ঢাকা ১২:১২ অপরাহ্ন, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
পুলিশ সুপারের সাথে নিহত একরামের পিতা-মাতার সাক্ষাত: সন্তান হত্যার বিচার দাবি পেকুয়ায় ফুটপাত দখলমুক্ত করতে উচ্ছেদ অভিযান ঠাকুর অনুকূলচন্দ্রের ১৩৯তম শুভ আবির্ভাব উপলক্ষে দুই দিনব্যাপী মহোৎসব সম্পন্ন বাফুফের একাডেমিক স্বীকৃতি পেয়েছে কালারমারছড়া ফুটবল একাডেমি সব ধরনের জ্বালানি তেলের দাম লিটারে বাড়ল ২০ টাকা বাইকের জন্য প্রাণ দিতে হলো সাইফুলকে! কক্সবাজার সদর থানা পুলিশের অভিযান : ২৪ ঘন্টায় আটক ২১ সাবরাং থেকে মিঠাছড়ির ৫ অপহৃত উদ্ধার : গ্রেপ্তার ১ কক্সবাজার সরকারি কলেজের হোস্টেল থেকে ২০ হাজার ইয়াবাসহ শরীফা নামের ছাত্রী গ্রেপ্তার কক্সবাজার সরকারি কলেজের হোস্টেল থেকে ২০ হাজার ইয়াবাসহ শরীফা নামের ছাত্রী গ্রেপ্তার ভারতে পরলোকগত আ ফ্রু রাখাইনের শেষকৃত্য সম্পন্ন এমপি গাজী নজরুল ইসলামের দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম মরদেহ উদ্ধার মহেশখালীতে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগ আওয়ামী লীগের ৫৩ জনের নামে মামলা প্রাইভেট কারে তল্লাশি: ৮৯ হাজার ৪০০ পিস ইয়াবাসহ গ্রেফতার ১, পলাতক ৩ জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে যোগ দিতে সোমবার নিউইয়র্ক যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হলেই কি কক্সবাজারে পর্যটনের বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসবে?

বাংলাদেশ সরকার কক্সবাজার বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করার উদ্যোগ নিয়েছে। এর ফলে নীতিনির্ধারকদের প্রত্যাশা, এক লাফে পর্যটনে বৈপ্লবিক পরিবর্তন ঘটবে। প্রশ্ন হলো, আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হলেই কি পর্যটনে বিপ্লব ঘটে?

নিশ্চয়ই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দরকার। সরাসরি বিদেশি ফ্লাইট আসবে, পর্যটকের যাতায়াত সহজ হবে। কিন্তু বিমানবন্দরই কি সব সমস্যার সমাধান?

ভাবুন তো, একজন বিদেশি পর্যটক আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নামলেন। তারপর টমটমে অনিরাপদ সড়ক পাড়ি দিয়ে হোটেলে উঠলেন। হোটেলে আন্তর্জাতিক মানের সেবা পেলেন না। দিনের বেলায় সাগরে গেলেন, পা ভিজিয়ে ফিরে এলেন, সন্ধ্যার পর আর কোনো বিনোদন নেই। পরদিন সকালের নাস্তা সেরে আবার বিমানবন্দরের পথে। এই অভিজ্ঞতাকে কি আন্তর্জাতিক মানের পর্যটন বলা যায়?

আন্তর্জাতিক পর্যটন মানে কেবল সৈকতে হাঁটা নয়। এর মানে হলো;

১। নিরাপদ ও আরামদায়ক যাতায়াত
২। মানসম্মত হোটেল ও রিসোর্ট
৩। বৈচিত্র্যময় খাবার ও বিশ্বমানের রন্ধনশৈলী
৪। সাগরের পাশাপাশি পাহাড়, নদী, সংস্কৃতি, লোকজ শিল্প, শপিং, নৈশজীবন, এক কথায় পূর্ণ অভিজ্ঞতা
৫। প্রশিক্ষিত গাইড, জরুরি স্বাস্থ্যসেবা, পর্যটন তথ্যকেন্দ্র

কক্সবাজারের ঘাটতি এখানেই। সড়ক যোগাযোগ অগোছালো, হোটেল-মোটেল এলাকায় পরিকল্পনার অভাব প্রকট, সাগর ছাড়া অন্য কোনো মানসম্মত আকর্ষণ নেই। রাতের বেলায় শহর প্রাণহীন। সবচেয়ে বড় কথা, সেবার মান আন্তর্জাতিক পর্যটকের প্রত্যাশা পূরণ করতে পারে না।

এখানে প্রশ্ন আসে; আন্তর্জাতিক হওয়ার আগে জাতীয় মানে উন্নয়ন ঘটানো হলো না কেন? দেশের পর্যটকরাই কক্সবাজারে গিয়ে সেবার অভাব নিয়ে অসন্তুষ্ট, সেখানে বিদেশিরা কেন আসবে?

আমরা দক্ষিণ এশিয়ার প্রতিদ্বন্দ্বীদের থেকে অনেক পিছিয়ে। শ্রীলঙ্কা, নেপাল কিংবা ভারতের গোয়া-কেরালা পর্যটকদের কাছে সুপরিচিত ব্র্যান্ড। আর থাইল্যান্ড? তারা শুধু সমুদ্রসৈকত নয়, সংস্কৃতি, আধুনিক বিনোদন, নিরাপদ পরিবহন, নৈশজীবন, সব মিলিয়ে পর্যটনকে পূর্ণাঙ্গ শিল্পে রূপ দিয়েছে।

তাহলে বিদেশি পর্যটকরা কেন থাইল্যান্ড বা বালির বদলে কক্সবাজারে আসবেন? শুধু বিমানবন্দর থাকার জন্য?

