বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সাশ্রয় এবং অপচয় রোধে সরকার দোকানপাট ও শপিংমল রাত আটটার মধ্যে বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে। এছাড়া অপ্রয়োজনীয় আলোকসজ্জা বর্জন, এয়ার কন্ডিশনারের তাপমাত্রা নির্দিষ্ট মানে রাখা এবং বাণিজ্যিক প্রচারণামূলক বিলবোর্ডে বিদ্যুৎ ব্যবহার নিয়ন্ত্রণের ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে।
এ নির্দেশনায় সকাল ১১ টা থেকে রাত ৮ টা পর্যন্ত দোকান, মার্কেট, শপিংমল খোলা রাখার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
সরকারের এই নতুন নির্দেশনা কার্যকর করতে এবং জেলায় বিদ্যুৎ সাশ্রয় ও অপচয় রোধে বিভিন্ন অংশিজনদের সাথে মতবিনিময় করেছে জেলা প্রশাসন।
সভায় বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সাশ্রয়, বিদ্যুৎ অপচয় রোধে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে সরকারে নতুন সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের লক্ষ্যে সোমবার (১৭ আগস্ট) বিকাল ৪ টায় কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের সম্মেলন কক্ষে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আব্দুল মান্নানের সভাপতিত্বে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সাশ্রয়ে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে হোটেল-মোটেল, রেস্তোরাঁ, শপিংমল, মার্কেট ও দোকান মালিক সমিতির নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
দেশের বিদ্যুৎ ঘাটতি কমাতে সরকার নির্ধারিত নিয়ম মেনে চলার পাশাপাশি পর্যটন শহর হিসেবে কক্সবাজারে রাত ৮ টার পরিবর্তে ৯ টা পর্যন্ত দোকান মার্কেট খোলার রাখারও প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন ব্যবসায়ি নেতারা। তারা বলেন অন্যান্য অঞ্চলের তুলনায় কক্সবাজারের পরিস্থিতি ভিন্ন, এখানে সব সময় পর্যটক অবস্থান করে তাদের সুবিধার্থে ১ ঘন্টা শিথিল করে ৯ টা পর্যন্ত মার্কেট খোলা রাখলে ব্যবসায়িরা উপকৃত হবে।
সভায় জানানো হয়, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার করে পিএফআই ও সোলার প্যানেল স্থাপন করে কক্সবাজারে বিদ্যুৎ অপচয় রোধ করা সম্ভব।
বিশেষ করে বড় বড় প্রতিষ্ঠান, হোটেল-মোটেল, শপিং মলগুলোতে এই পদ্ধতি চালু করলে অনেকাংশে বিদ্যুৎ সাশ্রয় হবে বলে সভায় জানানো হয়।
এছাড়াও সভায় টমটম ও মিশুক গাড়িতে চার্জের কারনে বিদুতের ঘাটতির বিষয়টি উঠে আসে। এক্ষেত্রে গ্যারেজ গুলোতে অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে অভিযান পরিচালনা করা হবে বলে জানান বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তা।
শহরের বড় বড় বিলবোর্ড গুলোতে সারাদিন লাইট না জ্বালানো, হোটেল-মোটেল রেস্তোরাঁয় পর্যটক আকর্ষনে অতিরিক্ত আলোকসজ্জা রোধ করা, সারারাত রেস্তোরাঁ খোলা না রেখে নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত খোলা রাখা, দিনের আলো বেশি ব্যবহার করাসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করা হয় এ সভায়।
সভায় জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আব্দুল মান্নান বলেন, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সাশ্রয় এবং বিদ্যুৎ অপচয় রোধে সরকারের নির্দেশনা মেনে চলার পাশাপাশি আমাদের নিজেদের থেকে উদ্যোগী হতে হবে। বিদ্যুৎ একটি জাতীয় সম্পদ, এ সম্পদ রক্ষার্থে আমাদের সকলকে এগিয়ে আসতে হবে। এ বিষয়ে তিনি সকলের সহযোগিতা কামনার পাশাপাশি জেলা বাসীকে সচেতন হওয়ারও আহবান জানান।
সভায় জেলা পুলিশ সুপার এ এন এম সাজেদুর রহমান, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট তাসনীম জাহান, সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট নাফিস ইনতেসার নাফি, মাহমুদুর রহমান সায়েম, প্রেসক্লাবের সভাপতি মাহবুবর রহমানসহ সরকারি বিভিন্ন দপ্তর, হোটেল-মোটেল, রেস্তোরাঁ, বিভিন্ন ব্রান্ড শপের প্রতিনিধি, দোকান মালিক সমিতির নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন।
নিজস্ব প্রতিবেদক: 




















