বিশ্বের দীর্ঘতম অবিচ্ছেদ্য সমুদ্র সৈকত কক্সবাজারের বালুচরে দীর্ঘ দুই দশক ধরে গড়ে ওঠা অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ হয়েছে। প্লাস্টিক ও ত্রিপলে মোড়ানো ঝুপড়ি দোকানমুক্ত হয়ে সৈকত ফিরে পেয়েছে তার চিরচেনা প্রাকৃতিক রূপ।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের কঠোর নির্দেশনার পর গত বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হওয়া এই অভিযানে একে একে উচ্ছেদ করা হয়েছে চারশোর বেশী অস্থায়ী দোকান।
সরেজমিনে দেখা যায়, অভিযানের চতুর্থ দিনে রবিবার অনেক ব্যবসায়ী প্রশাসনের সিদ্ধান্তকে সম্মান জানিয়ে নিজ উদ্যোগেই তাদের মালামাল ও স্থাপনা সরিয়ে নিয়েছে।
গত ৯ মার্চ জেলা প্রশাসক আব্দুল মান্নানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত জেলার আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় এক সপ্তাহের মধ্যে সৈকতের সব অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের নির্দেশ দিয়েছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। সেই নির্দেশনার আলোকেই জেলা প্রশাসনের পর্যটন সেল সুগন্ধা, কলাতলী ও লাবণী পয়েন্টসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় এই জোরালো অভিযান পরিচালনা করছে।
উচ্ছেদ অভিযান চলাকালে ব্যবসায়ীরা জানান, সৈকতের সৌন্দর্য রক্ষায় সরকারের এই সিদ্ধান্তকে তারা স্বাগত জানান। তবে এই ব্যবসার ওপর নির্ভর করেই তাদের শত শত পরিবারের জীবিকা নির্বাহ হতো। দীর্ঘদিনের সাজানো ব্যবসা হারিয়ে তারা এখন দিশেহারা। তাই মানবিক দিক বিবেচনা করে দ্রুত সময়ের মধ্যে তাদের জন্য নির্দিষ্ট কোনো স্থানে পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করার জোর দাবি জানিয়েছেন তারা।
অভিযান প্রসঙ্গে সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট (পর্যটন সেল) মনজু বিন আফনান জানান, পর্যায়ক্রমে সৈকতের প্রতিটি পয়েন্ট থেকে অবৈধ স্থাপনা সরিয়ে নেওয়া হবে। পর্যটকদের নির্বিঘ্নে চলাচল এবং সৈকতের ভারসাম্য রক্ষায় এই উচ্ছেদ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। ২০ বছর পর এই ঝুপড়ি উচ্ছেদের ফলে সৈকতের নান্দনিকতা বহুগুণ বেড়েছে বলে মনে করছেন পর্যটন সংশ্লিষ্টরা।
রাহুল মহাজন: 





















