ঢাকা ০৭:৫৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৬, ১০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
মহাসড়কে অভিযান, চারটি বাসকে ১১ হাজার টাকা জরিমানা , ৭ হাইড্রোলিক হর্ন জব্দ লোহাগাড়ায় মাদক সেবনের দায়ে যুবকের ১৫ দিনের কারাদণ্ড প্রবীণ আইনজীবী প্রফেসর নুর আহমদ এডভোকেটের ১ম মৃত্যু বার্ষিকী ২৬ আগস্ট আশ্রয়প্রার্থী বিদেশিদের জন্য বড় দুঃসংবাদ দিল আমেরিকা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতির প্রতিফলন : কক্সবাজার মেডিকেল কলেজের নতুন হোস্টেল একনেকে অনুমোদন ঢেউয়ের কবলে ট্রলার দ্বিখণ্ডিত, নিউজিল্যান্ডের এক পরিবারের ৩ সদস্য উদ্ধার: শিশু নিখোঁজ অশ্রুজলে ২৫ আগস্ট স্মরণ: বিশ্বের কাছে ১০ মিনিট চাইলো লাখো রোহিঙ্গারা বাংলাদেশের সার্বিক সংস্কার প্রক্রিয়ায় সহযোগিতা করতে চায় ইউএনডিপি দ্রুত সকল রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে ফেরত নেওয়ার দাবিতে মানববন্ধন সমাবেশ অনুষ্ঠিত বঙ্গোপসাগরে ট্রলার ডুবে ৫ জেলে নিখোঁজ রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে ফেরার অধিকার রয়েছে: ১৬ কূটনৈতিক মিশন দেশের ৯ জেলায় ঝড়-বৃষ্টির আশঙ্কা, নদীবন্দরে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত একরামুল হত্যা: সাবেক এমপি বদি ও ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মিফতাহ ট্রাইব্যুনালে তারকাহীন মহেশখালী খেলোয়াড় সমিতিকে হারিয়ে মাঠ মাতালো রামু কুতুবদিয়ায় মাদকবিরোধী অভিযানে আটক ৫, ইয়াবা ও সেবনের সরঞ্জাম উদ্ধার

আমেরিকা–ইরান–ইসরাইল সংঘাতের ছায়ায় মধ্যপ্রাচ্যের ‘সরকার’ বা রাজতন্ত্র ভেঙে পড়বে কি?

মধ্যপ্রাচ্য নতুন কোনো যুদ্ধ দেখছে না; বরং পুরোনো আগুনে নতুন করে ঘি পড়ছে। আমেরিকা, ইরান ও ইসরাইল, এই ত্রিমুখী সংঘাত কেবল সীমান্তে গোলাগুলি নয়, এটি গোটা অঞ্চলের রাষ্ট্রব্যবস্থা ও শাসনের ভিত নাড়িয়ে দেওয়ার সক্ষমতা রাখে। প্রশ্ন একটাই: এই উত্তাপে কি মধ্যপ্রাচ্যের সরকার বা রাজতন্ত্র ভেঙে পড়তে পারে?

ইতিহাস বলে, মধ্যপ্রাচ্যে সরকার পতন সাধারণত বাহ্যিক বোমায় নয়, অভ্যন্তরীণ ক্ষয়ে ঘটে। যুদ্ধ সেই ক্ষয়কে ত্বরান্বিত করে। প্রক্সি যুদ্ধ যদি সরাসরি আঞ্চলিক যুদ্ধে রূপ নেয়, তবে লেবানন, ইরাক, সিরিয়া ও ইয়েমেনের মতো দুর্বল রাষ্ট্রগুলো প্রথমেই চাপে পড়বে। সেখানে রাষ্ট্রের চেয়ে মিলিশিয়া শক্তিশালী; আইন নয়, অস্ত্র কথা বলে। ফলে সরকার থাকলেও শাসন থাকে না।

