ঢাকা ০৮:৫৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৫ মার্চ ২০২৬, ১ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ইউরোপ যদি ই’রা’ন আ/ক্র/ম/ণ করে, রাশিয়ার ইউরোপ আ/ক্র/ম/ণ সহজ হয়ে যাবে! কক্সবাজার আইন কলেজের ইফতার ও দোয়া মাহফিল সম্পন্ন রবিবার সকাল ১০ টার মধ্যে নিজ উদ্যোগে সৈকতের স্থাপনা না সরালে উচ্ছেদ অভিযান হ্নীলায় ঈদ উপলক্ষে ভিজিএফ চাল বিতরণ কর্মসূচীর উদ্বোধন করলেন এমপি শাহজাহান চৌধুরী আপেল মাহমুদ কে ট্যুরিস্ট পুলিশের হেডকোয়ার্টারে বদলি শুধু অন্যায় নয়, আমার সঙ্গে জুলুম করা হয়েছে: আনিস আলমগীর শহরে নর্দমা পরিস্কার অভিযানের উদ্বোধন করলেন এমপি কাজল সুগন্ধা পয়েন্টে অর্ধগলিত মৃত ডলফিন টেকনাফের কিশোরী সংঘবদ্ধ ধর্ষণ মামলার আসামি নেওয়াজ শরীফ গ্রেফতার শ্রমিকদের বেতন-বোনাস ঈদের ছুটির আগেই পরিশোধের নির্দেশ ভোটের কালি নখ থেকে মোছার আগেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে কাজ শুরু করেছে বিএনপি সরকার মির্জা আব্বাসের শারীরিক অবস্থার কিছুটা উন্নতি দেশব্যাপী খাল খনন কর্মসূচির উদ্বোধন ১৬ মার্চ ইরানি হামলায় ‘সৌদি আরবে ৫টি মার্কিন সামরিক বিমান’ ক্ষতিগ্রস্ত কুতুবদিয়া সৈকতে পড়ে আছে দেড় টন ওজনের মৃত তিমি

কক্সবাজার বিমানবন্দরে নিরাপত্তা রক্ষীদের ছোটাছুটি, কি হলো?

ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে সকাল সাড়ে ১০ টায় ৮ জন যাত্রী ও ২ জন কেবিন ক্রু নিয়ে কক্সবাজার বিমানবন্দরের উদ্দেশ্যে যাত্রা করেছে একটি ফ্লাইট । উড্য়নের ১০ মিনিটের মধ্যে কক্সবাজার বিমানবন্দরের কন্ট্রোল টাওয়ারে একটি বেনামী টেলিফোন কল আসে, যেখানে কলদাতা জানায় যে বিমানের ভেতরে একটি বোমা রাখা হয়েছে এবং যেকোনো সময়ে এটি বিস্ফোরিত হতে পারে। কন্ট্রোল টাওয়ার দ্রুত বিষয়টি কক্সবাজার বিমানবন্দরের পরিচালক এবং এভিয়েশন সিকিউরিটি ইনচার্জকে জানায়।

পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে এবং হুমকিটিকে বাস্তবসম্মত বিবেচনা করে বিমানবন্দর পরিচালক Risk Advisory Group-এর সঙ্গে আলোচনা করে ‘ফুল এমার্জেন্সি’ ঘোষণা করেন এবং ইমারজেন্সি অপারেশনস সেন্টার সক্রিয় করার জন্য প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করেন। পরবর্তীতে ইমারজেন্সি অপারেশনস সেন্টার, বিমানবাহিনী, সেনাবাহিনী, র‍্যাব, পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স এবং মেডিকেল ইউনিটসহ অন্যান্য সংস্থাকে অবহিত করে এবং সমন্বয় কার্যক্রম পরিচালনা করে।
এটি বাস্তবে নয়, মহড়ার দৃশ্যপট।

কক্সবাজার বিমানবন্দরে অনুষ্ঠিত হলো এয়ারপোর্ট সিকিউরিটি এক্সারসাইজ ২০২৬ শীর্ষক একটি পূর্ণাঙ্গ নিরাপত্তা মহড়া অনুষ্ঠিত হয়। বুধবার (৭ জানুয়ারি) সকাল ১১ টায় এ মহড়া অনুষ্ঠিত হয়।

হাইজ্যাক, বোমা হামলাসহ নানাবিধ ঝুঁকি মোকাবেলার সক্ষমতা যাচাই এবং অংশীজনদের প্রস্তুতি বৃদ্ধির লক্ষ্যেই এই মহড়ার আয়োজন করা হয়।

এসএআরপিএস ও এনসিএএসপি এর নির্দেশনা অনুযায়ী প্রতিটি বিমানবন্দরে প্রতি দুই বছরের মধ্যে একবার বিমান বন্দর নিরাপত্তা মহড়া আয়োজন করা আবশ্যক। তারই অংশ হিসেবে এই মহড়ার আয়োজন করা হয়।

