১৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ ২০২৬

জাতীয় সংসদ একটি দেশের সর্বোচ্চ গণতান্ত্রিক মঞ্চ, এখানে ভাষা, আচরণ এবং উপস্থাপন সবই একটি জাতির রাজনৈতিক সংস্কৃতির প্রতিফলন। সেই মঞ্চে প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে “আমরা রক্ত ঝরিয়েছি বলে আজ আপনারা প্রধানমন্ত্রী-স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী” এমন বক্তব্য নিঃসন্দেহে প্রশ্নের জন্ম দেয়।

মুক্তিযুদ্ধ বা রাজনৈতিক সংগ্রামের অবদান অবশ্যই সম্মানের। কিন্তু সেই অবদানকে যদি বর্তমান নেতৃত্বকে ‘ঋণী’ বা ‘দায়বদ্ধ’ হিসেবে উপস্থাপন করার ভাষায় ব্যবহার করা হয়, তবে তা সম্মানজনক সংলাপের পরিবর্তে একটি প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক অবস্থান তৈরি করে। এতে করে বক্তব্যের শক্তি কমে যায়, বরং একটি অন্তর্নিহিত হতাশা বা পরাজয়ের ইঙ্গিত প্রকাশ পায়।

রাজনীতিতে মতবিরোধ থাকবে, এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু সেই মতবিরোধের ভাষা যদি শালীনতা ও পারস্পরিক সম্মানের সীমা অতিক্রম করে, তাহলে তা শুধু ব্যক্তিগত নয়, প্রাতিষ্ঠানিক মর্যাদাকেও প্রশ্নবিদ্ধ করে।

আজকের প্রয়োজন দায়িত্বশীল ভাষা, যেখানে ইতিহাসের অবদানকে সম্মান জানিয়ে বর্তমানের বাস্তবতাকে গঠনমূলক ভাবে মোকাবিলা করা হবে। কারণ গণতন্ত্রের শক্তি প্রতিপক্ষকে ছোট করার মধ্যে নয়, বরং নিজেদের অবস্থানকে যুক্তি ও মর্যাদার মাধ্যমে প্রতিষ্ঠা করার মধ্যেই নিহিত।