কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার বালুখালীতে কোরবানির পশুরহাটের জন্য অস্থায়ীভাবে ইজারা নেওয়া সরকারি জমি দখল করে সেখানে গরুর খামার গড়ে তোলার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় ইজারাদারের বিরুদ্ধে। অস্থায়ী ইজারার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও জমি দখলে রেখে স্থাপনা নির্মাণ ও গবাদিপশু পালন করা হচ্ছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
সম্প্রতি সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বালুখালীর কাস্টম এলাকার এশিয়ান হাইওয়ে সড়কের উত্তর পাশে বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে বাঁশ, টিন ও ত্রিপল দিয়ে দীর্ঘাকৃতির ছাউনি নির্মাণ করা হয়েছে। সেখানে কয়েকজন রোহিঙ্গা শ্রমিককে গরুর দেখাশোনার কাজে নিয়োজিত থাকতে দেখা যায়। স্থানীয়দের দাবি, এসব স্থাপনা নির্মাণ করেছেন বালুখালীর বাসিন্দা ও বিএনপি নেতা ফোরকান চৌধুরী।
স্থানীয় সূত্র জানায়, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে কোরবানির পশু ক্রয়-বিক্রয়ের জন্য বালুখালী কাস্টমঘাট এলাকায় অস্থায়ী পশুরহাট বসানোর অনুমোদন দেয় উখিয়া উপজেলা প্রশাসন। ওই হাটের ইজারা নেন বালুখালী বাজারের ইজারাদার ফোরকান চৌধুরী। তবে ঈদ শেষে হাটের অবকাঠামো অপসারণ না করে সেখানে গরু রাখার জন্য স্থায়ী ধরনের ঘর নির্মাণ করা হয়েছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, উখিয়াঘাট মৌজার আরএস দাগ নম্বর-৪৮ এবং বিএস দাগ নম্বর-১৬৩ভুক্ত জমিটি কক্সবাজার সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের অধিগ্রহণকৃত সম্পত্তি। দীর্ঘদিন ধরে এলাকাবাসী এটি খেলার মাঠ হিসেবে ব্যবহার করে আসছেন। কোরবানির পশুরহাট বসানোর আগেও সেখানে বৈশাখী মেলা ও ঐতিহ্যবাহী বলি খেলার আয়োজন করা হয়েছিল। মাঠটিতে নিয়মিত ফুটবলসহ বিভিন্ন ক্রীড়া প্রতিযোগিতাও অনুষ্ঠিত হতো।
স্থানীয় ক্রীড়াপ্রেমী আব্দুস সাত্তার বলেন, পশুরহাট স্থাপনের সময়ই তাঁরা মাঠটি হারানোর আশঙ্কা করেছিলেন। কারণ এলাকাটিতে বিকল্প কোনো খেলার মাঠ নেই। তাঁর অভিযোগ, সাময়িক ইজারার সুযোগ নিয়ে এখন মাঠটি কার্যত ব্যক্তিগত দখলে চলে গেছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, সরকারি সম্পত্তি ও এলাকার একমাত্র খেলার মাঠ রক্ষায় দ্রুত প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন। অন্যথায় মাঠটি স্থায়ীভাবে বেহাত হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
উখিয়ার সহকারী কমিশনার (ভূমি) শারমিন সুলতানা বলেন, “বিষয়টি সম্পর্কে আমি অবগত। এর আগে ইজারাদারকে জমি থেকে স্থাপনা সরিয়ে নিতে বলা হয়েছিল। এখনো যদি তা না সরানো হয়ে থাকে, তাহলে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পান্না আক্তার বলেন, “জমিটি সরকারি হয়ে থাকলে অবশ্যই দখলমুক্ত করা হবে। সরকারি জমি দখল করে রাখার সুযোগ কারও নেই। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে এসিল্যান্ডকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।”
অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে ফোরকান চৌধুরীর মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।
এদিকে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর, কক্সবাজারের নির্বাহী প্রকৌশলী রোকন উদ্দিন খালেদ চৌধুরী বলেন, জমির মালিকানার বিষয়টি যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নিজস্ব প্রতিবেদক 



