অন্যদিকে যুদ্ধ মানেই অর্থনৈতিক ধাক্কা। হরমুজ প্রণালীর অস্থিতিশীলতা তেলের দামে আগুন লাগাতে পারে। জ্বালানি ও খাদ্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধি মধ্যবিত্ত ও নিম্নআয়ের মানুষের জীবনকে দুর্বিষহ করে তোলে। এই ক্ষোভ সরাসরি রাজপথে নেমে আসে, যা কোনো সরকারের জন্যই নিরাপদ নয়। সরকার ভাঙে না ঠিকই, কিন্তু বৈধতার ভিত দুর্বল হয়।

আরেকটি সূক্ষ্ম কিন্তু গভীর সংকট হলো, জনগণের আবেগ বনাম রাষ্ট্রের অবস্থান। ফিলিস্তিন প্রশ্নে জনমত যখন উত্তাল, তখন কোনো সরকার প্রকাশ্যে নিরপেক্ষ বা পশ্চিমা-ঘেঁষা অবস্থান নিলে জনগণের সঙ্গে দূরত্ব বাড়ে। এই দূরত্বই ভবিষ্যৎ অস্থিরতার বীজ। শাসন তখন শক্তিশালী নিরাপত্তার ওপর দাঁড়ায়, সম্মতির ওপর নয়।

তবু সব রাষ্ট্র সমান ঝুঁকিতে নয়। সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত, এই রাজতন্ত্রগুলোর হাতে রয়েছে অর্থনৈতিক রিজার্ভ, শক্তিশালী নিরাপত্তা কাঠামো এবং পশ্চিমা কূটনৈতিক সমর্থন। তাৎক্ষণিক পতন এখানে অসম্ভব প্রায়। তবে নীতিগত সমন্বয় ও জনমুখী বার্তা জোরদার না করলে দীর্ঘমেয়াদে চাপ বাড়বে, এ বাস্তবতা অস্বীকারের নয়।

ইরানের ক্ষেত্র ভিন্ন। আদর্শিক ও নিরাপত্তা-কেন্দ্রিক রাষ্ট্রকাঠামো সহজে ভাঙে না। কিন্তু দীর্ঘ যুদ্ধ ও নিষেধাজ্ঞা অভ্যন্তরীণ অসন্তোষ বাড়ালে শাসন আরও কড়া ও সামরিকমুখী হবে, যার সামাজিক মূল্য চুকাতে হবে জনগণকে।

সুতরাং উপসংহার স্পষ্ট: এই সংঘাতে আজই কোনো রাজা সিংহাসন হারাবেন না, কোনো সরকার রাতারাতি ভেঙে পড়বে না। কিন্তু রাষ্ট্রগুলো ধীরে ধীরে এমন এক পথে হাঁটছে, যেখানে শাসন টিকে থাকে, সমর্থন ক্ষয়ে যায়। ২০১১ সালের আরব বসন্তের মতো আকস্মিক বিস্ফোরণ নয়; এটি নীরব, দীর্ঘস্থায়ী চাপের গল্প। ইতিহাস সাক্ষী; এই চাপ উপেক্ষা করলে একদিন বিস্ফোরণ অনিবার্য হয়।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

মহাসড়কে অভিযান, চারটি বাসকে ১১ হাজার টাকা জরিমানা , ৭ হাইড্রোলিক হর্ন জব্দ

আমেরিকা–ইরান–ইসরাইল সংঘাতের ছায়ায় মধ্যপ্রাচ্যের ‘সরকার’ বা রাজতন্ত্র ভেঙে পড়বে কি?

আপডেট সময় : ১০:২২:২১ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্য নতুন কোনো যুদ্ধ দেখছে না; বরং পুরোনো আগুনে নতুন করে ঘি পড়ছে। আমেরিকা, ইরান ও ইসরাইল, এই ত্রিমুখী সংঘাত কেবল সীমান্তে গোলাগুলি নয়, এটি গোটা অঞ্চলের রাষ্ট্রব্যবস্থা ও শাসনের ভিত নাড়িয়ে দেওয়ার সক্ষমতা রাখে। প্রশ্ন একটাই: এই উত্তাপে কি মধ্যপ্রাচ্যের সরকার বা রাজতন্ত্র ভেঙে পড়তে পারে?

