ঢাকা ০৩:৩১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ৪ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
পা ফোলা কি গুরুতর কোনো রোগের লক্ষণ নানার বাড়ির পুকুরে ডুবে শিশুর মৃত্যু টেকনাফের গহীন পাহাড় থেকে ৩ অপহৃত উদ্ধার ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবস আজ মধ্যরাতে শুরু হচ্ছে হজ ফ্লাইট, উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী জ্বালানি সংকটে বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যাহত, বাড়ছে লোডশেডিং নাইক্ষ্যংছড়িতে সেতুর রেলিং থেকে পড়ে যুবকের প্রাণহানি কক্সবাজারে আসছেন বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রী এবং প্রতিমন্ত্রী: পরিদর্শন করবেন এসপিএমসহ মেগা প্রকল্প ঈদগাঁও উপজেলা অনলাইন প্রেসক্লাবের অফিস উদ্বোধন ঈদগাঁও উপজেলা অনলাইন প্রেসক্লাবের অফিস উদ্বোধন লামায় মাতামুহুরি নদীতে গোসলে নেমে এক পর্যটকের মৃত্যু সীমান্তে বিজিবির মানবিক উদ্যোগ কক্সবাজার সরকারি কলেজে চালু হলো গনিত ও ব্যবস্থাপনা বিষয়ে মাস্টার্স কোর্স নৌবাহিনীর অভিযানে ৭২ হাজার ইয়াবা উদ্ধার, আটক ২ পাকস্থলীতে ইয়াবা, দুই যুবক আটক

আমেরিকা–ইরান–ইসরাইল সংঘাতের ছায়ায় মধ্যপ্রাচ্যের ‘সরকার’ বা রাজতন্ত্র ভেঙে পড়বে কি?

মধ্যপ্রাচ্য নতুন কোনো যুদ্ধ দেখছে না; বরং পুরোনো আগুনে নতুন করে ঘি পড়ছে। আমেরিকা, ইরান ও ইসরাইল, এই ত্রিমুখী সংঘাত কেবল সীমান্তে গোলাগুলি নয়, এটি গোটা অঞ্চলের রাষ্ট্রব্যবস্থা ও শাসনের ভিত নাড়িয়ে দেওয়ার সক্ষমতা রাখে। প্রশ্ন একটাই: এই উত্তাপে কি মধ্যপ্রাচ্যের সরকার বা রাজতন্ত্র ভেঙে পড়তে পারে?

ইতিহাস বলে, মধ্যপ্রাচ্যে সরকার পতন সাধারণত বাহ্যিক বোমায় নয়, অভ্যন্তরীণ ক্ষয়ে ঘটে। যুদ্ধ সেই ক্ষয়কে ত্বরান্বিত করে। প্রক্সি যুদ্ধ যদি সরাসরি আঞ্চলিক যুদ্ধে রূপ নেয়, তবে লেবানন, ইরাক, সিরিয়া ও ইয়েমেনের মতো দুর্বল রাষ্ট্রগুলো প্রথমেই চাপে পড়বে। সেখানে রাষ্ট্রের চেয়ে মিলিশিয়া শক্তিশালী; আইন নয়, অস্ত্র কথা বলে। ফলে সরকার থাকলেও শাসন থাকে না।

অন্যদিকে যুদ্ধ মানেই অর্থনৈতিক ধাক্কা। হরমুজ প্রণালীর অস্থিতিশীলতা তেলের দামে আগুন লাগাতে পারে। জ্বালানি ও খাদ্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধি মধ্যবিত্ত ও নিম্নআয়ের মানুষের জীবনকে দুর্বিষহ করে তোলে। এই ক্ষোভ সরাসরি রাজপথে নেমে আসে, যা কোনো সরকারের জন্যই নিরাপদ নয়। সরকার ভাঙে না ঠিকই, কিন্তু বৈধতার ভিত দুর্বল হয়।

আরেকটি সূক্ষ্ম কিন্তু গভীর সংকট হলো, জনগণের আবেগ বনাম রাষ্ট্রের অবস্থান। ফিলিস্তিন প্রশ্নে জনমত যখন উত্তাল, তখন কোনো সরকার প্রকাশ্যে নিরপেক্ষ বা পশ্চিমা-ঘেঁষা অবস্থান নিলে জনগণের সঙ্গে দূরত্ব বাড়ে। এই দূরত্বই ভবিষ্যৎ অস্থিরতার বীজ। শাসন তখন শক্তিশালী নিরাপত্তার ওপর দাঁড়ায়, সম্মতির ওপর নয়।

তবু সব রাষ্ট্র সমান ঝুঁকিতে নয়। সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত, এই রাজতন্ত্রগুলোর হাতে রয়েছে অর্থনৈতিক রিজার্ভ, শক্তিশালী নিরাপত্তা কাঠামো এবং পশ্চিমা কূটনৈতিক সমর্থন। তাৎক্ষণিক পতন এখানে অসম্ভব প্রায়। তবে নীতিগত সমন্বয় ও জনমুখী বার্তা জোরদার না করলে দীর্ঘমেয়াদে চাপ বাড়বে, এ বাস্তবতা অস্বীকারের নয়।

ইরানের ক্ষেত্র ভিন্ন। আদর্শিক ও নিরাপত্তা-কেন্দ্রিক রাষ্ট্রকাঠামো সহজে ভাঙে না। কিন্তু দীর্ঘ যুদ্ধ ও নিষেধাজ্ঞা অভ্যন্তরীণ অসন্তোষ বাড়ালে শাসন আরও কড়া ও সামরিকমুখী হবে, যার সামাজিক মূল্য চুকাতে হবে জনগণকে।