অতএব, কক্সবাজারকে সত্যিকারের আন্তর্জাতিক পর্যটন শহরে রূপ দিতে হলে শুধু বিমানবন্দর নয়, পরিকল্পিত নগরায়ণ, মানসম্মত সেবা, নতুন পর্যটন আকর্ষণ এবং বিশ্বমানের আতিথেয়তা সংস্কৃতি গড়ে তুলতে হবে। বিমানবন্দর দরকার, তবে সেটাই “সব কেল্লা ফতে” নয়।

লেখক
শেখ জাহাঙ্গীর হাছান মানিক,চিন্তক ও গবেষক।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

পুলিশ সুপারের সাথে নিহত একরামের পিতা-মাতার সাক্ষাত: সন্তান হত্যার বিচার দাবি

আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হলেই কি কক্সবাজারে পর্যটনের বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসবে?

আপডেট সময় : ০৮:২৫:১৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৫

বাংলাদেশ সরকার কক্সবাজার বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করার উদ্যোগ নিয়েছে। এর ফলে নীতিনির্ধারকদের প্রত্যাশা, এক লাফে পর্যটনে বৈপ্লবিক পরিবর্তন ঘটবে। প্রশ্ন হলো, আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হলেই কি পর্যটনে বিপ্লব ঘটে?

নিশ্চয়ই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দরকার। সরাসরি বিদেশি ফ্লাইট আসবে, পর্যটকের যাতায়াত সহজ হবে। কিন্তু বিমানবন্দরই কি সব সমস্যার সমাধান?

ভাবুন তো, একজন বিদেশি পর্যটক আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নামলেন। তারপর টমটমে অনিরাপদ সড়ক পাড়ি দিয়ে হোটেলে উঠলেন। হোটেলে আন্তর্জাতিক মানের সেবা পেলেন না। দিনের বেলায় সাগরে গেলেন, পা ভিজিয়ে ফিরে এলেন, সন্ধ্যার পর আর কোনো বিনোদন নেই। পরদিন সকালের নাস্তা সেরে আবার বিমানবন্দরের পথে। এই অভিজ্ঞতাকে কি আন্তর্জাতিক মানের পর্যটন বলা যায়?

আন্তর্জাতিক পর্যটন মানে কেবল সৈকতে হাঁটা নয়। এর মানে হলো;

১। নিরাপদ ও আরামদায়ক যাতায়াত
২। মানসম্মত হোটেল ও রিসোর্ট
৩। বৈচিত্র্যময় খাবার ও বিশ্বমানের রন্ধনশৈলী
৪। সাগরের পাশাপাশি পাহাড়, নদী, সংস্কৃতি, লোকজ শিল্প, শপিং, নৈশজীবন, এক কথায় পূর্ণ অভিজ্ঞতা
৫। প্রশিক্ষিত গাইড, জরুরি স্বাস্থ্যসেবা, পর্যটন তথ্যকেন্দ্র

কক্সবাজারের ঘাটতি এখানেই। সড়ক যোগাযোগ অগোছালো, হোটেল-মোটেল এলাকায় পরিকল্পনার অভাব প্রকট, সাগর ছাড়া অন্য কোনো মানসম্মত আকর্ষণ নেই। রাতের বেলায় শহর প্রাণহীন। সবচেয়ে বড় কথা, সেবার মান আন্তর্জাতিক পর্যটকের প্রত্যাশা পূরণ করতে পারে না।

এখানে প্রশ্ন আসে; আন্তর্জাতিক হওয়ার আগে জাতীয় মানে উন্নয়ন ঘটানো হলো না কেন? দেশের পর্যটকরাই কক্সবাজারে গিয়ে সেবার অভাব নিয়ে অসন্তুষ্ট, সেখানে বিদেশিরা কেন আসবে?

আমরা দক্ষিণ এশিয়ার প্রতিদ্বন্দ্বীদের থেকে অনেক পিছিয়ে। শ্রীলঙ্কা, নেপাল কিংবা ভারতের গোয়া-কেরালা পর্যটকদের কাছে সুপরিচিত ব্র্যান্ড। আর থাইল্যান্ড? তারা শুধু সমুদ্রসৈকত নয়, সংস্কৃতি, আধুনিক বিনোদন, নিরাপদ পরিবহন, নৈশজীবন, সব মিলিয়ে পর্যটনকে পূর্ণাঙ্গ শিল্পে রূপ দিয়েছে।

তাহলে বিদেশি পর্যটকরা কেন থাইল্যান্ড বা বালির বদলে কক্সবাজারে আসবেন? শুধু বিমানবন্দর থাকার জন্য?

অতএব, কক্সবাজারকে সত্যিকারের আন্তর্জাতিক পর্যটন শহরে রূপ দিতে হলে শুধু বিমানবন্দর নয়, পরিকল্পিত নগরায়ণ, মানসম্মত সেবা, নতুন পর্যটন আকর্ষণ এবং বিশ্বমানের আতিথেয়তা সংস্কৃতি গড়ে তুলতে হবে। বিমানবন্দর দরকার, তবে সেটাই “সব কেল্লা ফতে” নয়।

লেখক
শেখ জাহাঙ্গীর হাছান মানিক,চিন্তক ও গবেষক।