ঢাকা ০৬:০৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬, ৩০ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
লবণ মাঠে দূর্বৃত্তের তাণ্ডব,২ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি জামিনে মুক্ত হলেন বাউল শিল্পী আবুল সরকার বিয়ে করাটা ভুল সিদ্ধান্ত ছিল: অপু বিশ্বাস চৈত্র সংক্রান্তি: ইতিহাস, ঐতিহ্য ও বাঙালির সংস্কৃতির এক প্রাচীন ধারাবাহিকতা ইন্টারনেট সস্তা না হলে কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন সম্ভব নয় : বিটিআরসি চেয়ারম্যান ভোরে ফুল তুলতে যাওয়া বৃদ্ধকে জবাই করে হত্যা, অভিযুক্তের আত্মসমর্পণ বাংলা বছরের শেষদিন— চৈত্র সংক্রান্তি আজ তীব্র গরমেও পর্যটকের ঢল, নোনাজলে খুঁজছে স্বস্তি দুই খুন ভাবিয়ে তুলেছে খোদ পুলিশকে চট্টগ্রামে কিশোর গ্যাংয়ের হাতে খুন হলো চকরিয়ার কিশোর সাজিদ সাংগঠনিক গতি বাড়াতে এমজেএ কক্সবাজারের সভা, নতুন সদস্য আহ্বান ও উপ-কমিটি গঠন কুতুবদিয়ায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পুকুরে বরযাত্রীর গাড়ি, শিশুসহ ৪জন আহত নতুন গণমাধ্যম নিয়ে আসছেন সাকিব রামুতে গৃহকর্মীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার টেকনাফে পূর্ব শত্রুতার জেরে বসতবাড়িতে অগ্নিসংযোগের অভিযোগ

কালবৈশাখী ঝড়ে গলল ‘সাদা সোনা’, কোটি টাকার ক্ষতিতে দিশেহারা চাষি

কালবৈশাখীর ঝড়ো হাওয়া ও টানা বৃষ্টিতে কক্সবাজারের বিস্তীর্ণ লবণ মাঠ লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে। ৭ ও ৮ এপ্রিল রাতজুড়ে বয়ে যাওয়া দুর্যোগে উৎপাদিত ও উৎপাদনাধীন বিপুল পরিমাণ লবণ পানিতে মিশে গিয়ে প্রান্তিক চাষিদের বড় ধরনের ক্ষতির মুখে ফেলেছে।

ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কক্সবাজার সদর উপজেলার চৌফলদন্ডী ও ঈদগাঁও, পেকুয়ার মগনামা ও রাজাখালী, মহেশখালীর কুতুবজোম ও বড় মহেশখালী এবং কুতুবদিয়ার বিস্তীর্ণ এলাকা। বৃষ্টির পানিতে ‘সাদা সোনা’ খ্যাত লবণ গলে যাওয়ার পাশাপাশি উৎপাদনের জন্য প্রস্তুত করা বেড বা কাই নষ্ট হয়ে গেছে। এতে নতুন করে উৎপাদন শুরু করতে অন্তত ৫ থেকে ৭ দিন সময় লাগবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

মগনামা শতঘোনা এলাকার লবণচাষি লিয়াকত আলী বলেন, “মৌসুমের শেষ সময়ে বেশি লাভের আশায় দিনরাত পরিশ্রম করছিলাম। কিন্তু মাত্র এক ঘণ্টার বৃষ্টিতে কয়েকশ মণ লবণ পানিতে মিশে গেছে।”

উজানটিয়া করিয়ারদ্বিয়া এলাকার চাষি মনজুর আলমের কণ্ঠে হতাশা, “বাজারে লবণের দাম এমনিতেই কম। তার ওপর এই ঝড়ে সব শেষ হয়ে গেছে। ঋণ করে মাঠ নিয়েছি—এখন কীভাবে শোধ করব বুঝতে পারছি না।”

একই সুর বড় মহেশখালীর আনচার উল্লাহ ও কুতুবজোমের গিয়াসউদ্দিনের কণ্ঠেও। তাদের ভাষায়, মৌসুমের শেষ সময়ে এমন ক্ষতি সামাল দেওয়া প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। নতুন করে মাঠ প্রস্তুত করতে বাড়তি খরচের বোঝাও যোগ হয়েছে।

বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন (বিসিক) সূত্র জানায়, ২০২৫-২৬ মৌসুমে দেশে প্রায় ২৭ লাখ ১৫ হাজার টন লবণের চাহিদা রয়েছে। এই লক্ষ্যে কক্সবাজার ও চট্টগ্রামের বাঁশখালী এলাকায় প্রায় ৬৯ হাজার একর জমিতে ৪১ হাজারের বেশি চাষি লবণ উৎপাদনে নিয়োজিত।

শুধু মহেশখালীতেই প্রায় ১৭ হাজার একর জমিতে লবণ চাষ হয়, যেখানে অনুকূল আবহাওয়ায় গড়ে ২ লাখ ৫০ হাজার থেকে ৩ লাখ ৫০ হাজার টন উৎপাদন হয়—যা দেশের মোট উৎপাদনের প্রায় এক-চতুর্থাংশ।

