জাতীয় সংসদ একটি দেশের সর্বোচ্চ গণতান্ত্রিক মঞ্চ, এখানে ভাষা, আচরণ এবং উপস্থাপন সবই একটি জাতির রাজনৈতিক সংস্কৃতির প্রতিফলন। সেই মঞ্চে প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে “আমরা রক্ত ঝরিয়েছি বলে আজ আপনারা প্রধানমন্ত্রী-স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী” এমন বক্তব্য নিঃসন্দেহে প্রশ্নের জন্ম দেয়।
মুক্তিযুদ্ধ বা রাজনৈতিক সংগ্রামের অবদান অবশ্যই সম্মানের। কিন্তু সেই অবদানকে যদি বর্তমান নেতৃত্বকে ‘ঋণী’ বা ‘দায়বদ্ধ’ হিসেবে উপস্থাপন করার ভাষায় ব্যবহার করা হয়, তবে তা সম্মানজনক সংলাপের পরিবর্তে একটি প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক অবস্থান তৈরি করে। এতে করে বক্তব্যের শক্তি কমে যায়, বরং একটি অন্তর্নিহিত হতাশা বা পরাজয়ের ইঙ্গিত প্রকাশ পায়।
রাজনীতিতে মতবিরোধ থাকবে, এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু সেই মতবিরোধের ভাষা যদি শালীনতা ও পারস্পরিক সম্মানের সীমা অতিক্রম করে, তাহলে তা শুধু ব্যক্তিগত নয়, প্রাতিষ্ঠানিক মর্যাদাকেও প্রশ্নবিদ্ধ করে।
আজকের প্রয়োজন দায়িত্বশীল ভাষা, যেখানে ইতিহাসের অবদানকে সম্মান জানিয়ে বর্তমানের বাস্তবতাকে গঠনমূলক ভাবে মোকাবিলা করা হবে। কারণ গণতন্ত্রের শক্তি প্রতিপক্ষকে ছোট করার মধ্যে নয়, বরং নিজেদের অবস্থানকে যুক্তি ও মর্যাদার মাধ্যমে প্রতিষ্ঠা করার মধ্যেই নিহিত।
শেখ জাহাঙ্গীর হাছান মানিক 



















