ঢাকা ১০:৪৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২৬, ৫ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
কক্সবাজারগামী ট্রেনে দুষ্কৃতকারীদের পাথর নিক্ষেপে শিশু আহত ফিলিং স্টেশনগুলোতে গ্যাস নেই, কক্সবাজারেও ভোগান্তি আলোকিত শিক্ষা ফাউন্ডেশনের স্বর্ণপদক বৃত্তিতে ট্যালেন্টপুল অর্জন করলেন টেকনাফের সাউদা ঐক্যবদ্ধ থাকলে কেউ সীমান্ত লঙ্ঘন করতে পারবে না – উখিয়ায় উপদেষ্টা আদিলুর রহমান কৌশলের নামে ‘গুপ্ত’ বা ‘সুপ্ত’ বেশ ধারণ করেনি বিএনপি: তারেক রহমান বাংলা চ্যানেল পাড়ি ২ নারীসহ ৩৫ সাঁতারুর গণভোটের ফটোকার্ড শেয়ার করলেন প্রধান উপদেষ্টা নির্বাচন পর্যবেক্ষণে মাঠে নেমেছেন ইইউ’র ৫৬ পর্যবেক্ষক দেশের ভেতরে পোস্টাল ব্যালটে পরিবর্তন আসছে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সার্টিফিকেশন বোর্ড বাতিল, নতুনভাবে গঠন জনতার কাফেলা হ্যাঁ ভোটের পক্ষে- কক্সবাজারে আদিলুর রহমান খান ইসিতে অষ্টম দিনের আপিল শুনানি শুরু হোয়াইক্যং সীমান্তের চিংড়ি ঘের থেকে বোমা সদৃশ বস্তু উদ্ধার পেকুয়ায় লবণ চাষিকে কুপিয়ে আহতের অভিযোগ সীমান্তে মা ই ন বি স্ফো র ণে এক পা হারানো হানিফের অন্য পা নিয়েও শঙ্কা

বছরে ৬ হাজার ব্যাগ ব্লাড জোগাড় করে কক্সবাজার ব্লাড ডোনারস সোসাইটি

২০১৫ সাল। তখন কক্সবাজারের মতো প্রত্যন্ত এলাকার মানুষের জানা ছিলো না স্বেচ্ছায় রক্তদানের বিষয়। সেসময় অনেকেই কিনে নিতেন রক্ত। আবার রক্ত জোগাড় করতে না পেরে মৃত্যুর মতো ঘটনাও শোনা যায়। এমন সময়ে ১০ থেকে ১২ জন স্বপ্নবান তরুণ শুরু করে কক্সবাজার ব্লাড ডোনারস সোসাইটি নামের একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন। মানুষকে বুঝাতে থাকেন স্বেচ্ছায় রক্তদানের ব্যাপারে। উৎসাহ জোগাতে থাকেন সবাইকে। মেডিক্যাল কেন্দ্রীক সংগঠনের বাইরে এটিই কক্সবাজারের প্রথম ব্লাড বিষয়ক সংগঠন।

২০১৫ সাল থেকে ২০২৪। কক্সবাজার ব্লাড ডোনারস সোসাইটিকে দেখে অনেক সংগঠনের জন্ম হয়েছে কক্সবাজারে। রক্তদানেও এসেছে সহজলভ্যতা। বর্তমানে কক্সবাজার জেলার বিভিন্ন উপজেলায় ৪০০ এর অধিক সদস্য রক্তদানসহ বিভিন্ন সামাজিক কাজ করে থাকে। এই সংগঠন রক্ত দানে উৎসাহ দান, ব্লাড ব্যাংক দালালমুক্ত করা, বাল্য বিবাহ রোধ, অসহায় মানুষকে সেবা দেয়া, অজ্ঞাত রোগিকে সেবা দিয়ে পরিবারে পৌঁছানো, থেলাসেমিয়া-ক্যান্সার সচেতনতা, শীতবস্ত্র বিতরণ, বিভিন্ন দুর্যোগে সহায়তা এবং সামাজিক সকল কাজ করে যাচ্ছে কক্সবাজারে।

কক্সবাজার ব্লাড ডোনারস সোসাইটির পরিচালক (এডমিন) আলী আহসান মুজাহিদ জানিয়েছেন, দিনে ১৫ থেকে ১৭ ব্যাগ রক্ত জোগাড় করে দেওয়া হয় প্রতিটি উপজেলায়। মাসে ৫০০ ব্যাগের বেশি এবং বছরে যার সংখ্যা দাঁড়ায় ৬০০০ ব্যাগের বেশি।

তিনি জানান, কক্সবাজারের রক্তের অভাবে কোন রোগী যেন মারা না যায় আমরা সেই প্রচেষ্টা করে যাচ্ছি। কক্সবাজার জেলার বিভিন্ন সেচ্ছাসেবী সংগঠনকে ঐক্যবদ্ধ করে আমরা মানুষের সেবা দিতে চাই। অসহায় মানুষের দোরগোড়ায় কিভাবে সহায়তা পৌঁছে দেওয়া যায় সেটিই আমাদের পরবর্তী লক্ষ্য এবং উদ্দেশ্য।