সুতরাং উপসংহার স্পষ্ট: এই সংঘাতে আজই কোনো রাজা সিংহাসন হারাবেন না, কোনো সরকার রাতারাতি ভেঙে পড়বে না। কিন্তু রাষ্ট্রগুলো ধীরে ধীরে এমন এক পথে হাঁটছে, যেখানে শাসন টিকে থাকে, সমর্থন ক্ষয়ে যায়। ২০১১ সালের আরব বসন্তের মতো আকস্মিক বিস্ফোরণ নয়; এটি নীরব, দীর্ঘস্থায়ী চাপের গল্প। ইতিহাস সাক্ষী; এই চাপ উপেক্ষা করলে একদিন বিস্ফোরণ অনিবার্য হয়।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

আমেরিকা–ইরান–ইসরাইল সংঘাতের ছায়ায় মধ্যপ্রাচ্যের ‘সরকার’ বা রাজতন্ত্র ভেঙে পড়বে কি?

আপডেট সময় : ১০:২২:২১ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্য নতুন কোনো যুদ্ধ দেখছে না; বরং পুরোনো আগুনে নতুন করে ঘি পড়ছে। আমেরিকা, ইরান ও ইসরাইল, এই ত্রিমুখী সংঘাত কেবল সীমান্তে গোলাগুলি নয়, এটি গোটা অঞ্চলের রাষ্ট্রব্যবস্থা ও শাসনের ভিত নাড়িয়ে দেওয়ার সক্ষমতা রাখে। প্রশ্ন একটাই: এই উত্তাপে কি মধ্যপ্রাচ্যের সরকার বা রাজতন্ত্র ভেঙে পড়তে পারে?

ইতিহাস বলে, মধ্যপ্রাচ্যে সরকার পতন সাধারণত বাহ্যিক বোমায় নয়, অভ্যন্তরীণ ক্ষয়ে ঘটে। যুদ্ধ সেই ক্ষয়কে ত্বরান্বিত করে। প্রক্সি যুদ্ধ যদি সরাসরি আঞ্চলিক যুদ্ধে রূপ নেয়, তবে লেবানন, ইরাক, সিরিয়া ও ইয়েমেনের মতো দুর্বল রাষ্ট্রগুলো প্রথমেই চাপে পড়বে। সেখানে রাষ্ট্রের চেয়ে মিলিশিয়া শক্তিশালী; আইন নয়, অস্ত্র কথা বলে। ফলে সরকার থাকলেও শাসন থাকে না।

অন্যদিকে যুদ্ধ মানেই অর্থনৈতিক ধাক্কা। হরমুজ প্রণালীর অস্থিতিশীলতা তেলের দামে আগুন লাগাতে পারে। জ্বালানি ও খাদ্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধি মধ্যবিত্ত ও নিম্নআয়ের মানুষের জীবনকে দুর্বিষহ করে তোলে। এই ক্ষোভ সরাসরি রাজপথে নেমে আসে, যা কোনো সরকারের জন্যই নিরাপদ নয়। সরকার ভাঙে না ঠিকই, কিন্তু বৈধতার ভিত দুর্বল হয়।

আরেকটি সূক্ষ্ম কিন্তু গভীর সংকট হলো, জনগণের আবেগ বনাম রাষ্ট্রের অবস্থান। ফিলিস্তিন প্রশ্নে জনমত যখন উত্তাল, তখন কোনো সরকার প্রকাশ্যে নিরপেক্ষ বা পশ্চিমা-ঘেঁষা অবস্থান নিলে জনগণের সঙ্গে দূরত্ব বাড়ে। এই দূরত্বই ভবিষ্যৎ অস্থিরতার বীজ। শাসন তখন শক্তিশালী নিরাপত্তার ওপর দাঁড়ায়, সম্মতির ওপর নয়।

তবু সব রাষ্ট্র সমান ঝুঁকিতে নয়। সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত, এই রাজতন্ত্রগুলোর হাতে রয়েছে অর্থনৈতিক রিজার্ভ, শক্তিশালী নিরাপত্তা কাঠামো এবং পশ্চিমা কূটনৈতিক সমর্থন। তাৎক্ষণিক পতন এখানে অসম্ভব প্রায়। তবে নীতিগত সমন্বয় ও জনমুখী বার্তা জোরদার না করলে দীর্ঘমেয়াদে চাপ বাড়বে, এ বাস্তবতা অস্বীকারের নয়।

ইরানের ক্ষেত্র ভিন্ন। আদর্শিক ও নিরাপত্তা-কেন্দ্রিক রাষ্ট্রকাঠামো সহজে ভাঙে না। কিন্তু দীর্ঘ যুদ্ধ ও নিষেধাজ্ঞা অভ্যন্তরীণ অসন্তোষ বাড়ালে শাসন আরও কড়া ও সামরিকমুখী হবে, যার সামাজিক মূল্য চুকাতে হবে জনগণকে।

সুতরাং উপসংহার স্পষ্ট: এই সংঘাতে আজই কোনো রাজা সিংহাসন হারাবেন না, কোনো সরকার রাতারাতি ভেঙে পড়বে না। কিন্তু রাষ্ট্রগুলো ধীরে ধীরে এমন এক পথে হাঁটছে, যেখানে শাসন টিকে থাকে, সমর্থন ক্ষয়ে যায়। ২০১১ সালের আরব বসন্তের মতো আকস্মিক বিস্ফোরণ নয়; এটি নীরব, দীর্ঘস্থায়ী চাপের গল্প। ইতিহাস সাক্ষী; এই চাপ উপেক্ষা করলে একদিন বিস্ফোরণ অনিবার্য হয়।