ঢাকা ০৭:২৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০২ মে ২০২৬, ১৯ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
চকরিয়ায় ফুসলিয়ে নিয়ে গিয়ে আটবছরের শিশু মেয়েকে ধর্ষণ, অভিযুক্ত পলাতক টেকনাফে গণপিটুনিতে ‘বাইন্না ডাকাত’ নিহত কচ্ছপিয়ার বড় জাংছড়ি খালে মাছ শিকারের উৎসবে  কক্সবাজারে নানা আয়োজনে পালিত হয়েছে বুদ্ধ পূর্ণিমা কক্সবাজারের লবণ চাষী, জেলে ও পর্যটন শ্রমিকদের জন্য আশার আলো, নাকি অনিশ্চয়তার প্রতিধ্বনি? রামুতে ২০ হাজার ইয়াবাসহ এপিবিএনের কনস্টেবল আটক কক্সবাজারে জাতীয়তাবাদী রেলওয়ে শ্রমিক ও কর্মচারী দলের উদ্যোগে মে দিবস পালিত ‘আঁকো তোমার শহর’—শিল্পচর্চায় নতুন ভাবনা অমরণি ফুলের কুতুবদিয়ায় অটো রিক্সার গ্যারেজে আগুন: পুড়ে গেছে ২২ টি টমটম অপহরণ মামলায় আওয়ামী লীগ নেতার পুত্র তুহিন কারাগারে এআরএ-আরএসও সংঘর্ষ, সীমান্তে আতঙ্ক ট্রাকের ধাক্কায় রোহিঙ্গা শিশুর মৃত্যু উখিয়ায় গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার “অধ্যক্ষ স.আ.ম. শামসুল হুদা চৌধুরী” যার আলোয় আলোকিত জনপদ নতুন কুড়িঁ স্পোর্টস উদ্বোধন উপলক্ষে মতবিনিময় সভা: জেলায় নিবন্ধন করেছে ৩ হাজার ৩৫২ জন

কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে বেড়েছে ব্যস্ততা: টুংটাং শব্দে মুখর কামারপল্লী

কোরবানির ঈদ ঘনিয়ে আসতেই প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে পেয়েছে শহরের কামারপল্লীগুলো। ঈদুল আজহা উপলক্ষে কসাইয়ের দা, বটি, ছুরি, চাপাতিসহ পশু জবাইয়ের কাজে ব্যবহৃত বিভিন্ন ধারালো যন্ত্রপাতি তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন কামার শিল্পের কারিগররা।

সোমবার (২ জুন) সরেজমিনে বড়বাজারস্থ কামারপল্লী, বিমানবন্দর সড়ক, লিংক রোডসহ বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে দেখা গেছে, টুংটাং হাতুড়ির শব্দে মুখরিত চারপাশ। প্রতিটি দোকানে চলছে নিরলস কর্মযজ্ঞ।  সারা বছর যতোটা না কাজ থাকে, ঈদের আগের এই সময়টাতেই সবচেয়ে বেশি ব্যস্ততা দেখা যায়। অনেকে কাজের চাপে ঘুম, খাওয়াও ভুলে যাচ্ছেন। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত কাজ করছেন কামাররা।

স্থানীয় বিক্রেতা তপন কর্মকার বলেন, “গরম, ধোঁয়া আর ঘাম—সবকিছু সহ্য করে কাজ করছি। কারণ ঈদের মৌসুমই আমাদের সবচেয়ে বড় উপার্জনের সময়।”

দামের বিষয়ে তিনি বলেন, “এ বছর লোহা ও কয়লার দাম বেড়ে যাওয়ায় দা-ছুরির দাম কিছুটা বৃদ্ধি পেয়েছে। স্পেনের দা, বটি কেজি প্রতি বিক্রি হচ্ছে ৫৫০-৭০০ টাকা, প্রতি পিচ ছুরি ১০০–২৫০ টাকা, চাপাতি কেজি ৫০০–৬০০ টাকা আর লম্বা ছুরি ১০০০-১২০০ টাকা। তবে মানভেদে দামের রয়েছে তারতম্য।

স্থানীয় বিক্রেতা রুপন কর্মকার বলেন, “ঈদের প্রায় ১০-১২ দিন আগে থেকেই কাজের চাপ বেড়ে যায়। সারা বছর আমরা যে আয় করি কোরবানির ঈদের এক মাসে তার চেয়ে বেশি আয় করতে পারি। খুব বেশি বিক্রি হচ্ছে না। ঈদের এক-দুই দিন আগে বিক্রি বাড়বে।

কামারপল্লীর কারিগর ও শ্রমিকদের মতে, এই শিল্পের অতি প্রয়োজনীয় জ্বালানি হচ্ছে কয়লা। কিন্তু কয়লা এখন প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। গ্রামগঞ্জে ঘুরে কয়লা সংগ্রহ করতে হয়। বর্তমানে কয়লার দাম অনেক বেড়েছে, সেই সঙ্গে বেড়েছে লোহার দামও। লোহা ও কয়লার দাম বাড়লেও সেই তুলনায় উৎপাদিত পণ্যের দাম বাড়েনি।

এদিকে, ঈদকে সামনে রেখে ক্রেতারাও ভিড় করছেন কামারের দোকানগুলোতে। ক্রেতা আবদুল্লাহ বলেন, ঈদের মাত্র কয়েকদিন বাকি। তাই আগে থেকেই পশু জবাইয়ের সরঞ্জাম নতুন ছুরি কিনে রাখছি। দাম মোটামুটি ভালোই রয়েছে।

