ঢাকা ০২:২২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১০ মে ২০২৬, ২৬ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
পেকুয়ায় দফায় দফায় সংঘর্ষ ও বসতবাড়িতে অগ্নিসংযোগ: আহত একাধিক পেশকারপাড়ায় ফারুক হত্যার ঘটনায় মামলা, আসামী হলেন যারা…  সীমান্তের ৫শ হতদরিদ্রকে ফ্রীতে ৪ ধরণের সেবা দিলো ১১ বিজিবির রামুতে কোমলমতি খেলাঘর আসরের উদ্যোগে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন হামে মৃত্যু, সামনে ডেঙ্গু, এ কেমন জীবন? নারায়ণগঞ্জে পুলিশ পিটিয়ে আসামি ছিনতাইয়ের দুই হোতাসহ ৭ জন কক্সবাজারে গ্রেফতার ঈদগাঁওর আলোচিত সেলিম হত্যা মামলার প্রধান আসামি আতাউল্লাহ গ্রেফতার আরাকান আর্মির হাতে আটক ১৪ জেলেকে দেশে ফিরিয়ে আনলো বিজিবি কক্সবাজারে এ মৌসুমের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড, জনজীবনে অস্বস্তি সোনাদিয়ায় প্রশাসনের অভিযান: অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ কালিরছড়ায় সাহেদের ই’য়াবা নাকি টাকার ব্যাগ ছি’নতাই? শিক্ষক সংকটসহ শিক্ষা খাতের সমস্যা সমাধানে নীতিমালায় পরিবর্তন আনছে সরকার: প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ লোহাগাড়ায় দুই বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত বেড়ে ৪ হোটেল সী-হার্টের মালিক জাহাঙ্গীর আলম মারা গেছেন পেকুয়ায় পুকুরে গোসলে নেমে মাদ্রাসা ছাত্রের মৃত্যু

বৃষ্টি ভেজা নবমীতে বিষাদের সুর: সৈকতে বিদায়ের প্রস্তুতি

প্রকৃতিতে যেন বিষাদের সুর বাজছে। শারদীয় দুর্গোৎসবের মহা নবমীর সকাল থেকে মেঘলা আকাশ, বৃষ্টি মিলিয়ে যেন ভিন্ন আবহে মোড়া। তবে প্রকৃতির এ বিষণ্ণতায়ও থেমে নেই আনন্দ, কিন্তু বিদায়ের সুর মিলিয়ে দিচ্ছে ভক্তদের কণ্ঠ।

এবার কক্সবাজার জেলার ৩১৭টি পূজা মণ্ডপে দুর্গোৎসবের আয়োজন হয়েছে। সকাল থেকে প্রতিটি মণ্ডপেই চলছে পূজার্চনা, ভক্ত-দর্শনার্থীর ভিড় আর উল্লাস। তবে একই সঙ্গে মনে পড়ছে আগামীকালের বিদায়ের কথা, বিজয়া দশমীতে বিদায় নিতে হবে মা দুর্গাকে।

মহানবমীর পূজায় ব্যস্ত কক্সবাজার সরস্বতী বাড়ি পুজা মণ্ডপের ভক্ত অপর্ণা দে বললেন, “আনন্দও আছে, আবার বুক ভরা কষ্টও। মাকে স্বাগত জানিয়েছিলাম মহাসমারোহে, এখন বিদায়ের ক্ষণ ঘনিয়ে আসছে।”

কক্সবাজার শহরের গোলদিঘি পাড় মণ্ডপে পুজা দিতে আসা তরুণ প্রদীপ শর্মা বলেন, “বৃষ্টির দিন হয়তো অনেকেই কষ্ট করে মণ্ডপে এসেছেন, তবে এ কষ্টটাই আনন্দে মিশে যায়। মা’কে বিদায় জানাতে সমুদ্র সৈকতে যে আয়োজন হয়, সেটা ভোলার নয়।”

কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে দেশের সবচেয়ে বড় প্রতিমা বিসর্জনের আয়োজন করা হবে বৃহস্পতিবার। সেখানে মিলিত হবে জেলার শত শত মণ্ডপের প্রতিমা।

উৎসব নির্বিঘ্ন করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ইতোমধ্যেই পুরো শহর ও সৈকতে নিয়েছে কঠোর নিরাপত্তা।

জেলা পুলিশের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, র‍্যাব, পুলিশ ও সেনাবাহিনীর টহল চলছে সারাদিন। থাকবে গোয়েন্দা নজরদারি। আর সৈকতের বিশেষ অংশ ঘিরে নেয়া হয়েছে নিরাপত্তার বলয়।

জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি উদয় শঙ্কর পাল মিঠু জানালেন, “মা দুর্গার আগমনকে ঘিরে যেমন উৎসবের ঢল নামে, তেমনি বিদায়ের দিনও পুরো কক্সবাজার শহর নেমে আসে সৈকতে। এবারের আয়োজনও হবে স্মরণীয়।”

“এত মানুষ একসঙ্গে আসেন, তাই প্রস্তুতি থাকতেই হয়। এবারের ভাসান যাত্রা হবে স্মরণীয়, নিরাপদ এবং সবার জন্য উন্মুক্ত” বলেন উদয় শঙ্কর।

বৃষ্টিস্নাত কক্সবাজারের আকাশে তাই এখন মিলেছে দুই অনুভূতির সুরে। একদিকে নবমীর মহিমায় উল্লাসে ভাসছে মানুষ, অন্যদিকে বাজছে বিদায়ের ঘন্টা। বিজয়া দশমীর ভাসান যাত্রা হবে সেই আনন্দ-বিষাদের চূড়ান্ত মেলবন্ধন।