বিসিক কক্সবাজার লবণ শিল্প উন্নয়ন কার্যালয়ের উপমহাব্যবস্থাপক মো. জাফর ইকবাল ভূঁইয়া বলেন, সাম্প্রতিক বৃষ্টিতে কয়েক হাজার একর লবণ মাঠ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। লোনা পানি মিষ্টি হয়ে যাওয়ায় পুনরায় উৎপাদনে অতিরিক্ত শ্রম ও জ্বালানি ব্যয় বাড়বে, যা জাতীয় উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনেও শঙ্কা তৈরি করছে।

দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত এসব চাষিদের টিকে থাকতে জরুরি সহায়তা ও পুনর্বাসন কার্যক্রম নেওয়ার দাবি উঠেছে। নাহলে মৌসুমের শেষ প্রান্তে এসে এই ক্ষতি তাদের জন্য দীর্ঘমেয়াদি সংকটে রূপ নিতে পারে।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

কালবৈশাখী ঝড়ে গলল ‘সাদা সোনা’, কোটি টাকার ক্ষতিতে দিশেহারা চাষি

আপডেট সময় : ০২:৩৯:২৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ এপ্রিল ২০২৬

কালবৈশাখীর ঝড়ো হাওয়া ও টানা বৃষ্টিতে কক্সবাজারের বিস্তীর্ণ লবণ মাঠ লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে। ৭ ও ৮ এপ্রিল রাতজুড়ে বয়ে যাওয়া দুর্যোগে উৎপাদিত ও উৎপাদনাধীন বিপুল পরিমাণ লবণ পানিতে মিশে গিয়ে প্রান্তিক চাষিদের বড় ধরনের ক্ষতির মুখে ফেলেছে।

ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কক্সবাজার সদর উপজেলার চৌফলদন্ডী ও ঈদগাঁও, পেকুয়ার মগনামা ও রাজাখালী, মহেশখালীর কুতুবজোম ও বড় মহেশখালী এবং কুতুবদিয়ার বিস্তীর্ণ এলাকা। বৃষ্টির পানিতে ‘সাদা সোনা’ খ্যাত লবণ গলে যাওয়ার পাশাপাশি উৎপাদনের জন্য প্রস্তুত করা বেড বা কাই নষ্ট হয়ে গেছে। এতে নতুন করে উৎপাদন শুরু করতে অন্তত ৫ থেকে ৭ দিন সময় লাগবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

মগনামা শতঘোনা এলাকার লবণচাষি লিয়াকত আলী বলেন, “মৌসুমের শেষ সময়ে বেশি লাভের আশায় দিনরাত পরিশ্রম করছিলাম। কিন্তু মাত্র এক ঘণ্টার বৃষ্টিতে কয়েকশ মণ লবণ পানিতে মিশে গেছে।”

উজানটিয়া করিয়ারদ্বিয়া এলাকার চাষি মনজুর আলমের কণ্ঠে হতাশা, “বাজারে লবণের দাম এমনিতেই কম। তার ওপর এই ঝড়ে সব শেষ হয়ে গেছে। ঋণ করে মাঠ নিয়েছি—এখন কীভাবে শোধ করব বুঝতে পারছি না।”

একই সুর বড় মহেশখালীর আনচার উল্লাহ ও কুতুবজোমের গিয়াসউদ্দিনের কণ্ঠেও। তাদের ভাষায়, মৌসুমের শেষ সময়ে এমন ক্ষতি সামাল দেওয়া প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। নতুন করে মাঠ প্রস্তুত করতে বাড়তি খরচের বোঝাও যোগ হয়েছে।

বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন (বিসিক) সূত্র জানায়, ২০২৫-২৬ মৌসুমে দেশে প্রায় ২৭ লাখ ১৫ হাজার টন লবণের চাহিদা রয়েছে। এই লক্ষ্যে কক্সবাজার ও চট্টগ্রামের বাঁশখালী এলাকায় প্রায় ৬৯ হাজার একর জমিতে ৪১ হাজারের বেশি চাষি লবণ উৎপাদনে নিয়োজিত।

শুধু মহেশখালীতেই প্রায় ১৭ হাজার একর জমিতে লবণ চাষ হয়, যেখানে অনুকূল আবহাওয়ায় গড়ে ২ লাখ ৫০ হাজার থেকে ৩ লাখ ৫০ হাজার টন উৎপাদন হয়—যা দেশের মোট উৎপাদনের প্রায় এক-চতুর্থাংশ।

বিসিক কক্সবাজার লবণ শিল্প উন্নয়ন কার্যালয়ের উপমহাব্যবস্থাপক মো. জাফর ইকবাল ভূঁইয়া বলেন, সাম্প্রতিক বৃষ্টিতে কয়েক হাজার একর লবণ মাঠ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। লোনা পানি মিষ্টি হয়ে যাওয়ায় পুনরায় উৎপাদনে অতিরিক্ত শ্রম ও জ্বালানি ব্যয় বাড়বে, যা জাতীয় উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনেও শঙ্কা তৈরি করছে।

দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত এসব চাষিদের টিকে থাকতে জরুরি সহায়তা ও পুনর্বাসন কার্যক্রম নেওয়ার দাবি উঠেছে। নাহলে মৌসুমের শেষ প্রান্তে এসে এই ক্ষতি তাদের জন্য দীর্ঘমেয়াদি সংকটে রূপ নিতে পারে।