অপর ক্রেতা শহীদুল জানান, পশু জবাইয়ের সরঞ্জাম কেনার পাশাপাশি পুরাতন বটি, চাপাতি, ছুরিতেও শান দিতে নিয়ে এসেছি।

উল্লেখ্য, কামার শিল্প বাংলাদেশের একটি প্রাচীন ও গুরুত্বপূর্ণ পেশা। কোরবানির ঈদে এর গুরুত্ব আরও বেড়ে যায়। তাই প্রতি বছর এই সময়ে শহরের কামারপল্লীগুলো হয়ে ওঠে ব্যস্ত, কর্মচঞ্চল আর জীবনমুখী এক চিত্রপট।

ট্যাগ :

চকরিয়ায় ফুসলিয়ে নিয়ে গিয়ে আটবছরের শিশু মেয়েকে ধর্ষণ, অভিযুক্ত পলাতক

কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে বেড়েছে ব্যস্ততা: টুংটাং শব্দে মুখর কামারপল্লী

আপডেট সময় : ০৫:২৪:০৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ২ জুন ২০২৫

কোরবানির ঈদ ঘনিয়ে আসতেই প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে পেয়েছে শহরের কামারপল্লীগুলো। ঈদুল আজহা উপলক্ষে কসাইয়ের দা, বটি, ছুরি, চাপাতিসহ পশু জবাইয়ের কাজে ব্যবহৃত বিভিন্ন ধারালো যন্ত্রপাতি তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন কামার শিল্পের কারিগররা।

সোমবার (২ জুন) সরেজমিনে বড়বাজারস্থ কামারপল্লী, বিমানবন্দর সড়ক, লিংক রোডসহ বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে দেখা গেছে, টুংটাং হাতুড়ির শব্দে মুখরিত চারপাশ। প্রতিটি দোকানে চলছে নিরলস কর্মযজ্ঞ।  সারা বছর যতোটা না কাজ থাকে, ঈদের আগের এই সময়টাতেই সবচেয়ে বেশি ব্যস্ততা দেখা যায়। অনেকে কাজের চাপে ঘুম, খাওয়াও ভুলে যাচ্ছেন। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত কাজ করছেন কামাররা।

স্থানীয় বিক্রেতা তপন কর্মকার বলেন, “গরম, ধোঁয়া আর ঘাম—সবকিছু সহ্য করে কাজ করছি। কারণ ঈদের মৌসুমই আমাদের সবচেয়ে বড় উপার্জনের সময়।”

দামের বিষয়ে তিনি বলেন, “এ বছর লোহা ও কয়লার দাম বেড়ে যাওয়ায় দা-ছুরির দাম কিছুটা বৃদ্ধি পেয়েছে। স্পেনের দা, বটি কেজি প্রতি বিক্রি হচ্ছে ৫৫০-৭০০ টাকা, প্রতি পিচ ছুরি ১০০–২৫০ টাকা, চাপাতি কেজি ৫০০–৬০০ টাকা আর লম্বা ছুরি ১০০০-১২০০ টাকা। তবে মানভেদে দামের রয়েছে তারতম্য।

স্থানীয় বিক্রেতা রুপন কর্মকার বলেন, “ঈদের প্রায় ১০-১২ দিন আগে থেকেই কাজের চাপ বেড়ে যায়। সারা বছর আমরা যে আয় করি কোরবানির ঈদের এক মাসে তার চেয়ে বেশি আয় করতে পারি। খুব বেশি বিক্রি হচ্ছে না। ঈদের এক-দুই দিন আগে বিক্রি বাড়বে।

কামারপল্লীর কারিগর ও শ্রমিকদের মতে, এই শিল্পের অতি প্রয়োজনীয় জ্বালানি হচ্ছে কয়লা। কিন্তু কয়লা এখন প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। গ্রামগঞ্জে ঘুরে কয়লা সংগ্রহ করতে হয়। বর্তমানে কয়লার দাম অনেক বেড়েছে, সেই সঙ্গে বেড়েছে লোহার দামও। লোহা ও কয়লার দাম বাড়লেও সেই তুলনায় উৎপাদিত পণ্যের দাম বাড়েনি।

এদিকে, ঈদকে সামনে রেখে ক্রেতারাও ভিড় করছেন কামারের দোকানগুলোতে। ক্রেতা আবদুল্লাহ বলেন, ঈদের মাত্র কয়েকদিন বাকি। তাই আগে থেকেই পশু জবাইয়ের সরঞ্জাম নতুন ছুরি কিনে রাখছি। দাম মোটামুটি ভালোই রয়েছে।

অপর ক্রেতা শহীদুল জানান, পশু জবাইয়ের সরঞ্জাম কেনার পাশাপাশি পুরাতন বটি, চাপাতি, ছুরিতেও শান দিতে নিয়ে এসেছি।

উল্লেখ্য, কামার শিল্প বাংলাদেশের একটি প্রাচীন ও গুরুত্বপূর্ণ পেশা। কোরবানির ঈদে এর গুরুত্ব আরও বেড়ে যায়। তাই প্রতি বছর এই সময়ে শহরের কামারপল্লীগুলো হয়ে ওঠে ব্যস্ত, কর্মচঞ্চল আর জীবনমুখী এক চিত্রপট।