বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী কক্সবাজার জেলা শাখার এক দায়িত্বশীল বৈঠক ২০ জুন শনিবার সকাল ১০ টায় হাসপাতাল সড়কস্থ দলীয় কার্যালয়ে জেলা আমীর অধ্যক্ষ মাওলানা নূর আহমদ আনোয়ারীর সভাপতিত্বে জেলা সেক্রেটারি জাহিদুল ইসলামের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন জেলা নায়েবে আমীর মুফতী মাওলানা মুহাম্মদ হাবিবুল্লাহ, সহকারী সেক্রেটারি অধ্যাপক আবু তাহের চৌধুরী, শামসুল আলম বাহাদুর, মাওলানা দেলাওয়ার হোছাইন, সাংগঠনিক সেক্রেটারি আল আমীন মুহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম, অফিস সেক্রেটারী মুহাম্মদ শাহজাহান, কর্মপরিষদ সদস্য অ্যাডভোকেট জাফর উল্লাহ ইসলামাবাদী। সভাপতির বক্তব্যে জেলা আমীর অধ্যক্ষ মাওলানা নূর আহমদ আনোয়ারী বলেছেন, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ বাংলাদেশ। এদেশের সকল ধর্মের মানুষ পরস্পর পরস্পরের প্রতি শ্রদ্ধা, ভালোবাসা, সহযোগিতা ও সহমর্মিতার সাথে বসবাস করে আসছে। আমরা সংখ্যাগুরু ও সংখ্যালঘু নীতিতে বিশ্বাসী নয়। হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান সকলেই এদেশের গর্বিত নাগরিক। সুতরাং রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে নন ইস্যুকে ইস্যু বানিয়ে দেশের ভেতরে অস্বস্তিকর পরিবেশ সৃষ্টি করা কে সমীচিন মনে করি না। তিনি আরো বলেন, ২০২৪-এর জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর দেশ থেকে সকল বৈষম্য-বিভেদ ও বিভক্তি দূর করার স্বপ্ন নিয়ে সকল দলের অংশগ্রহণে জুলাই সনদ ও এর ভিত্তিতে গণভোট অনুষ্ঠিত হয়েছিল। জনগণের কাছে ভোটের আগে সকল রাজনৈতিক দল প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল যে, ক্ষমতাসীন হলে জুলাই আকাঙ্ক্ষার আলোকে দেশ পরিচালনা করা হবে। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য বিএনপি সরকার গঠনের পর জুলাই সনদ এবং গণভোটের গণরায় কে অবজ্ঞা করে ক্ষমতার জোরে দেশ পরিচালনা করছে। যার কারণে দেশের মানুষের আকাঙ্ক্ষা প্রতিফলিত হচ্ছে না। ফ্যাসিবাদী কাঠামোয় দেশ পরিচালনা করে জন আকাঙ্ক্ষা পূরণ হবে বলে আমরা বিশ্বাস করি না। তাই সময় থাকতে গণভোটের গণরায় বাস্তবায়নের মাধ্যমে দেশের সত্তর ভাগ মানুষের অভিপ্রায় কে সম্মান প্রদর্শন করুন নচেৎ এই দেশের মানুষ আপনাদের ক্ষমা করবে না।
তিনি আরো বলেন, দেশের অন্যান্য অঞ্চলের মতো কক্সবাজারের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি খুবই নাজুক। দশ লক্ষাধিক রোহিঙ্গা শরণার্থীর কারণে স্থানীয় পর্যায়ে আইনশৃঙ্খলা বিঘ্ন হওয়ার পাশাপাশি পুরো জেলায় এর প্রভাব ছড়িয়ে পড়ছে। প্রতি বছর শরণার্থী দিবস আসে যায় কিন্তু রোহিঙ্গা শরণার্থীদের প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া শুরু হয় না। জেলার সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে অবিলম্বে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের দেশে প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া শুরু করা জরুরি।
তিনি বলেন, আমরা বিভিন্ন সভা-সমাবেশ, বক্তব্য-বিবৃতির মাধ্যমে বারবার সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করলেও জেলায় এখনো কাংখিত মানে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি হয়নি। বিভিন্ন রেকর্ড পর্যালোচনা করে দেখা যায় বিগত ছয়মাসে জেলায় অর্ধশতাধিক খুন, শতাধিক ধর্ষণ ও নারী- শিশু নির্যাতন এবং প্রায় অর্ধশতাধিক অপহরণের ঘটনা সংঘটিত হয়েছে। যার কারণে জেলাবাসী নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। এব্যাপারে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করে জনমনে স্বস্তি ফিরিয়ে আনার জন্য দাবি জানাচ্ছি। বৈঠকে আরো উপস্থিত ছিলেন কক্সবাজার সদর আমীর অধ্যাপক খুরশিদ আলম আনসারী, রামু উপজেলা আমীর ফজলুল্লাহ মু. হাসান, ঈদগাঁও উপজেলা আমীর মাওলানা সলিম উল্লাহ জিহাদী, চকরিয়া উপজেলা আমীর মাওলানা আবুল বাশার, মাতামুহুরী উপজেলা আমীর মাওলানা ফরিদুল আলম, পেকুয়া উপজেলা আমীর মাওলানা মুহাম্মদ ইমতিয়াজ উদ্দিন, কুতুবদিয়া উপজেলা আমীর আ স ম শাহরিয়ার চৌধুরী, মহেশখালী উপজেলা উত্তর আমীর মাস্টার নজরুল ইসলাম, দক্ষিণ আমীর মাস্টার শামীম ইকবালসহ উপজেলার অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তি: 
