সৈকতের লাবনী পয়েন্টে প্রতিবারের মতো এবারেও অনুষ্ঠিত হবে সেই ভাসান যাত্রার আয়োজন।

বিশেষ এই ভাসান যাত্রা নিয়ে কক্সবাজারের প্রবীন শিক্ষাবিদ অধ্যাপক সোমেশ্বর চক্রবর্তী বলেন, সৈকতের ঢেউও যেন তখন ভক্তদের সুরে মিশে যাবে। প্রতিমা ভাসানোর মুহূর্তে আকাশ-বাতাস ভরে উঠবে ধূপের গন্ধে, রঙিন আলোর ঝলকে, আর ভক্তদের চোখের জলে।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

পেকুয়ায় দফায় দফায় সংঘর্ষ ও বসতবাড়িতে অগ্নিসংযোগ: আহত একাধিক

বৃষ্টি ভেজা নবমীতে বিষাদের সুর: সৈকতে বিদায়ের প্রস্তুতি

আপডেট সময় : ০৪:২১:১৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ১ অক্টোবর ২০২৫

প্রকৃতিতে যেন বিষাদের সুর বাজছে। শারদীয় দুর্গোৎসবের মহা নবমীর সকাল থেকে মেঘলা আকাশ, বৃষ্টি মিলিয়ে যেন ভিন্ন আবহে মোড়া। তবে প্রকৃতির এ বিষণ্ণতায়ও থেমে নেই আনন্দ, কিন্তু বিদায়ের সুর মিলিয়ে দিচ্ছে ভক্তদের কণ্ঠ।

এবার কক্সবাজার জেলার ৩১৭টি পূজা মণ্ডপে দুর্গোৎসবের আয়োজন হয়েছে। সকাল থেকে প্রতিটি মণ্ডপেই চলছে পূজার্চনা, ভক্ত-দর্শনার্থীর ভিড় আর উল্লাস। তবে একই সঙ্গে মনে পড়ছে আগামীকালের বিদায়ের কথা, বিজয়া দশমীতে বিদায় নিতে হবে মা দুর্গাকে।

মহানবমীর পূজায় ব্যস্ত কক্সবাজার সরস্বতী বাড়ি পুজা মণ্ডপের ভক্ত অপর্ণা দে বললেন, “আনন্দও আছে, আবার বুক ভরা কষ্টও। মাকে স্বাগত জানিয়েছিলাম মহাসমারোহে, এখন বিদায়ের ক্ষণ ঘনিয়ে আসছে।”

কক্সবাজার শহরের গোলদিঘি পাড় মণ্ডপে পুজা দিতে আসা তরুণ প্রদীপ শর্মা বলেন, “বৃষ্টির দিন হয়তো অনেকেই কষ্ট করে মণ্ডপে এসেছেন, তবে এ কষ্টটাই আনন্দে মিশে যায়। মা’কে বিদায় জানাতে সমুদ্র সৈকতে যে আয়োজন হয়, সেটা ভোলার নয়।”

কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে দেশের সবচেয়ে বড় প্রতিমা বিসর্জনের আয়োজন করা হবে বৃহস্পতিবার। সেখানে মিলিত হবে জেলার শত শত মণ্ডপের প্রতিমা।

উৎসব নির্বিঘ্ন করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ইতোমধ্যেই পুরো শহর ও সৈকতে নিয়েছে কঠোর নিরাপত্তা।

জেলা পুলিশের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, র‍্যাব, পুলিশ ও সেনাবাহিনীর টহল চলছে সারাদিন। থাকবে গোয়েন্দা নজরদারি। আর সৈকতের বিশেষ অংশ ঘিরে নেয়া হয়েছে নিরাপত্তার বলয়।

জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি উদয় শঙ্কর পাল মিঠু জানালেন, “মা দুর্গার আগমনকে ঘিরে যেমন উৎসবের ঢল নামে, তেমনি বিদায়ের দিনও পুরো কক্সবাজার শহর নেমে আসে সৈকতে। এবারের আয়োজনও হবে স্মরণীয়।”

“এত মানুষ একসঙ্গে আসেন, তাই প্রস্তুতি থাকতেই হয়। এবারের ভাসান যাত্রা হবে স্মরণীয়, নিরাপদ এবং সবার জন্য উন্মুক্ত” বলেন উদয় শঙ্কর।

বৃষ্টিস্নাত কক্সবাজারের আকাশে তাই এখন মিলেছে দুই অনুভূতির সুরে। একদিকে নবমীর মহিমায় উল্লাসে ভাসছে মানুষ, অন্যদিকে বাজছে বিদায়ের ঘন্টা। বিজয়া দশমীর ভাসান যাত্রা হবে সেই আনন্দ-বিষাদের চূড়ান্ত মেলবন্ধন।

সৈকতের লাবনী পয়েন্টে প্রতিবারের মতো এবারেও অনুষ্ঠিত হবে সেই ভাসান যাত্রার আয়োজন।

বিশেষ এই ভাসান যাত্রা নিয়ে কক্সবাজারের প্রবীন শিক্ষাবিদ অধ্যাপক সোমেশ্বর চক্রবর্তী বলেন, সৈকতের ঢেউও যেন তখন ভক্তদের সুরে মিশে যাবে। প্রতিমা ভাসানোর মুহূর্তে আকাশ-বাতাস ভরে উঠবে ধূপের গন্ধে, রঙিন আলোর ঝলকে, আর ভক্তদের চোখের জলে।