ইতিহাস বলে, মধ্যপ্রাচ্যে সরকার পতন সাধারণত বাহ্যিক বোমায় নয়, অভ্যন্তরীণ ক্ষয়ে ঘটে। যুদ্ধ সেই ক্ষয়কে ত্বরান্বিত করে। প্রক্সি যুদ্ধ যদি সরাসরি আঞ্চলিক যুদ্ধে রূপ নেয়, তবে লেবানন, ইরাক, সিরিয়া ও ইয়েমেনের মতো দুর্বল রাষ্ট্রগুলো প্রথমেই চাপে পড়বে। সেখানে রাষ্ট্রের চেয়ে মিলিশিয়া শক্তিশালী; আইন নয়, অস্ত্র কথা বলে। ফলে সরকার থাকলেও শাসন থাকে না।

অন্যদিকে যুদ্ধ মানেই অর্থনৈতিক ধাক্কা। হরমুজ প্রণালীর অস্থিতিশীলতা তেলের দামে আগুন লাগাতে পারে। জ্বালানি ও খাদ্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধি মধ্যবিত্ত ও নিম্নআয়ের মানুষের জীবনকে দুর্বিষহ করে তোলে। এই ক্ষোভ সরাসরি রাজপথে নেমে আসে, যা কোনো সরকারের জন্যই নিরাপদ নয়। সরকার ভাঙে না ঠিকই, কিন্তু বৈধতার ভিত দুর্বল হয়।

আরেকটি সূক্ষ্ম কিন্তু গভীর সংকট হলো, জনগণের আবেগ বনাম রাষ্ট্রের অবস্থান। ফিলিস্তিন প্রশ্নে জনমত যখন উত্তাল, তখন কোনো সরকার প্রকাশ্যে নিরপেক্ষ বা পশ্চিমা-ঘেঁষা অবস্থান নিলে জনগণের সঙ্গে দূরত্ব বাড়ে। এই দূরত্বই ভবিষ্যৎ অস্থিরতার বীজ। শাসন তখন শক্তিশালী নিরাপত্তার ওপর দাঁড়ায়, সম্মতির ওপর নয়।

তবু সব রাষ্ট্র সমান ঝুঁকিতে নয়। সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত, এই রাজতন্ত্রগুলোর হাতে রয়েছে অর্থনৈতিক রিজার্ভ, শক্তিশালী নিরাপত্তা কাঠামো এবং পশ্চিমা কূটনৈতিক সমর্থন। তাৎক্ষণিক পতন এখানে অসম্ভব প্রায়। তবে নীতিগত সমন্বয় ও জনমুখী বার্তা জোরদার না করলে দীর্ঘমেয়াদে চাপ বাড়বে, এ বাস্তবতা অস্বীকারের নয়।

ইরানের ক্ষেত্র ভিন্ন। আদর্শিক ও নিরাপত্তা-কেন্দ্রিক রাষ্ট্রকাঠামো সহজে ভাঙে না। কিন্তু দীর্ঘ যুদ্ধ ও নিষেধাজ্ঞা অভ্যন্তরীণ অসন্তোষ বাড়ালে শাসন আরও কড়া ও সামরিকমুখী হবে, যার সামাজিক মূল্য চুকাতে হবে জনগণকে।

সুতরাং উপসংহার স্পষ্ট: এই সংঘাতে আজই কোনো রাজা সিংহাসন হারাবেন না, কোনো সরকার রাতারাতি ভেঙে পড়বে না। কিন্তু রাষ্ট্রগুলো ধীরে ধীরে এমন এক পথে হাঁটছে, যেখানে শাসন টিকে থাকে, সমর্থন ক্ষয়ে যায়। ২০১১ সালের আরব বসন্তের মতো আকস্মিক বিস্ফোরণ নয়; এটি নীরব, দীর্ঘস্থায়ী চাপের গল্প। ইতিহাস সাক্ষী; এই চাপ উপেক্ষা করলে একদিন বিস্ফোরণ অনিবার্য হয়।