রঙিন ফানুসের আলো, বৌদ্ধ ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান আর উৎসবের আমেজে বর্ণিল হয়ে ওঠে কক্সবাজারের রামুর প্রবারণা পূর্ণিমা। আকাশে উড়তে থাকা ফানুসের মনোমুগ্ধকর দৃশ্য এবং ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ঘিরে এ উৎসব বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের মানুষের কাছে হয়ে ওঠে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ।
রবিবার বৌদ্ধ বিহারের সামনে রামু কেন্দ্রীয় সীমা বিহার মাঠ, মৈত্রী বিহার সংলগ্ন ছারাভিটা মাঠ ও হাজারীকুল এলাকায় সন্ধ্যার পর থেকে বর্ণিল নানা রঙের ফানুস উড়ানো হয়। এসময় অনুষ্ঠানে অসংখ্য নারী-পুরুষের সমাগম ঘটে।
ফানুসের আলোয় সাজানো পরিবেশ উৎসবের সৌন্দর্যকে আরও বাড়িয়ে তোলে। আকাশে রঙিন ফানুসের উড়াল আর চারপাশের আলোকসজ্জা তৈরি করে মনোমুগ্ধকর এক দৃশ্য। এ আয়োজন রামুর বৌদ্ধ ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও সম্প্রীতির চিত্রকে নতুন করে তুলে ধরে।
বড়ুয়াপাড়া যুব সমাজের উদ্যোগে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক মো: আবদুল মান্নান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, রামু উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো: জিল্লুর রহমান, সহকারী কমিশনার (ভূমি) স্বরুপ মহুরি, রামু থানার ওসি একে ফজলুল হকসহ অনেকে।
অনুষ্টানে জেলা প্রশাসক আবদুল মান্নান বলেন, প্রবারণা পূর্ণিমা বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় উৎসব। বর্ষাবাস শেষে এ পূর্ণিমা উপলক্ষে বৌদ্ধবিহারগুলোতে ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান, প্রার্থনা ও নানা আয়োজন করা হয়। রামুর বৌদ্ধবিহারগুলোতেও এ উৎসবকে ঘিরে বিরাজ করে ধর্মীয় আবহ ও উৎসবের আমেজ।
ইউএনও মো: জিল্লুর রহমান বলেন, শুধু ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা নয়। প্রবারণা পূর্ণিমা পারস্পরিক শ্রদ্ধা, শান্তি, মৈত্রী ও সম্প্রীতির বার্তাও বহন করে। বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষের সহাবস্থান ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের কারণে রামুর এ উৎসব স্থানীয়ভাবে বিশেষ গুরুত্ব বহন করে।
ফানুসের আলোয় আলোকিত রামুর প্রবারণা পূর্ণিমা তাই কেবল একটি ধর্মীয় উৎসব নয়; এটি ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও সম্প্রীতির এক অনন্য প্রকাশ।
আনিস নাঈম: 






