আজ ৫ ডিসেম্বর আন্তর্জাতিক স্বেচ্ছাসেবী দিবস। ১৯৮৫ সালে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে ৫ ডিসেম্বর দিনটিকে আন্তর্জাতিক স্বেচ্ছাসেবী দিবস হিসেবে স্বীকৃতি দেয়া হয়। জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য অর্জনে বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবাভিত্তিক সংগঠন ও স্বেচ্ছাসেবীদের কর্মকাণ্ডকে উৎসাহিত করতে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে এ দিনটি পালন করা হয়। আজকের এই দিনে কক্সবাজার লাইফ পরিবার কৃতজ্ঞতা জানায় কক্সবাজার ব্লাড ডোনারস সোসাইটিকে।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

কক্সবাজারগামী ট্রেনে দুষ্কৃতকারীদের পাথর নিক্ষেপে শিশু আহত

This will close in 6 seconds

বছরে ৬ হাজার ব্যাগ ব্লাড জোগাড় করে কক্সবাজার ব্লাড ডোনারস সোসাইটি

আপডেট সময় : ১২:৪৭:৫৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ ডিসেম্বর ২০২৪

২০১৫ সাল। তখন কক্সবাজারের মতো প্রত্যন্ত এলাকার মানুষের জানা ছিলো না স্বেচ্ছায় রক্তদানের বিষয়। সেসময় অনেকেই কিনে নিতেন রক্ত। আবার রক্ত জোগাড় করতে না পেরে মৃত্যুর মতো ঘটনাও শোনা যায়। এমন সময়ে ১০ থেকে ১২ জন স্বপ্নবান তরুণ শুরু করে কক্সবাজার ব্লাড ডোনারস সোসাইটি নামের একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন। মানুষকে বুঝাতে থাকেন স্বেচ্ছায় রক্তদানের ব্যাপারে। উৎসাহ জোগাতে থাকেন সবাইকে। মেডিক্যাল কেন্দ্রীক সংগঠনের বাইরে এটিই কক্সবাজারের প্রথম ব্লাড বিষয়ক সংগঠন।

২০১৫ সাল থেকে ২০২৪। কক্সবাজার ব্লাড ডোনারস সোসাইটিকে দেখে অনেক সংগঠনের জন্ম হয়েছে কক্সবাজারে। রক্তদানেও এসেছে সহজলভ্যতা। বর্তমানে কক্সবাজার জেলার বিভিন্ন উপজেলায় ৪০০ এর অধিক সদস্য রক্তদানসহ বিভিন্ন সামাজিক কাজ করে থাকে। এই সংগঠন রক্ত দানে উৎসাহ দান, ব্লাড ব্যাংক দালালমুক্ত করা, বাল্য বিবাহ রোধ, অসহায় মানুষকে সেবা দেয়া, অজ্ঞাত রোগিকে সেবা দিয়ে পরিবারে পৌঁছানো, থেলাসেমিয়া-ক্যান্সার সচেতনতা, শীতবস্ত্র বিতরণ, বিভিন্ন দুর্যোগে সহায়তা এবং সামাজিক সকল কাজ করে যাচ্ছে কক্সবাজারে।

কক্সবাজার ব্লাড ডোনারস সোসাইটির পরিচালক (এডমিন) আলী আহসান মুজাহিদ জানিয়েছেন, দিনে ১৫ থেকে ১৭ ব্যাগ রক্ত জোগাড় করে দেওয়া হয় প্রতিটি উপজেলায়। মাসে ৫০০ ব্যাগের বেশি এবং বছরে যার সংখ্যা দাঁড়ায় ৬০০০ ব্যাগের বেশি।

তিনি জানান, কক্সবাজারের রক্তের অভাবে কোন রোগী যেন মারা না যায় আমরা সেই প্রচেষ্টা করে যাচ্ছি। কক্সবাজার জেলার বিভিন্ন সেচ্ছাসেবী সংগঠনকে ঐক্যবদ্ধ করে আমরা মানুষের সেবা দিতে চাই। অসহায় মানুষের দোরগোড়ায় কিভাবে সহায়তা পৌঁছে দেওয়া যায় সেটিই আমাদের পরবর্তী লক্ষ্য এবং উদ্দেশ্য।

আজ ৫ ডিসেম্বর আন্তর্জাতিক স্বেচ্ছাসেবী দিবস। ১৯৮৫ সালে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে ৫ ডিসেম্বর দিনটিকে আন্তর্জাতিক স্বেচ্ছাসেবী দিবস হিসেবে স্বীকৃতি দেয়া হয়। জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য অর্জনে বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবাভিত্তিক সংগঠন ও স্বেচ্ছাসেবীদের কর্মকাণ্ডকে উৎসাহিত করতে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে এ দিনটি পালন করা হয়। আজকের এই দিনে কক্সবাজার লাইফ পরিবার কৃতজ্ঞতা জানায় কক্সবাজার ব্লাড ডোনারস সোসাইটিকে।