এ মহড়ায় অংশগ্রহণ করে বেবিচক, বাংলাদেশ বিমানবাহিনী, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, র‍্যাব, কক্সবাজার জেলা পুলিশ, এপিবিএন, আনসার, সিভিল সার্জন ও জেনারেল হাসপাতালের মেডিকেল টিম এবং বাংলাদেশ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সসহ সংশ্লিষ্ট একাধিক সংস্থা।

বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) এর চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মোঃ মোস্তফা মাহমুদ সিদ্দিক প্রধান অতিথি হিসেবে অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে কার্যক্রম প্রত্যক্ষ করেন।

প্রধান অতিথি তাঁর বক্তব্যের শুরুতেই সকল অংশীজনকে মহড়ায় অংশগ্রহণের জন্য আন্তরিক ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, এ ধরনের মহড়া শুধু দুর্বলতা শনাক্তের সুযোগই সৃষ্টি করে না, বরং বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে কার্যকর সমন্বয় বৃদ্ধি করে যাত্রীসেবায় আন্তর্জাতিক মান নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। মহড়ার সফলতা সম্মিলিত প্রচেষ্টা ও দায়িত্বশীলতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত উল্লেখ করে প্রধান অতিথি বলেন এর মাধ্যমে যেকোনো অনভিপ্রেত পরিস্থিতি দ্রুত ও দক্ষতার সঙ্গে মোকাবিলা করা সম্ভব হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

তিনি আরও বলেন, গত ১৮ অক্টোবর ২০২৫ তারিখে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজে সংঘটিত অগ্নিকাণ্ডের সময় বেবিচক, বাংলাদেশ বিমানবাহিনী, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, এপিবিএন, আনসার, পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও স্বাস্থ্য বিভাগসহ সংশ্লিষ্ট সকল সংস্থা একযোগে কাজ করে দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়েছিল। এর ফলে সেদিন রাত ৯টার মধ্যেই বিমানবন্দরের কার্যক্রম পুনরায় চালু করা সম্ভব হয়।

চলতি বছর অনুষ্ঠিতব্য ICAO নিরাপত্তা অডিটের প্রস্তুতিতে এ ধরনের মহড়া গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

তিনি আরও জানান, কক্সবাজার বিমানবন্দরের রানওয়ে ১০,৭০০ ফুটে উন্নীতকরণ এবং নতুন আন্তর্জাতিক টার্মিনাল নির্মাণ কাজ দ্রুত এগিয়ে চলছে।

মহড়ায় উপস্থিত ছিলেন বেবিচকের সদস্য (পরিচালনা ও পরিকল্পনা) এয়ার কমডোর আবু সাঈদ মেহ্‌বুব খান ও বেবিচকের সদস্য (নিরাপত্তা) এয়ার কমডোর মোঃ আসিফ ইকবাল। এছাড়াও বেবিচকের কর্মকর্তাবৃন্দ, অংশগ্রহণকারী বিভিন্ন সংস্থার ঊর্ধ্বতন প্রতিনিধিবৃন্দ এবং গণমাধ্যমের ব্যক্তিবর্গ এতে উপস্থিত ছিলেন।

ট্যাগ :

ইউরোপ যদি ই’রা’ন আ/ক্র/ম/ণ করে, রাশিয়ার ইউরোপ আ/ক্র/ম/ণ সহজ হয়ে যাবে!

কক্সবাজার বিমানবন্দরে নিরাপত্তা রক্ষীদের ছোটাছুটি, কি হলো?

আপডেট সময় : ০২:৫৩:০৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ৭ জানুয়ারী ২০২৬

ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে সকাল সাড়ে ১০ টায় ৮ জন যাত্রী ও ২ জন কেবিন ক্রু নিয়ে কক্সবাজার বিমানবন্দরের উদ্দেশ্যে যাত্রা করেছে একটি ফ্লাইট । উড্য়নের ১০ মিনিটের মধ্যে কক্সবাজার বিমানবন্দরের কন্ট্রোল টাওয়ারে একটি বেনামী টেলিফোন কল আসে, যেখানে কলদাতা জানায় যে বিমানের ভেতরে একটি বোমা রাখা হয়েছে এবং যেকোনো সময়ে এটি বিস্ফোরিত হতে পারে। কন্ট্রোল টাওয়ার দ্রুত বিষয়টি কক্সবাজার বিমানবন্দরের পরিচালক এবং এভিয়েশন সিকিউরিটি ইনচার্জকে জানায়।

পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে এবং হুমকিটিকে বাস্তবসম্মত বিবেচনা করে বিমানবন্দর পরিচালক Risk Advisory Group-এর সঙ্গে আলোচনা করে ‘ফুল এমার্জেন্সি’ ঘোষণা করেন এবং ইমারজেন্সি অপারেশনস সেন্টার সক্রিয় করার জন্য প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করেন। পরবর্তীতে ইমারজেন্সি অপারেশনস সেন্টার, বিমানবাহিনী, সেনাবাহিনী, র‍্যাব, পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স এবং মেডিকেল ইউনিটসহ অন্যান্য সংস্থাকে অবহিত করে এবং সমন্বয় কার্যক্রম পরিচালনা করে।
এটি বাস্তবে নয়, মহড়ার দৃশ্যপট।

কক্সবাজার বিমানবন্দরে অনুষ্ঠিত হলো এয়ারপোর্ট সিকিউরিটি এক্সারসাইজ ২০২৬ শীর্ষক একটি পূর্ণাঙ্গ নিরাপত্তা মহড়া অনুষ্ঠিত হয়। বুধবার (৭ জানুয়ারি) সকাল ১১ টায় এ মহড়া অনুষ্ঠিত হয়।

হাইজ্যাক, বোমা হামলাসহ নানাবিধ ঝুঁকি মোকাবেলার সক্ষমতা যাচাই এবং অংশীজনদের প্রস্তুতি বৃদ্ধির লক্ষ্যেই এই মহড়ার আয়োজন করা হয়।

এসএআরপিএস ও এনসিএএসপি এর নির্দেশনা অনুযায়ী প্রতিটি বিমানবন্দরে প্রতি দুই বছরের মধ্যে একবার বিমান বন্দর নিরাপত্তা মহড়া আয়োজন করা আবশ্যক। তারই অংশ হিসেবে এই মহড়ার আয়োজন করা হয়।

এ মহড়ায় অংশগ্রহণ করে বেবিচক, বাংলাদেশ বিমানবাহিনী, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, র‍্যাব, কক্সবাজার জেলা পুলিশ, এপিবিএন, আনসার, সিভিল সার্জন ও জেনারেল হাসপাতালের মেডিকেল টিম এবং বাংলাদেশ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সসহ সংশ্লিষ্ট একাধিক সংস্থা।

বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) এর চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মোঃ মোস্তফা মাহমুদ সিদ্দিক প্রধান অতিথি হিসেবে অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে কার্যক্রম প্রত্যক্ষ করেন।

প্রধান অতিথি তাঁর বক্তব্যের শুরুতেই সকল অংশীজনকে মহড়ায় অংশগ্রহণের জন্য আন্তরিক ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, এ ধরনের মহড়া শুধু দুর্বলতা শনাক্তের সুযোগই সৃষ্টি করে না, বরং বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে কার্যকর সমন্বয় বৃদ্ধি করে যাত্রীসেবায় আন্তর্জাতিক মান নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। মহড়ার সফলতা সম্মিলিত প্রচেষ্টা ও দায়িত্বশীলতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত উল্লেখ করে প্রধান অতিথি বলেন এর মাধ্যমে যেকোনো অনভিপ্রেত পরিস্থিতি দ্রুত ও দক্ষতার সঙ্গে মোকাবিলা করা সম্ভব হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

তিনি আরও বলেন, গত ১৮ অক্টোবর ২০২৫ তারিখে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজে সংঘটিত অগ্নিকাণ্ডের সময় বেবিচক, বাংলাদেশ বিমানবাহিনী, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, এপিবিএন, আনসার, পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও স্বাস্থ্য বিভাগসহ সংশ্লিষ্ট সকল সংস্থা একযোগে কাজ করে দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়েছিল। এর ফলে সেদিন রাত ৯টার মধ্যেই বিমানবন্দরের কার্যক্রম পুনরায় চালু করা সম্ভব হয়।

চলতি বছর অনুষ্ঠিতব্য ICAO নিরাপত্তা অডিটের প্রস্তুতিতে এ ধরনের মহড়া গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

তিনি আরও জানান, কক্সবাজার বিমানবন্দরের রানওয়ে ১০,৭০০ ফুটে উন্নীতকরণ এবং নতুন আন্তর্জাতিক টার্মিনাল নির্মাণ কাজ দ্রুত এগিয়ে চলছে।

মহড়ায় উপস্থিত ছিলেন বেবিচকের সদস্য (পরিচালনা ও পরিকল্পনা) এয়ার কমডোর আবু সাঈদ মেহ্‌বুব খান ও বেবিচকের সদস্য (নিরাপত্তা) এয়ার কমডোর মোঃ আসিফ ইকবাল। এছাড়াও বেবিচকের কর্মকর্তাবৃন্দ, অংশগ্রহণকারী বিভিন্ন সংস্থার ঊর্ধ্বতন প্রতিনিধিবৃন্দ এবং গণমাধ্যমের ব্যক্তিবর্গ এতে উপস্থিত ছিলেন।